BDpress

কী বার্তা দিচ্ছে হামবুর্গের আন্দোলন?

আলতাফ পারভেজ

অ+ অ-
কী বার্তা দিচ্ছে হামবুর্গের আন্দোলন?
গত ৭ ও ৮ জুলাই জি-২০ বিশ্ব সম্মেলন উপলক্ষ্যে জার্মানির হামবুর্গে উত্তেজনাকর এক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হলো। বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের সেসব ছবি দুনিয়াব্যাপী বিদ্যুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে লাখে লাখে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হামবুর্গ প্রতিরোধযুদ্ধের ছবি ব্যাপকভাবে বিনিময় হয়েছে। বোঝা গেছে, মানুষ এই প্রতিবাদকে পছন্দ করেছে। বিশেষ করে স্থানীয় পরিবর্তনবাদী কর্মীরা।

কিন্তু হামবুর্গের এই প্রতিবাদকারীরা কারা? কতটা জানি আমরা তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য? প্রতিবাদকারীদের সকলেই কি সহিংস ছিল? যারা সহিংস ছিল তারা কারা? এটা কি শুধু ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে হয়েছে? জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে ‘প্যারিস চুক্তি’ থেকে ট্রাম্পের পিছুটানের কারণেই হয়েছে? এই প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর ছাড়া প্রতিবাদ আন্দোলনের ছবি ও সংবাদে লাইক কিংবা শেয়ার কোন কার্যকর অর্থবহন করে কী?

এবারের জি-২০ সম্মেলনে নেতৃত্বের যে সমাবেশ তাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ডানপন্থী ঘরানার প্রতিনিধিত্বই বেশি ছিল। ট্রাম্প, তেরেসা মে, পুতিন, এরদোগান সবার হাতই নিজ নিজ দেশে ভিন্নমতালম্বীদের প্রতিবাদ-আন্দোলন দমনের তরতাজা রক্তে সিক্ত। এরা সকলেই নিজ নিজ দেশে একেকজন ক্ষুদে ফ্যাসিস্ট মাত্র।

বস্তুত এদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভুমিকার কারণেই ইউরোপসহ সমগ্র বিশ্বে শরণার্থীদের বন্যা। এই নেতারা, সংখ্যায় যারা ২০-২১ জন তারা হামবুর্গ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে এবং সমগ্র বিশ্বের ওপর তাদের চলতি যুদ্ধনীতি ও দমননীতি অব্যাহত রাখতে চাইছেন।

হামবুর্গে তরুণ-তরুণীরা তারই প্রতিবাদ করছিল। অন্তত এক লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিল এই প্রতিবাদে। যা শুরু হয়েছিল আসলে গত জুন থেকে এবং দুই দিনের সম্মেলন শেষেও হামবুর্গ ও জার্মানিজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত আছে তা। প্রতিবাদকারীদের সকলেই সহিংস ছিলেন না।

বলা যায়, মূল অংশই সহিংস ছিল না। কিন্তু সহিংসরাই বিশেষ নজর কেড়েছে প্রচার মাধ্যমে। প্রশ্ন উঠতে পারে এদের রাজনৈতিক পরিচয় কী? এরা কি কোন বিশেষ রাজনীতির কথা বলছে? বাংলাদেশে তার আবেদন কতটা প্রাসঙ্গিক?

জি-২০-এর কথা হয়তো আমরা ভালোই জানি। এটা নেতৃত্বশীল পুঁজিতান্ত্রিক দেশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসমূহের একটা আন্তর্জাতিক জোট। যাতে আছে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, ব্রিটেন, রাশিয়া প্রমুখ। পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষাই জি২০-এর মূললক্ষ্য। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডবলিউটিও-এর এক ধরনের সম্প্রসারিত সংস্থা বলা যায় জি ২০কে।

হামবুর্গের প্রতিবাদকারীরা মূলত পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের এই সম্প্রসারিত মোড়লদের বিপক্ষেই দাঁড়িয়েছিল। পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমেই স্বীকার করা হয়েছে ৮ জুলাই অন্তত একটি সমাবেশে (‘সলিডারিটি উইদাউট বর্ডার’) ৭৬ হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল।

