BDpress

নারীবাদের সহজ সত্য

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
নারীবাদের সহজ সত্য
বিথী হক : নারীবাদ বিংশ শতাব্দীতে জনপ্রিয় বা সমালোচিত একটি মতাদর্শ। যার উদ্ভব ইউরোপ ও আমেরিকার উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে। পশ্চিমের ব্যক্তিস্বাধীনতাই এর মূল হিসেবে ধরা হয়।ঔলন্দাজ নারী লেখক মার্গারেট লুকাসের নারীভাষণ ইতিহাসের প্রথম নারীবাদী সাহিত্য যেখানে নারীর স্বাধীনতা, স্বাতন্ত্র, বিভিন্ন সমাজে বিদ্যমান নারীর অসম অধিকার নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

তবে ইতিহাসের প্রথম নারীবাদী হিসেবে পাওয়া যায় পলেইন ডিলা ব্যারে নামে এক নারীর নাম পাওয়া যায় যিনি বলেছিলেন ‘পুরুষ কর্তৃক নারী অভিযুক্ত এবং বিচারকের আসনে আসীন”। পরবর্তীতে নারীবাদকে আরো গুছিয়ে, সংগঠিতরূপ দান করেন মেরী ওলস্টোনক্রাফট নামের বিখ্যাত এক নারীবাদী লেখক।

নারীবাদ একটা মতাদর্শের নাম, একটা রাজনৈতিক এবং সামাজিক আন্দোলনের নাম।বাংলা সিনেমায় দেখা নায়কের পিঠের উপর নায়িকার হাই হিল পরা পায়ে নিষ্ঠুর চোখে ক্রুর হাসি হেসে অহম নিয়ে দাঁড়ানোরনাম নারীবাদ নয়। যে সমাজ কথায় কথায় নারীদের অন্দরমহল চেনায় সে সমাজেরবিরুদ্ধে নারীরা সোচ্চার নাহলে, সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক না দিলে আজকেআপনি আমি বা কোন নারীই বাইরের হাওয়া গায়ে লাগাতে পারতামনা।

নারীবাদী বলেকাওকে নিয়ে হাসাহাসি করার আগে সকলেরই প্রাথমিক কিছুবিষয়ে জ্ঞানার্জন দরকার। নারীবাদ নিয়ে যখন বর্তমান বিশ্বে ডিপার্টমেন্ট খোলা হয়েছে, নারী যখন অধ্যায়নের বিষয় তখন কিছু না জেনেই বা দু’পাতা পড়েই নিজেকে বিশাল বোদ্ধা ভাবলে সমস্যা। এই দেশে অশিক্ষিত থেকে উচ্চ শিক্ষিত মানুষদেরও নারীবাদ নিয়ে বিভিন্ন কটুক্তি করতে শোনা যায়।

তারা সমাজের বিভিন্ন উচ্চস্তরে কাজও করেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বড় বড় জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাও দেন। কিন্তু দিনশেষে নারীদের নিয়ে যেসব অবমাননাকর কথা বলেন তাতেই বোঝা যায় কে কতটা সভ্য হয়েছেন।

আজকেনারীদের যদি ভোট দেয়ার অধিকার না দেয়া হয়, বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করার অধিকার, পাবলিক বাসে ওঠার অধিকার না দেয়া হয় তখন কি নারীরা কি করবেন? বর্তমান পরিস্থিতি সকল অর্থেই নারীদের ঘরের ভেতর বন্দী রাখার ফন্দি আঁটছে। সুতরাং যে নারীরা ঘর ছাড়া পথ চেনে না তাদের পক্ষে আমরণ অনশনের পরিবারিক অনুমতিই মিলত না। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দিন-রাত সমান করে ফেলে বিক্ষোভ-আমরণের কথা তাই আর ভাবা যাচ্ছে না।

