BDpress

জাফর ইকবাল স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
জাফর ইকবাল স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা
ফজলুল বারী ।। সিডনির সময় শনিবার রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরে টিভির সামনে বসেছি। একটি সেটআপ বক্সের মাধ্যমে আমরা অনলাইনে দেশের টিভি চ্যানেলগুলো দেখি। হঠাৎ ব্রেকিং নিউজ হিসাবে টিভির স্ক্রলে ভেসে আসে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর আক্রমনের খবর! বিশ্বাস করুন একদম অবাক হইনি! এমন কিছু ঘটবে তা টুডে অর টুমরো তা যেনো আমি-আমরা নিশ্চিতভাবে জানতাম! কারন জাফর ইকবাল জঙ্গলে থেকে বাঘের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছিলেন!

বিদেশে থাকলে তার অনেক উন্নত নিরাপদ একটি জীবন-জগত থাকতো। দেশে ঢাকায় বা অন্য কোথাও থাকলে তিনি আরও ভালো থাকতেন। কিন্তু কী অদ্ভূত এক মায়ায় অধ্যাপক জাফর ইকবাল পড়ে আছেন সিলেটে! শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে! এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে তার ভাই হুমায়ুন আহমেদ অনশন করেছেন। কী এক সন্তানের মতো মায়ায় তিনিও পড়ে আছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে!

অথচ দূর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের বাংলাদেশ বিরোধী মৌলবাদী কপুমন্ডুক সম্প্রদায়ের অন্যতম ঘাঁটি এখন এই সিলেট! শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে সিলেট যেতে দেয়া হয়নি! যেখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষ চান না জাফর ইকবাল সিলেটে থাকুন। এমন কি তাকে সিলেট থেকে বের করে দেবার দাবিতে আওয়ামী লীগের ফেঞ্চুগঞ্জের এমপির নেতৃত্বে সিলেটে একবার অবিশ্বাস্য ঔদ্ধত্যপূর্ন মিছিলও হয়েছে! সেই সিলেটে জাফর ইকবালকে হত্যার উদ্দেশে আক্রমনের খবরটি আমার কাছে তাই স্বাভাবিক মনে হয়। নিজেকে লজ্জিত মনে হয়, কারন আমারও জন্মভূমি সিলেট।

কিন্তু জাফর ইকবাল স্যারের ওপর আক্রমনের পরপর যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা খুবই উদ্দিপনামূলক। আবার প্রমান হয়েছে সময়মতো দেশের মানুষ রুখে দাঁড়ায়। মানুষ রুখে দাঁড়ালে পরাজিত হয় কপুমন্ডুক অপশক্তি। হামলার পরপর হামলাকারীদের ধরে ফেলেছে অধ্যাপক জাফর ইকবালের প্রানের ছাত্ররা। দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বাংলাদেশের এই হাসপাতালটি  মৌলবাদী হামলায় আক্রান্ত আরেকজন মানুষকে তাদের সেরা চিকিৎসাটি দিয়েছে। এর চিকিৎসকদের স্যালুট।

এরমাঝে একজন দৃঢ়চেতা ভালো মানুষ জাফর ইকবাল যা করেছেন তাও অনুসরনযোগ্য। প্রিয় ছাত্রদের তিনি বলেছেন হামলাকারীকে তারা যেনো মারধর না করে। জানার চেষ্টা করতে হামলাকারী তার ছাত্র কীনা। এ যেন সেই শিক্ষক তার মনে হয়েছে ছাত্রটিকে তিনি হয়তো সঠিকভাবে শিক্ষা দিতে পারেননি! এরজন্যে সে এমন ভুল কাজ করে ফেলেছে! সহযোগী ছাত্রদের তিনি দরকারি আরেকটি তথ্য জানিয়ে রাখেন, তাহলো তাঁর রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ। এসব বিষয় শিক্ষনীয়। যে কোন সময় যে কোন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তা সামাল দিতে হবে ঠান্ডা মাথায়। বিজ্ঞানমনস্ক ভালো মানুষেরা এমনই হয়। জাফর ইকবাল বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক ভালো মানুষেদের মধ্যে জনপ্রিয়তম।

