BDpress

শিকড়ের একজন নিপুণ কারিগর

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
শিকড়ের একজন নিপুণ কারিগর
বয়সী কোনো গাছ, সে গাছের শিকড়ে লেগে থাকে বিদায়ের বেদনা। হয়তো তার জায়গা হয় কোনো ইটভাটায় অথবা তপ্ত কোনো চুলায়। কেউ যে তাকে আগলে রেখে জায়গা দেবে নির্ভার আশ্রয়ে, সেরকম হয় আর কোথায়? তবু কেউ কেউ থাকে মানব সন্তানের মধ্যে, যারা এই শিকড়ের বেদনা বুঝে তাকে বুকে নেয়। সাজায় নিপুণ হাতে শিল্পের মাধ্যমে। তারপর সেই শিল্পকর্মের জায়গা হয় পরিপাটি ঘরের সুদৃশ্য আশ্রয়ে। গাছের শিকড় নিয়ে কাজ করেন তরুণ শিল্পী এম আই মিঠু। কথায় কথায় আমরা জেনে যাই তার স্বপ্নের আদ্যোপান্ত।

শুরুটা বাইশ বছর আগে। শৈশবে ছিল ছবি আঁকার ঝোঁক। মায়ের হাতেই হাতেখড়ি। মা ছিলেন নানান কাজে দক্ষ। মায়ের কাছে অনেকেই শিল্পের নানা মাধ্যমের কাজ নিয়ে আসতেন। সেই দেখে দেখে মিঠু হয়ে ওঠেন স্বপ্নবাজ। শুরুটা স্কুল জীবনেই। ঠিক এই পথ ধরেই। প্রথম পেন্সিল স্কেচ তারপর জলরঙ। তেলরঙ আর এ্যাক্রেলিক  তথা আরো অনেককিছুই। ছবি আঁকায় টান আর তাড়না অনুভব করতে করতেই ভাবলেন রঙ নিয়ে তো আছেন অনেকেই। তিনি চাইলেন আলাদা কিছু করতে। তারপর সেই ভাবনা থেকেই মানুষের ব্যবহারিক নানা জিনিসের যেসব পরিত্যক্ত হয়ে যায়, তা নিয়ে কাজকারবার। যেমন ডিমের খোসা, পেঁয়াজের খোসা, মাংসের ভেতর থেকে হাড় নিয়েও কাজ শুরু করলেন মিঠু। 

সংরক্ষণের তাগিদ অনুভব করে তিনি শুরু করলেন বাঁশের শিকড় দিয়ে কাজ। সেখানে শকুনসহ বেশকিছু ফর্ম তৈরি করলেন। এটা ছিল প্রথম কাজ। এবং জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে পেয়ে যান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পদক। এ থেকেই প্রেরণার জায়গা ঋদ্ধ হয়। আর তার ধারাবাহিকতায় পরের বছর আরো একটা জাতীয় পর্যায়ের চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে সম্মান পুরস্কার পেয়ে যান মিঠু।

এই পরিভ্রমণের পথ ধরে প্রস্তুতি নেন একক প্রদর্শনীর। এবং মিঠু জয়নুল গ্যালারীতেই তার প্রথম একক প্রদর্শনী সম্পন্ন করেন। আর এই অংশগ্রহণের সূত্র ধরেই জাপানের চুয়া গ্যালারীতে বাংলাদেশের চৌদ্দজন শিল্পীর কাজ জায়গা পেয়ে যায়, যেখানে তার নিউ বর্ণ শিরোনামের চিত্রকর্ম প্রশংসিত হয়। 

এর পরের বছরে জাপানের টোকিওর মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে মিঠুর দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী হয় তাদেরই আমন্ত্রণে। 

এইসব মিলিয়ে মালয়েশিয়া, ভারত, নেপালসহ সব মিলিয়ে মিঠু নয়টি একক ও একান্নটি গ্রুপ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে জিতে নেন ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন পুরস্কার। 

এই ধারাবাহিকতায় এ বছর চব্বিশ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হয় মিঠুর মূল মাধ্যম জীব বৈচিত্র শিরোনামের নতুন কাজ। যেখানে গাছের শিকড়ের নানারকম ফর্মে মিশ্র মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

মিঠু এই শিল্পকর্মের পাশাপাশি গানও করেন। এরমধ্যে জি-সিরিজ থেকে প্রকাশ পেয়েছে তার দুইটি একক অ্যালবাম। এ ছাড়াও যুক্ত রয়েছেন অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। 

মিঠু কাজ করেন শিল্পের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই। তিনি মনে করেন, সকল নাগরিকের মধ্যেই যদি এই বোধের ব্যাপারটা কাজ করে, তাহলে দেশের সৌন্দর্য অন্যরকম দ্যোতনায় ভরপুর হতেই পারে। সূত্র: নিউজ জি২৪.কম

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

শিকড়ের একজন নিপুণ কারিগর


শিকড়ের একজন নিপুণ কারিগর

শুরুটা বাইশ বছর আগে। শৈশবে ছিল ছবি আঁকার ঝোঁক। মায়ের হাতেই হাতেখড়ি। মা ছিলেন নানান কাজে দক্ষ। মায়ের কাছে অনেকেই শিল্পের নানা মাধ্যমের কাজ নিয়ে আসতেন। সেই দেখে দেখে মিঠু হয়ে ওঠেন স্বপ্নবাজ। শুরুটা স্কুল জীবনেই। ঠিক এই পথ ধরেই। প্রথম পেন্সিল স্কেচ তারপর জলরঙ। তেলরঙ আর এ্যাক্রেলিক  তথা আরো অনেককিছুই। ছবি আঁকায় টান আর তাড়না অনুভব করতে করতেই ভাবলেন রঙ নিয়ে তো আছেন অনেকেই। তিনি চাইলেন আলাদা কিছু করতে। তারপর সেই ভাবনা থেকেই মানুষের ব্যবহারিক নানা জিনিসের যেসব পরিত্যক্ত হয়ে যায়, তা নিয়ে কাজকারবার। যেমন ডিমের খোসা, পেঁয়াজের খোসা, মাংসের ভেতর থেকে হাড় নিয়েও কাজ শুরু করলেন মিঠু। 

সংরক্ষণের তাগিদ অনুভব করে তিনি শুরু করলেন বাঁশের শিকড় দিয়ে কাজ। সেখানে শকুনসহ বেশকিছু ফর্ম তৈরি করলেন। এটা ছিল প্রথম কাজ। এবং জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে পেয়ে যান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পদক। এ থেকেই প্রেরণার জায়গা ঋদ্ধ হয়। আর তার ধারাবাহিকতায় পরের বছর আরো একটা জাতীয় পর্যায়ের চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে সম্মান পুরস্কার পেয়ে যান মিঠু।

এই পরিভ্রমণের পথ ধরে প্রস্তুতি নেন একক প্রদর্শনীর। এবং মিঠু জয়নুল গ্যালারীতেই তার প্রথম একক প্রদর্শনী সম্পন্ন করেন। আর এই অংশগ্রহণের সূত্র ধরেই জাপানের চুয়া গ্যালারীতে বাংলাদেশের চৌদ্দজন শিল্পীর কাজ জায়গা পেয়ে যায়, যেখানে তার নিউ বর্ণ শিরোনামের চিত্রকর্ম প্রশংসিত হয়। 

এর পরের বছরে জাপানের টোকিওর মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে মিঠুর দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী হয় তাদেরই আমন্ত্রণে। 

এইসব মিলিয়ে মালয়েশিয়া, ভারত, নেপালসহ সব মিলিয়ে মিঠু নয়টি একক ও একান্নটি গ্রুপ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে জিতে নেন ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন পুরস্কার। 

এই ধারাবাহিকতায় এ বছর চব্বিশ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হয় মিঠুর মূল মাধ্যম জীব বৈচিত্র শিরোনামের নতুন কাজ। যেখানে গাছের শিকড়ের নানারকম ফর্মে মিশ্র মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

মিঠু এই শিল্পকর্মের পাশাপাশি গানও করেন। এরমধ্যে জি-সিরিজ থেকে প্রকাশ পেয়েছে তার দুইটি একক অ্যালবাম। এ ছাড়াও যুক্ত রয়েছেন অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। 

মিঠু কাজ করেন শিল্পের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই। তিনি মনে করেন, সকল নাগরিকের মধ্যেই যদি এই বোধের ব্যাপারটা কাজ করে, তাহলে দেশের সৌন্দর্য অন্যরকম দ্যোতনায় ভরপুর হতেই পারে। সূত্র: নিউজ জি২৪.কম

বিডিপ্রেস/আরজে