BDpress

অযত্নে-অবহেলায় চলনবিল জাদুঘর

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
অযত্নে-অবহেলায় চলনবিল জাদুঘর
চরম দৈন্যদশা চলনবিল জাদুঘরের। অযত্নে-অবহেলায় শ্রীহীন হয়ে পড়েছে দুর্লভ প্রত্ন-সম্পদগুলো।

বছরখানেক আগে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পদ রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য বিভাগীয় প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় নিয়ে যাওয়ার পর জাদুঘরটি প্রকৃতপক্ষে সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে পড়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা এখানে এসে হতাশ হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। চলনবিলের ইতিকথা বইয়ের লেখক অধ্যাপক এমএ হামিদ ব্যক্তি উদ্যোগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়ন সদরে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ গ্রামেই এমএ হামিদের জন্ম। উপমহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে এ জাদুঘরে। তাছাড়া চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি চলনবিল অঞ্চলের মানুষ ও তাদের ইতিহাস-কৃষ্টি-কালচারকে সমৃদ্ধ করাই ছিল অধ্যাপক হামিদের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য তিনি একটি ভবনসহ ৮ শতক জায়গা জাদুঘরের জন্য রেজিস্ট্রিও করে দিয়েছিলেন। এ জাদুঘরটি ১৯৯৪ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানান, জাদুঘরটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে চলে যাওয়ার পর থেকে এর দৈন্যদশা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর থেকে অবহেলার ছাপ পড়তে থাকে। সংরক্ষিত মূল্যবান সম্পদগুলো সংরক্ষণে আধুনিক সুবিধা সংবলিত কোনো আসবাব পর্যন্ত বানানো হয়নি। তাছাড়া প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি জাদুঘরটিতে। মূল ভবনটি পুরনো হওয়ায় স্যাঁতসেঁতে থাকে সব সময়। মাঝেমধ্যে জাদুঘরটি খোলা হয়। একমাত্র নৈশপ্রহরী আবু বক্কার সিদ্দিকই এখন ভরসা।
নৈশপ্রহরী জানান, আমি একা কি করব। শুনেছি ভবন হবে, আবার জনবল চাইলেও দেয়া হয় না। জাদুঘরটি একেবারেই মফস্বলে হওয়ায় এখানে এসে কেউ থাকতে চান না। তিনি অতি দ্রুত ভবনটি পুনঃনির্মানের দাবি জানান।

সরেজমিন দেখা গেছে, জরাজীর্ণ ভবনটির বাইরের অংশও ভেঙ্গে যাচ্ছে। দ্বিতীয় তলার ছাউনি পর্যন্ত নেই। যা-ও আছে তাও আবার ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে। তবে নিচতলার ভেতরে দু'টি কক্ষে অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শনগুলো। অগোছালভাবে ঘরের খোলা জায়গায় ফেলে রাখায় মূল্যবান এসব প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদে ধুলার আস্তরণ পড়েছে। ওই নৈশপ্রহরীর একার পক্ষে এসব প্রত্নসামগ্রী রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বগুড়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা মুঠোফোনে বলেন, জাদুঘরটি আধুনিকায়ণে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সেখানে জাদুঘরটির উদ্যোক্তা এমএ হামিদকে স্মরণীয় করে রাখতে তার ছবিসহ পৃথক একটি গ্যালারি থাকবে। ভবন নির্মাণের পর ফিরিয়ে আনা হবে রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য নিয়ে যাওয়া সব প্রত্নসামগ্রী।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

অযত্নে-অবহেলায় চলনবিল জাদুঘর


অযত্নে-অবহেলায় চলনবিল জাদুঘর

বছরখানেক আগে বেশ কিছু মূল্যবান সম্পদ রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য বিভাগীয় প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় নিয়ে যাওয়ার পর জাদুঘরটি প্রকৃতপক্ষে সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে পড়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা এখানে এসে হতাশ হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। চলনবিলের ইতিকথা বইয়ের লেখক অধ্যাপক এমএ হামিদ ব্যক্তি উদ্যোগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়ন সদরে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ গ্রামেই এমএ হামিদের জন্ম। উপমহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে এ জাদুঘরে। তাছাড়া চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি চলনবিল অঞ্চলের মানুষ ও তাদের ইতিহাস-কৃষ্টি-কালচারকে সমৃদ্ধ করাই ছিল অধ্যাপক হামিদের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য তিনি একটি ভবনসহ ৮ শতক জায়গা জাদুঘরের জন্য রেজিস্ট্রিও করে দিয়েছিলেন। এ জাদুঘরটি ১৯৯৪ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানান, জাদুঘরটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে চলে যাওয়ার পর থেকে এর দৈন্যদশা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর থেকে অবহেলার ছাপ পড়তে থাকে। সংরক্ষিত মূল্যবান সম্পদগুলো সংরক্ষণে আধুনিক সুবিধা সংবলিত কোনো আসবাব পর্যন্ত বানানো হয়নি। তাছাড়া প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি জাদুঘরটিতে। মূল ভবনটি পুরনো হওয়ায় স্যাঁতসেঁতে থাকে সব সময়। মাঝেমধ্যে জাদুঘরটি খোলা হয়। একমাত্র নৈশপ্রহরী আবু বক্কার সিদ্দিকই এখন ভরসা।
নৈশপ্রহরী জানান, আমি একা কি করব। শুনেছি ভবন হবে, আবার জনবল চাইলেও দেয়া হয় না। জাদুঘরটি একেবারেই মফস্বলে হওয়ায় এখানে এসে কেউ থাকতে চান না। তিনি অতি দ্রুত ভবনটি পুনঃনির্মানের দাবি জানান।

সরেজমিন দেখা গেছে, জরাজীর্ণ ভবনটির বাইরের অংশও ভেঙ্গে যাচ্ছে। দ্বিতীয় তলার ছাউনি পর্যন্ত নেই। যা-ও আছে তাও আবার ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে। তবে নিচতলার ভেতরে দু'টি কক্ষে অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শনগুলো। অগোছালভাবে ঘরের খোলা জায়গায় ফেলে রাখায় মূল্যবান এসব প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদে ধুলার আস্তরণ পড়েছে। ওই নৈশপ্রহরীর একার পক্ষে এসব প্রত্নসামগ্রী রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বগুড়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা মুঠোফোনে বলেন, জাদুঘরটি আধুনিকায়ণে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সেখানে জাদুঘরটির উদ্যোক্তা এমএ হামিদকে স্মরণীয় করে রাখতে তার ছবিসহ পৃথক একটি গ্যালারি থাকবে। ভবন নির্মাণের পর ফিরিয়ে আনা হবে রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য নিয়ে যাওয়া সব প্রত্নসামগ্রী।

বিডিপ্রেস/আরজে

স্পটলাইট