BDpress

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলজেরিয়ার সম্পর্ক গোপন কেন?

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলজেরিয়ার সম্পর্ক গোপন কেন?
আহমেদ সরোয়ার ।। আলজেরিয়াতে গত ১৬ ডিসেম্বর একটা স্টেডিয়ামে ‘আইন মেলিল্লা’ ফুটবল ক্লাবের সমর্থকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার প্রতিবাদ করে। তারা বিশাল একটি ব্যানারে একটা চেহারা এঁকে নিয়ে আসে, যার অর্ধেকটা ট্রাম্পের চেহারা, আর বাকিটা সৌদি বাদশাহ সালমানের। ছবির নিচে লেখা ছিল “একই মুদ্রার দুই চেহারা”। ‘আল-জাজিরা’ বলছে যে এই ঘটনা একটা বিরোধে রূপ নেবার পথ ধরে যখন দু’দিন পরে সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-শেখ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নে আলজেরিয়াতে আসেন।

আলজেরিয়াতে সৌদি রাষ্ট্রদূত সামি বিন আবদুল্লাহ আল-সালেহ সৌদি বাদশাহকে ঘিরে আলজেরিয়দের এধরণের কৌতুকে সৌদি সরকারের ‘বিরক্তি’ প্রকাশ করেন এবং এব্যাপারে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেবেন বলে হুমকি দেন।

‘নর্থ আফ্রিকা পোস্ট’ এর এক খবরে বলা হয় যে, আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী আহমেদ অউইয়াহা এই ঘটনায় আলজেরিয় সরকারের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সৌদি রাষ্ট্রদূতও এই ঘটনাকে উল্লেখ করে এক টুইটার বার্তায় বলেন যে আলজেরিয় সরকার এহেন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কর্মকান্ডের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়াও এই ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখানে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে যে, সৌদি সরকার এব্যাপারে কঠোর অবস্থানে গেলেও মার্কিন সরকারের কাছ থেকে কেন কোনো বার্তা এলো না? ছবির অর্ধেক যদি ট্রাম্পের হয়ে থাকে, তবে মার্কিন সরকার কেন এতে অপমানিত বোধ করলো না?

আলজেরিয়াকে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে খুব বেশি একটা সরব না দেখা গেলেও উত্তর আফ্রিকাতে আলজেরিয়ার এক বড় ভূমিকা রয়েছে। সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থলবেষ্টিত দেশের জন্যে আলজেরিয়ার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। মালি, নিজের (কেউ কেউ নাইজার বলে থাকেন), বুরকিনা ফাসো এবং শাদ (কেউ কেউ চাদ বলে থাকেন)-এর সাথে উত্তর আফ্রিকার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের স্থল এবং বিমান যোগাযোগ রক্ষার জন্যে আলজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ অঞ্চলের মরুভূমির মাঝ দিয়ে প্রাচীন সময় থেকে চলে আসা পথগুলির অধিকাংশেরই নিয়ন্ত্রণ করে আলজেরিয়া। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাথে একসময় বাণিজ্য এপথেই হতো। এই পথগুলোই এখন ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আলজেরিয়ার দক্ষিণের মালিতে এখন গৃহযুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে মালির প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স দেশটাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় রয়েছে ২০১৩ সাল থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সকে সামরিক এবং লজিস্টিক্যাল সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। মালির প্রতিবেশী দেশ নিজের এবং বুরকিনা ফাসোতে মার্কিনীরা ড্রোন ঘাঁটি বসিয়েছে। নাইজারের ইউরেনিয়াম খনি থেকে ফ্রান্স তার পারমাণবিক চুল্লির বেশ কিছুটা জ্বালানি পেয়ে থাকে। তাই তার নিরাপত্তা দিতেও ফ্রান্সের সৈন্য রয়েছে নাইজারে। 

