BDpress

প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খালেদা জিয়ার আইনি নোটিসে যা আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খালেদা জিয়ার আইনি নোটিসে যা আছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল মঙ্গলবার খালেদা জিয়া তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মাধ্যমে এ নোটিস পাঠিয়েছেন। বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

খালেদা জিয়ার পাঠানো ওই আইনি নোটিসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যা বলা হয়েছে পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিরোধী দলের নেতা হিসেবেও দুইবার নির্বাচিত হন। তিনি দেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারপারসন। তাঁর প্রয়াত স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে একজন সেক্টর কমান্ডার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

গত ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, গণভবনে অনুষ্ঠিত মিডিয়া ব্রিফিংকালে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু মানহানি কর বিবৃতি দিয়েছেন যা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হয়েছে এবং সকল দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা এবং অনেক সামাজিক মিডিয়া আউটলেটে মুদ্রিত ও প্রচারিত হয়েছে।

উক্ত মিডিয়া ব্রিফিংকালে আপনি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা এবং বিদ্বেষপরায়ণ বিবৃতি দিয়েছেন; আপনি বলেছেন যে, সৌদি আরবে বেগম খালেদা জিয়া একটি শপিংমলের মালিক এবং সেখানে তাঁর বিপুল সম্পদ রয়েছে এবং তিনি মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গেও জড়িত। আপনি তাঁর পুত্রদের সম্পর্কেও কিছু মিথ্যা উক্তি করেছেন।

আপনি বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্রদের সম্পর্কে যে অভিযোগ এনেছেন তা সাজানো, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক। বাংলাদেশের নির্দোষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সম্পন্ন সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার সুনাম বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আপনি এসব অভিযোগ এনেছেন। আপনার এই মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষপূর্ণ বিবৃতি বাংলাদেশের মানুষ ও বিশ্বজনের কাছে তাঁর ভাবমূর্তিকে খাটো করার অভিসন্ধিতে তৈরি। বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আপনার এই মিথ্যা অভিযোগ তাঁর প্রতি অবমানননা ও ঘৃণার সৃষ্টি এবং তাঁকে হাস্যকর করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আপনার এই অপবাদমূলক দীর্ঘ বিবৃতি পরিকল্পিতভাবে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য এবং আপনার নিজের রাজনৈতিক সুবিধা লাভের হীন উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। আপনার এই বেপরোয়া ও বিদ্বেষপূর্ণ কদুক্তি একাধারে পরনিন্দা, অপবাদ, গ্লানিপূর্ণ ও মানহানিকর; যা বেগম খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সুনাম, সম্মান, সততা এবং মর্যাদাকে বিনষ্ট করার এবং দেশে ও বিদেশে তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে খাটো করার হীন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এই মানহানিকর বিবৃতির কারণে অপূরণীয় লোকসান ও ক্ষতি হয়েছে যার জন্য আইনত আপনি দায়ী।

উপরে বর্ণিত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, অত্র আইনি নোটিসের মাধ্যমে, আমরা আপনাকে বেগম খালেদা জিয়ার নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং উক্ত ক্ষমা অত্র আইনি নোটিস প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সকল জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন সংবাদপত্র এবং সামাজিক মাধ্যম আউটলেটে যথাযথভাবে প্রকাশ ও প্রচার করার আহ্বান জানাচ্ছি, অন্যথায় আপনার বিদ্বেষপূর্ণ, মানহানিকর এবং কপট ও কুটিল বিবৃতির কারণে আপনার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নিমিত্তে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের ওপর নির্দেশ রয়েছে।

আপনার বিশ্বস্ত,

(এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার এট ল)

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খালেদা জিয়ার আইনি নোটিসে যা আছে


প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খালেদা জিয়ার আইনি নোটিসে যা আছে

খালেদা জিয়ার পাঠানো ওই আইনি নোটিসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যা বলা হয়েছে পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিরোধী দলের নেতা হিসেবেও দুইবার নির্বাচিত হন। তিনি দেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারপারসন। তাঁর প্রয়াত স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে একজন সেক্টর কমান্ডার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

গত ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, গণভবনে অনুষ্ঠিত মিডিয়া ব্রিফিংকালে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু মানহানি কর বিবৃতি দিয়েছেন যা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হয়েছে এবং সকল দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা এবং অনেক সামাজিক মিডিয়া আউটলেটে মুদ্রিত ও প্রচারিত হয়েছে।

উক্ত মিডিয়া ব্রিফিংকালে আপনি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা এবং বিদ্বেষপরায়ণ বিবৃতি দিয়েছেন; আপনি বলেছেন যে, সৌদি আরবে বেগম খালেদা জিয়া একটি শপিংমলের মালিক এবং সেখানে তাঁর বিপুল সম্পদ রয়েছে এবং তিনি মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গেও জড়িত। আপনি তাঁর পুত্রদের সম্পর্কেও কিছু মিথ্যা উক্তি করেছেন।

আপনি বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্রদের সম্পর্কে যে অভিযোগ এনেছেন তা সাজানো, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক। বাংলাদেশের নির্দোষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সম্পন্ন সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার সুনাম বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আপনি এসব অভিযোগ এনেছেন। আপনার এই মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষপূর্ণ বিবৃতি বাংলাদেশের মানুষ ও বিশ্বজনের কাছে তাঁর ভাবমূর্তিকে খাটো করার অভিসন্ধিতে তৈরি। বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আপনার এই মিথ্যা অভিযোগ তাঁর প্রতি অবমানননা ও ঘৃণার সৃষ্টি এবং তাঁকে হাস্যকর করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আপনার এই অপবাদমূলক দীর্ঘ বিবৃতি পরিকল্পিতভাবে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য এবং আপনার নিজের রাজনৈতিক সুবিধা লাভের হীন উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। আপনার এই বেপরোয়া ও বিদ্বেষপূর্ণ কদুক্তি একাধারে পরনিন্দা, অপবাদ, গ্লানিপূর্ণ ও মানহানিকর; যা বেগম খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সুনাম, সম্মান, সততা এবং মর্যাদাকে বিনষ্ট করার এবং দেশে ও বিদেশে তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে খাটো করার হীন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এই মানহানিকর বিবৃতির কারণে অপূরণীয় লোকসান ও ক্ষতি হয়েছে যার জন্য আইনত আপনি দায়ী।

উপরে বর্ণিত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, অত্র আইনি নোটিসের মাধ্যমে, আমরা আপনাকে বেগম খালেদা জিয়ার নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং উক্ত ক্ষমা অত্র আইনি নোটিস প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সকল জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন সংবাদপত্র এবং সামাজিক মাধ্যম আউটলেটে যথাযথভাবে প্রকাশ ও প্রচার করার আহ্বান জানাচ্ছি, অন্যথায় আপনার বিদ্বেষপূর্ণ, মানহানিকর এবং কপট ও কুটিল বিবৃতির কারণে আপনার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নিমিত্তে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের ওপর নির্দেশ রয়েছে।

আপনার বিশ্বস্ত,

(এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার এট ল)

বিডিপ্রেস/আরজে