এবং ঘটনার পর বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র তার একজন আক্রান্ত লেখক-শিক্ষকের পাশে দাঁড়াতে দেরি করেনি। এমন দেশইতো আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু ঘটনার নিন্দা করেননি। অতিদ্রুত হেলিকপ্টার পাঠিয়ে আক্রান্ত অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ঢাকার সিএমএইচে উন্নত চিকিৎসার জন্যে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। দেশে মুক্তমনা ব্লগার লেখকদের ওপর মৌলবাদীদের হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়'এর একটি বক্তব্যের প্রতিবাদ করে লিখেছিলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের ফেঞ্চুগঞ্জের এমপি যিনি একজন রাজাকার পুত্রও তার নেতৃ্ত্বে জাফর ইকবালকে সিলেট থেকে বের করে দেবার দাবিতে অবিশ্বাস্য ঔদ্ধত্যপূর্ন মিছিলটিও হয়।

যেন এভাবে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের নজরে পড়তে চেয়েছিলেন ওই রাজাকার পুত্র এমপি! কিন্তু তখনও প্রধানমন্ত্রীর অনাগ্রহে বিষয়টি বেশি বাড়তে পারেনি। এখনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্বেগ-আগ্রহেই আক্রান্ত অধ্যাপক জাফর ইকবালকে অতিদ্রুত হেলিকপ্টার পাঠিয়ে ঢাকায় সিএমএইচে নিয়ে আসা হয়। জরুরি এই মানবিক দায়িত্বটি পালন করায় দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তাকে কৃতজ্ঞতা। এই সুযোগে আরেকটি ঘটনা মনে করিয়ে দেই। এস এম কিবরিয়া আক্রান্ত হবার পর তৎকালীন রাষ্ট্র দায়িত্বটি পালন করেনি। তখন জরুরিভাবে হেলিকপ্টার চেয়ে পাওয়া যায়নি। সিটিং দিয়ে মিটিং হয়নি, হেলিকপ্টারও যায়নি সিলেটের অকুস্থলে। বাংলাদেশের একজন বরেন্য নাগরিক সাবেক অর্থমন্ত্রী এভাবে পথেই মারা যান। রাষ্ট্র আজকের মতো পাশে দাঁড়ালে তখন হয়তো কিবরিয়া সাহেবকেও বাঁচানো যেতো। খালেদা জিয়া তখন বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন। এর দায় তার।

জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনার পর উদ্বিগ্ন দেশবাসীকে আপডেট তথ্য জানাতে গিয়ে কিছু কিছু টিভি মিডিয়ার দৈন্য প্রকটভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এটি চ্যানেলগুলোর স্থানীয় সাংবাদিকদের অদক্ষতা অথবা ঢাকায় যারা বিষয়টির দেখভাল করছিলেন তাদের অদক্ষতা-পরিমিতিবোধের কারনে হতে পারে। এরজন্যে বিদেশে কোন ঘটনার ব্রেকিং নিউজের সময় মনগড়া তথ্য না দিয়ে পুলিশের ব্রিফিং'এর অপেক্ষা করা হয়। আক্রমনের ধরনটি বাংলাদেশের অশিক্ষিত অথবা অর্ধশিক্ষিত মৌলবাদীদের। কিন্তু কিছু টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি তার বা তাদের ধারনার র্যাগিং-বহিষ্কৃতদের জড়িয়ে দিচ্ছিলেন! অতঃপর শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়ালো? এরজন্যে বলা হয় জার্নালিজমে অহেতুক তাড়াহুড়ায় যেতে নেই। ব্রেকিং নিউজ যাবে। কিন্তু সেখানে ঘটনার কারন সম্পর্কে নিজ দায়িত্বে যা খুশি বলার লোভ সংবরন করতে না পারলে রিপোর্টার হিসাবে নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সমস্যা হয়।

এবার ধৃত হামলাকারী ফয়জুর রহমান ফয়জুল সম্পর্কে কিছু বলি। এখন পর্যন্ত যতোটা জানা গেছে সে মাদ্রাসা থেকে ঝরে পড়া ছাত্র। গ্রামের হাটে মাঝে মাঝে লুঙ্গি গামছা এসব নিয়ে বিক্রি করতো। তার ধারনা হয়েছে জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু!  তাই তাকে মেরে ফেলতে হবে! ইসলামের শত্রু মেরে ফেলতে হয়! মেরে ফেললে কী হয়? বেহেস্তে যাওয়া যায়! বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সিংহভাগ ইসলাম প্রেমিক কিন্তু এখন ফয়জুলের জ্ঞানসম্পন্ন! এরা জাফর ইকবাল পড়েনি। কেউ হয়তো বলেছে জাফর ইকবাল ইসলামের বিরুদ্ধে লেখেন! সেখান থেকে জ্ঞান হয়েছে তাকে মেরে ফেলতে হবে!