অথচ আজকে থেকে মাত্রদেড়শো বছর আগেই পৃথিবীর কোথাওনারীদের ভোটাধিকার ছিলনা। ১৯ শতকের শেষদিকে এসে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কিছু দেশ যেমন ফিনল্যান্ড, সুইডেন, আমেরিকার কয়েকটা অঙ্গরাজ্যসহ কিছু উপনিবেশ দেশ সীমিত পরিসরে নারীকে ভোটাধিকার প্রদান করে।

১৯০৪ সালে নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্য বার্লিনে একটি সংস্থাও প্রতিষ্ঠা পায়।স্পেনে১৯৩১সালে, ফ্রান্সে১৯৪৪সালে, ইতালিতে১৯৪৬সালে, গ্রিসে১৯৫২সালে,  সুইজারল্যান্ডে ১৯৭১ সালে নারীরা ভোট দেবার অধিকার পান।

লাতিন আমেরিকার সিংহভাগ দেশ ১৯৪ -এর দশকে নারীদের ভোট প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে। ১৯৬১ সালে প্যারাগুয়ে সর্বশেষ দেশ হিসেবে এই অধিকার প্রদান করে। এবং বাংলাদেশী মুসলমানরা অত্যন্ত দু:খিত বা আনন্দিতও হতে পারেন এই ভেবে যে ২০১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে এসে নারীরা প্রথমবারের মত সৌদিআরবে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দেবার সুযো গপান।

আজকে এই সময় হিজরাদের ভোটাধিকার না থাকলে কারো যেমন কোন মাথাব্যাথা হতনা, তৎকালীন পুরুষতন্ত্র ও এক সময় নারীদের ভোটাধিকার নিয়ে তেমনি নিস্পৃহ ছিল। (উল্লেখ্য ২০০৮ সালে হিজরাদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়)।

শিক্ষাদীক্ষায় যেআজকে নারীরা ছেলেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা দিয়ে ফার্স্ট সেকেন্ড হচ্ছে এটাও একদিনের অর্জন না। বেগম রোকেয়া বলে উপমহাদেশে কেউ ছিল যেস্বার্থপরের মত নিজে শিক্ষিত হয়ে বসে থাকেনি বরং অন্দরমহলের বাইরে এসে নিজেই নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার কাজে হাত দিয়ে ছিলেন।

ঘরের কাজ, স্বামী-সন্তানের প্রতিপালন করেও আপনি যে সরকারি-আধাসরকারি-বেসরকারি অফিসে পুরুষের পাশের ডেস্কে, তার সমান একই মাইনেতে, একই সময় ইনভেস্ট করে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন সেই সুযোগ আপনাকে আমাকে বাড়ি বয়ে এসে কেউ দিয়ে যায়নি। এটার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়ানো হয়েছে, সেটা আপনি পোড়াননি বলে আপনার গায়ে লাগছেনা কিন্তু কেউ না কেউ কিন্তু পুড়িয়েছে।

অনেকেই যুক্তি দেন, নারী আন্দোলন যদি নারী পুরুষ সবাই মানুষ এবং একে অপরের সমকক্ষ হবার আন্দোলন হয় তো সেটা মানবতাবাদ না হয়ে নারীবাদ কেন হল?

একই যুক্তিতে নারীদিবস পালনের জন্যও অনেকে সমালোচনা করেন । কথা হচ্ছে, পায়ের তলায় মাটি না থাকলে কিসের উপর দাঁড়িয়ে গলা ফাটাবেন নারীরা?