প্রতিবাদী এই তরুণ-তরুণীদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে জার্মানী ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পুঁজিতান্ত্রিক শোষণ কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এন্টি-ফাসিস্ট মুভমেন্টের কর্মীরা ও এনার্কিস্টরা। যাদের ‘এন্টিফা’ এবং ‘ব্ল্যাক-ব্লক’ নামেও অভিহিত করা হয়। এরা ইউরোপের বামপন্থী আন্দোলনের সবচেয়ে সিরিয়াস ও সংগ্রামী অংশ। পশ্চিমের প্রচার মাধ্যম যাদের ‘ফার-লেফট’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

আইনগত ঝামেলা থেকে সুরক্ষা পেতে এবং পুলিশের পিপার স্প্রে থেকে চোখ-মুখ বাঁচাতে ‘ব্ল্যাক-ব্লক’-এর সদস্যরা সাধারণত কালো মুখোশ পরেই প্রতিবাদ আন্দোলনে শামিল হয়। এরাই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল হামবুর্গে। প্রায় ২০০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে হামবুর্গে। এনার্কিস্ট প্রতিবাদ আন্দোলনকারীও গ্রেফতার হয়েছে কয়েক শত। এন্টিফা ও ব্ল্যাক-ব্লক তাদের প্রতিবাদের ব্র্যান্ড নাম দিয়েছিল ‘ওয়েলকাম টু হেল’।

জি-২০-এর পুঁজিতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী নেতৃত্ব বিশ্বকে যে দোজখের মতো করেছে সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছিল প্রতিবাদকারীরা ‘ওয়েলকাম টু হেল’ নামের মধ্যদিয়ে। বিপরীতে পুলিশ জার্মানির সবচেয়ে হাইপ্রেসার জলকামানগুলো দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশগুলো ভেঙ্গে দিতে তৎপর ছিল।

প্রায় ২০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছিল প্রতিবাদ আন্দোলন দমনের জন্য। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া জার্মান সরকারের ওপর নাখোশ এনার্কিস্টদের দমনে আরও কঠোরতা অবলম্বন করা হলো না কেন!

প্রসঙ্গক্রমে বলা দরকার, ব্ল্যাক-ব্লক কোন দল নয়; বরং একটা স্টাইল বা পদ্ধতি। প্রতিবাদের এই পদ্ধতিতে যে কেউ শামিল হতে পারে। আবার সকল এনার্কিস্ট ব্ল্যাক-ব্লক পদ্ধতিতে আন্দোলন করছে তাও নয়। তবে ‘ব্ল্যাক-ব্লক’ অনুসারীরা অধিকাংশই এনার্কিস্ট ও এন্টিফা।

দুই.

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সাহিত্যের একটা মুশকিলের দিক হলো ‘এনার্কিজম’-এর বাংলা করেছি আমরা ‘নৈরাজ্যবাদ’। বাংলা তো নয় যেন, গালি দিলাম। আসলে এনার্কিজম মানে নৈরাজ্য নয়। এনার্কিজম উন্নত এক রাজনৈতিক-দর্শনের নাম। এনার্কিস্টরা ‘ক্ষমতা’ ও ‘কর্তৃত্ব’-এর ভরকেন্দ্রকে আঘাত করতে তৎপর।

হামবুর্গের প্রতিবাদকারীরাও মনে করে ফ্যাসিজম ও পুঁজিতান্ত্রিক লুন্ঠন ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে এখন সোচ্চার ও ক্রুদ্ধ রেজিসটেন্স প্রয়োজন। তাদের ভাষায় জি-২০ দেশগুলোর নীতি-কৌশল হলো এখন বিশ্ব শান্তির প্রধান প্রতিপক্ষ। হামবুর্গের ব্ল্যাক-ব্লক আন্দোলনে শামিল পরিবেশ আন্দোলন কর্মীরা মনে করে জি-২০ বিশ্বের পরিবেশ দূষণের ৭৫ ভাগ হিস্যাধারী।