কিন্তু জাফর ইকবালের কোন লেখাটি ইসলামের বিপক্ষে এটা জিজ্ঞেস করে দেখুন। একটাও জবাব দিতে পারবেনা। ফয়জুল ছেলেটার চেহারা দেখে মায়াও হয়েছে। উন্নত দেশ দেখেনি। তার জীবনও ছোঁয়া পায়নি পড়াশুনা জানা উন্নত একটি জীবনের। তাই মনে হয়েছে লুঙ্গি-গামছা বিক্রি করে জীবন চালানোর চাইতে জাফর ইকবালের মতো কাউকে মেরে বেহেস্তে চলে যাওয়া ভালো! বাংলাদেশের এসব বিভ্রান্ত ফয়জুলদের পথে ফেরাতে হবে।

বাংলাদেশের এই মূহুর্তে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবাল। তার লেখা কলাম একসঙ্গে অনেকগুলো পত্রিকা-নিউজ পোর্টালে ছাপা-প্রকাশ হয়। বাংলাদেশের তরুনদের মধ্যে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিটির নাম জাফর ইকবাল। পরম শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় তাকে সবাই 'স্যার' ডাকেন। তিনি শুধু তরুনদের টার্গেট করে লিখেননা, চমৎকাভাবে গুছিয়ে বলেনও। এই তরুনরাই তাদের প্রিয় স্যার জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় অকুস্থলে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

হামলাকারীকে ধরেছে। প্রিয় স্যারের জন্যে ছুটে গেছে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। যদি স্যারকে রক্ত দেয়া লাগে এর জন্যে অপেক্ষা করেছে হাসপাতালে। ঘটনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্নস্থানে নেমে এসেছে রাস্তায়। এই ঘটনার পর আবার বোঝা গেছে গণজাগরণ মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা। আওয়ামী লীগের কিছু ফালতু চিন্তার লোকজনের কাছে গণজাগরণ মঞ্চের মতো প্ল্যাটফর্ম অপ্রয়োজনীয় মনে হয়! কারন জামায়াত-শিবিরের লোকজন-ব্যবসায়ীরা তাদের টাকা-পয়সা দিতে পারে। গণজাগরণ মঞ্চ, বামপন্থীরা কিছুই দিতে পারেনা।

আবার বাংলাদেশের অনেক তরুন অধ্যাপক জাফর ইকবালকে পছন্দ করেননা। তাদের কু্ষঠির খোঁজ নিয়ে দেখুন। এদের প্রায় সবার পরিবারগুলো প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। দেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেকে হয়তো পরে জয়বাংলা বলে রাস্তায় নেমে গিয়েছিলেন। আবার সময়মতো জিন্দাবাদে ফেরত গেছেন। এই প্রজন্মকে কাঁচা বাংলায় রাজাকারের আন্ডাবাচ্চা বলা যায়। জাফর ইকবাল যেহেতু শহীদের সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিখেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষের মানুষ, গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর এই ভূমিকাগুলো আওয়ামী লীগের পক্ষে যায় অথবা আওয়ামী লীগ এসব এনজয় করতে পারে, তাই যুক্তিতে না রাজাকারদের আন্ডাবাচ্চা প্রজন্মটি জাফর ইকবালকে প্রচার করে ইসলামের শত্রু নামের সহজ পদাবলীতে! তারা তাঁর মৃত্যু কামনা করে। ফয়জুল এই প্রজন্মের অন্তর্ভূক্ত।

