BDpress

গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত অবিন্তাকে মায়ের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত অবিন্তাকে মায়ের চিঠি
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্তো​রাঁয় গত বছর ১ জুলাই জঙ্গি হামলায় নিহত হন অবিন্তা কবীর। মাত্র ২০ বছর বয়সে চরম বর্বরতার শিকার হন অবিন্তা।


শনিবার এক অনুষ্ঠানে মেয়ে অবিন্তার উদ্দেশে লেখা এক ​খোলা চিঠি পাঠ করেন। মেয়েকে নিয়ে মায়ের লেখা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হল। চিঠিটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা।

আমার সোনামণি

আর সব দিনের মতো আজও তোকে লিখতে বসেছি। পার্থক্য শুধু একটাই আজ তোর সঙ্গে গল্প হচ্ছে অনেক লোকের সামনে। তুই তো আমার আত্মার সঙ্গে মিশে আছিস, আমার সবচেয়ে আদরের ধন। এই দ্যাখ, আজ যা কিছু পরেছি সব তোর। কেন জানিস? এখানটায় দাঁড়িয়ে তোর কথা বলতে যে সাহসটুকু চাই, তা পাব আশা করে।

শোন, তোকে বড় করা ছিল আমার কাছে খুব সহজ কাজ। সেই তোকে ছোট্টটি নিয়ে আমরা যখন মিয়ামিতে এলাম, তুই এতটুকুও কষ্ট দিসনি আমায়। সহজেই তুই ওখানকার ভাষা রপ্ত করে নিলি, তোর বন্ধুবান্ধব হলো। আমি যখনই স্কুলের অভিভাবক সভায় গিয়েছি, শুনেছি তুই একটা লক্ষ্মী সোনা মেয়ে। আমার মনে পড়ে শুধু একবার তোকে বলেছিলাম, নিজের পরিচয়টা ভুলে যাস না। ওটাই আসল। তুই ভুলিসনি। সব সময় দেশে ফিরতে চেয়েছিস। দেশে আসার কথা হলে তুই সবচেয়ে বেশি খুশি হতি। হয়তো এখানে আমি পারিবারিক ব্যবসায় ব্যস্ত। তবু তোর কোনো অনুযোগ ছিল না। তুই তো শুধু আমায় অনুপ্রেরণাই দিয়েছিস।

যখন তুই এখান থেকে যোজন দুরে ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনো আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখেছি, একই জার্সি গায়ে দিয়ে। ফুটবল দেখেছি । আর সেই যে রাতের বেলা ঘুমোতে যাওয়ার আগে আমরা দুজন গান ধরতাম?

তোর নানা, টুটু, পাপা, দাদা, দাদু, ফুপু, খালা, মামা আর তোর ভাইবোনেরা সবাই তোর কথা বলে। আর গ্যাব্রিয়েল- সেও তো।

১৯ বছর ৪ মাসের জীবনে তুই কখনো আমার অবাধ্য হোসনি। যদিও কখনো কখনো আমি কঠোর হয়েছি। তুই বলতি আমার মতো হতে চাস। আরে পাগলি, আমার মতো হওয়া তো খুব সহজ। কঠিন হয়তো অসম্ভব তোর মতো হওয়া। আমি এক গর্বিত মা। কথা দিচ্ছি তোর স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করব।

শোন, তুই আমার সকাল, দুপুর, বিকেল, রাত, তুই আমার প্রতিটা মুহূর্ত, আমার বেঁচে থাকার কারণ। এখন তো শুধু দিন গোনা। কবে আবার তোকে ছুঁতে পারব, তোকে জড়িয়ে ধরতে পারব, তোর হাসিমাখা মুখটা দেখতে পাব।

অনেক আদর তোকে
মা


বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত অবিন্তাকে মায়ের চিঠি


গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত অবিন্তাকে মায়ের চিঠি


শনিবার এক অনুষ্ঠানে মেয়ে অবিন্তার উদ্দেশে লেখা এক ​খোলা চিঠি পাঠ করেন। মেয়েকে নিয়ে মায়ের লেখা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হল। চিঠিটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা।

আমার সোনামণি

আর সব দিনের মতো আজও তোকে লিখতে বসেছি। পার্থক্য শুধু একটাই আজ তোর সঙ্গে গল্প হচ্ছে অনেক লোকের সামনে। তুই তো আমার আত্মার সঙ্গে মিশে আছিস, আমার সবচেয়ে আদরের ধন। এই দ্যাখ, আজ যা কিছু পরেছি সব তোর। কেন জানিস? এখানটায় দাঁড়িয়ে তোর কথা বলতে যে সাহসটুকু চাই, তা পাব আশা করে।

শোন, তোকে বড় করা ছিল আমার কাছে খুব সহজ কাজ। সেই তোকে ছোট্টটি নিয়ে আমরা যখন মিয়ামিতে এলাম, তুই এতটুকুও কষ্ট দিসনি আমায়। সহজেই তুই ওখানকার ভাষা রপ্ত করে নিলি, তোর বন্ধুবান্ধব হলো। আমি যখনই স্কুলের অভিভাবক সভায় গিয়েছি, শুনেছি তুই একটা লক্ষ্মী সোনা মেয়ে। আমার মনে পড়ে শুধু একবার তোকে বলেছিলাম, নিজের পরিচয়টা ভুলে যাস না। ওটাই আসল। তুই ভুলিসনি। সব সময় দেশে ফিরতে চেয়েছিস। দেশে আসার কথা হলে তুই সবচেয়ে বেশি খুশি হতি। হয়তো এখানে আমি পারিবারিক ব্যবসায় ব্যস্ত। তবু তোর কোনো অনুযোগ ছিল না। তুই তো শুধু আমায় অনুপ্রেরণাই দিয়েছিস।

যখন তুই এখান থেকে যোজন দুরে ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনো আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখেছি, একই জার্সি গায়ে দিয়ে। ফুটবল দেখেছি । আর সেই যে রাতের বেলা ঘুমোতে যাওয়ার আগে আমরা দুজন গান ধরতাম?

তোর নানা, টুটু, পাপা, দাদা, দাদু, ফুপু, খালা, মামা আর তোর ভাইবোনেরা সবাই তোর কথা বলে। আর গ্যাব্রিয়েল- সেও তো।

১৯ বছর ৪ মাসের জীবনে তুই কখনো আমার অবাধ্য হোসনি। যদিও কখনো কখনো আমি কঠোর হয়েছি। তুই বলতি আমার মতো হতে চাস। আরে পাগলি, আমার মতো হওয়া তো খুব সহজ। কঠিন হয়তো অসম্ভব তোর মতো হওয়া। আমি এক গর্বিত মা। কথা দিচ্ছি তোর স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করব।

শোন, তুই আমার সকাল, দুপুর, বিকেল, রাত, তুই আমার প্রতিটা মুহূর্ত, আমার বেঁচে থাকার কারণ। এখন তো শুধু দিন গোনা। কবে আবার তোকে ছুঁতে পারব, তোকে জড়িয়ে ধরতে পারব, তোর হাসিমাখা মুখটা দেখতে পাব।

অনেক আদর তোকে
মা


বিডিপ্রেস/আরজে

স্পটলাইট