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নাইজারে চারজন মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্য জঙ্গি গোষ্ঠির সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। নিহত হবার আগ পর্যন্ত নাইজারের রাজধানী নিয়ামি থেকে মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন উড়লেও অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন উড়তো না। এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে নভেম্বরের শেষে মার্কিনীরা নাইজার সরকারের কাছ থেকে অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি সই করিয়ে নেয় বলে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে।

‘রয়টার্স’ ২০১৬-এর সেপ্টেম্বরে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায় যে মধ্য নাইজারের মরুভূমির মাঝে মার্কিনীরা ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে পুরো অঞ্চলের মাঝে সবচাইতে বড় সামরিক ঘাঁটিটি তৈরি করছে। আগাদেজ শহরটি ছোট্ট একটা শহর, যেখানে দ্রুত এই ঘাঁটি গড়ে উঠছে বলে স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে রিপোর্ট করে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘দ্যা ড্রাইভ’। তারা বিশ্লেষণ করে বলে যে মরুভূমির মাঝে এই ঘাঁটি তৈরি করতে গেলে প্রচুর যন্ত্রপাতি, নির্মাণ সামগ্রীসহ অনেক জনশক্তির প্রয়োজন হবে, যা নাইজারের মতো স্থলবেষ্টিত দেশে আশেপাশের দেশের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের টেন্ডারের বরাত দিয়ে তারা জানাচ্ছে যে মার্কিন সরকার ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স-এর হাউরি বুমেদিন বিমানবন্দর, নাইজারের সীমান্তের কাছাকাছি আলজেরিয়ার দক্ষিণের শহর তামানরাসেত-এর বিমান বাহিনী ঘাঁটি এবং নিজেরে মরুভূমির শহর আগাদেজ-এর মানো দায়াক বিমানবন্দরে ৭৫ হাজার গ্যালন করে জেট ফুয়েল বিমানের জন্যে এবং ৫০ হাজার গ্যালন করে জ্বালানি ট্রাকে করে স্টোর করে রাখতে চাচ্ছে। নাইজারের আগাদেজ এবং আশেপাশের এলাকায় ঘাঁটি তৈরি এবং সামরিক মিশন পরিচালনার জন্যে মার্কিনীরা এই জ্বালানির স্টোরেজ গড়ে তুলছে।

উত্তর আফ্রিকার বড় দেশ হিসেবে আলজেরিয়ার ভূমিকা সর্বদাই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৩ সালে ফরাসীরা মালিতে সামরিক অভিযান চালাবার সময়ে ফ্রান্সের যুদ্ধবিমানগুলি আলজেরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করেছিল। ফ্রান্স থেকে সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার উড়ে গিয়ে ৪টা ‘রাফাল’ ফাইটার বিমান মালিতে বোমাবর্ষণ করে আবার ১৩’শ কিলোমিটার পূর্বে উড়ে গিয়ে শাদ-এর নিজালমিনাতে অবতরণ করে।

আলজেরিয়ার আকাশে বিমানগুলির এয়ার-রিফুয়েলিং না করতে পারলে এই মিশন সম্ভব ছিল না। মালির রাজধানী বামাকো আর ফ্রান্সের মাঝে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার লম্বা একটা ‘এয়ার-ব্রিজ’ তৈরি করে সৈন্য এবং রসদ নিয়ে আসা হয়। মার্কিনীরা সেই মিশনের জন্যে সামরিক পরিবহন বিমান সরবরাহ করছিল।

জেরুজালেম প্রসঙ্গে আলজিয়ার্সের স্টেডিয়ামের ঘটনায় আলজেরিয় সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা বলে দিচ্ছে যে আলজেরিয় সরকার শুধু সৌদি আরবকে নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও অসন্তুষ্ট করতে চাইছে না। আবার যুক্তরাষ্ট্রও চাইছে না যে আফ্রিকাতে সামরিক অপারেশন চালাবার জন্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা আলজেরিয়াকে পাশে ঠেলে দিতে। মার্কিনীরা চাইছে না আলজেরিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লজিস্টিক ভূমিকা জনগণের মাঝে আলোচনায় আসুক। তাই জেরুজালেম ইস্যুতে সৌদি আরবের সাথে বাকবিতন্ডা এবং আলোচনা বরং মার্কিনীদের জন্যে সুবিধাই বয়ে আনবে। এতে আলজেরিয়াতে মার্কিন সামরিক স্বার্থগুলি ঢাকা পড়ে গিয়ে সুরক্ষিত থাকবে।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলজেরিয়ার সম্পর্ক গোপন কেন?


যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলজেরিয়ার সম্পর্ক গোপন কেন?

আলজেরিয়াতে সৌদি রাষ্ট্রদূত সামি বিন আবদুল্লাহ আল-সালেহ সৌদি বাদশাহকে ঘিরে আলজেরিয়দের এধরণের কৌতুকে সৌদি সরকারের ‘বিরক্তি’ প্রকাশ করেন এবং এব্যাপারে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেবেন বলে হুমকি দেন।

‘নর্থ আফ্রিকা পোস্ট’ এর এক খবরে বলা হয় যে, আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী আহমেদ অউইয়াহা এই ঘটনায় আলজেরিয় সরকারের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সৌদি রাষ্ট্রদূতও এই ঘটনাকে উল্লেখ করে এক টুইটার বার্তায় বলেন যে আলজেরিয় সরকার এহেন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কর্মকান্ডের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়াও এই ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখানে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে যে, সৌদি সরকার এব্যাপারে কঠোর অবস্থানে গেলেও মার্কিন সরকারের কাছ থেকে কেন কোনো বার্তা এলো না? ছবির অর্ধেক যদি ট্রাম্পের হয়ে থাকে, তবে মার্কিন সরকার কেন এতে অপমানিত বোধ করলো না?

আলজেরিয়াকে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে খুব বেশি একটা সরব না দেখা গেলেও উত্তর আফ্রিকাতে আলজেরিয়ার এক বড় ভূমিকা রয়েছে। সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থলবেষ্টিত দেশের জন্যে আলজেরিয়ার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। মালি, নিজের (কেউ কেউ নাইজার বলে থাকেন), বুরকিনা ফাসো এবং শাদ (কেউ কেউ চাদ বলে থাকেন)-এর সাথে উত্তর আফ্রিকার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের স্থল এবং বিমান যোগাযোগ রক্ষার জন্যে আলজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ অঞ্চলের মরুভূমির মাঝ দিয়ে প্রাচীন সময় থেকে চলে আসা পথগুলির অধিকাংশেরই নিয়ন্ত্রণ করে আলজেরিয়া। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাথে একসময় বাণিজ্য এপথেই হতো। এই পথগুলোই এখন ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আলজেরিয়ার দক্ষিণের মালিতে এখন গৃহযুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে মালির প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স দেশটাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় রয়েছে ২০১৩ সাল থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সকে সামরিক এবং লজিস্টিক্যাল সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। মালির প্রতিবেশী দেশ নিজের এবং বুরকিনা ফাসোতে মার্কিনীরা ড্রোন ঘাঁটি বসিয়েছে। নাইজারের ইউরেনিয়াম খনি থেকে ফ্রান্স তার পারমাণবিক চুল্লির বেশ কিছুটা জ্বালানি পেয়ে থাকে। তাই তার নিরাপত্তা দিতেও ফ্রান্সের সৈন্য রয়েছে নাইজারে। 

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নাইজারে চারজন মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্য জঙ্গি গোষ্ঠির সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। নিহত হবার আগ পর্যন্ত নাইজারের রাজধানী নিয়ামি থেকে মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন উড়লেও অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন উড়তো না। এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে নভেম্বরের শেষে মার্কিনীরা নাইজার সরকারের কাছ থেকে অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি সই করিয়ে নেয় বলে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে।