কিন্তু আমার ধারনা ফয়জুল একা হামলাটি করেনি। চিকিৎসকরা বলেছেন জাফর ইকবালের মাথায়, হাতে ছুরির পাশাপাশি রডের আঘাতও ছিলো। ফয়জুল হয়তো ছুরি চালিয়েছে। রডের আঘাতটি ভিন্ন ব্যক্তি দ্বারা হতে পারে। জাফর ইকবাল স্যারের পিছনে দাঁড়ানোদের ছবিতে ফয়জুলের পাশাপাশি অন্তত আরো একজনকে আমার সন্দেহ হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরাই তা সঠিক করে বলতে পারবেন।

ফয়জুলের কৃষকলীগ করনেওয়ালা আটক মামাকে নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। বাংলাদেশের সুবিধাবাদী পরিবারগুলোর নানান সদস্য নানান দল করেন। গত কয়েকবছরে নানা প্রজাতির নতুন নতুন আওয়ামী লীগার পয়দা হয়েছে। চট্টগ্রামে মেয়র ছাত্রলীগ বলে যে ছাত্রলীগ গড়ে উঠেছে এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাবেক অথবা বর্তমান মুখোশধারী শিবির কর্মী। সারাদেশেই এমন ঘটেছে-ঘটছে। এদের মধ্যে ফয়জুলটা একটু কাঁচা কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছে আর কী! চালাকগুলো এভাবে ধরা পড়েনা। জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশকারী চালাকগুলোর অনেকগুলোকে ফেসবুকে পাওয়া যাবে।

এখন ফয়জুলের ভবিষ্যত কী? আমারতো ধারনা জাফর ইকবাল স্যার সুস্থ হয়ে ফয়জুলের বাড়ি যাবেন। পরিবারটির সঙ্গে দেখা করবেন। আর যাতে কেউ ফয়জুলের মতো না হয় তাদের বোঝাবেন। এমনকি ঘোষনা দিয়ে ফয়জুলকে ক্ষমা করেও দিতে পারেন স্যার। ইনি যে কত বড়মাপের মানুষ তা যারা তার লেখার গভীরে যেতে পেরেছেন, ব্যক্তিগতভাবে মিশেছেন তারাই বলতে পারবেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনদিন জাফর ইকবাল স্যারের সঙ্গে আড্ডার সুযোগ হয়নি। কিন্তু দেশে থাকতে রিপোর্টের নানা প্রয়োজনে আমি তাঁকে ফোন করতাম। ফোনে অনেক কথা হতো। তাঁর অবিস্মরনীয় সৃষ্টি 'আমার বন্ধু রাশেদ' আমার প্রিয় একটি বই। একদিন স্যারকে বললাম, এ বইটা আমার খুব প্রিয় স্যার। ছোটবেলার বন্ধু রাশেদের গল্প বলতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্পটাই বলে ফেলেছেন। স্যার তখন বলেছিলেন, এই বইটা তাঁরও প্রিয়।

সেই জাফর ইকবাল, বাংলাদেশের একজন শহীদের সন্তান, বিদেশে উন্নত-নিরাপদ জীবনের মোহ পদদলে মাড়িয়ে দেশকে কিছু দিতে ফিরে এসেছিলেন দেশে। প্রিয় দেশটার যখন যা দরকার, বিশেষ করে তরুনদের প্রয়োজন তিনি অকপটে সবার আগে লিখেন, উচ্চঃস্বরে দাবি করে বলেন। তাঁর লেখাকে-দাবিকে গুরুত্ব দেয় রাষ্ট্র। ফয়জুলের মতো অল্প শিক্ষিত-অর্ধ শিক্ষিতরা সেই জাফর ইকবালের নাম দিয়েছে ইসলামের শত্রু!

অনেকে তাকে মারতে চায়, ফয়জুল প্রতিযোগিতায় কাঁচা কাজটি করে ফেলতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আর প্রানে বেঁচে যাওয়ায় জাফর ইকবাল স্যার দেখতে-বুঝতে পারলেন তিনি শুধু বাংলাদেশকে ভালোবাসেন না। বাংলাদেশও তাকে প্রানভরে ভালোবাসে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার অবদানকে গুরুত্ব দেয়। তাঁর জন্যে উদ্বিগ্ন হয়।  সে প্রমান তাৎক্ষনিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনার আরো অনেক সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বর্তমানে-ভবিষ্যতে। মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তি জোগাবে।  কিন্তু তাঁরতো রক্ত ঝরেছে সিলেটে। এটাতো সত্য। সিলেটের একজন মানুষ হিসাবে খুবই লজ্জিত স্যার। ক্ষমা চাইছি।

