BDpress

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে

জেলা প্রতিনিধি

অ+ অ-
সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে
সিরাজগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনের কারণে জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে বানভাসিরা।

তিস্তা নদীতে ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় যমুনা নদীতে পানি বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলায় মিল্ক ভিটার খামারিয়া গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অধিকাংশ বাথান গুলো বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে খামারিরা।

আগামী ৩-৪ দিন যমুনা নদীতে আরও পানি বৃদ্ধি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নদী করতোয়া, হুরাসাগর, ফুলজোড়, ইছামতি নদীতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনের কারণে জেলার কাজিপুর, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। পানি বাড়ার কারণে আমন ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় ফসলী জমি পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা কবলিত মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চায়না বাধ এলাকার কৃষক আবেদ আলী বলেন, বাড়ি-ঘর পানিতে ডুবে গেছে। থাকার জায়গা নাই। ছেলে মেয়ে নাই। অন্যর বাড়ি বাড়ি সাহায্য তুলে কোনো মতে দিন কাটছে। সরকারী ভাবে এখনও কিছুই পায়নি।

কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খোকা জানান, রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো পানির নিচে যাওয়ার অবস্থা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বন্যা কবলিত ৪শ পরিবারকে ইতিমধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম জানান, সয়দাবাদে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। সোমবার দুপুরে সয়দাবাদ ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত ১৫০টি পরিবারের মাঝে এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় থেকে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ১১ মেট্রিক টন, কাজিপুরে ৪ মেট্রিক টন, চৌহালীতে ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমাম বলেন, বর্তমানে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীতে আরো কয়েকদিন পানি বৃদ্ধি পাবে। ভাঙন রোধে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে


সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে

তিস্তা নদীতে ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় যমুনা নদীতে পানি বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলায় মিল্ক ভিটার খামারিয়া গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অধিকাংশ বাথান গুলো বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে খামারিরা।

আগামী ৩-৪ দিন যমুনা নদীতে আরও পানি বৃদ্ধি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নদী করতোয়া, হুরাসাগর, ফুলজোড়, ইছামতি নদীতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনের কারণে জেলার কাজিপুর, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। পানি বাড়ার কারণে আমন ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় ফসলী জমি পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা কবলিত মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চায়না বাধ এলাকার কৃষক আবেদ আলী বলেন, বাড়ি-ঘর পানিতে ডুবে গেছে। থাকার জায়গা নাই। ছেলে মেয়ে নাই। অন্যর বাড়ি বাড়ি সাহায্য তুলে কোনো মতে দিন কাটছে। সরকারী ভাবে এখনও কিছুই পায়নি।

কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খোকা জানান, রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো পানির নিচে যাওয়ার অবস্থা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বন্যা কবলিত ৪শ পরিবারকে ইতিমধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম জানান, সয়দাবাদে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। সোমবার দুপুরে সয়দাবাদ ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত ১৫০টি পরিবারের মাঝে এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় থেকে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ১১ মেট্রিক টন, কাজিপুরে ৪ মেট্রিক টন, চৌহালীতে ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমাম বলেন, বর্তমানে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীতে আরো কয়েকদিন পানি বৃদ্ধি পাবে। ভাঙন রোধে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে।

বিডিপ্রেস/আরজে

স্পটলাইট