BDpress

শওকত আলীর নিঃসঙ্গ যাত্রা

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
শওকত আলীর নিঃসঙ্গ যাত্রা
শুভ কিবরিয়া ।। শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক অবশেষে চলে গেলেন। দেশভাগের রক্তাক্ত স্মৃতি নিয়ে এক সংগ্রামী জীবনের শুরু তার। সেই জীবনে দেখেছেন দাঙ্গার ভয়াবহতা। দেখেছেন স্বার্থের মাপে ছোট হয়ে যাওয়া মানুষের বহুবর্ণী রূপ। সেই অভিজ্ঞতা তাকে জীবনবিমুখ করেনি। বরং রাজনীতিমুখীই করেছে।

রাজনীতির স্বপ্নে ঘোর থেকেছেন দিনবদলের আকাঙ্খায়। তাই তাকে টেনে নিয়ে গেছে কমিউনিস্ট জীবনে। জেলখানার ভেতরে। এই পোড় খাওয়া জীবন তাকে আরো নিমগ্ন করেছে মহৎ রাষ্ট্র তৈরির আকাংখা। সেই আকাংখা থেকেই শিক্ষকতা, কথাসাহিত্য রচনা।

একদিকে উত্তরবঙ্গের নানা এলাকায় শিক্ষকতা, অন্যদিকে ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’, ‘উত্তরের খেপ’, ‘দলিল’, ‘ওয়ারিশ’ এমন সব শিল্প রচনা। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, নতুন শ্রেণী-চেতনা এসব অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ কীর্তিমান সাহিত্যিক শওকত আলী জীবনকে দেখেছেন ইতিবাচক ভঙ্গিতে। স্বপ্নময় চোখে।

কিন্তু তাঁর পথচলা ছিল নিংসঙ্গ। তাঁর যখন ৮৫ বছর বয়স চলছে তখন একটা লম্বা কথপোকথন হয়েছিল আমাদের সাথে। পত্রিকায় তা ছাপাও হয়েছিল । আজ যখন খবর পাচ্ছি তিনি আর নেই , তখন সেই সাক্ষাৎকারের কথাটাই বেশি করে মনে পড়ছে।

ব্যাক্তিগত জীবন ছিল তাঁর ভয়ানক অভিজ্ঞতায় ভরপুর। তাঁর নিজের বয়ান এরকম,‘ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, আমি যখন কৈশোর অতিক্রম করছি, আমাকে তখন আমার মাতৃভূমি(ওপার বাংলা) ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে। আমার ভাই বোন সবাইকে চলে আসতে হয়েছে। বাবা প্রথমে আসতে চাননি, কিন্তু তবু তাকেও চলে আসতে হয়েছে।

তারপর বাবা আর ওখানে যাননি।বাবা বেঁচে থাকতে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন। আর কিছু আমার বড় ভাইয়ের হাতে দিয়েছিলেন। তিনি তখন ছাত্র। কিন্তু আমরা যখন চলে আসি তারপরে কিছু সম্পত্তি বিক্রির দলিল হয়েছিল, কিছু টাকা পয়সাও পেয়েছিলেন।

কিন্তু বাবা ওখান থেকে বাড়িঘরের অংশও ফেলে দিয়ে চলে এসেছিলেন। চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং আর যাননি বাবা। ওখান থেকে একটা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু বাবা সেই ক্ষতিপূরণের টাকাও আনতে যাননি। বাবাকে ’৭১-এ পাকিস্তানের আর্মিরা গুলি করে মেরেছে। ’

দুই.

দেশভাগের পর ভয়ানক দাঙ্গার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। তিনি বলছিলেন আমাদের সেসব কথা। বহু বছর পর নির্মোহ ভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করছিলেন ইতিহাসের সেই ভংগুর সময়ের কথা। তাঁর ভাষায় ,‘আরেকটা লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, ওখানে যে অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে, ওই দাঙ্গা কিন্তু তৃণমূলের মানুষরা কেউ করেনি।

এটা আমার বিশ্বাস। যখন রায়গঞ্জে আমাদের পুরনো বাড়িটা ভেঙে গিয়েছিল, নতুন বাড়ি একটা তোলা হয়েছিল পাকা দেয়াল দিয়ে উপরে টিন দিয়ে। রাস্তার ধারে চার পাঁচখানা ঘর। এটা ’৫২-এর কথা বলছি। এখান থেকে যারা পালিয়ে গেছে মার খেয়ে, তারা আবার ওটা দখল করে নিয়েছে।