ফজলুল বারী : পরিব্রাজক সাংবাদিক, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। 

fazlulbari2014@gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

জাফর ইকবাল স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা


জাফর ইকবাল স্যারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

বিদেশে থাকলে তার অনেক উন্নত নিরাপদ একটি জীবন-জগত থাকতো। দেশে ঢাকায় বা অন্য কোথাও থাকলে তিনি আরও ভালো থাকতেন। কিন্তু কী অদ্ভূত এক মায়ায় অধ্যাপক জাফর ইকবাল পড়ে আছেন সিলেটে! শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে! এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে তার ভাই হুমায়ুন আহমেদ অনশন করেছেন। কী এক সন্তানের মতো মায়ায় তিনিও পড়ে আছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে!

অথচ দূর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের বাংলাদেশ বিরোধী মৌলবাদী কপুমন্ডুক সম্প্রদায়ের অন্যতম ঘাঁটি এখন এই সিলেট! শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে সিলেট যেতে দেয়া হয়নি! যেখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষ চান না জাফর ইকবাল সিলেটে থাকুন। এমন কি তাকে সিলেট থেকে বের করে দেবার দাবিতে আওয়ামী লীগের ফেঞ্চুগঞ্জের এমপির নেতৃত্বে সিলেটে একবার অবিশ্বাস্য ঔদ্ধত্যপূর্ন মিছিলও হয়েছে! সেই সিলেটে জাফর ইকবালকে হত্যার উদ্দেশে আক্রমনের খবরটি আমার কাছে তাই স্বাভাবিক মনে হয়। নিজেকে লজ্জিত মনে হয়, কারন আমারও জন্মভূমি সিলেট।

কিন্তু জাফর ইকবাল স্যারের ওপর আক্রমনের পরপর যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা খুবই উদ্দিপনামূলক। আবার প্রমান হয়েছে সময়মতো দেশের মানুষ রুখে দাঁড়ায়। মানুষ রুখে দাঁড়ালে পরাজিত হয় কপুমন্ডুক অপশক্তি। হামলার পরপর হামলাকারীদের ধরে ফেলেছে অধ্যাপক জাফর ইকবালের প্রানের ছাত্ররা। দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বাংলাদেশের এই হাসপাতালটি  মৌলবাদী হামলায় আক্রান্ত আরেকজন মানুষকে তাদের সেরা চিকিৎসাটি দিয়েছে। এর চিকিৎসকদের স্যালুট।

এরমাঝে একজন দৃঢ়চেতা ভালো মানুষ জাফর ইকবাল যা করেছেন তাও অনুসরনযোগ্য। প্রিয় ছাত্রদের তিনি বলেছেন হামলাকারীকে তারা যেনো মারধর না করে। জানার চেষ্টা করতে হামলাকারী তার ছাত্র কীনা। এ যেন সেই শিক্ষক তার মনে হয়েছে ছাত্রটিকে তিনি হয়তো সঠিকভাবে শিক্ষা দিতে পারেননি! এরজন্যে সে এমন ভুল কাজ করে ফেলেছে! সহযোগী ছাত্রদের তিনি দরকারি আরেকটি তথ্য জানিয়ে রাখেন, তাহলো তাঁর রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ। এসব বিষয় শিক্ষনীয়। যে কোন সময় যে কোন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তা সামাল দিতে হবে ঠান্ডা মাথায়। বিজ্ঞানমনস্ক ভালো মানুষেরা এমনই হয়। জাফর ইকবাল বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক ভালো মানুষেদের মধ্যে জনপ্রিয়তম।