তবে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস মেইজেরি এনার্কিস্টদের এই সহিংস প্রতিবাদকে ‘ইসলামপন্থী টেরোরিজম’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এখন ইইউকে বলছেন, সমগ্র মহাদেশ জুড়ে ‘ফার-লেফট’দের ডেইটাবেজ তৈরি করার জন্য।

টমাস মেইজেরি অত্যন্ত পরিণত রাজনীতিবিদ। জি-২০-এর প্রকৃত প্রতিপক্ষ শনাক্ত করতে এবং করণীয় ঠিক করতে তাঁর বেশি ভাবতে হয় নি। বস্তুত এন্টিফা এবং এনার্কিস্টরাই এখন যুক্তরাষ্ট্রে ও ইউরোপে ফ্যাসিজমকে সবচেয়ে সামনে দাঁড়িয়ে মোকাবেলা করছে।

এ বছর ২০ জানুয়ারি  ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন যুক্তরাষ্ট্রে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ আয়োজন করে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের চরম বিরাগভাজন হয়ে আছে ‘এন্টিফা’। শরণার্থীদের ঠেকানোর নামে ইউরোপের দেশে-দেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট সুপরিমিস্টরা যখন রাজনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্রগুলো দখল করছে তখন এন্টি ফ্যাসিস্ট আন্দোলনগুলোও বাড়তি গতি পেয়েছে।

এরা একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছোট ছোট পরিসরে জাতিগত, ধর্মীয় ও বর্ণগত হিংসার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। এই এন্টিফা আন্দোলনগুলোর সঙ্গে পুরানো এনার্কিস্ট সংগঠনগুলো যুক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে মাঝে মাঝে কিছু উপলক্ষ্যে প্রতিরোধ ইভেন্টের আয়োজন করছে। যার একটি ছিল ‘ওয়েলকাম টু হেল’।

‘ওয়েলকাম টু হেল’-এর দর্শন হলো দেশে দেশে জি-২০-এর শাসনকে দুঃসাধ্য করে তোলা। এন্টিফা বা ব্ল্যাক-ব্লক বস্তুত আমাদের দেশের ‘পার্টি’ আদলের কোন দল নয়। এগুলো হলো বর্ণবাদ বিরোধী, ধর্মীয় ঘৃণার বিরোধী, পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন সম্পর্কের বিরোধী, যুদ্ধ বিরোধী এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কর্তৃত্ববাদী শাসন-সংস্কৃতির বিরোধী মানুষদের ঢিলে-ঢালা জোট।

এরা নানান ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে ব্যক্তিকে নয় কর্মসূচিকে সামনে তুলে ধরে। কোন আন্দোলনে সংহতি জানানো জরুরি মনে করলে প্রয়োজনে নিজেরাই সংগঠিত হয়ে বাস-ট্রেন ভাড়া করে সেখানে চলে যায়। যেহেতু এরা নির্বাচনপন্থী নয় সে কারণে কাউকে ‘নেতা’ হিসেবে তৈরিরও কোন দায় নেই তাদের। এদের কোন ‘কেন্দ্র’ও নেই।

ফলে দু’একজন নেতাকে গ্রেফতার করে এই ধারাকে নিষ্ক্রিয় করাও সহজ নয়। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর পরিবর্তনবাদী কর্মীদের এন্টিফা বা ব্ল্যাক-ব্লকের ছবিগুলোতে লাইক দেয়ার আগে তাদের দর্শনগত দৃষ্টিভঙ্গী এবং সাংগঠনিক স্টাইলটি বোঝা জরুরি। এক্ষেত্রে নতুন অনেক সাংগঠনিক সংস্কৃতির দেখা পাবেন তারা।