আমার বাবা কংগ্রেস করতেন, সে জন্য লোকাল কংগ্রেস অফিসে গেছেন, জেলা কংগ্রেসে গেছেন, তারপর কলকাতাও গেছেন। তারা বলেছে দেখছি, করছি, হচ্ছে ইত্যাদি। শেষ পর্যন্ত বাবা অনশন শুরু করেছিলেন।

একদিন দুই দিন তিন দিনের দিন ওই গরিব মানুষগুলো, যারা এখান থেকে মার খেয়ে ওখানে গেছেন, তারা দুই বুড়ি ও এক বুড়া বললেন, ডাক্তার বাবু, উঠুন উঠুন জল খান। আমরা তো নিজেরা এখানে আসিনি শিকদার বাবু আমাদেরকে ধরে এখানে নিয়ে এসেছেন। সম্পত্তি দখল করার জন্য নিয়ে এসেছিল । ‘

এসব মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার ছাপ ছিল তাঁর লেখায়।

তিন.

শওকত আলী লেখাপড়া করেছিলেন বাংলা সাহিত্য নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার আগেই তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে নানাভাবে। তবুও বাংলা বিভাগে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সেই ব্যর্থতা কিভাবে সফলতায় পরিণত হোল সেই মধুর গল্প শুনেছিলাম সেদিন । তিনি বলছিলেন, ‘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলা বিভাগে প্রথমে তো নাকচ করে দেয়া হয়েছিল আমাকে। তাদের অভিমত এ ছেলে থার্ড ডিভিশন পাস করেছে। ডিগ্রিতে বাংলা সাহিত্যও ছিল না। এক শ নম্বরের বাংলা পড়েছে শুধু।

আমাকে ফিরিয়ে দেয়ার পর চলে আসছিলাম। তখন গেটের সামনে ড. জিসি দেবের সঙ্গে দেখা। বলল, কী হলো তুমি ইন্টারভিউ কেমন দিয়েছ। বললাম, স্যার হবে না। বললেন, হবে না? কেন হবে না? মুনীর চৌধুরী আসছিলেন সাইকেলে চড়ে। জিসি দেব তাঁকে গিয়ে বললেন, এই ছেলেটিকে বাতিল করে দিলেন আপনারা?

তারা বলল, কী হয়েছে, কে ও। সব শুনে মুনীর চৌধুরী বললেন যে, তোমার লেখার কথা কে যেন একজন বলেছিল আমাকে। তারপর আমাকে নিয়ে বাংলার প্রধান অধ্যাপক আবদুল হাই সাহেবের রুমে ঢুকে তারা নিজেরা কি যেন বললেন।

তারপর হাই সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কার কার বই পড়েছ, কী পড়েছ। উপন্যাস লেখা কেমন করে হয়, সনেট কাকে বলে জানো। মোটামুটি এই সব জিজ্ঞেস করে সরাসরি ভর্তি করে নিলেন আমাকে।’

চার.

লেখক শওকত আলীকে উতরে মানুষ শওকত আলীকে খোঁজার নেশায় পেয়েছিল আমাকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম,মানুষ হিসেবে তো আপনি খুবই নিঃসঙ্গ?

শওকত আলী মৃদু হাসলেন। বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিঃসঙ্গ। আমার একমাত্র সঙ্গী ছিলেন আমার স্ত্রী। ’৯৬ সালে তিনি মারা গেলেন। চৌদ্দ বছর হয়ে গেল। তারপর থেকে নিঃসঙ্গ। একা।’

স্যারের এই একাকীত্ব কি ঘুচেছিল? আমার মনে হয় , না।

কিন্তু শিক্ষক শওকত আলী ছিলেন খুবই তৃপ্ত। আমাদের বলেছিলেন, আমার মনে আছে ক্লাসে শিক্ষার্থিদের মধ্যে কোনো সাইডটক হয়নি কখনো। ফিস ফিস করতেও দেখিনি কোনোদিন। ছাত্ররা আমার মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকত।

জিজ্ঞেস করেছিলাম, ছাত্রদের পড়িয়ে আনন্দ পেতেন?

