BDpress

হটাৎ করেই দেশের ১৯ জেলার বিভিন্ন স্থান বন্যাকবলিত , সড়ক-রেলপথে পানি

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
হটাৎ করেই দেশের ১৯ জেলার বিভিন্ন স্থান বন্যাকবলিত , সড়ক-রেলপথে পানি
হটাৎ করেই দেশের ১৯ জেলার বিভিন্ন স্থান বন্যাকবলিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট এই বন্যায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রেল ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেললাইনের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। একাধিক জায়গায় এক থেকে পাঁচ ফুট পানির নিচে রয়েছে  রেললাইন । ফলে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী ট্রেন বন্ধ রয়েছে। রেললাইন থেকে পানি অপসারিত হলে এবং লাইন সংস্কার শেষে এই রুটে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হবে।

জানা যায়, পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের মধ্যে নয়নিবরুজ ও কিসমত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় রেললাইনের পাথরসহ বিভিন্ন উপকরণ পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় পাথর-মাটি সরে গিয়ে দুই থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় দুই কিলোমিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে বন্ধ ছিল রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্প এলাকায় পার্শ্ববর্তী পাহাড় ধসে প্রধান সড়কে মাটি নেমে আসে। ফলে এই সড়কে হালকা যানবাহন চলা শুরু হলেও ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাজেক ও লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাজেকে আটকা পড়েছে পর্যটকের শতাধিক গাড়ি। গত দুই দিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ছোট মেরুং বাজারসহ দীঘিনালা-লংগদু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ।

কুড়িগ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫০ হাজার মানুষ। কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা, পাঁচগাছি, ভোগডাঙ্গা, যাত্রাপুর, মোগলবাসা; উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ; নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ, নুনখাওয়া; ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা, ভাঙ্গামোড় ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের অনেক গ্রামে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৫০টি স্কুলে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবে গেছে গ্রামীণ সড়ক।

পঞ্চগড়ে টানা ভারি বর্ষণ ও উজানের পানিতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে পানির তীব্র স্রোতে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে।

দিনাজপুরে ২৮ ঘণ্টায় ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিতে শত শত একরের ফসলি জমি, নিম্নাঞ্চল এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক-মহাসড়ক তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে নদীর বাঁধসহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৮০০ পরিবার।

সিলেট জেলার চারটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যাকবলিত উপজেলাগুলো হচ্ছে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা। বন্যায় এসব উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একাধিক উপজেলায় রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। টানা বর্ষণের কারণে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিডিপ্রেস/আলী

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

হটাৎ করেই দেশের ১৯ জেলার বিভিন্ন স্থান বন্যাকবলিত , সড়ক-রেলপথে পানি


হটাৎ করেই দেশের ১৯ জেলার বিভিন্ন স্থান বন্যাকবলিত , সড়ক-রেলপথে পানি

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেললাইনের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। একাধিক জায়গায় এক থেকে পাঁচ ফুট পানির নিচে রয়েছে  রেললাইন । ফলে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী ট্রেন বন্ধ রয়েছে। রেললাইন থেকে পানি অপসারিত হলে এবং লাইন সংস্কার শেষে এই রুটে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হবে।

জানা যায়, পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের মধ্যে নয়নিবরুজ ও কিসমত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় রেললাইনের পাথরসহ বিভিন্ন উপকরণ পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় পাথর-মাটি সরে গিয়ে দুই থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় দুই কিলোমিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে বন্ধ ছিল রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্প এলাকায় পার্শ্ববর্তী পাহাড় ধসে প্রধান সড়কে মাটি নেমে আসে। ফলে এই সড়কে হালকা যানবাহন চলা শুরু হলেও ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাজেক ও লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাজেকে আটকা পড়েছে পর্যটকের শতাধিক গাড়ি। গত দুই দিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ছোট মেরুং বাজারসহ দীঘিনালা-লংগদু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ।

কুড়িগ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫০ হাজার মানুষ। কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা, পাঁচগাছি, ভোগডাঙ্গা, যাত্রাপুর, মোগলবাসা; উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ; নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ, নুনখাওয়া; ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা, ভাঙ্গামোড় ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের অনেক গ্রামে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৫০টি স্কুলে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবে গেছে গ্রামীণ সড়ক।

পঞ্চগড়ে টানা ভারি বর্ষণ ও উজানের পানিতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে পানির তীব্র স্রোতে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে।

দিনাজপুরে ২৮ ঘণ্টায় ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিতে শত শত একরের ফসলি জমি, নিম্নাঞ্চল এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক-মহাসড়ক তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে নদীর বাঁধসহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৮০০ পরিবার।

সিলেট জেলার চারটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যাকবলিত উপজেলাগুলো হচ্ছে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা। বন্যায় এসব উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একাধিক উপজেলায় রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। টানা বর্ষণের কারণে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিডিপ্রেস/আলী

স্পটলাইট