‘রয়টার্স’ ২০১৬-এর সেপ্টেম্বরে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায় যে মধ্য নাইজারের মরুভূমির মাঝে মার্কিনীরা ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে পুরো অঞ্চলের মাঝে সবচাইতে বড় সামরিক ঘাঁটিটি তৈরি করছে। আগাদেজ শহরটি ছোট্ট একটা শহর, যেখানে দ্রুত এই ঘাঁটি গড়ে উঠছে বলে স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে রিপোর্ট করে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘দ্যা ড্রাইভ’। তারা বিশ্লেষণ করে বলে যে মরুভূমির মাঝে এই ঘাঁটি তৈরি করতে গেলে প্রচুর যন্ত্রপাতি, নির্মাণ সামগ্রীসহ অনেক জনশক্তির প্রয়োজন হবে, যা নাইজারের মতো স্থলবেষ্টিত দেশে আশেপাশের দেশের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের টেন্ডারের বরাত দিয়ে তারা জানাচ্ছে যে মার্কিন সরকার ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স-এর হাউরি বুমেদিন বিমানবন্দর, নাইজারের সীমান্তের কাছাকাছি আলজেরিয়ার দক্ষিণের শহর তামানরাসেত-এর বিমান বাহিনী ঘাঁটি এবং নিজেরে মরুভূমির শহর আগাদেজ-এর মানো দায়াক বিমানবন্দরে ৭৫ হাজার গ্যালন করে জেট ফুয়েল বিমানের জন্যে এবং ৫০ হাজার গ্যালন করে জ্বালানি ট্রাকে করে স্টোর করে রাখতে চাচ্ছে। নাইজারের আগাদেজ এবং আশেপাশের এলাকায় ঘাঁটি তৈরি এবং সামরিক মিশন পরিচালনার জন্যে মার্কিনীরা এই জ্বালানির স্টোরেজ গড়ে তুলছে।

উত্তর আফ্রিকার বড় দেশ হিসেবে আলজেরিয়ার ভূমিকা সর্বদাই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৩ সালে ফরাসীরা মালিতে সামরিক অভিযান চালাবার সময়ে ফ্রান্সের যুদ্ধবিমানগুলি আলজেরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করেছিল। ফ্রান্স থেকে সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার উড়ে গিয়ে ৪টা ‘রাফাল’ ফাইটার বিমান মালিতে বোমাবর্ষণ করে আবার ১৩’শ কিলোমিটার পূর্বে উড়ে গিয়ে শাদ-এর নিজালমিনাতে অবতরণ করে।

আলজেরিয়ার আকাশে বিমানগুলির এয়ার-রিফুয়েলিং না করতে পারলে এই মিশন সম্ভব ছিল না। মালির রাজধানী বামাকো আর ফ্রান্সের মাঝে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার লম্বা একটা ‘এয়ার-ব্রিজ’ তৈরি করে সৈন্য এবং রসদ নিয়ে আসা হয়। মার্কিনীরা সেই মিশনের জন্যে সামরিক পরিবহন বিমান সরবরাহ করছিল।

জেরুজালেম প্রসঙ্গে আলজিয়ার্সের স্টেডিয়ামের ঘটনায় আলজেরিয় সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা বলে দিচ্ছে যে আলজেরিয় সরকার শুধু সৌদি আরবকে নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও অসন্তুষ্ট করতে চাইছে না। আবার যুক্তরাষ্ট্রও চাইছে না যে আফ্রিকাতে সামরিক অপারেশন চালাবার জন্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা আলজেরিয়াকে পাশে ঠেলে দিতে। মার্কিনীরা চাইছে না আলজেরিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লজিস্টিক ভূমিকা জনগণের মাঝে আলোচনায় আসুক। তাই জেরুজালেম ইস্যুতে সৌদি আরবের সাথে বাকবিতন্ডা এবং আলোচনা বরং মার্কিনীদের জন্যে সুবিধাই বয়ে আনবে। এতে আলজেরিয়াতে মার্কিন সামরিক স্বার্থগুলি ঢাকা পড়ে গিয়ে সুরক্ষিত থাকবে।

বিডিপ্রেস/আরজে