শওকত আলীর গর্বিত ভাষ্য ছিল, ‘ হ্যাঁ, খুব আনন্দ পেতাম। যে কোনো শিক্ষকই, যদি সত্যিকারের শিক্ষক হয় তবে সে ছাত্রদের পড়িয়ে আনন্দ পাবেনই।’

আমাদের সত্যিকারের শিক্ষক শওকত আলীরা এখন ক্রমশ নাই হয়ে যাচ্ছেন। বাংলদেশ এই শূন্যতা কিভাবে পূরণ করবে সেটা একটা বড় জিজ্ঞাস্য বটে।

শুভ কিবরিয়া : সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

kibria34@gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

শওকত আলীর নিঃসঙ্গ যাত্রা


শওকত আলীর নিঃসঙ্গ যাত্রা

রাজনীতির স্বপ্নে ঘোর থেকেছেন দিনবদলের আকাঙ্খায়। তাই তাকে টেনে নিয়ে গেছে কমিউনিস্ট জীবনে। জেলখানার ভেতরে। এই পোড় খাওয়া জীবন তাকে আরো নিমগ্ন করেছে মহৎ রাষ্ট্র তৈরির আকাংখা। সেই আকাংখা থেকেই শিক্ষকতা, কথাসাহিত্য রচনা।

একদিকে উত্তরবঙ্গের নানা এলাকায় শিক্ষকতা, অন্যদিকে ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’, ‘উত্তরের খেপ’, ‘দলিল’, ‘ওয়ারিশ’ এমন সব শিল্প রচনা। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, নতুন শ্রেণী-চেতনা এসব অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ কীর্তিমান সাহিত্যিক শওকত আলী জীবনকে দেখেছেন ইতিবাচক ভঙ্গিতে। স্বপ্নময় চোখে।

কিন্তু তাঁর পথচলা ছিল নিংসঙ্গ। তাঁর যখন ৮৫ বছর বয়স চলছে তখন একটা লম্বা কথপোকথন হয়েছিল আমাদের সাথে। পত্রিকায় তা ছাপাও হয়েছিল । আজ যখন খবর পাচ্ছি তিনি আর নেই , তখন সেই সাক্ষাৎকারের কথাটাই বেশি করে মনে পড়ছে।

ব্যাক্তিগত জীবন ছিল তাঁর ভয়ানক অভিজ্ঞতায় ভরপুর। তাঁর নিজের বয়ান এরকম,‘ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, আমি যখন কৈশোর অতিক্রম করছি, আমাকে তখন আমার মাতৃভূমি(ওপার বাংলা) ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে। আমার ভাই বোন সবাইকে চলে আসতে হয়েছে। বাবা প্রথমে আসতে চাননি, কিন্তু তবু তাকেও চলে আসতে হয়েছে।

তারপর বাবা আর ওখানে যাননি।বাবা বেঁচে থাকতে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন। আর কিছু আমার বড় ভাইয়ের হাতে দিয়েছিলেন। তিনি তখন ছাত্র। কিন্তু আমরা যখন চলে আসি তারপরে কিছু সম্পত্তি বিক্রির দলিল হয়েছিল, কিছু টাকা পয়সাও পেয়েছিলেন।

কিন্তু বাবা ওখান থেকে বাড়িঘরের অংশও ফেলে দিয়ে চলে এসেছিলেন। চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং আর যাননি বাবা। ওখান থেকে একটা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু বাবা সেই ক্ষতিপূরণের টাকাও আনতে যাননি। বাবাকে ’৭১-এ পাকিস্তানের আর্মিরা গুলি করে মেরেছে। ’

দুই.

দেশভাগের পর ভয়ানক দাঙ্গার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। তিনি বলছিলেন আমাদের সেসব কথা। বহু বছর পর নির্মোহ ভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করছিলেন ইতিহাসের সেই ভংগুর সময়ের কথা। তাঁর ভাষায় ,‘আরেকটা লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, ওখানে যে অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে, ওই দাঙ্গা কিন্তু তৃণমূলের মানুষরা কেউ করেনি।

এটা আমার বিশ্বাস। যখন রায়গঞ্জে আমাদের পুরনো বাড়িটা ভেঙে গিয়েছিল, নতুন বাড়ি একটা তোলা হয়েছিল পাকা দেয়াল দিয়ে উপরে টিন দিয়ে। রাস্তার ধারে চার পাঁচখানা ঘর। এটা ’৫২-এর কথা বলছি। এখান থেকে যারা পালিয়ে গেছে মার খেয়ে, তারা আবার ওটা দখল করে নিয়েছে।

আমার বাবা কংগ্রেস করতেন, সে জন্য লোকাল কংগ্রেস অফিসে গেছেন, জেলা কংগ্রেসে গেছেন, তারপর কলকাতাও গেছেন। তারা বলেছে দেখছি, করছি, হচ্ছে ইত্যাদি। শেষ পর্যন্ত বাবা অনশন শুরু করেছিলেন।

