BDpress

স্কুলছাত্রী হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
স্কুলছাত্রী হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষার্থী প্রিয়াংকা হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

শনিবার দুপুরে উপজেলার তারাবো পৌরসভার কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করা হয়।

নিহত প্রিয়াংকা উপজেলার বরাব এলাকার ফারজানা বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া ওষুধ ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনের মেয়ে এবং স্থানীয় হাজী আয়েত আলী ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিক্ষোভে অংশ নেয়- আয়েত ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রধান শিক্ষিকা হোসেনে আরা পারভীন, সহকারী শিক্ষিক কৃঞ্চপদ সাহা, ক্রিয়া শিক্ষক লুৎফর রহমান, রামকৃঞ্চন বাবু, টিপু মোল্লা, আবু হানিফ, তাইজুদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, আকতারুজ্জামান, স্কুল কমিটির সদস্য কবির মোল্লা, রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, খোকাসহ আরো অনেকে।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, প্রিয়াংকা একজন মেধাবী ছাত্রী। সকল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রিয়াংকা লেখা-পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও ব্যস্ত সময় পার করতো। যারা তাকে হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই। এছাড়া প্রিয়াংকার বাড়ির মালিক ফারজানা বেগমকেও অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

এলাকাবাসী অভিযোগ, হাসান, শহিদুল্লাহসহ তাদের লোকজন এলাকায় হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র, নারি নির্যাতন, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ টু-শব্দটিও করতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে।

এ সময় প্রিয়াংকা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান তার বাবা মহিউদ্দিন, মা নাছিমা, বোন আমেনাসহ পরিবারের সদস্যরা।

রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, প্রিয়াংকা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ওসি আরো জানান, ৫ নভেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে আসার পথে জেএসসি পরীক্ষার্থী প্রিয়াংকাকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হাসান নামে গ্রেফতারকৃত এক আসামি। অন্য একটি স্থানে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার উদ্দেশে বরাব কবরস্থান এলাকার দুই বাড়ির সীমানা প্রাচীরের পানির ড্রেনে লাশ ফেলে রাখা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে ৪ জন। ৪ জনের মধ্যে ডাকাত শহিদুল্লাহ, হাসান ও উদরুতউল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সুজন নামে আরো এক আসামি পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারকৃত শহিদুল্লাহ ও হাসানের বাড়ি বরাব এলাকায় এবং উদরুতউল্লাহ’র বাড়ি খাদুন এলাকায়।

এর আগে, প্রিয়াংকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিত্বে মাসুম মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। মাসুম মিয়া এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রিয়াংকার বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

স্কুলছাত্রী হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ


স্কুলছাত্রী হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

শনিবার দুপুরে উপজেলার তারাবো পৌরসভার কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করা হয়।

নিহত প্রিয়াংকা উপজেলার বরাব এলাকার ফারজানা বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া ওষুধ ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনের মেয়ে এবং স্থানীয় হাজী আয়েত আলী ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিক্ষোভে অংশ নেয়- আয়েত ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রধান শিক্ষিকা হোসেনে আরা পারভীন, সহকারী শিক্ষিক কৃঞ্চপদ সাহা, ক্রিয়া শিক্ষক লুৎফর রহমান, রামকৃঞ্চন বাবু, টিপু মোল্লা, আবু হানিফ, তাইজুদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, আকতারুজ্জামান, স্কুল কমিটির সদস্য কবির মোল্লা, রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, খোকাসহ আরো অনেকে।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, প্রিয়াংকা একজন মেধাবী ছাত্রী। সকল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রিয়াংকা লেখা-পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও ব্যস্ত সময় পার করতো। যারা তাকে হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই। এছাড়া প্রিয়াংকার বাড়ির মালিক ফারজানা বেগমকেও অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

এলাকাবাসী অভিযোগ, হাসান, শহিদুল্লাহসহ তাদের লোকজন এলাকায় হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র, নারি নির্যাতন, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ টু-শব্দটিও করতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে।

এ সময় প্রিয়াংকা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান তার বাবা মহিউদ্দিন, মা নাছিমা, বোন আমেনাসহ পরিবারের সদস্যরা।

রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, প্রিয়াংকা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ওসি আরো জানান, ৫ নভেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে আসার পথে জেএসসি পরীক্ষার্থী প্রিয়াংকাকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হাসান নামে গ্রেফতারকৃত এক আসামি। অন্য একটি স্থানে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার উদ্দেশে বরাব কবরস্থান এলাকার দুই বাড়ির সীমানা প্রাচীরের পানির ড্রেনে লাশ ফেলে রাখা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে ৪ জন। ৪ জনের মধ্যে ডাকাত শহিদুল্লাহ, হাসান ও উদরুতউল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সুজন নামে আরো এক আসামি পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারকৃত শহিদুল্লাহ ও হাসানের বাড়ি বরাব এলাকায় এবং উদরুতউল্লাহ’র বাড়ি খাদুন এলাকায়।

এর আগে, প্রিয়াংকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিত্বে মাসুম মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। মাসুম মিয়া এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রিয়াংকার বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিডিপ্রেস/আরজে