বলাবাহুল্য, বামপন্থী আন্দোলনে এন্টিফা এবং ব্ল্যাক-ব্লককে নিয়ে মতদ্বৈততাও আছে। বামপন্থীদের মধ্যে যারা শান্তিপূর্ণ ধর্ণা, বয়কট, ভোট ইত্যাদিতে আস্থা রাখেন তারা মনে করেন সহিংস কর্মকৌশল কিংবা কালো মুখোশ পরে মাঠে নামার কৌশল অনেক মানুষকে লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। এইরূপ কৌশল একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নকে বৈধতা দিচ্ছে এবং জনগণের অনেক ন্যায্য ক্ষোভকেও ‘সহিংস’ বলে অপরাধের তালিকায় ফেলে দিতে পারছে।

অন্যদিকে এন্টিফা ও ব্ল্যাক-ব্লকের বক্তব্য হলো, যুদ্ধ নীতি, বর্ণ ও ধর্মঘৃণা এবং বৃহৎ কর্পোরেটদের হাত থেকে সভ্যতাকে রক্ষা করতে হলে এখন মিলিট্যান্ট মুভমেন্টের বিকল্প নেই। এইরূপ সহিংসতাকে তারা মনে করে, ‘Shut down the logistics of capital’.

এরূপ ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীরা মূলত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ও বড় বড় ফিন্যানসিয়াল কপোরেশনগুলোকেই টার্গেট করে থাকে। তাদের ভাষায়, পারসোনাল প্রপার্টি ও প্রাইভেট প্রপার্টি’র মধ্যে বহু ফারাক আছে। এন্টিফা বা এনার্কিস্টরা কখনো পারসোনাল প্রপার্টি ভাংচুর করে না।

এক্ষেত্রে এন্টিফা’র চেয়েও ব্ল্যাক-ব্লক এর রাজনীতি ও দর্শন অনেক স্পষ্ট। তারা অর্থ ও কর্তৃত্ব-এর প্রভাবমুক্ত সমাজের জন্য কাজ করে। হামবুর্গের মতোই ১৯৯৯ সালে সিয়াটলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলনকালেও ব্ল্যাক-ব্লক তাদের ক্রোধান্বিত বিক্ষোভে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল।

এমন ঘটনা রয়েছে যে, ব্ল্যাক-ব্লকের রাজনৈতিক-দার্শনিক অবস্থানকে সমাজে হেয় করার জন্য কালো জামা ও মুখোশ পরে পুলিশ ছদ্মবেশে অপ্রয়োজনীয় অনেক ভাংচুর করে মিডিয়ায় প্রচার করেছে। তবে এরকম সত্ত্বেও ব্ল্যাক-ব্লকের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব দমন করা যাচ্ছে না।

ব্ল্যাক-ব্লক মনে করে পুঁজিতন্ত্রের তথাকথিত ‘বৈধ’ নিপীড়ন ও লুন্ঠন থেকে ‘জনস্বার্থ’ রক্ষায় অনেক সময় ‘শক্ত প্রতিরোধ আন্দোলন’ প্রায়াজন। যে ‘প্রতিরোধ’ পুঁজিতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের সহযোগী কর্তৃত্ববাদী প্রতিপক্ষের মাঝে ভয়ের জন্ম দেয় না সেটা কোন প্রতিরোধ আন্দোলন হতে পারে না। তবে এরা সব সময় ‘ব্ল্যাক-ব্লক কৌশল’ নেয় না। বরং বিশেষ বিশেষ সময়ে জনগণের ‘সমাবেশকে রক্ষা’ করতেই কেবল জঙ্গী অবস্থান নেয়।

লক্ষ্যণীয়, হামবুর্গ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের অন্যত্র যে বাস্তবতায় এন্টিফা বা ব্ল্যাক-ব্লক কর্মীরা কাজ করছে তার অনেক উপাদানই এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে উপস্থিত। বিশেষ করে কর্পোরেটদের একচেটিয়াত্ব, পুঁজির প্রয়োজনে প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস ও তার ছায়ায় রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ দক্ষিণ এশিয়ায় এক রুঢ় বাস্তবতা।

এইরূপ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের স্থানীয় পরিবর্তনবাদী কর্মীরা এন্টিফা ও ব্ল্যাক-ব্লকের সংগ্রামী ছবিগুলোর পাশাপাশি তাদের রাজনীতি ও দর্শন নিয়েও খানিকটা আগ্রহী হলে দীর্ঘমেয়াদে সেটাই হতে পারে বাংলাদেশে সুদূর হামবুর্গ অধ্যায়ের বাস্তব অবদান।

আলতাফ পারভেজ : গবেষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

কী বার্তা দিচ্ছে হামবুর্গের আন্দোলন?