একদিন দুই দিন তিন দিনের দিন ওই গরিব মানুষগুলো, যারা এখান থেকে মার খেয়ে ওখানে গেছেন, তারা দুই বুড়ি ও এক বুড়া বললেন, ডাক্তার বাবু, উঠুন উঠুন জল খান। আমরা তো নিজেরা এখানে আসিনি শিকদার বাবু আমাদেরকে ধরে এখানে নিয়ে এসেছেন। সম্পত্তি দখল করার জন্য নিয়ে এসেছিল । ‘

এসব মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার ছাপ ছিল তাঁর লেখায়।

তিন.

শওকত আলী লেখাপড়া করেছিলেন বাংলা সাহিত্য নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার আগেই তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে নানাভাবে। তবুও বাংলা বিভাগে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সেই ব্যর্থতা কিভাবে সফলতায় পরিণত হোল সেই মধুর গল্প শুনেছিলাম সেদিন । তিনি বলছিলেন, ‘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলা বিভাগে প্রথমে তো নাকচ করে দেয়া হয়েছিল আমাকে। তাদের অভিমত এ ছেলে থার্ড ডিভিশন পাস করেছে। ডিগ্রিতে বাংলা সাহিত্যও ছিল না। এক শ নম্বরের বাংলা পড়েছে শুধু।

আমাকে ফিরিয়ে দেয়ার পর চলে আসছিলাম। তখন গেটের সামনে ড. জিসি দেবের সঙ্গে দেখা। বলল, কী হলো তুমি ইন্টারভিউ কেমন দিয়েছ। বললাম, স্যার হবে না। বললেন, হবে না? কেন হবে না? মুনীর চৌধুরী আসছিলেন সাইকেলে চড়ে। জিসি দেব তাঁকে গিয়ে বললেন, এই ছেলেটিকে বাতিল করে দিলেন আপনারা?

তারা বলল, কী হয়েছে, কে ও। সব শুনে মুনীর চৌধুরী বললেন যে, তোমার লেখার কথা কে যেন একজন বলেছিল আমাকে। তারপর আমাকে নিয়ে বাংলার প্রধান অধ্যাপক আবদুল হাই সাহেবের রুমে ঢুকে তারা নিজেরা কি যেন বললেন।

তারপর হাই সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কার কার বই পড়েছ, কী পড়েছ। উপন্যাস লেখা কেমন করে হয়, সনেট কাকে বলে জানো। মোটামুটি এই সব জিজ্ঞেস করে সরাসরি ভর্তি করে নিলেন আমাকে।’

চার.

লেখক শওকত আলীকে উতরে মানুষ শওকত আলীকে খোঁজার নেশায় পেয়েছিল আমাকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম,মানুষ হিসেবে তো আপনি খুবই নিঃসঙ্গ?

শওকত আলী মৃদু হাসলেন। বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিঃসঙ্গ। আমার একমাত্র সঙ্গী ছিলেন আমার স্ত্রী। ’৯৬ সালে তিনি মারা গেলেন। চৌদ্দ বছর হয়ে গেল। তারপর থেকে নিঃসঙ্গ। একা।’

স্যারের এই একাকীত্ব কি ঘুচেছিল? আমার মনে হয় , না।

কিন্তু শিক্ষক শওকত আলী ছিলেন খুবই তৃপ্ত। আমাদের বলেছিলেন, আমার মনে আছে ক্লাসে শিক্ষার্থিদের মধ্যে কোনো সাইডটক হয়নি কখনো। ফিস ফিস করতেও দেখিনি কোনোদিন। ছাত্ররা আমার মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকত।

জিজ্ঞেস করেছিলাম, ছাত্রদের পড়িয়ে আনন্দ পেতেন?

শওকত আলীর গর্বিত ভাষ্য ছিল, ‘ হ্যাঁ, খুব আনন্দ পেতাম। যে কোনো শিক্ষকই, যদি সত্যিকারের শিক্ষক হয় তবে সে ছাত্রদের পড়িয়ে আনন্দ পাবেনই।’

আমাদের সত্যিকারের শিক্ষক শওকত আলীরা এখন ক্রমশ নাই হয়ে যাচ্ছেন। বাংলদেশ এই শূন্যতা কিভাবে পূরণ করবে সেটা একটা বড় জিজ্ঞাস্য বটে।

শুভ কিবরিয়া : সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

kibria34@gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে