BDpress

মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মিয়ানমার যাতে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় সে ব্যাপারে চাপ অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েট্রো প্যারোলিনের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে, এর সমাধানও বের করতে হবে মিয়ানমারকে। খবর- বাসসের।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং ভ্যাটিক্যান সিটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
শামীম আহসান জানান, মিয়ানমারের স্বদেশ ভূমি থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেটকে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর সমাধানও রয়েছে সেখানে। তাই চুক্তি বাস্তবায়নও করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনও মিয়ানমারের কাছ থেকে কোন সাড়া পাইনি।’
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয় মিয়ানমারকে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার পেশ করা ৫ দফা প্রস্তাবের কথা আবারও উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার এখনও কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করেনি।
ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর লড়াইয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের নামে মানুষ হত্যা কোনো কারণেই উচিত নয়। তিনি অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান হামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির বিষয় খুবই সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কঠোর হাতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করছি এবং দেশে জঙ্গিবাদের সকল আশ্রয়স্থল ভেঙ্গে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার বিশ্বের ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে হলি সি-তে (ভ্যাটিক্যান সিটি) বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘পোপের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিক্যান সিটি সফর করেন এবং ইতালির রাজধানী রোমের কাছে ভ্যাটিক্যান সিটিতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।’ প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিক্যান সিটিতে পৌঁছার পর সেখানে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিক্যান সিটিতে পোপের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী পোপের সঙ্গে তার সফরসঙ্গীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি পোপকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর একটি পেইন্টিং উপহার দেন। পোপও পরে শেখ হাসিনাকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন। পোপ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদেরও স্যুভেনির উপহার দেন।

বিডিপ্রেস/জিএম

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েট্রো প্যারোলিনের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে, এর সমাধানও বের করতে হবে মিয়ানমারকে। খবর- বাসসের।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং ভ্যাটিক্যান সিটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
শামীম আহসান জানান, মিয়ানমারের স্বদেশ ভূমি থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেটকে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর সমাধানও রয়েছে সেখানে। তাই চুক্তি বাস্তবায়নও করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনও মিয়ানমারের কাছ থেকে কোন সাড়া পাইনি।’
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয় মিয়ানমারকে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার পেশ করা ৫ দফা প্রস্তাবের কথা আবারও উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার এখনও কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করেনি।
ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর লড়াইয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের নামে মানুষ হত্যা কোনো কারণেই উচিত নয়। তিনি অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান হামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির বিষয় খুবই সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কঠোর হাতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করছি এবং দেশে জঙ্গিবাদের সকল আশ্রয়স্থল ভেঙ্গে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার বিশ্বের ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে হলি সি-তে (ভ্যাটিক্যান সিটি) বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘পোপের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিক্যান সিটি সফর করেন এবং ইতালির রাজধানী রোমের কাছে ভ্যাটিক্যান সিটিতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।’ প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিক্যান সিটিতে পৌঁছার পর সেখানে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাটিক্যান সিটিতে পোপের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী পোপের সঙ্গে তার সফরসঙ্গীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি পোপকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর একটি পেইন্টিং উপহার দেন। পোপও পরে শেখ হাসিনাকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন। পোপ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদেরও স্যুভেনির উপহার দেন।

বিডিপ্রেস/জিএম