কী বার্তা দিচ্ছে হামবুর্গের আন্দোলন?

কিন্তু হামবুর্গের এই প্রতিবাদকারীরা কারা? কতটা জানি আমরা তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য? প্রতিবাদকারীদের সকলেই কি সহিংস ছিল? যারা সহিংস ছিল তারা কারা? এটা কি শুধু ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে হয়েছে? জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে ‘প্যারিস চুক্তি’ থেকে ট্রাম্পের পিছুটানের কারণেই হয়েছে? এই প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর ছাড়া প্রতিবাদ আন্দোলনের ছবি ও সংবাদে লাইক কিংবা শেয়ার কোন কার্যকর অর্থবহন করে কী?

এবারের জি-২০ সম্মেলনে নেতৃত্বের যে সমাবেশ তাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ডানপন্থী ঘরানার প্রতিনিধিত্বই বেশি ছিল। ট্রাম্প, তেরেসা মে, পুতিন, এরদোগান সবার হাতই নিজ নিজ দেশে ভিন্নমতালম্বীদের প্রতিবাদ-আন্দোলন দমনের তরতাজা রক্তে সিক্ত। এরা সকলেই নিজ নিজ দেশে একেকজন ক্ষুদে ফ্যাসিস্ট মাত্র।

বস্তুত এদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভুমিকার কারণেই ইউরোপসহ সমগ্র বিশ্বে শরণার্থীদের বন্যা। এই নেতারা, সংখ্যায় যারা ২০-২১ জন তারা হামবুর্গ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে এবং সমগ্র বিশ্বের ওপর তাদের চলতি যুদ্ধনীতি ও দমননীতি অব্যাহত রাখতে চাইছেন।

হামবুর্গে তরুণ-তরুণীরা তারই প্রতিবাদ করছিল। অন্তত এক লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিল এই প্রতিবাদে। যা শুরু হয়েছিল আসলে গত জুন থেকে এবং দুই দিনের সম্মেলন শেষেও হামবুর্গ ও জার্মানিজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত আছে তা। প্রতিবাদকারীদের সকলেই সহিংস ছিলেন না।

বলা যায়, মূল অংশই সহিংস ছিল না। কিন্তু সহিংসরাই বিশেষ নজর কেড়েছে প্রচার মাধ্যমে। প্রশ্ন উঠতে পারে এদের রাজনৈতিক পরিচয় কী? এরা কি কোন বিশেষ রাজনীতির কথা বলছে? বাংলাদেশে তার আবেদন কতটা প্রাসঙ্গিক?

জি-২০-এর কথা হয়তো আমরা ভালোই জানি। এটা নেতৃত্বশীল পুঁজিতান্ত্রিক দেশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসমূহের একটা আন্তর্জাতিক জোট। যাতে আছে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, ব্রিটেন, রাশিয়া প্রমুখ। পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষাই জি২০-এর মূললক্ষ্য। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডবলিউটিও-এর এক ধরনের সম্প্রসারিত সংস্থা বলা যায় জি ২০কে।

হামবুর্গের প্রতিবাদকারীরা মূলত পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের এই সম্প্রসারিত মোড়লদের বিপক্ষেই দাঁড়িয়েছিল। পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমেই স্বীকার করা হয়েছে ৮ জুলাই অন্তত একটি সমাবেশে (‘সলিডারিটি উইদাউট বর্ডার’) ৭৬ হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল।

