BDpress

দেশ পারলে বিদেশ কেন?

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
দেশ পারলে বিদেশ কেন?
রেজানুর রহমান।। আসলে ব্যাপারটা হলো নীতি-নৈতিকতার এবং সঠিক সিদ্ধান্তের। আমরা এখনও অনেকে দেশের চেয়ে বিদেশকেই বেশী-ভালোবাসি। সে কারনে উৎসব-পার্বণে এমনকি বিয়ের কেনাকাটা করার জন্যও বিদেশে যাই। কেউ যদি পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় বেড়াতে যান তাহলে দেখবেন কলকাতার নামী-দামী হোটেল এবং নামকরা শপিংমলে বাংলাদেশের মানুষেরই ভীড় বেশী।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার চারদিকের হোটেল, রেস্তোরার ব্যবসা সারা বছর জমজমাট রাখে বাংলাদেশের মানুষেরাই। নিউমার্কেট এলাকায় একটু ঘোরাফেরা করলেই পরিচিত অনেকের দেখা মিলবে। কেউ হয়তো চিকিৎসার জন্য এসেছে। কেউ বিয়ের কেনাকাটা করতে। আবার কেউ শুধুই বেড়াতে। তবে যারা বেড়াতে যায় তারাও এটা সেটা কেনাকাটাও করে। যার সব কিছুই ঢাকা সহ দেশের সকল স্থানেই পাওয়া যায়। কিন্তু ঐ যে বিদেশ প্রীতি। বিদেশে যাওয়া এবং বিদেশ থেকে কিছু কিনে আনা বড়ই মর্যাদার ব্যাপার। সেকারণে অনেকে বিদেশে যাওয়ার আগে ফেসবুকে ছবি সহ স্ট্যাটাস দিতে ভুল করেন না। এই তো সেদিন পরিচিত একজনকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে দেখলাম। ‘কলকাতায় বেড়াতে যাচ্ছি... বন্ধুরা দোয়া করবেন’?

হ্যা, কলকাতা কেন তামাম দুনিয়ার যে কোনো জায়গায় আপনি বেড়াতে যান এতে আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু আপত্তিটা ওঠে তখনই যখন কেউ বাংলাদেশে যে জিনিস সস্তায় পাওয়া যায় সেই জিনিসই বিদেশ থেকে বেশী অর্থ দিয়ে কিনে আনেন। মজার একটা ঘটনা বলি। আমার এক আত্মীয় বিদেশে গেছেন। ঢাকায় ফিরে তার মনে হলো আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কারও জন্যই কিছু আনেননি। ঢাকার এক বড় শপিং মলে ঢুকে ইচ্ছে মতো সাবান, শ্যাম্পু, চকলেট সহ প্রয়োজনীয় প্রসাধন সামগ্রী কিনে আত্মীয়-স্বজনের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলেন। তার উপহার পেয়ে সকলে বেশ খুশি। শুধু তার অতি চালাক এক বান্ধবী ব্যাপারটা ধরতে পেরেছিল। বন্ধুর কাছে উপহার পাঠানোর সময় পলিথিনের যে ব্যাগ সে ব্যবহার করেছিল সেটার গায়ে ঢাকার ঠিকানা লেখা ছিল। উপহার পেয়ে বান্ধবী হাসতে হাসতে বলেছিলÑ গুড আইডিয়া। উই মাস্ট ফলো..

