BDpress

পুঁজিবাজারে বাড়তি বিনিয়োগ : ৭ ব্যাংককে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
পুঁজিবাজারে বাড়তি বিনিয়োগ : ৭ ব্যাংককে জরিমানা
তথ্য গোপন করে আইনি সীমার বেশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করায় একটি সরকারি ও ছয়টি বেসরকারি ব্যাংককে আর্থিক জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া কঠোর নজরদারির আওতায় আছে ২২টি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে এ অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়েছে। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, এই ৭ ব্যাংকের ছাড়াও আরও ৮টি ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে বিশেষ পরিদর্শন চালিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদেরও জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া সন্দেহমূলক লেনদেন পরিলক্ষিত হওয়ায় আরও সাতটি ব্যাংকের বিনিয়োগ যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২২টি ব্যাংককে কঠোর তদারকির আওতায় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপরাধের ধরন অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অপরাধের ধরন অনুযায়ী সাতটি ব্যাংককে নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনা, ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত ও যেসব ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের নতুন করে বিনিয়োগ না করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, একসময় যে কোনো ব্যাংক আমানতে তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। তবে ২০১৩ সালে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসেবে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সহযোগী কোম্পানিসহ শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করে আলাদা একটি পরিপত্র দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্বলিত পদ্ধতিতে আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ৫০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের পর ৩৬টি ব্যাংকের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার ওপরে চলে যায়। ওই আইনে বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য তিন বছর সময় দেয়া ছিল। সে অনুযায়ী গত ২১ জুলাইয়ের মধ্যে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করার কথা। নির্ধারিত সময়ে বেশির ভাগ ব্যাংকের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনলেও ১৩টি ব্যাংক নামাতে ব্যর্থ হয়। তখন আইন সংশোধনের দাবি ওঠে। তবে তা না করে গত বছর এসব ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণ মূলধন হিসেবে দেখানোর সুযোগ দিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তথ্য গোপন করে পরে আবার অনেক ব্যাংক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করায় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে যায়। এতে জরিমানার মুখোমুখি হয় ব্যাংকগুলোকে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯ (১১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। আর লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের পর থেকে প্রতিদিনের জন্য সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার নিয়ম আছে।

বিডিপ্রেস/মিঠু

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

পুঁজিবাজারে বাড়তি বিনিয়োগ : ৭ ব্যাংককে জরিমানা


পুঁজিবাজারে বাড়তি বিনিয়োগ : ৭ ব্যাংককে জরিমানা

সূত্র বলছে, এই ৭ ব্যাংকের ছাড়াও আরও ৮টি ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে বিশেষ পরিদর্শন চালিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদেরও জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া সন্দেহমূলক লেনদেন পরিলক্ষিত হওয়ায় আরও সাতটি ব্যাংকের বিনিয়োগ যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২২টি ব্যাংককে কঠোর তদারকির আওতায় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপরাধের ধরন অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অপরাধের ধরন অনুযায়ী সাতটি ব্যাংককে নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনা, ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত ও যেসব ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের নতুন করে বিনিয়োগ না করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, একসময় যে কোনো ব্যাংক আমানতে তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। তবে ২০১৩ সালে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসেবে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সহযোগী কোম্পানিসহ শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করে আলাদা একটি পরিপত্র দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্বলিত পদ্ধতিতে আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ৫০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের পর ৩৬টি ব্যাংকের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার ওপরে চলে যায়। ওই আইনে বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য তিন বছর সময় দেয়া ছিল। সে অনুযায়ী গত ২১ জুলাইয়ের মধ্যে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করার কথা। নির্ধারিত সময়ে বেশির ভাগ ব্যাংকের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনলেও ১৩টি ব্যাংক নামাতে ব্যর্থ হয়। তখন আইন সংশোধনের দাবি ওঠে। তবে তা না করে গত বছর এসব ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণ মূলধন হিসেবে দেখানোর সুযোগ দিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তথ্য গোপন করে পরে আবার অনেক ব্যাংক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করায় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে যায়। এতে জরিমানার মুখোমুখি হয় ব্যাংকগুলোকে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯ (১১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। আর লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের পর থেকে প্রতিদিনের জন্য সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার নিয়ম আছে।

বিডিপ্রেস/মিঠু

স্পটলাইট