প্রতিবাদী এই তরুণ-তরুণীদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে জার্মানী ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পুঁজিতান্ত্রিক শোষণ কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এন্টি-ফাসিস্ট মুভমেন্টের কর্মীরা ও এনার্কিস্টরা। যাদের ‘এন্টিফা’ এবং ‘ব্ল্যাক-ব্লক’ নামেও অভিহিত করা হয়। এরা ইউরোপের বামপন্থী আন্দোলনের সবচেয়ে সিরিয়াস ও সংগ্রামী অংশ। পশ্চিমের প্রচার মাধ্যম যাদের ‘ফার-লেফট’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

আইনগত ঝামেলা থেকে সুরক্ষা পেতে এবং পুলিশের পিপার স্প্রে থেকে চোখ-মুখ বাঁচাতে ‘ব্ল্যাক-ব্লক’-এর সদস্যরা সাধারণত কালো মুখোশ পরেই প্রতিবাদ আন্দোলনে শামিল হয়। এরাই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল হামবুর্গে। প্রায় ২০০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে হামবুর্গে। এনার্কিস্ট প্রতিবাদ আন্দোলনকারীও গ্রেফতার হয়েছে কয়েক শত। এন্টিফা ও ব্ল্যাক-ব্লক তাদের প্রতিবাদের ব্র্যান্ড নাম দিয়েছিল ‘ওয়েলকাম টু হেল’।

জি-২০-এর পুঁজিতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী নেতৃত্ব বিশ্বকে যে দোজখের মতো করেছে সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছিল প্রতিবাদকারীরা ‘ওয়েলকাম টু হেল’ নামের মধ্যদিয়ে। বিপরীতে পুলিশ জার্মানির সবচেয়ে হাইপ্রেসার জলকামানগুলো দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশগুলো ভেঙ্গে দিতে তৎপর ছিল।

প্রায় ২০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছিল প্রতিবাদ আন্দোলন দমনের জন্য। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া জার্মান সরকারের ওপর নাখোশ এনার্কিস্টদের দমনে আরও কঠোরতা অবলম্বন করা হলো না কেন!

প্রসঙ্গক্রমে বলা দরকার, ব্ল্যাক-ব্লক কোন দল নয়; বরং একটা স্টাইল বা পদ্ধতি। প্রতিবাদের এই পদ্ধতিতে যে কেউ শামিল হতে পারে। আবার সকল এনার্কিস্ট ব্ল্যাক-ব্লক পদ্ধতিতে আন্দোলন করছে তাও নয়। তবে ‘ব্ল্যাক-ব্লক’ অনুসারীরা অধিকাংশই এনার্কিস্ট ও এন্টিফা।

দুই.

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সাহিত্যের একটা মুশকিলের দিক হলো ‘এনার্কিজম’-এর বাংলা করেছি আমরা ‘নৈরাজ্যবাদ’। বাংলা তো নয় যেন, গালি দিলাম। আসলে এনার্কিজম মানে নৈরাজ্য নয়। এনার্কিজম উন্নত এক রাজনৈতিক-দর্শনের নাম। এনার্কিস্টরা ‘ক্ষমতা’ ও ‘কর্তৃত্ব’-এর ভরকেন্দ্রকে আঘাত করতে তৎপর।

হামবুর্গের প্রতিবাদকারীরাও মনে করে ফ্যাসিজম ও পুঁজিতান্ত্রিক লুন্ঠন ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে এখন সোচ্চার ও ক্রুদ্ধ রেজিসটেন্স প্রয়োজন। তাদের ভাষায় জি-২০ দেশগুলোর নীতি-কৌশল হলো এখন বিশ্ব শান্তির প্রধান প্রতিপক্ষ। হামবুর্গের ব্ল্যাক-ব্লক আন্দোলনে শামিল পরিবেশ আন্দোলন কর্মীরা মনে করে জি-২০ বিশ্বের পরিবেশ দূষণের ৭৫ ভাগ হিস্যাধারী।

তবে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস মেইজেরি এনার্কিস্টদের এই সহিংস প্রতিবাদকে ‘ইসলামপন্থী টেরোরিজম’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এখন ইইউকে বলছেন, সমগ্র মহাদেশ জুড়ে ‘ফার-লেফট’দের ডেইটাবেজ তৈরি করার জন্য।

