BDpress

ফের চালের কেজি ৭০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
ফের চালের কেজি ৭০ টাকা
বাজারে এসেছে নতুন চাল। সে হিসেবে চালের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল তা এখন কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে এর উল্টো। রাজধানীর বাজারে সব ধরনের চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। কিছু কিছু চালের দাম ৭০ টাকা ছাড়িয়েছে। সূত্র বলছে, নতুন ধান পাওয়া যাচ্ছে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা মণ দরে। এ দামে ধান কিনে লাভসহ সব খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি চালের দাম ৪৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। কিন্তু ৪৫ টাকা কেজি দরে বাজারে এখন চাল মিলছে না।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু মিল-মালিক কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম এমন অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, বাজারে এখন নতুন চাল এসেছে। এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এখন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ দামে ধান কিনে, সেই ধানের চালের দাম সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা হতে পারে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকায়। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চালের এমন বাড়তি দাম।

তবে অপর একটি সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কোনোভাবেই চালের দামের লাগাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা দেখছেন কেউ কেউ। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, চাল আমদানিতে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। আবার যা আমাদানি করা হয়েছে এর বেশিরভাগই আতপ চাল। দেশের মানুষ আতপ চাল খেতে অবস্থ না হওয়ায় এ চালের প্রতি কারো আগ্রহ নেই। ফলে চালের বাজারের লাগাম  নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

এদিকে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সরু চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকায়। নাজির সাইলের দাম বেড়ে ৭০ টাকা ছুঁয়েছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত।

নতুন চাল আসার পরও চালের দাম না কমায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে। ফকিরাপুল বাজারে চাল কিনতে আসা এনজিও কর্মী সাবিনা বেগম বলেন, একের পর এক জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। তার প্রশ্ন, এখন কেন পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা হবে? এখন আবার চালের দাম বেড়েছে। অথচ নতুন ধান উঠেছে। বাজারেও নতুন চাল এসেছে। তাই চালের দাম কমার কথা। কিন্তু দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তো দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের মেসার্স আল্লাহর দান রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, বাজারে নতুন চাল এসেছে। কিন্তু গত চার-পাঁচদিনে চালের দাম দু’দফা বেড়েছে। কোনো কোনো ব্যাপারি বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ টাকা করে দু’দফায় ১০০ টাকা, আবার কেউ কেউ ১০০ টাকা করে দু’দফায় ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিনিকেট, মোটা সব ধরনের চাল আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, যারা চাল বানায় অর্থাৎ মিলাররা যদি দাম না কমায় তাহলে দাম বাড়তেই থাকবে। এখন সিজন, এ সময়ও ৬৫-৬৬ টাকায় চাল বিক্রির অর্থ আমরা মিল-মালিকরা চালের দাম কমাচ্ছি না। আর আমরা যে দাম কমাচ্ছি না এর জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী তাও বুঝতে পারছি না। আমরা ব্যবসা করার জন্য এসেছি। যারা দেখভালের দায়িত্বে আছেন, তারা যদি বসে থাকেন, আমি তো সুযোগ নেবই। আমি এক টাকার জিনিস ২০ টাকা ধরব।
তিনি আরও বলেন, চালের ব্যবসা ১৫ থেকে ২০ জনের দখলে চলে গেছে। কয়েকজন ব্যাংক থেকে ৫০০ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে এখন তারা এ সিজনে কম দামে ধান কিনছেন। কারও কারও প্রত্যেক জেলায় গোডাউন আছে। ধান কিনে গোডাউনে মজুদ করছেন। তারাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ান-কমান।

চালারে দাম কমানোর উপায় হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের উচিত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে, এখনই আমদানি করা। এখন চাল আমদানি করলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। ভারতে যে চালের দাম ৪৫ টাকা হয়েছিল, এখন তা ৩৫-৩৬ টাকায় পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এ দেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল না কিনে আমদানি করে তা হলে তিন লাখ টন চাল ব্যবসায়ীদের হাতেই থাকবে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু সরকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩৯ টাকা দিয়ে চাল কিনে গোডাউনে নিলে আবার বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে।

বিডিপ্রেস/মিঠু

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

ফের চালের কেজি ৭০ টাকা


ফের চালের কেজি ৭০ টাকা

অভিযোগ রয়েছে, কিছু মিল-মালিক কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম এমন অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, বাজারে এখন নতুন চাল এসেছে। এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এখন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ দামে ধান কিনে, সেই ধানের চালের দাম সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা হতে পারে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকায়। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চালের এমন বাড়তি দাম।

তবে অপর একটি সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কোনোভাবেই চালের দামের লাগাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা দেখছেন কেউ কেউ। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, চাল আমদানিতে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। আবার যা আমাদানি করা হয়েছে এর বেশিরভাগই আতপ চাল। দেশের মানুষ আতপ চাল খেতে অবস্থ না হওয়ায় এ চালের প্রতি কারো আগ্রহ নেই। ফলে চালের বাজারের লাগাম  নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

এদিকে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সরু চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকায়। নাজির সাইলের দাম বেড়ে ৭০ টাকা ছুঁয়েছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত।

নতুন চাল আসার পরও চালের দাম না কমায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে। ফকিরাপুল বাজারে চাল কিনতে আসা এনজিও কর্মী সাবিনা বেগম বলেন, একের পর এক জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। তার প্রশ্ন, এখন কেন পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা হবে? এখন আবার চালের দাম বেড়েছে। অথচ নতুন ধান উঠেছে। বাজারেও নতুন চাল এসেছে। তাই চালের দাম কমার কথা। কিন্তু দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তো দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের মেসার্স আল্লাহর দান রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, বাজারে নতুন চাল এসেছে। কিন্তু গত চার-পাঁচদিনে চালের দাম দু’দফা বেড়েছে। কোনো কোনো ব্যাপারি বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ টাকা করে দু’দফায় ১০০ টাকা, আবার কেউ কেউ ১০০ টাকা করে দু’দফায় ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিনিকেট, মোটা সব ধরনের চাল আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, যারা চাল বানায় অর্থাৎ মিলাররা যদি দাম না কমায় তাহলে দাম বাড়তেই থাকবে। এখন সিজন, এ সময়ও ৬৫-৬৬ টাকায় চাল বিক্রির অর্থ আমরা মিল-মালিকরা চালের দাম কমাচ্ছি না। আর আমরা যে দাম কমাচ্ছি না এর জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী তাও বুঝতে পারছি না। আমরা ব্যবসা করার জন্য এসেছি। যারা দেখভালের দায়িত্বে আছেন, তারা যদি বসে থাকেন, আমি তো সুযোগ নেবই। আমি এক টাকার জিনিস ২০ টাকা ধরব।
তিনি আরও বলেন, চালের ব্যবসা ১৫ থেকে ২০ জনের দখলে চলে গেছে। কয়েকজন ব্যাংক থেকে ৫০০ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে এখন তারা এ সিজনে কম দামে ধান কিনছেন। কারও কারও প্রত্যেক জেলায় গোডাউন আছে। ধান কিনে গোডাউনে মজুদ করছেন। তারাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ান-কমান।

চালারে দাম কমানোর উপায় হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের উচিত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে, এখনই আমদানি করা। এখন চাল আমদানি করলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। ভারতে যে চালের দাম ৪৫ টাকা হয়েছিল, এখন তা ৩৫-৩৬ টাকায় পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এ দেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল না কিনে আমদানি করে তা হলে তিন লাখ টন চাল ব্যবসায়ীদের হাতেই থাকবে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু সরকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩৯ টাকা দিয়ে চাল কিনে গোডাউনে নিলে আবার বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে।

বিডিপ্রেস/মিঠু

স্পটলাইট