যে সমাজ পুরুষদের মানুষের স্ট্যান্ডার্ড ধরে, সেখানে নারীরা শুধুমাত্র একজন নারী, দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকতারও অনেকপরে মানুষ। সুতরাং কেউ পুরুষদের মানুষের স্ট্যান্ডার্ডে ফেলেন আর নাই ফেলেন আন্দোলনটা মানবতাবাদী আন্দোলন বলে চালিয়ে দেয়া যায়না।

সব সেক্টরে পুরুষের সমান অধিকার আরস্বাধীনতা পেয়ে গেলে তখন মৌলিক ইস্যু নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে, সেটা মানবতাবাদী আন্দোলন হিসেবে চালিয়ে নেওয়া যায়। যতদিন পুরুষকে ভাল না বেসে সমীহ করে বাঁচতে হচ্ছে, সমন্বয় করে বাঁচার পরিবর্তে মন যুগিয়ে চলতে হচ্ছে ততদিন নারীবাদ নিয়ে না বুঝে উল্টাপাল্টা কথা বলা বন্ধ করেন।

যুগের পর যুগ আন্দোলন করে নারীবাদীরা বর্তমান নারীদের আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। যে পুরুষগুলোর গলায় গলা মিলিয়ে নারীরা নারীবাদ আর নারীবাদীদের প্রায়শই কথা শোনান তাদের জন্যই নিজেদের ডমিস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হতে হত একদিন, এখনো হয় বৈকি!

সভ্যপুরুষরা নারীদের সভ্যতার অর্ধেক অংশই মনে করে। যারা নারীদের কূপমণ্ডুককে হিমালয়ের দৃশ্য বুঝিয়ে ঘরে থেকে কাজ করতে বলে, পুরুষকে সমীহ করে চলতে বলে সে আর যাই হোক কখনোই কোন নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছেনা; যা দিচ্ছে সেটা করুণা।

এই পুরুষরাই নারীরা ধর্ষণের শিকার হলে, বন্ধ্যা হলে, তাদের জন্য রান্না না করে দিলে নারীকে ঘর থেকে বের করে দেয়, পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতেও দেবে।

সুতরাং, কাওকে সমীহ করার আগে, কারো মিষ্টি কথায় গলে যাবার আগে নিজেকে সমীহ করার সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে হবে। প্রকৃতি প্রদত্ত হাত,পা,চোখ,কান ব্যবহার করে নিজের অধিকার বুঝে নিয়ে তারপর নারীবাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আলাদা করে নারীবাদকে ঘৃনা করা যেতে পারে, তার আগে নারীরা অন্তত নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরে নিজের অস্তিত্বের বিলোপ না ঘটাক।

বিথী হক : সাংবাদিক, কলাম লেখক। 

bithyhaque@ gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

নারীবাদের সহজ সত্য


নারীবাদের সহজ সত্য

তবে ইতিহাসের প্রথম নারীবাদী হিসেবে পাওয়া যায় পলেইন ডিলা ব্যারে নামে এক নারীর নাম পাওয়া যায় যিনি বলেছিলেন ‘পুরুষ কর্তৃক নারী অভিযুক্ত এবং বিচারকের আসনে আসীন”। পরবর্তীতে নারীবাদকে আরো গুছিয়ে, সংগঠিতরূপ দান করেন মেরী ওলস্টোনক্রাফট নামের বিখ্যাত এক নারীবাদী লেখক।

নারীবাদ একটা মতাদর্শের নাম, একটা রাজনৈতিক এবং সামাজিক আন্দোলনের নাম।বাংলা সিনেমায় দেখা নায়কের পিঠের উপর নায়িকার হাই হিল পরা পায়ে নিষ্ঠুর চোখে ক্রুর হাসি হেসে অহম নিয়ে দাঁড়ানোরনাম নারীবাদ নয়। যে সমাজ কথায় কথায় নারীদের অন্দরমহল চেনায় সে সমাজেরবিরুদ্ধে নারীরা সোচ্চার নাহলে, সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক না দিলে আজকেআপনি আমি বা কোন নারীই বাইরের হাওয়া গায়ে লাগাতে পারতামনা।