টমাস মেইজেরি অত্যন্ত পরিণত রাজনীতিবিদ। জি-২০-এর প্রকৃত প্রতিপক্ষ শনাক্ত করতে এবং করণীয় ঠিক করতে তাঁর বেশি ভাবতে হয় নি। বস্তুত এন্টিফা এবং এনার্কিস্টরাই এখন যুক্তরাষ্ট্রে ও ইউরোপে ফ্যাসিজমকে সবচেয়ে সামনে দাঁড়িয়ে মোকাবেলা করছে।

এ বছর ২০ জানুয়ারি  ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন যুক্তরাষ্ট্রে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ আয়োজন করে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের চরম বিরাগভাজন হয়ে আছে ‘এন্টিফা’। শরণার্থীদের ঠেকানোর নামে ইউরোপের দেশে-দেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট সুপরিমিস্টরা যখন রাজনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্রগুলো দখল করছে তখন এন্টি ফ্যাসিস্ট আন্দোলনগুলোও বাড়তি গতি পেয়েছে।

এরা একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছোট ছোট পরিসরে জাতিগত, ধর্মীয় ও বর্ণগত হিংসার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। এই এন্টিফা আন্দোলনগুলোর সঙ্গে পুরানো এনার্কিস্ট সংগঠনগুলো যুক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে মাঝে মাঝে কিছু উপলক্ষ্যে প্রতিরোধ ইভেন্টের আয়োজন করছে। যার একটি ছিল ‘ওয়েলকাম টু হেল’।

‘ওয়েলকাম টু হেল’-এর দর্শন হলো দেশে দেশে জি-২০-এর শাসনকে দুঃসাধ্য করে তোলা। এন্টিফা বা ব্ল্যাক-ব্লক বস্তুত আমাদের দেশের ‘পার্টি’ আদলের কোন দল নয়। এগুলো হলো বর্ণবাদ বিরোধী, ধর্মীয় ঘৃণার বিরোধী, পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন সম্পর্কের বিরোধী, যুদ্ধ বিরোধী এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কর্তৃত্ববাদী শাসন-সংস্কৃতির বিরোধী মানুষদের ঢিলে-ঢালা জোট।

এরা নানান ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে ব্যক্তিকে নয় কর্মসূচিকে সামনে তুলে ধরে। কোন আন্দোলনে সংহতি জানানো জরুরি মনে করলে প্রয়োজনে নিজেরাই সংগঠিত হয়ে বাস-ট্রেন ভাড়া করে সেখানে চলে যায়। যেহেতু এরা নির্বাচনপন্থী নয় সে কারণে কাউকে ‘নেতা’ হিসেবে তৈরিরও কোন দায় নেই তাদের। এদের কোন ‘কেন্দ্র’ও নেই।

ফলে দু’একজন নেতাকে গ্রেফতার করে এই ধারাকে নিষ্ক্রিয় করাও সহজ নয়। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর পরিবর্তনবাদী কর্মীদের এন্টিফা বা ব্ল্যাক-ব্লকের ছবিগুলোতে লাইক দেয়ার আগে তাদের দর্শনগত দৃষ্টিভঙ্গী এবং সাংগঠনিক স্টাইলটি বোঝা জরুরি। এক্ষেত্রে নতুন অনেক সাংগঠনিক সংস্কৃতির দেখা পাবেন তারা।

বলাবাহুল্য, বামপন্থী আন্দোলনে এন্টিফা এবং ব্ল্যাক-ব্লককে নিয়ে মতদ্বৈততাও আছে। বামপন্থীদের মধ্যে যারা শান্তিপূর্ণ ধর্ণা, বয়কট, ভোট ইত্যাদিতে আস্থা রাখেন তারা মনে করেন সহিংস কর্মকৌশল কিংবা কালো মুখোশ পরে মাঠে নামার কৌশল অনেক মানুষকে লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। এইরূপ কৌশল একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নকে বৈধতা দিচ্ছে এবং জনগণের অনেক ন্যায্য ক্ষোভকেও ‘সহিংস’ বলে অপরাধের তালিকায় ফেলে দিতে পারছে।

অন্যদিকে এন্টিফা ও ব্ল্যাক-ব্লকের বক্তব্য হলো, যুদ্ধ নীতি, বর্ণ ও ধর্মঘৃণা এবং বৃহৎ কর্পোরেটদের হাত থেকে সভ্যতাকে রক্ষা করতে হলে এখন মিলিট্যান্ট মুভমেন্টের বিকল্প নেই। এইরূপ সহিংসতাকে তারা মনে করে, ‘Shut down the logistics of capital’.

