BDpress

তিস্তার ক্যানেল পানিতে টইটম্বুর, স্বপ্ন নিয়ে ধান বুনছেন কৃষকরা

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
তিস্তার ক্যানেল পানিতে টইটম্বুর, স্বপ্ন নিয়ে ধান বুনছেন কৃষকরা
‘গেলবার পোকায় শ্যাষ কইচ্ছে। ২ বিঘাত নাগাইছিনো, লাভ করিরে পাই নাই, দেখি এইবার কি হয়। লাভের আশা তো করিবারে নাগিব।’ কথাগুলোবলছিলেন নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের উত্তর কানিয়ালখাতা গ্রামের কৃষক নিরানন্দ রায়।

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিত বীছোন থাকি শুরু করি কাটা পর্যন্ত ছয় হাজার টাকার উপোরোত খরচ হয়। ব্যাঁচের সময় দেখা যায় ধানের দামে নাই। এইবার ৩ বিঘাত নাগাইনো, যা আছে হইবে কপালোত।

একই এলাকার আরেক কৃষক রোস্তম আলী। ৫ বিঘা জমিতে লাগাচ্ছেন ইরি-বোরো ধানের চারা। গেল মৌসুমে লোকসানের কথা মাথায় রেখে লাভের আশায় এবারও জমিতে স্বপ্ন বুনছেন।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, কারেন্টের দাম বাড়ি গেইছে, সেচের খরচ বাড়িছে, বেশি টাকা দিয়াও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আবাদোত খরচ অনেক বাড়ি গেইছে। তার উপর ধানের বাজার নাই। বিঘা প্রতি ১৪/১৫ মণ ধান পাওয়া যায়। ব্যাচেঁয়া খরচের টাকাও হয় না।

তিনি অভিযোগ করেন, হামরা চারা নাগাইছি। বিএসগুলাক খুঁজিও পাওয়া যায় না। পোকা ধরিলে পরামর্শ নেমো, সেটাও জানিবার পাই না।

এ রকম নানা শঙ্কা নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর কৃষকরা। কোথাও বীজ তোলা, কোথাও হাল চাষ, কোথাও সেচ দেওয়া আবার কোথাও চারা রোপণের কাজ চলছে জেলার প্রান্তজুড়ে। 

এমন চিত্র দেখা গেছে নীলফামারী শহরের মধ্য হাড়োয়া, কুখাপাড়া, কুন্দপুকুর, চড়াইখোলা, ইটাখোলা, টুপামারী, কচুকাটা, লক্ষীচাপ, চাপড়া সরমজানী, চওড়া বড়গাছা, পলাশবাড়ি, খোকশাবাড়িসহ ডোমার উপজেলার সোনারায়, ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া, জলঢাকা উপজেলার টেঙ্গণমারী, কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী, নিতাই, গাড়াগ্রাম ও সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি, কাশিরাম বেলপুকুর ও কামারপুকুর ইউনিয়ন ঘুরে।

মাঘের কনকনে শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইরি বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

সচরাচর হাজিরা ভিত্তিতে দৈনিক কাজ করলেও পুরোনো পরিচিতি হারিয়েছে এই সময়ে।

দলবদ্ধ হয়ে চুক্তি ভিত্তিক জমিতে চারা রোপণ করে দিচ্ছেন শ্রমিকরা। এমন চিত্র চোখে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে।

ইটাখোলা ইউনিয়নের কানিয়াল খাতা তিস্তা সেচ ক্যানেল সংলগ্ন এলাকায় ৭/৮জনের দল রোপণ করছেন ইরি বোরো চারা। বিঘা প্রতি ১ হাজার টাকা চুক্তিতে কাজ করছেন তারা। লাগাবেন ৬ বিঘা জমিতে।

দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে থাকতে হয়। দেখা যায় ভাগ করে চার’শ টাকাও পাই না দৈনিক। তার উপর নাস্তা, দুপুরের খাবারও খেতে হয় নিজের টাকাই।

তবে দলগত হয়ে কাজ করলে ভালোভাবে দিনটা কেটে যায় বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারী উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় ৮৪ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমিতে এবারে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন।

আবাদের ভরা মৌসুমে সেচের জন্য ৩২৮টি গভীর নলকূপ, ২৬ হাজার অগভীর নলকূপ ব্যবহার করছেন কৃষকরা। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হওয়া জমিতে আবাদের জন্য বীজতলা করা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৭০হেক্টর জমিতে।

নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন হিরু জানান, ইউনিয়নের বেশির ভাগ জমিতে লাইন এবং লোগোবো পদ্ধতি চারা রোপণ করা হচ্ছে।

এ জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। দুই পদ্ধতির ফলে চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম থাকে। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতিও করছেন এলাকার কৃষকরা।

কৃষকরা জমি তৈরি, বীজ তোলা, সেচের ব্যবহারসহ চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বলে জানান রাকিব আবেদীন।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, জেলার সর্বত্রই চলছে কৃষকদের আবাদের ব্যস্ততা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেশ জোরেশোরে চলছে চারা রোপণের কাজ।

ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি জমিতে চারা লাগানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি জমিগুলোতে চারা লাগানোর কাজ শেষ হবে।

পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে এবং মার্চ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ইরির বোরোর চারা লাগানো চলবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া।

প্রকল্প এলাকার নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ১২টি উপজেলায় রেশনিং পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দফতরটি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিস্তা সেচ প্রকল্পে ২ হাজার কিউসেক পানি রয়েছে। যা দিয়ে কমান্ড এলাকায় নির্বিঘ্নে সেচ কার্যক্রম চালানো যাবে। তবে লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

ডালিয়া সূত্র জানায়, তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০১০সালে ৪৬ হাজার, ২০১১ সালে ৫০ হাজার, ২০১২ সালে ৫৯ হাজার, ২০১৩ সালে ২৭ হাজার, ২০১৪ সালে ৮৫০০, ২০১৫ সালে ১১ হাজার এবং ২০১৬ সালে ২০ হাজার ২০২ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো আবাদ করা হয়।

ডিভিশনের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, প্রকল্পের আওতায় ১০০ কিলোমিটার প্রধান খাল, ২৫০কিলোমিটার সেকেন্ডারি খাল এবং ২৮০ কিলোমিটার টারশিয়ারী খাল রয়েছে।

ভরা এই মৌসুমে তিস্তা সেচ ক্যানেলে টাইটুম্বুর পানি দেখে বেশ খুশি কৃষকরা। তাদের দাবি এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এবার আর কৃষকদের সেচ নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে না।

ইটাখোলা ইউনিয়নের কানিয়াল খাতা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমি ৭ বিঘা জমিতে বোরো করেছি। এখন সেচের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ক্যানেলে অনেক পানি। জমিতেও দিচ্ছি। 

আমরা চাই ক্যানেলটি এভাবেই থাক যাতে আবাদের সময় কৃষকরা দিগবিদক ছুটোছুটি না করেন। 

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

তিস্তার ক্যানেল পানিতে টইটম্বুর, স্বপ্ন নিয়ে ধান বুনছেন কৃষকরা


তিস্তার ক্যানেল পানিতে টইটম্বুর, স্বপ্ন নিয়ে ধান বুনছেন কৃষকরা

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিত বীছোন থাকি শুরু করি কাটা পর্যন্ত ছয় হাজার টাকার উপোরোত খরচ হয়। ব্যাঁচের সময় দেখা যায় ধানের দামে নাই। এইবার ৩ বিঘাত নাগাইনো, যা আছে হইবে কপালোত।

একই এলাকার আরেক কৃষক রোস্তম আলী। ৫ বিঘা জমিতে লাগাচ্ছেন ইরি-বোরো ধানের চারা। গেল মৌসুমে লোকসানের কথা মাথায় রেখে লাভের আশায় এবারও জমিতে স্বপ্ন বুনছেন।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, কারেন্টের দাম বাড়ি গেইছে, সেচের খরচ বাড়িছে, বেশি টাকা দিয়াও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আবাদোত খরচ অনেক বাড়ি গেইছে। তার উপর ধানের বাজার নাই। বিঘা প্রতি ১৪/১৫ মণ ধান পাওয়া যায়। ব্যাচেঁয়া খরচের টাকাও হয় না।

তিনি অভিযোগ করেন, হামরা চারা নাগাইছি। বিএসগুলাক খুঁজিও পাওয়া যায় না। পোকা ধরিলে পরামর্শ নেমো, সেটাও জানিবার পাই না।

এ রকম নানা শঙ্কা নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর কৃষকরা। কোথাও বীজ তোলা, কোথাও হাল চাষ, কোথাও সেচ দেওয়া আবার কোথাও চারা রোপণের কাজ চলছে জেলার প্রান্তজুড়ে। 

এমন চিত্র দেখা গেছে নীলফামারী শহরের মধ্য হাড়োয়া, কুখাপাড়া, কুন্দপুকুর, চড়াইখোলা, ইটাখোলা, টুপামারী, কচুকাটা, লক্ষীচাপ, চাপড়া সরমজানী, চওড়া বড়গাছা, পলাশবাড়ি, খোকশাবাড়িসহ ডোমার উপজেলার সোনারায়, ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া, জলঢাকা উপজেলার টেঙ্গণমারী, কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী, নিতাই, গাড়াগ্রাম ও সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি, কাশিরাম বেলপুকুর ও কামারপুকুর ইউনিয়ন ঘুরে।

মাঘের কনকনে শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইরি বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

সচরাচর হাজিরা ভিত্তিতে দৈনিক কাজ করলেও পুরোনো পরিচিতি হারিয়েছে এই সময়ে।

দলবদ্ধ হয়ে চুক্তি ভিত্তিক জমিতে চারা রোপণ করে দিচ্ছেন শ্রমিকরা। এমন চিত্র চোখে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে।

ইটাখোলা ইউনিয়নের কানিয়াল খাতা তিস্তা সেচ ক্যানেল সংলগ্ন এলাকায় ৭/৮জনের দল রোপণ করছেন ইরি বোরো চারা। বিঘা প্রতি ১ হাজার টাকা চুক্তিতে কাজ করছেন তারা। লাগাবেন ৬ বিঘা জমিতে।

দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে থাকতে হয়। দেখা যায় ভাগ করে চার’শ টাকাও পাই না দৈনিক। তার উপর নাস্তা, দুপুরের খাবারও খেতে হয় নিজের টাকাই।

তবে দলগত হয়ে কাজ করলে ভালোভাবে দিনটা কেটে যায় বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারী উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় ৮৪ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমিতে এবারে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন।

আবাদের ভরা মৌসুমে সেচের জন্য ৩২৮টি গভীর নলকূপ, ২৬ হাজার অগভীর নলকূপ ব্যবহার করছেন কৃষকরা। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হওয়া জমিতে আবাদের জন্য বীজতলা করা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৭০হেক্টর জমিতে।

নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন হিরু জানান, ইউনিয়নের বেশির ভাগ জমিতে লাইন এবং লোগোবো পদ্ধতি চারা রোপণ করা হচ্ছে।

এ জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। দুই পদ্ধতির ফলে চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম থাকে। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতিও করছেন এলাকার কৃষকরা।

কৃষকরা জমি তৈরি, বীজ তোলা, সেচের ব্যবহারসহ চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বলে জানান রাকিব আবেদীন।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, জেলার সর্বত্রই চলছে কৃষকদের আবাদের ব্যস্ততা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেশ জোরেশোরে চলছে চারা রোপণের কাজ।

ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি জমিতে চারা লাগানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি জমিগুলোতে চারা লাগানোর কাজ শেষ হবে।

পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে এবং মার্চ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ইরির বোরোর চারা লাগানো চলবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া।

প্রকল্প এলাকার নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ১২টি উপজেলায় রেশনিং পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দফতরটি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিস্তা সেচ প্রকল্পে ২ হাজার কিউসেক পানি রয়েছে। যা দিয়ে কমান্ড এলাকায় নির্বিঘ্নে সেচ কার্যক্রম চালানো যাবে। তবে লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

ডালিয়া সূত্র জানায়, তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০১০সালে ৪৬ হাজার, ২০১১ সালে ৫০ হাজার, ২০১২ সালে ৫৯ হাজার, ২০১৩ সালে ২৭ হাজার, ২০১৪ সালে ৮৫০০, ২০১৫ সালে ১১ হাজার এবং ২০১৬ সালে ২০ হাজার ২০২ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো আবাদ করা হয়।

ডিভিশনের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, প্রকল্পের আওতায় ১০০ কিলোমিটার প্রধান খাল, ২৫০কিলোমিটার সেকেন্ডারি খাল এবং ২৮০ কিলোমিটার টারশিয়ারী খাল রয়েছে।

ভরা এই মৌসুমে তিস্তা সেচ ক্যানেলে টাইটুম্বুর পানি দেখে বেশ খুশি কৃষকরা। তাদের দাবি এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এবার আর কৃষকদের সেচ নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে না।

ইটাখোলা ইউনিয়নের কানিয়াল খাতা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমি ৭ বিঘা জমিতে বোরো করেছি। এখন সেচের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ক্যানেলে অনেক পানি। জমিতেও দিচ্ছি। 

আমরা চাই ক্যানেলটি এভাবেই থাক যাতে আবাদের সময় কৃষকরা দিগবিদক ছুটোছুটি না করেন। 

বিডিপ্রেস/আরজে