BDpress

সিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
সিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি
আগে উঁচু জমিতে শুধু পাট চাষ করে দীর্ঘ সময় ওই জমি ফেলে রাখতো কৃষক কুড়িগ্রামের কৃষকেরা। কিন্তু এখন একই জমিতে চাষ করা হচ্ছে সবজি জাতীয় নানা ফসল। এতে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন জমি পতিত রাখা সেইসব কৃষকেরা।

সবজি জাতীয় ফসল ফলিয়ে তা বাজারে খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি নিজেদের তরকারির চাহিদা মিটিয়ে এখন তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটা সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছেন।

সচ্ছল জীবনে ফিরে আসা এমনি এক কৃষকের নাম অনাথ বর্মণ (৬০)। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের বিদ্যাবাগীশ গ্রামে। তিনি সবজি জাতীয় ফসল চাষ করে এখন স্ত্রী, বউ-ছেলেদের নিয়ে সুখেই সচ্ছলতায় দিন কাটাচ্ছেন।

অনাথ বর্মণ জানান, তিনি প্রায় ২ বিঘা জমিতে বিগত বছরগুলোতে শুধু পাট চাষ করে জমি পতিত রাখতেন। গত কয়েক বছর ধরে তার ছোট ছেলে সঞ্জিত বর্মণ ওই পতিত জমিতে বেগুন, শসা, সিমসহ বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফসল চাষ করা শুরু করলে তারা সবজি জাতীয় ফসল থেকে লাভের মুখ দেখতে পান।

এর মধ্যে ১২ শতাংশ জমিতে হাতিকানিয়া জাতের সিম চাষ তাদের নগদ উপার্জনের পথ খুলে দিয়েছে। এই জমিতে মাত্র দুই হাজার টাকা খরচ করে গত দেড়/দুই মাসের মধ্যে সিম বিক্রি করে তারা ২০ হাজার টাকার মতো আয় করেছেন।

প্রথম দিকে তারা প্রতিমণ সিম প্রায় ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমান প্রতিমণ সিম বিক্রি ১১শ টাকায়। সামনে এই সিমের দাম আবারও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই সিম কিনে নেয়ায় বাজারে সিম বিক্রির যাতায়াতের বাড়তি ভাড়া তাদেও গুনতে হচ্ছে না।

অনাথ বর্মণের ছেলে সঞ্জিত বর্মণ (২৫) জানান, আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত তারা ওই সিম বিক্রি করে আরও অর্থ উপার্জন করবেন। বর্তমানে শীতের কারণে সিমের ফলন একটু কম হলেও চৈত্র মাসে এর ফলন আরও বাড়বে।

তিনি আরও জানান, সিম তুলে একই জমিতে হাইব্রিড জাতীয় শসা চাষ করবেন। এই শসা থেকেও তারা উপার্জনের আশা করছেন। সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় তার বাবা অনাথ বর্মণ, মা বেনু বালা বর্মণ সহযোগিতা করছেন।

কৃষাণী বেনু বালা বর্মণ (৪৫) জানান, সিম চাষসহ সবজি চাষ আমাদের সংসারে অনেকটা সুখ এনে দিয়েছে। সবজি চাষ করায় আমাদের তরকারির কেনার কষ্ট দুর হয়েছে। নিজের আবাদের সবজি তরকারি হিসেবে খাচ্ছি। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে সবজি পাঠাতে পারছি। এ জন্য আমি আমার স্বামী ও ছেলের সঙ্গে ক্ষেতের পরিচর্যায় থাকি।

এছাড়াও সিম চাষে লাভের মুখ দেখেছেন ফুলবাড়ী সদরের চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম (৫২), কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের আবেদুল হকসহ (৪০) আরও অনেকে।

কৃষক আবেদুল জানান, এখানে সিমের ফলন ভালো ও বাজারে সিমের চাহিদা থাকায় কৃষকরা সিম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। একবার সিম চাষ করলে কমপক্ষে ৪ মাসের মতো সিমের ফলন আসে।

এই দীর্ঘ সময় ধরে কৃষক সিম বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারায় এখানে সিম চাষে কৃষক লাভের মুখ দেখছে বলে জানায় কৃষক আবেদুল।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

সিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি


সিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি

সবজি জাতীয় ফসল ফলিয়ে তা বাজারে খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি নিজেদের তরকারির চাহিদা মিটিয়ে এখন তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটা সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছেন।

সচ্ছল জীবনে ফিরে আসা এমনি এক কৃষকের নাম অনাথ বর্মণ (৬০)। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের বিদ্যাবাগীশ গ্রামে। তিনি সবজি জাতীয় ফসল চাষ করে এখন স্ত্রী, বউ-ছেলেদের নিয়ে সুখেই সচ্ছলতায় দিন কাটাচ্ছেন।

অনাথ বর্মণ জানান, তিনি প্রায় ২ বিঘা জমিতে বিগত বছরগুলোতে শুধু পাট চাষ করে জমি পতিত রাখতেন। গত কয়েক বছর ধরে তার ছোট ছেলে সঞ্জিত বর্মণ ওই পতিত জমিতে বেগুন, শসা, সিমসহ বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফসল চাষ করা শুরু করলে তারা সবজি জাতীয় ফসল থেকে লাভের মুখ দেখতে পান।

এর মধ্যে ১২ শতাংশ জমিতে হাতিকানিয়া জাতের সিম চাষ তাদের নগদ উপার্জনের পথ খুলে দিয়েছে। এই জমিতে মাত্র দুই হাজার টাকা খরচ করে গত দেড়/দুই মাসের মধ্যে সিম বিক্রি করে তারা ২০ হাজার টাকার মতো আয় করেছেন।

প্রথম দিকে তারা প্রতিমণ সিম প্রায় ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমান প্রতিমণ সিম বিক্রি ১১শ টাকায়। সামনে এই সিমের দাম আবারও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই সিম কিনে নেয়ায় বাজারে সিম বিক্রির যাতায়াতের বাড়তি ভাড়া তাদেও গুনতে হচ্ছে না।

অনাথ বর্মণের ছেলে সঞ্জিত বর্মণ (২৫) জানান, আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত তারা ওই সিম বিক্রি করে আরও অর্থ উপার্জন করবেন। বর্তমানে শীতের কারণে সিমের ফলন একটু কম হলেও চৈত্র মাসে এর ফলন আরও বাড়বে।

তিনি আরও জানান, সিম তুলে একই জমিতে হাইব্রিড জাতীয় শসা চাষ করবেন। এই শসা থেকেও তারা উপার্জনের আশা করছেন। সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় তার বাবা অনাথ বর্মণ, মা বেনু বালা বর্মণ সহযোগিতা করছেন।

কৃষাণী বেনু বালা বর্মণ (৪৫) জানান, সিম চাষসহ সবজি চাষ আমাদের সংসারে অনেকটা সুখ এনে দিয়েছে। সবজি চাষ করায় আমাদের তরকারির কেনার কষ্ট দুর হয়েছে। নিজের আবাদের সবজি তরকারি হিসেবে খাচ্ছি। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে সবজি পাঠাতে পারছি। এ জন্য আমি আমার স্বামী ও ছেলের সঙ্গে ক্ষেতের পরিচর্যায় থাকি।

এছাড়াও সিম চাষে লাভের মুখ দেখেছেন ফুলবাড়ী সদরের চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম (৫২), কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের আবেদুল হকসহ (৪০) আরও অনেকে।

কৃষক আবেদুল জানান, এখানে সিমের ফলন ভালো ও বাজারে সিমের চাহিদা থাকায় কৃষকরা সিম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। একবার সিম চাষ করলে কমপক্ষে ৪ মাসের মতো সিমের ফলন আসে।

এই দীর্ঘ সময় ধরে কৃষক সিম বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারায় এখানে সিম চাষে কৃষক লাভের মুখ দেখছে বলে জানায় কৃষক আবেদুল।

বিডিপ্রেস/আরজে