এরূপ ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীরা মূলত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ও বড় বড় ফিন্যানসিয়াল কপোরেশনগুলোকেই টার্গেট করে থাকে। তাদের ভাষায়, পারসোনাল প্রপার্টি ও প্রাইভেট প্রপার্টি’র মধ্যে বহু ফারাক আছে। এন্টিফা বা এনার্কিস্টরা কখনো পারসোনাল প্রপার্টি ভাংচুর করে না।

এক্ষেত্রে এন্টিফা’র চেয়েও ব্ল্যাক-ব্লক এর রাজনীতি ও দর্শন অনেক স্পষ্ট। তারা অর্থ ও কর্তৃত্ব-এর প্রভাবমুক্ত সমাজের জন্য কাজ করে। হামবুর্গের মতোই ১৯৯৯ সালে সিয়াটলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলনকালেও ব্ল্যাক-ব্লক তাদের ক্রোধান্বিত বিক্ষোভে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল।

এমন ঘটনা রয়েছে যে, ব্ল্যাক-ব্লকের রাজনৈতিক-দার্শনিক অবস্থানকে সমাজে হেয় করার জন্য কালো জামা ও মুখোশ পরে পুলিশ ছদ্মবেশে অপ্রয়োজনীয় অনেক ভাংচুর করে মিডিয়ায় প্রচার করেছে। তবে এরকম সত্ত্বেও ব্ল্যাক-ব্লকের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব দমন করা যাচ্ছে না।

ব্ল্যাক-ব্লক মনে করে পুঁজিতন্ত্রের তথাকথিত ‘বৈধ’ নিপীড়ন ও লুন্ঠন থেকে ‘জনস্বার্থ’ রক্ষায় অনেক সময় ‘শক্ত প্রতিরোধ আন্দোলন’ প্রায়াজন। যে ‘প্রতিরোধ’ পুঁজিতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের সহযোগী কর্তৃত্ববাদী প্রতিপক্ষের মাঝে ভয়ের জন্ম দেয় না সেটা কোন প্রতিরোধ আন্দোলন হতে পারে না। তবে এরা সব সময় ‘ব্ল্যাক-ব্লক কৌশল’ নেয় না। বরং বিশেষ বিশেষ সময়ে জনগণের ‘সমাবেশকে রক্ষা’ করতেই কেবল জঙ্গী অবস্থান নেয়।

লক্ষ্যণীয়, হামবুর্গ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের অন্যত্র যে বাস্তবতায় এন্টিফা বা ব্ল্যাক-ব্লক কর্মীরা কাজ করছে তার অনেক উপাদানই এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে উপস্থিত। বিশেষ করে কর্পোরেটদের একচেটিয়াত্ব, পুঁজির প্রয়োজনে প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস ও তার ছায়ায় রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ দক্ষিণ এশিয়ায় এক রুঢ় বাস্তবতা।

এইরূপ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের স্থানীয় পরিবর্তনবাদী কর্মীরা এন্টিফা ও ব্ল্যাক-ব্লকের সংগ্রামী ছবিগুলোর পাশাপাশি তাদের রাজনীতি ও দর্শন নিয়েও খানিকটা আগ্রহী হলে দীর্ঘমেয়াদে সেটাই হতে পারে বাংলাদেশে সুদূর হামবুর্গ অধ্যায়ের বাস্তব অবদান।

আলতাফ পারভেজ : গবেষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক।

বিডিপ্রেস/আরজে

স্পটলাইট