BDpress

স্বাধীনতাবিরোধীরা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
স্বাধীনতাবিরোধীরা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে আর কখোনই স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারিভাবে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যার আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছিল, স্থাপিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের এবং মুক্তি পেয়েছিল এদেশের মানুষ, সেই ভাষণ ছিল ৭৫ পরবর্তী সময়ের সরকারের আমলে নিষিদ্ধ। হত্যা করা হয়েছিল অগুনতি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে।’

‘কিন্তু ইতিহাস পাল্টানো যায় না। আজ আমার তাদের জন্য দুঃখ হয়। তাদের পরিণতি আজ সবার সামনে উন্মোচিত। তাদের অপচেষ্টা তারা টেকাতে পারেনি’ যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিকভাবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় যারা এই ভাষণটি মুছে ফেলতে চেয়েছিল, আজ তারা কোথায় মুখ লুকাবে? সত্য যারা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, তারা কোথায় মুখ লুকাবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ আজ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। তারই আদর্শ বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। কেউই বাঙালিকে এখন আর ছোট করে দেখে না। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধ, উন্নত, দারিদ্র্যমুক্ত।

এসময় তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা বাংলার মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা হতে দেননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের প্রতিটি অর্জন তারই নেতৃত্বে। তার দেয়া ছয় দফা দাবিতেই অন্তর্নিহিত ছিল বাংলার মানুষের মুক্তি।

বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, জাতির পিতাকে গ্রেফতার করা হলে বাংলার মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এটা তো তার প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রমাণ। তিনি ছিলেন বাংলার, বাঙালির। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলার মুক্তির পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা আজ আনন্দিত, গর্বিত। আমি ইউনেস্কোকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।’

এ সময় স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী বাবার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘এদেশের জন্য আমার বাবা নিজেকে বিলীন করে দিয়েছিলেন। এই উদ্যানেই বাবা স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এই উদ্যানেই পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উপলক্ষে সরকারি উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা পরবর্তী এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর সোয়া ১২টার দিকে সেখান থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।

আনন্দ শোভাযাত্রায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও অংশ নেন। এসময় তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগানের ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। এছাড়া ছিল হাতি, ঘোড়া ও ব্যান্ড পার্টি। পৌনে ২টার দিকে শোভাযাত্রাটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছায়।

বেলা ২টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে পৌঁছান। এরপর বিকেল ৩টায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ৭ মার্চসহ বঙ্গবন্ধুর কয়েকটি ভাষণ বাজানো হয়। পরে লিয়াকত আলী লাকির পরিবেশনায় ‘ধন্য মুজিব ধন্য’ গানটির নৃত্য পরিবেশন করেন শিশুরা। এরপর নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা শব্দটি যেভাবে আমাদের হল’ কবিতাটি আবৃত্তি করা হয়।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

স্বাধীনতাবিরোধীরা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী


স্বাধীনতাবিরোধীরা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারিভাবে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যার আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছিল, স্থাপিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের এবং মুক্তি পেয়েছিল এদেশের মানুষ, সেই ভাষণ ছিল ৭৫ পরবর্তী সময়ের সরকারের আমলে নিষিদ্ধ। হত্যা করা হয়েছিল অগুনতি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে।’

‘কিন্তু ইতিহাস পাল্টানো যায় না। আজ আমার তাদের জন্য দুঃখ হয়। তাদের পরিণতি আজ সবার সামনে উন্মোচিত। তাদের অপচেষ্টা তারা টেকাতে পারেনি’ যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিকভাবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় যারা এই ভাষণটি মুছে ফেলতে চেয়েছিল, আজ তারা কোথায় মুখ লুকাবে? সত্য যারা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, তারা কোথায় মুখ লুকাবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ আজ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। তারই আদর্শ বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। কেউই বাঙালিকে এখন আর ছোট করে দেখে না। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধ, উন্নত, দারিদ্র্যমুক্ত।

এসময় তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা বাংলার মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা হতে দেননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের প্রতিটি অর্জন তারই নেতৃত্বে। তার দেয়া ছয় দফা দাবিতেই অন্তর্নিহিত ছিল বাংলার মানুষের মুক্তি।

বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, জাতির পিতাকে গ্রেফতার করা হলে বাংলার মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এটা তো তার প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রমাণ। তিনি ছিলেন বাংলার, বাঙালির। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলার মুক্তির পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা আজ আনন্দিত, গর্বিত। আমি ইউনেস্কোকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।’

এ সময় স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী বাবার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘এদেশের জন্য আমার বাবা নিজেকে বিলীন করে দিয়েছিলেন। এই উদ্যানেই বাবা স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এই উদ্যানেই পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উপলক্ষে সরকারি উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা পরবর্তী এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর সোয়া ১২টার দিকে সেখান থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।

আনন্দ শোভাযাত্রায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও অংশ নেন। এসময় তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগানের ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। এছাড়া ছিল হাতি, ঘোড়া ও ব্যান্ড পার্টি। পৌনে ২টার দিকে শোভাযাত্রাটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছায়।

বেলা ২টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে পৌঁছান। এরপর বিকেল ৩টায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ৭ মার্চসহ বঙ্গবন্ধুর কয়েকটি ভাষণ বাজানো হয়। পরে লিয়াকত আলী লাকির পরিবেশনায় ‘ধন্য মুজিব ধন্য’ গানটির নৃত্য পরিবেশন করেন শিশুরা। এরপর নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা শব্দটি যেভাবে আমাদের হল’ কবিতাটি আবৃত্তি করা হয়।

বিডিপ্রেস/আরজে