অনেকেই এটাকে এক ধরনের ফাঁকিবাজিও বলতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি এতে দোষের কিছু নাই। যে জিনিস দেশে পাওয়া যায় সেটা কেন আমি বিদেশ থেকে কিনে আনব? দেশে কিনলে তো দেশের টাকা দেশেই থাকবে। এই সরল অংকটা আমরা অনেকেই বুঝি না। বুঝতেও চাই না। সে কারনে একটু সর্দি কাঁশি হলেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য ছুটে যাই। এই নিয়ে সেদিন জোর বিতর্ক করলেন আমার এক বন্ধু। তার উত্তেজিত বক্তব্য ছিল এরকমÑ ভাই যে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি প্রেসিডেন্ট, প্রাইম মিনিস্টারের যেখানে ভরসা নাই সেই দেশের মানুষ তো চিকিৎসার জন্য অন্যদেশে যাবেই। পত্র-পত্রিকায় দেখেন না ‘চিকিৎসার জন্য প্রেসিডেন্টের ঢাকা ত্যাগ...? কেন রে ভাই, আমার দেশেই কেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা হবে না? কেন তাঁদেরকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে হবে? অথচ দেশের আনাচে-কানাচে কত যে হাসপাতাল গড়ে উঠেছে দেখলে অবাক লাগে। ধরা যাক দেশের মানুষ দেশেই উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। বিদেশে যেতে হচ্ছে না তাদেরকে। তাহলে দেশ আর্থিক ভাবে কতটা যে লাভবান হবে ভাবুন তো একবার। একথা সত্য, দেশের উল্লেখযোগ্য কিছু হাসপাতালে এখন উন্নতমানের চিকিৎসা হচ্ছে। কিন্তু আমরা অনেকেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এখনও আস্থাবান হয়ে উঠিনি। আর তাই চিকিংসার জন্য ছুটে যাই বিদেশে। আমরা কথায় কথায় বলিÑ ‘দেশী পন্য কিনে হও ধন্য’। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কথাটা তেমন মানিনা।

লেখার শুরুতে নীতি-নৈতিকতা ও সঠিক পরিকল্পনার কথা বলেছিলাম। তার সঙ্গে দেশাত্ববোধ শব্দটাকেও জুড়ে দিতে চাই। আমার দেশ যা পারে তাকে গুরুত্ব না দিয়ে কেন সেই জিনিস বিদেশ থেকে আনবো?

কয়েকদিন আগে সৈয়দপুর রেল কারখানার অবকাঠামোগত শক্তির পজিটিভ গল্প পড়লাম দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকে। উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুরে দেশের একটি বৃহৎ রেল কারাখানা আছে একথা বোধকরি বর্তমান প্রজন্ম জানেই না। সৈয়দপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুরের লোকজনও কি ভালো করে জানে সৈয়দপুর রেল কারখানাকে? বোধকরি না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সৈয়দপুর রেল কারখানার গুরুত্ব নেই বললেই চলে। অথচ একটা সময় এই রেল কারখানাটি ছিল দেশের গুরুত্বপুর্ণ সম্পদ। রেলের বগি নির্মানের পাশাপাশি মেরামতও করা হতো এই কারখানায়। ১০ হাজারেরও বেশী শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। এখন নাকি এই রেল কারখানায় হাজার লোকও কাজ করে না। অনেকটা অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকা এই রেল কারখানাই হঠাৎ একটি গুরুত্বপুর্ণ সংবাদের উৎস হয়ে উঠলো।

শীর্ষ দৈনিকটিতে ‘কোচ সংস্কারের ৭৬ কোটি সাশ্রয়’ শীর্ষক বিশেষ সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ১৮টি রেল কোচ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে বাস্তব বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। এভাবে সংস্কারের মাধ্যমে শুধু যে রেল কোচ গুলো নতুন ভাবে ফিরে আসছে তা নয়, সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থেরও সাশ্রয় হবে। জার্মান প্রযুক্তির ওই ১৮টি রেল কোচ ১৯৯৮ সালে আমদানী করা হয়। ওই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের সুবর্ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলতো ওই কোচ বহর দিয়ে। পরে সুবর্ন এক্সপ্রেস এর কোচবহর পাল্টে যাওয়ায় কোচ গুলো পরিত্যক্ত হয়ে যায়। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় কোচগুলি অযতœ অবহেলায় পড়েছিল। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ কোচগুলো সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। পাহাড়তলী থেকে সৈয়দপুর রেলকারখানায় পাঠানো হয় ১৮টি রেল কোচ। রেল ভবনের নির্দেশে সেখানেই কোচ গুলো সংস্কার করা হচ্ছে।

জানা গেছে কোচগুলো সংস্কারের পর রেলপথে নামানো গেলে সরকারের ৭৬ কোটি সাশ্রয় হবে। সাশ্রয়ী টাকার অংকটা কম নয়। উপরুন্তু সৈয়দপুর রেল কারখানায় কোচ সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় কারখানাটি আবার অনেকটাই সচল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি একটা অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যেÑ দেশের প্রতি আস্থা রাখলে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমেই কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব। সৈয়দপুর রেল কারখানার এই দৃষ্টান্তকে আমরা যেন দেশের সকল উন্নয়ন কাজে গুরুত্ব দেই এই কামনা রইল।

ইংরেজি নতুন বছরের অফুরান শুভেচ্ছা সবার জন্য।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, পরিচালক, সাংবাদিক।

rezanur.alo@gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

দেশ পারলে বিদেশ কেন?


দেশ পারলে বিদেশ কেন?

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার চারদিকের হোটেল, রেস্তোরার ব্যবসা সারা বছর জমজমাট রাখে বাংলাদেশের মানুষেরাই। নিউমার্কেট এলাকায় একটু ঘোরাফেরা করলেই পরিচিত অনেকের দেখা মিলবে। কেউ হয়তো চিকিৎসার জন্য এসেছে। কেউ বিয়ের কেনাকাটা করতে। আবার কেউ শুধুই বেড়াতে। তবে যারা বেড়াতে যায় তারাও এটা সেটা কেনাকাটাও করে। যার সব কিছুই ঢাকা সহ দেশের সকল স্থানেই পাওয়া যায়। কিন্তু ঐ যে বিদেশ প্রীতি। বিদেশে যাওয়া এবং বিদেশ থেকে কিছু কিনে আনা বড়ই মর্যাদার ব্যাপার। সেকারণে অনেকে বিদেশে যাওয়ার আগে ফেসবুকে ছবি সহ স্ট্যাটাস দিতে ভুল করেন না। এই তো সেদিন পরিচিত একজনকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে দেখলাম। ‘কলকাতায় বেড়াতে যাচ্ছি... বন্ধুরা দোয়া করবেন’?

হ্যা, কলকাতা কেন তামাম দুনিয়ার যে কোনো জায়গায় আপনি বেড়াতে যান এতে আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু আপত্তিটা ওঠে তখনই যখন কেউ বাংলাদেশে যে জিনিস সস্তায় পাওয়া যায় সেই জিনিসই বিদেশ থেকে বেশী অর্থ দিয়ে কিনে আনেন। মজার একটা ঘটনা বলি। আমার এক আত্মীয় বিদেশে গেছেন। ঢাকায় ফিরে তার মনে হলো আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কারও জন্যই কিছু আনেননি। ঢাকার এক বড় শপিং মলে ঢুকে ইচ্ছে মতো সাবান, শ্যাম্পু, চকলেট সহ প্রয়োজনীয় প্রসাধন সামগ্রী কিনে আত্মীয়-স্বজনের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলেন। তার উপহার পেয়ে সকলে বেশ খুশি। শুধু তার অতি চালাক এক বান্ধবী ব্যাপারটা ধরতে পেরেছিল। বন্ধুর কাছে উপহার পাঠানোর সময় পলিথিনের যে ব্যাগ সে ব্যবহার করেছিল সেটার গায়ে ঢাকার ঠিকানা লেখা ছিল। উপহার পেয়ে বান্ধবী হাসতে হাসতে বলেছিলÑ গুড আইডিয়া। উই মাস্ট ফলো..

অনেকেই এটাকে এক ধরনের ফাঁকিবাজিও বলতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি এতে দোষের কিছু নাই। যে জিনিস দেশে পাওয়া যায় সেটা কেন আমি বিদেশ থেকে কিনে আনব? দেশে কিনলে তো দেশের টাকা দেশেই থাকবে। এই সরল অংকটা আমরা অনেকেই বুঝি না। বুঝতেও চাই না। সে কারনে একটু সর্দি কাঁশি হলেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য ছুটে যাই। এই নিয়ে সেদিন জোর বিতর্ক করলেন আমার এক বন্ধু। তার উত্তেজিত বক্তব্য ছিল এরকমÑ ভাই যে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি প্রেসিডেন্ট, প্রাইম মিনিস্টারের যেখানে ভরসা নাই সেই দেশের মানুষ তো চিকিৎসার জন্য অন্যদেশে যাবেই। পত্র-পত্রিকায় দেখেন না ‘চিকিৎসার জন্য প্রেসিডেন্টের ঢাকা ত্যাগ...? কেন রে ভাই, আমার দেশেই কেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা হবে না? কেন তাঁদেরকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে হবে? অথচ দেশের আনাচে-কানাচে কত যে হাসপাতাল গড়ে উঠেছে দেখলে অবাক লাগে। ধরা যাক দেশের মানুষ দেশেই উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। বিদেশে যেতে হচ্ছে না তাদেরকে। তাহলে দেশ আর্থিক ভাবে কতটা যে লাভবান হবে ভাবুন তো একবার। একথা সত্য, দেশের উল্লেখযোগ্য কিছু হাসপাতালে এখন উন্নতমানের চিকিৎসা হচ্ছে। কিন্তু আমরা অনেকেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এখনও আস্থাবান হয়ে উঠিনি। আর তাই চিকিংসার জন্য ছুটে যাই বিদেশে। আমরা কথায় কথায় বলিÑ ‘দেশী পন্য কিনে হও ধন্য’। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কথাটা তেমন মানিনা।

লেখার শুরুতে নীতি-নৈতিকতা ও সঠিক পরিকল্পনার কথা বলেছিলাম। তার সঙ্গে দেশাত্ববোধ শব্দটাকেও জুড়ে দিতে চাই। আমার দেশ যা পারে তাকে গুরুত্ব না দিয়ে কেন সেই জিনিস বিদেশ থেকে আনবো?

কয়েকদিন আগে সৈয়দপুর রেল কারখানার অবকাঠামোগত শক্তির পজিটিভ গল্প পড়লাম দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকে। উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুরে দেশের একটি বৃহৎ রেল কারাখানা আছে একথা বোধকরি বর্তমান প্রজন্ম জানেই না। সৈয়দপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুরের লোকজনও কি ভালো করে জানে সৈয়দপুর রেল কারখানাকে? বোধকরি না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সৈয়দপুর রেল কারখানার গুরুত্ব নেই বললেই চলে। অথচ একটা সময় এই রেল কারখানাটি ছিল দেশের গুরুত্বপুর্ণ সম্পদ। রেলের বগি নির্মানের পাশাপাশি মেরামতও করা হতো এই কারখানায়। ১০ হাজারেরও বেশী শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। এখন নাকি এই রেল কারখানায় হাজার লোকও কাজ করে না। অনেকটা অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকা এই রেল কারখানাই হঠাৎ একটি গুরুত্বপুর্ণ সংবাদের উৎস হয়ে উঠলো।

শীর্ষ দৈনিকটিতে ‘কোচ সংস্কারের ৭৬ কোটি সাশ্রয়’ শীর্ষক বিশেষ সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ১৮টি রেল কোচ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে বাস্তব বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। এভাবে সংস্কারের মাধ্যমে শুধু যে রেল কোচ গুলো নতুন ভাবে ফিরে আসছে তা নয়, সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থেরও সাশ্রয় হবে। জার্মান প্রযুক্তির ওই ১৮টি রেল কোচ ১৯৯৮ সালে আমদানী করা হয়। ওই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের সুবর্ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলতো ওই কোচ বহর দিয়ে। পরে সুবর্ন এক্সপ্রেস এর কোচবহর পাল্টে যাওয়ায় কোচ গুলো পরিত্যক্ত হয়ে যায়। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় কোচগুলি অযতœ অবহেলায় পড়েছিল। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ কোচগুলো সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। পাহাড়তলী থেকে সৈয়দপুর রেলকারখানায় পাঠানো হয় ১৮টি রেল কোচ। রেল ভবনের নির্দেশে সেখানেই কোচ গুলো সংস্কার করা হচ্ছে।

জানা গেছে কোচগুলো সংস্কারের পর রেলপথে নামানো গেলে সরকারের ৭৬ কোটি সাশ্রয় হবে। সাশ্রয়ী টাকার অংকটা কম নয়। উপরুন্তু সৈয়দপুর রেল কারখানায় কোচ সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় কারখানাটি আবার অনেকটাই সচল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি একটা অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যেÑ দেশের প্রতি আস্থা রাখলে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমেই কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব। সৈয়দপুর রেল কারখানার এই দৃষ্টান্তকে আমরা যেন দেশের সকল উন্নয়ন কাজে গুরুত্ব দেই এই কামনা রইল।

ইংরেজি নতুন বছরের অফুরান শুভেচ্ছা সবার জন্য।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, পরিচালক, সাংবাদিক।

rezanur.alo@gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে