BDpress

শীতে পাবনায় এক সপ্তাহে ৭ জনের মৃত্যু

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
শীতে পাবনায় এক সপ্তাহে ৭ জনের মৃত্যু
তীব্র শীত আর শৈত্যপ্রবাহে পাবনায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় প্রতিদনই কেউ না কেই মারা যাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত রোগে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় ঠান্ডাজনিত অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে আটঘরিয়া উপজেলার মৃত আবু হানিফের ছেলে আব্দুল মান্নান (৫৫) মারা যান। তাকে সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

এর আগে গত চার দিনে প্রবল শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে এক নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন- জেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া গ্রামের ওসমান প্রামানিকের ছেলে আবু বক্কার প্রামানিক (৮৫), একই থানার বনগ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী খোরশেদা খাতুন (৫৫) ও একই এলাকার কুদরতের ছেলে মনসুর আলী (৫৫), পাবনা সদর উপজেলার দ্বীপচর এলাকার লজের প্রামানিকের ছেলে লোকমান প্রামানিক (৭৫), আটঘরিয়া উপজেলার পারখিদিরপুর গ্রামের শাহাদত আলীর ছেলে আব্দুল কাদের (৫০) ও সুজানগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের হাজি আছির উদ্দিন (৬৫)।

এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জন শিশু রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শীতে ঠান্ডা, কাশি, অ্যাজমা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের এবং চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষরা। প্রচণ্ড শীত আর হিমেল বাতাসে জুবুথুবু অবস্থার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছে এ অঞ্চলের মানুষ। দুপুর পর্যন্ত প্রকৃতি ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে। তীব্র শীত, হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার মধ্যে মহাসড়কগুলোতে ধীরগতিতে হেড লাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করছে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষরা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাজের উদ্দেশ্যে শহরে এসে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে কাতর হয়ে পড়েছেন। কেউবা খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুরনো শীতবস্ত্র কিনতে হকার্স মার্কেটে ভিড় করছেন মানুষ। নিজেদের চাহিদা মত দরদাম করে কিনছেন জ্যাকেট, সোয়েটার, মাফলার, টুপি, হাতমোজা ও কম্বল।

বৃহস্পতিবার পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। এদিকে জেলা প্রশাসন জেলার ৯ উপজেলা এবং ৯ পৌরসভার শীতার্তদের মধ্যে ৫০ হাজার কম্বল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে বিতরণ করেছে। কিন্ত প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।

পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালার চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোরবান আলী ও পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ এম রফিকউল্লাহ জানান, শীতে চরাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। কিন্ত সরকারি সাহায্য তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।  

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

শীতে পাবনায় এক সপ্তাহে ৭ জনের মৃত্যু


শীতে পাবনায় এক সপ্তাহে ৭ জনের মৃত্যু

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় ঠান্ডাজনিত অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে আটঘরিয়া উপজেলার মৃত আবু হানিফের ছেলে আব্দুল মান্নান (৫৫) মারা যান। তাকে সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

এর আগে গত চার দিনে প্রবল শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে এক নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন- জেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া গ্রামের ওসমান প্রামানিকের ছেলে আবু বক্কার প্রামানিক (৮৫), একই থানার বনগ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী খোরশেদা খাতুন (৫৫) ও একই এলাকার কুদরতের ছেলে মনসুর আলী (৫৫), পাবনা সদর উপজেলার দ্বীপচর এলাকার লজের প্রামানিকের ছেলে লোকমান প্রামানিক (৭৫), আটঘরিয়া উপজেলার পারখিদিরপুর গ্রামের শাহাদত আলীর ছেলে আব্দুল কাদের (৫০) ও সুজানগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের হাজি আছির উদ্দিন (৬৫)।

এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জন শিশু রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শীতে ঠান্ডা, কাশি, অ্যাজমা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের এবং চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষরা। প্রচণ্ড শীত আর হিমেল বাতাসে জুবুথুবু অবস্থার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছে এ অঞ্চলের মানুষ। দুপুর পর্যন্ত প্রকৃতি ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে। তীব্র শীত, হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার মধ্যে মহাসড়কগুলোতে ধীরগতিতে হেড লাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করছে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষরা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাজের উদ্দেশ্যে শহরে এসে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে কাতর হয়ে পড়েছেন। কেউবা খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুরনো শীতবস্ত্র কিনতে হকার্স মার্কেটে ভিড় করছেন মানুষ। নিজেদের চাহিদা মত দরদাম করে কিনছেন জ্যাকেট, সোয়েটার, মাফলার, টুপি, হাতমোজা ও কম্বল।

বৃহস্পতিবার পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। এদিকে জেলা প্রশাসন জেলার ৯ উপজেলা এবং ৯ পৌরসভার শীতার্তদের মধ্যে ৫০ হাজার কম্বল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে বিতরণ করেছে। কিন্ত প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।

পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালার চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোরবান আলী ও পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ এম রফিকউল্লাহ জানান, শীতে চরাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। কিন্ত সরকারি সাহায্য তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।  

বিডিপ্রেস/আরজে