এবং ঘটনার পর বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র তার একজন আক্রান্ত লেখক-শিক্ষকের পাশে দাঁড়াতে দেরি করেনি। এমন দেশইতো আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু ঘটনার নিন্দা করেননি। অতিদ্রুত হেলিকপ্টার পাঠিয়ে আক্রান্ত অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ঢাকার সিএমএইচে উন্নত চিকিৎসার জন্যে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। দেশে মুক্তমনা ব্লগার লেখকদের ওপর মৌলবাদীদের হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়'এর একটি বক্তব্যের প্রতিবাদ করে লিখেছিলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের ফেঞ্চুগঞ্জের এমপি যিনি একজন রাজাকার পুত্রও তার নেতৃ্ত্বে জাফর ইকবালকে সিলেট থেকে বের করে দেবার দাবিতে অবিশ্বাস্য ঔদ্ধত্যপূর্ন মিছিলটিও হয়।

যেন এভাবে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের নজরে পড়তে চেয়েছিলেন ওই রাজাকার পুত্র এমপি! কিন্তু তখনও প্রধানমন্ত্রীর অনাগ্রহে বিষয়টি বেশি বাড়তে পারেনি। এখনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্বেগ-আগ্রহেই আক্রান্ত অধ্যাপক জাফর ইকবালকে অতিদ্রুত হেলিকপ্টার পাঠিয়ে ঢাকায় সিএমএইচে নিয়ে আসা হয়। জরুরি এই মানবিক দায়িত্বটি পালন করায় দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তাকে কৃতজ্ঞতা। এই সুযোগে আরেকটি ঘটনা মনে করিয়ে দেই। এস এম কিবরিয়া আক্রান্ত হবার পর তৎকালীন রাষ্ট্র দায়িত্বটি পালন করেনি। তখন জরুরিভাবে হেলিকপ্টার চেয়ে পাওয়া যায়নি। সিটিং দিয়ে মিটিং হয়নি, হেলিকপ্টারও যায়নি সিলেটের অকুস্থলে। বাংলাদেশের একজন বরেন্য নাগরিক সাবেক অর্থমন্ত্রী এভাবে পথেই মারা যান। রাষ্ট্র আজকের মতো পাশে দাঁড়ালে তখন হয়তো কিবরিয়া সাহেবকেও বাঁচানো যেতো। খালেদা জিয়া তখন বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন। এর দায় তার।

জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনার পর উদ্বিগ্ন দেশবাসীকে আপডেট তথ্য জানাতে গিয়ে কিছু কিছু টিভি মিডিয়ার দৈন্য প্রকটভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এটি চ্যানেলগুলোর স্থানীয় সাংবাদিকদের অদক্ষতা অথবা ঢাকায় যারা বিষয়টির দেখভাল করছিলেন তাদের অদক্ষতা-পরিমিতিবোধের কারনে হতে পারে। এরজন্যে বিদেশে কোন ঘটনার ব্রেকিং নিউজের সময় মনগড়া তথ্য না দিয়ে পুলিশের ব্রিফিং'এর অপেক্ষা করা হয়। আক্রমনের ধরনটি বাংলাদেশের অশিক্ষিত অথবা অর্ধশিক্ষিত মৌলবাদীদের। কিন্তু কিছু টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি তার বা তাদের ধারনার র্যাগিং-বহিষ্কৃতদের জড়িয়ে দিচ্ছিলেন! অতঃপর শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়ালো? এরজন্যে বলা হয় জার্নালিজমে অহেতুক তাড়াহুড়ায় যেতে নেই। ব্রেকিং নিউজ যাবে। কিন্তু সেখানে ঘটনার কারন সম্পর্কে নিজ দায়িত্বে যা খুশি বলার লোভ সংবরন করতে না পারলে রিপোর্টার হিসাবে নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সমস্যা হয়।

এবার ধৃত হামলাকারী ফয়জুর রহমান ফয়জুল সম্পর্কে কিছু বলি। এখন পর্যন্ত যতোটা জানা গেছে সে মাদ্রাসা থেকে ঝরে পড়া ছাত্র। গ্রামের হাটে মাঝে মাঝে লুঙ্গি গামছা এসব নিয়ে বিক্রি করতো। তার ধারনা হয়েছে জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু!  তাই তাকে মেরে ফেলতে হবে! ইসলামের শত্রু মেরে ফেলতে হয়! মেরে ফেললে কী হয়? বেহেস্তে যাওয়া যায়! বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সিংহভাগ ইসলাম প্রেমিক কিন্তু এখন ফয়জুলের জ্ঞানসম্পন্ন! এরা জাফর ইকবাল পড়েনি। কেউ হয়তো বলেছে জাফর ইকবাল ইসলামের বিরুদ্ধে লেখেন! সেখান থেকে জ্ঞান হয়েছে তাকে মেরে ফেলতে হবে!