নারীবাদী বলেকাওকে নিয়ে হাসাহাসি করার আগে সকলেরই প্রাথমিক কিছুবিষয়ে জ্ঞানার্জন দরকার। নারীবাদ নিয়ে যখন বর্তমান বিশ্বে ডিপার্টমেন্ট খোলা হয়েছে, নারী যখন অধ্যায়নের বিষয় তখন কিছু না জেনেই বা দু’পাতা পড়েই নিজেকে বিশাল বোদ্ধা ভাবলে সমস্যা। এই দেশে অশিক্ষিত থেকে উচ্চ শিক্ষিত মানুষদেরও নারীবাদ নিয়ে বিভিন্ন কটুক্তি করতে শোনা যায়।

তারা সমাজের বিভিন্ন উচ্চস্তরে কাজও করেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বড় বড় জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাও দেন। কিন্তু দিনশেষে নারীদের নিয়ে যেসব অবমাননাকর কথা বলেন তাতেই বোঝা যায় কে কতটা সভ্য হয়েছেন।

আজকেনারীদের যদি ভোট দেয়ার অধিকার না দেয়া হয়, বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করার অধিকার, পাবলিক বাসে ওঠার অধিকার না দেয়া হয় তখন কি নারীরা কি করবেন? বর্তমান পরিস্থিতি সকল অর্থেই নারীদের ঘরের ভেতর বন্দী রাখার ফন্দি আঁটছে। সুতরাং যে নারীরা ঘর ছাড়া পথ চেনে না তাদের পক্ষে আমরণ অনশনের পরিবারিক অনুমতিই মিলত না। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দিন-রাত সমান করে ফেলে বিক্ষোভ-আমরণের কথা তাই আর ভাবা যাচ্ছে না।

অথচ আজকে থেকে মাত্রদেড়শো বছর আগেই পৃথিবীর কোথাওনারীদের ভোটাধিকার ছিলনা। ১৯ শতকের শেষদিকে এসে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কিছু দেশ যেমন ফিনল্যান্ড, সুইডেন, আমেরিকার কয়েকটা অঙ্গরাজ্যসহ কিছু উপনিবেশ দেশ সীমিত পরিসরে নারীকে ভোটাধিকার প্রদান করে।

১৯০৪ সালে নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনের জন্য বার্লিনে একটি সংস্থাও প্রতিষ্ঠা পায়।স্পেনে১৯৩১সালে, ফ্রান্সে১৯৪৪সালে, ইতালিতে১৯৪৬সালে, গ্রিসে১৯৫২সালে,  সুইজারল্যান্ডে ১৯৭১ সালে নারীরা ভোট দেবার অধিকার পান।

লাতিন আমেরিকার সিংহভাগ দেশ ১৯৪ -এর দশকে নারীদের ভোট প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে। ১৯৬১ সালে প্যারাগুয়ে সর্বশেষ দেশ হিসেবে এই অধিকার প্রদান করে। এবং বাংলাদেশী মুসলমানরা অত্যন্ত দু:খিত বা আনন্দিতও হতে পারেন এই ভেবে যে ২০১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে এসে নারীরা প্রথমবারের মত সৌদিআরবে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দেবার সুযো গপান।

আজকে এই সময় হিজরাদের ভোটাধিকার না থাকলে কারো যেমন কোন মাথাব্যাথা হতনা, তৎকালীন পুরুষতন্ত্র ও এক সময় নারীদের ভোটাধিকার নিয়ে তেমনি নিস্পৃহ ছিল। (উল্লেখ্য ২০০৮ সালে হিজরাদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়)।

শিক্ষাদীক্ষায় যেআজকে নারীরা ছেলেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা দিয়ে ফার্স্ট সেকেন্ড হচ্ছে এটাও একদিনের অর্জন না। বেগম রোকেয়া বলে উপমহাদেশে কেউ ছিল যেস্বার্থপরের মত নিজে শিক্ষিত হয়ে বসে থাকেনি বরং অন্দরমহলের বাইরে এসে নিজেই নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার কাজে হাত দিয়ে ছিলেন।

ঘরের কাজ, স্বামী-সন্তানের প্রতিপালন করেও আপনি যে সরকারি-আধাসরকারি-বেসরকারি অফিসে পুরুষের পাশের ডেস্কে, তার সমান একই মাইনেতে, একই সময় ইনভেস্ট করে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন সেই সুযোগ আপনাকে আমাকে বাড়ি বয়ে এসে কেউ দিয়ে যায়নি। এটার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়ানো হয়েছে, সেটা আপনি পোড়াননি বলে আপনার গায়ে লাগছেনা কিন্তু কেউ না কেউ কিন্তু পুড়িয়েছে।

অনেকেই যুক্তি দেন, নারী আন্দোলন যদি নারী পুরুষ সবাই মানুষ এবং একে অপরের সমকক্ষ হবার আন্দোলন হয় তো সেটা মানবতাবাদ না হয়ে নারীবাদ কেন হল?

একই যুক্তিতে নারীদিবস পালনের জন্যও অনেকে সমালোচনা করেন । কথা হচ্ছে, পায়ের তলায় মাটি না থাকলে কিসের উপর দাঁড়িয়ে গলা ফাটাবেন নারীরা?

যে সমাজ পুরুষদের মানুষের স্ট্যান্ডার্ড ধরে, সেখানে নারীরা শুধুমাত্র একজন নারী, দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকতারও অনেকপরে মানুষ। সুতরাং কেউ পুরুষদের মানুষের স্ট্যান্ডার্ডে ফেলেন আর নাই ফেলেন আন্দোলনটা মানবতাবাদী আন্দোলন বলে চালিয়ে দেয়া যায়না।

সব সেক্টরে পুরুষের সমান অধিকার আরস্বাধীনতা পেয়ে গেলে তখন মৌলিক ইস্যু নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে, সেটা মানবতাবাদী আন্দোলন হিসেবে চালিয়ে নেওয়া যায়। যতদিন পুরুষকে ভাল না বেসে সমীহ করে বাঁচতে হচ্ছে, সমন্বয় করে বাঁচার পরিবর্তে মন যুগিয়ে চলতে হচ্ছে ততদিন নারীবাদ নিয়ে না বুঝে উল্টাপাল্টা কথা বলা বন্ধ করেন।

যুগের পর যুগ আন্দোলন করে নারীবাদীরা বর্তমান নারীদের আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। যে পুরুষগুলোর গলায় গলা মিলিয়ে নারীরা নারীবাদ আর নারীবাদীদের প্রায়শই কথা শোনান তাদের জন্যই নিজেদের ডমিস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হতে হত একদিন, এখনো হয় বৈকি!

সভ্যপুরুষরা নারীদের সভ্যতার অর্ধেক অংশই মনে করে। যারা নারীদের কূপমণ্ডুককে হিমালয়ের দৃশ্য বুঝিয়ে ঘরে থেকে কাজ করতে বলে, পুরুষকে সমীহ করে চলতে বলে সে আর যাই হোক কখনোই কোন নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছেনা; যা দিচ্ছে সেটা করুণা।

এই পুরুষরাই নারীরা ধর্ষণের শিকার হলে, বন্ধ্যা হলে, তাদের জন্য রান্না না করে দিলে নারীকে ঘর থেকে বের করে দেয়, পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতেও দেবে।

সুতরাং, কাওকে সমীহ করার আগে, কারো মিষ্টি কথায় গলে যাবার আগে নিজেকে সমীহ করার সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে হবে। প্রকৃতি প্রদত্ত হাত,পা,চোখ,কান ব্যবহার করে নিজের অধিকার বুঝে নিয়ে তারপর নারীবাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আলাদা করে নারীবাদকে ঘৃনা করা যেতে পারে, তার আগে নারীরা অন্তত নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরে নিজের অস্তিত্বের বিলোপ না ঘটাক।

বিথী হক : সাংবাদিক, কলাম লেখক। 

bithyhaque@ gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে