BDpress

সবজিতে স্বস্তি, পেঁয়াজে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
সবজিতে স্বস্তি, পেঁয়াজে অস্বস্তি
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে অল্প টাকা খরচ করেই পছন্দের সবজি কিনতে পারছেন ভোক্তারা। অনেক সবজির কেজিই এখন ১০ থেকে ২০ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর এবং সেগুনবাগিচা অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, শাক-সবজিতে ভরপুর বাজার। বেগুন, শিম, লাউ, কাঁচা টমেটো, পাকা টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, মিষ্টি কুমড়া, কচুর লতি, লাল শাক, পালন শাক, লাউ শাক কোনো কিছুর কমতি নেই বাজারে।

ফলে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ছাড়া বাজারে সব সবজির দাম কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ১০০ টাকার ওপরে কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো কোনো কোনো বাজারে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর কাঁচা টমেটোর দাম দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে।

হাজীপাড়া বৌ-বাজারের বাজার করতে আসা গৃহিনী আয়েশা বেগম বলেন, অনেক দিন পর বাজারে এসে পছন্দমত সবজি কিনতে পারছি। আগে তো টমেটোতো হাতই দেয়া যেত না। আজ এক কেজি পাকা টমেটো কিনেছি ৫০ টাকা দিয়ে। গত সপ্তাহেও এক কেজি টমেটোর দাম ছিল ১৪০ টাকা। শিম কিনেছি ২০ টাকা কেজি দরে। লাল শাক তিন আটি কিনেছি ১০ টাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, সবজির দাম এমন থাকলে খুব ভালো লাগে। পছন্দ মতো সবজি কিনতে পারা যায়। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে তো আর ৭০-৮০ টাকা কেজি দরের সবজি এক কেজি কেনা সম্ভব না। আর মাংসও প্রতিদিন কেনা সম্ভব না।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাম কমার তালিকায় রয়েছে শিম, মুলা ও লাউও। শিমের কেজি কমতে কমতে ২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন এক কেজি শিম ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

মুলা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও এ সবজিটির দাম ২০ টাকার ওপরে ছিল। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউ’র দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

তবে শীতের প্রধান সবজি হিসেবে পরিচিত ফুলকপির দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে ফুলকপি ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল সেটির দাম বেড়ে এখন হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। আর বাঁধাকপি আগের সপ্তাহের মতোই ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শাল গমের দাম কমে ১৫-২০ টাকায় নেমেছে। বেগুনের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে থেকে ৫০ টাকা। কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কমার তালিকায় রয়েছে নতুন আলুও। প্রতি কেজি নতুন আলু ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকার ওপরে। নতুন আলুর দাম কমায় পুরাতন আলুর দামও কমেছে। এখন ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পুরাতন আলু।

খিলগাঁও তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী মো. জামাল বলেন, আড়তে সবজির কোনো ঘাটতি নেই। পছন্দ মতো সব সবজিই পাওয়া যাচ্ছে। দামও কম, তাই আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। ফুলকপি ছাড়া সব সবজির দামই গত সপ্তাহের তুলনায় কমে গেছে।

এ দিকে সবজি বাজারে স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্তি রয়ে গেছে পেঁয়াজে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার পরও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া দাম কমেনি। বাজার ও মান ভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে।

শান্তিনগর বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. শাহিন বলেন, চলতি সপ্তাহে হঠাৎ করেই দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। আগে যে পেঁয়াজ আমরা ১১৫-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখই সেই পেঁয়াজ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেই বাজারে নতুন পেঁয়াজ এসেছে। এ হিসেবে এখন পেঁয়াজের দাম কমার কথা।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

সবজিতে স্বস্তি, পেঁয়াজে অস্বস্তি


সবজিতে স্বস্তি, পেঁয়াজে অস্বস্তি

শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর এবং সেগুনবাগিচা অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, শাক-সবজিতে ভরপুর বাজার। বেগুন, শিম, লাউ, কাঁচা টমেটো, পাকা টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, মিষ্টি কুমড়া, কচুর লতি, লাল শাক, পালন শাক, লাউ শাক কোনো কিছুর কমতি নেই বাজারে।

ফলে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ছাড়া বাজারে সব সবজির দাম কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ১০০ টাকার ওপরে কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো কোনো কোনো বাজারে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর কাঁচা টমেটোর দাম দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে।

হাজীপাড়া বৌ-বাজারের বাজার করতে আসা গৃহিনী আয়েশা বেগম বলেন, অনেক দিন পর বাজারে এসে পছন্দমত সবজি কিনতে পারছি। আগে তো টমেটোতো হাতই দেয়া যেত না। আজ এক কেজি পাকা টমেটো কিনেছি ৫০ টাকা দিয়ে। গত সপ্তাহেও এক কেজি টমেটোর দাম ছিল ১৪০ টাকা। শিম কিনেছি ২০ টাকা কেজি দরে। লাল শাক তিন আটি কিনেছি ১০ টাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, সবজির দাম এমন থাকলে খুব ভালো লাগে। পছন্দ মতো সবজি কিনতে পারা যায়। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে তো আর ৭০-৮০ টাকা কেজি দরের সবজি এক কেজি কেনা সম্ভব না। আর মাংসও প্রতিদিন কেনা সম্ভব না।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাম কমার তালিকায় রয়েছে শিম, মুলা ও লাউও। শিমের কেজি কমতে কমতে ২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন এক কেজি শিম ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

মুলা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও এ সবজিটির দাম ২০ টাকার ওপরে ছিল। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউ’র দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

তবে শীতের প্রধান সবজি হিসেবে পরিচিত ফুলকপির দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে ফুলকপি ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল সেটির দাম বেড়ে এখন হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। আর বাঁধাকপি আগের সপ্তাহের মতোই ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শাল গমের দাম কমে ১৫-২০ টাকায় নেমেছে। বেগুনের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে থেকে ৫০ টাকা। কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কমার তালিকায় রয়েছে নতুন আলুও। প্রতি কেজি নতুন আলু ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকার ওপরে। নতুন আলুর দাম কমায় পুরাতন আলুর দামও কমেছে। এখন ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পুরাতন আলু।

খিলগাঁও তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী মো. জামাল বলেন, আড়তে সবজির কোনো ঘাটতি নেই। পছন্দ মতো সব সবজিই পাওয়া যাচ্ছে। দামও কম, তাই আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। ফুলকপি ছাড়া সব সবজির দামই গত সপ্তাহের তুলনায় কমে গেছে।

এ দিকে সবজি বাজারে স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্তি রয়ে গেছে পেঁয়াজে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার পরও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া দাম কমেনি। বাজার ও মান ভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে।

শান্তিনগর বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. শাহিন বলেন, চলতি সপ্তাহে হঠাৎ করেই দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। আগে যে পেঁয়াজ আমরা ১১৫-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখই সেই পেঁয়াজ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেই বাজারে নতুন পেঁয়াজ এসেছে। এ হিসেবে এখন পেঁয়াজের দাম কমার কথা।

বিডিপ্রেস/আরজে