কিন্তু জাফর ইকবালের কোন লেখাটি ইসলামের বিপক্ষে এটা জিজ্ঞেস করে দেখুন। একটাও জবাব দিতে পারবেনা। ফয়জুল ছেলেটার চেহারা দেখে মায়াও হয়েছে। উন্নত দেশ দেখেনি। তার জীবনও ছোঁয়া পায়নি পড়াশুনা জানা উন্নত একটি জীবনের। তাই মনে হয়েছে লুঙ্গি-গামছা বিক্রি করে জীবন চালানোর চাইতে জাফর ইকবালের মতো কাউকে মেরে বেহেস্তে চলে যাওয়া ভালো! বাংলাদেশের এসব বিভ্রান্ত ফয়জুলদের পথে ফেরাতে হবে।

বাংলাদেশের এই মূহুর্তে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবাল। তার লেখা কলাম একসঙ্গে অনেকগুলো পত্রিকা-নিউজ পোর্টালে ছাপা-প্রকাশ হয়। বাংলাদেশের তরুনদের মধ্যে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিটির নাম জাফর ইকবাল। পরম শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় তাকে সবাই 'স্যার' ডাকেন। তিনি শুধু তরুনদের টার্গেট করে লিখেননা, চমৎকাভাবে গুছিয়ে বলেনও। এই তরুনরাই তাদের প্রিয় স্যার জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় অকুস্থলে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

হামলাকারীকে ধরেছে। প্রিয় স্যারের জন্যে ছুটে গেছে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। যদি স্যারকে রক্ত দেয়া লাগে এর জন্যে অপেক্ষা করেছে হাসপাতালে। ঘটনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্নস্থানে নেমে এসেছে রাস্তায়। এই ঘটনার পর আবার বোঝা গেছে গণজাগরণ মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা। আওয়ামী লীগের কিছু ফালতু চিন্তার লোকজনের কাছে গণজাগরণ মঞ্চের মতো প্ল্যাটফর্ম অপ্রয়োজনীয় মনে হয়! কারন জামায়াত-শিবিরের লোকজন-ব্যবসায়ীরা তাদের টাকা-পয়সা দিতে পারে। গণজাগরণ মঞ্চ, বামপন্থীরা কিছুই দিতে পারেনা।

আবার বাংলাদেশের অনেক তরুন অধ্যাপক জাফর ইকবালকে পছন্দ করেননা। তাদের কু্ষঠির খোঁজ নিয়ে দেখুন। এদের প্রায় সবার পরিবারগুলো প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। দেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেকে হয়তো পরে জয়বাংলা বলে রাস্তায় নেমে গিয়েছিলেন। আবার সময়মতো জিন্দাবাদে ফেরত গেছেন। এই প্রজন্মকে কাঁচা বাংলায় রাজাকারের আন্ডাবাচ্চা বলা যায়। জাফর ইকবাল যেহেতু শহীদের সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিখেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষের মানুষ, গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর এই ভূমিকাগুলো আওয়ামী লীগের পক্ষে যায় অথবা আওয়ামী লীগ এসব এনজয় করতে পারে, তাই যুক্তিতে না রাজাকারদের আন্ডাবাচ্চা প্রজন্মটি জাফর ইকবালকে প্রচার করে ইসলামের শত্রু নামের সহজ পদাবলীতে! তারা তাঁর মৃত্যু কামনা করে। ফয়জুল এই প্রজন্মের অন্তর্ভূক্ত।

কিন্তু আমার ধারনা ফয়জুল একা হামলাটি করেনি। চিকিৎসকরা বলেছেন জাফর ইকবালের মাথায়, হাতে ছুরির পাশাপাশি রডের আঘাতও ছিলো। ফয়জুল হয়তো ছুরি চালিয়েছে। রডের আঘাতটি ভিন্ন ব্যক্তি দ্বারা হতে পারে। জাফর ইকবাল স্যারের পিছনে দাঁড়ানোদের ছবিতে ফয়জুলের পাশাপাশি অন্তত আরো একজনকে আমার সন্দেহ হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরাই তা সঠিক করে বলতে পারবেন।

ফয়জুলের কৃষকলীগ করনেওয়ালা আটক মামাকে নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। বাংলাদেশের সুবিধাবাদী পরিবারগুলোর নানান সদস্য নানান দল করেন। গত কয়েকবছরে নানা প্রজাতির নতুন নতুন আওয়ামী লীগার পয়দা হয়েছে। চট্টগ্রামে মেয়র ছাত্রলীগ বলে যে ছাত্রলীগ গড়ে উঠেছে এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাবেক অথবা বর্তমান মুখোশধারী শিবির কর্মী। সারাদেশেই এমন ঘটেছে-ঘটছে। এদের মধ্যে ফয়জুলটা একটু কাঁচা কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছে আর কী! চালাকগুলো এভাবে ধরা পড়েনা। জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশকারী চালাকগুলোর অনেকগুলোকে ফেসবুকে পাওয়া যাবে।

এখন ফয়জুলের ভবিষ্যত কী? আমারতো ধারনা জাফর ইকবাল স্যার সুস্থ হয়ে ফয়জুলের বাড়ি যাবেন। পরিবারটির সঙ্গে দেখা করবেন। আর যাতে কেউ ফয়জুলের মতো না হয় তাদের বোঝাবেন। এমনকি ঘোষনা দিয়ে ফয়জুলকে ক্ষমা করেও দিতে পারেন স্যার। ইনি যে কত বড়মাপের মানুষ তা যারা তার লেখার গভীরে যেতে পেরেছেন, ব্যক্তিগতভাবে মিশেছেন তারাই বলতে পারবেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনদিন জাফর ইকবাল স্যারের সঙ্গে আড্ডার সুযোগ হয়নি। কিন্তু দেশে থাকতে রিপোর্টের নানা প্রয়োজনে আমি তাঁকে ফোন করতাম। ফোনে অনেক কথা হতো। তাঁর অবিস্মরনীয় সৃষ্টি 'আমার বন্ধু রাশেদ' আমার প্রিয় একটি বই। একদিন স্যারকে বললাম, এ বইটা আমার খুব প্রিয় স্যার। ছোটবেলার বন্ধু রাশেদের গল্প বলতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্পটাই বলে ফেলেছেন। স্যার তখন বলেছিলেন, এই বইটা তাঁরও প্রিয়।

সেই জাফর ইকবাল, বাংলাদেশের একজন শহীদের সন্তান, বিদেশে উন্নত-নিরাপদ জীবনের মোহ পদদলে মাড়িয়ে দেশকে কিছু দিতে ফিরে এসেছিলেন দেশে। প্রিয় দেশটার যখন যা দরকার, বিশেষ করে তরুনদের প্রয়োজন তিনি অকপটে সবার আগে লিখেন, উচ্চঃস্বরে দাবি করে বলেন। তাঁর লেখাকে-দাবিকে গুরুত্ব দেয় রাষ্ট্র। ফয়জুলের মতো অল্প শিক্ষিত-অর্ধ শিক্ষিতরা সেই জাফর ইকবালের নাম দিয়েছে ইসলামের শত্রু!

অনেকে তাকে মারতে চায়, ফয়জুল প্রতিযোগিতায় কাঁচা কাজটি করে ফেলতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আর প্রানে বেঁচে যাওয়ায় জাফর ইকবাল স্যার দেখতে-বুঝতে পারলেন তিনি শুধু বাংলাদেশকে ভালোবাসেন না। বাংলাদেশও তাকে প্রানভরে ভালোবাসে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার অবদানকে গুরুত্ব দেয়। তাঁর জন্যে উদ্বিগ্ন হয়।  সে প্রমান তাৎক্ষনিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনার আরো অনেক সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বর্তমানে-ভবিষ্যতে। মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তি জোগাবে।  কিন্তু তাঁরতো রক্ত ঝরেছে সিলেটে। এটাতো সত্য। সিলেটের একজন মানুষ হিসাবে খুবই লজ্জিত স্যার। ক্ষমা চাইছি।

ফজলুল বারী : পরিব্রাজক সাংবাদিক, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। 

fazlulbari2014@gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে