BDpress

যশোরের বিষমুক্ত পটল যাচ্ছে ইউরোপে

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
যশোরের বিষমুক্ত পটল যাচ্ছে ইউরোপে
বাঁধাকপির পর এবার যশোরে উৎপাদিত শতভাগ বিষমুক্ত পটল রফতানি করা হচ্ছে বিদেশে। চলতি বছরে জেলার সদর উপজেলা ও মনিরামপুরের পলাশি সাহাপুরসহ আশপাশ এলাকা থেকে ২৮০ মেট্রিকটন পটল ইউরোপের ইটালি ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে রফতানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে সবজি রফতানি হওয়ায় খুশি এলাকার চাষিরা।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, যশোর জেলায় বছরে দুই মৌসুমে মোট ছয় লাখ টন সবজি উৎপাদিত হয়। এ বছর জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। জেলার সবজি ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত চুড়ামনকাটি, বারীনগর, হৈবতপুর, কাশিমপুরের পাশাপাশি মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়াসহ অন্যান্য উপজেলাতেও মাঠজুড়ে আবাদ হয় সবজি। সবজির ভরা মৌসুমে সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হয়।

এসব দিক বিবেচনা করে কৃষককে সবজি চাষে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক ও জাগরণী চক্র ‘সফল’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে সবজি রফতানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে জানুয়ারিতে ৪শ’ মেট্রিকটন বাঁধাকপি বিদেশে রফতানি করা হয়। বাঁধাকপির পর এবার প্রথম শতভাগ বিষমুক্ত পটল রফতানি করা হচ্ছে।

সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক ঢাকার সিনিয়র ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, ২০১৬ সালে ৮শ কেজি পটল বিদেশে রফতানি করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ইন্টারসেফশন হওয়ার কারণে এই পটল ইউরোপের বাজারে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে এই বাজারটা পাশের রাষ্ট্র ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ও জাগরণী চক্র যৌথ উদ্যোগে এ বছর ৩১৬ জন কৃষকের মাধ্যমে ১১৭ একর জমিতে পটল চাষের উদ্যোগ নেয়। এখানকার পটল ইতালি ও ফ্রান্সে পাঠানো হবে। পরে অন্যান্য সবজিও রফতানি করা হবে অন্যান্য দেশে।

ফ্রুটস্ এন্ড ভেজিটেবল সেক্টর সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার কমোডিটি ম্যানেজার ড. নাজমুন্নাহার বলেন, চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের নিরাপদ সবজি উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। শুরুতে আমরা বাঁধাকপি রফতানি করেছি। এখন আমরা পটল রফতানি করছি। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সবজি রফতানি করব। বিশেষ করে যে সবজি ইউরোপের বাজারে বন্ধ ছিল সেগুলো আমরা রফতানি করতে সফল হব।

এ বছর এই অঞ্চল থেকে ২৮০ মেট্রিকটন পটল ইউরোপের ইটালি, ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে রফতানি করা হবে। এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, শুধু বিদেশে নয়। আমাদের দেশের মানুষ যেন নিরাপদ সবজি খেতে পারে তার জন্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

যশোর জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (সফল প্রকল্প) প্রজেক্ট ডাইরেক্টর তহিদুল ইসলাম বলেন, সফল প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হবে।

রফতানিকারক নাজমুল হোসেন বলেন, বেসরকারি সংস্থা ইসলাম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে মনিরামপুরের ৫টি ক্লাস্টারের ৭২ জন কৃষকের জমিতে ফ্রেমন ট্রাপ, হলুদ ফাঁদসহ বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত পটল উৎপাদন করা হয়েছে। বিষমুক্ত এই পটল পাঠানো হচ্ছে বিদেশে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার চক্রবর্তী ও যশোর মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, রফতানিনির্ভর মানসম্মত সবজি উৎপাদনে কৃষককে বালাইনাশক পদ্ধতি অনুসরণসহ আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আর ক্ষেতের উৎপাদিত পটল বিদেশে রফতানি হওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরা।

তারা বলছেন, এর মাধ্যমে যেমন আমরা ফসলের নায্য দাম পাবো, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে দেশ।

দেশের মোট চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজির যোগান দেয় যশোর। গেল মৌসুমে যশোরে উৎপাদিত সবজি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রফতানি হয় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। এবার ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে প্রথম ডিজিটাল জেলার সবজি।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

যশোরের বিষমুক্ত পটল যাচ্ছে ইউরোপে


যশোরের বিষমুক্ত পটল যাচ্ছে ইউরোপে

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, যশোর জেলায় বছরে দুই মৌসুমে মোট ছয় লাখ টন সবজি উৎপাদিত হয়। এ বছর জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। জেলার সবজি ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত চুড়ামনকাটি, বারীনগর, হৈবতপুর, কাশিমপুরের পাশাপাশি মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়াসহ অন্যান্য উপজেলাতেও মাঠজুড়ে আবাদ হয় সবজি। সবজির ভরা মৌসুমে সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হয়।

এসব দিক বিবেচনা করে কৃষককে সবজি চাষে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক ও জাগরণী চক্র ‘সফল’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে সবজি রফতানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে জানুয়ারিতে ৪শ’ মেট্রিকটন বাঁধাকপি বিদেশে রফতানি করা হয়। বাঁধাকপির পর এবার প্রথম শতভাগ বিষমুক্ত পটল রফতানি করা হচ্ছে।

সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক ঢাকার সিনিয়র ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, ২০১৬ সালে ৮শ কেজি পটল বিদেশে রফতানি করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ইন্টারসেফশন হওয়ার কারণে এই পটল ইউরোপের বাজারে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে এই বাজারটা পাশের রাষ্ট্র ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ও জাগরণী চক্র যৌথ উদ্যোগে এ বছর ৩১৬ জন কৃষকের মাধ্যমে ১১৭ একর জমিতে পটল চাষের উদ্যোগ নেয়। এখানকার পটল ইতালি ও ফ্রান্সে পাঠানো হবে। পরে অন্যান্য সবজিও রফতানি করা হবে অন্যান্য দেশে।

ফ্রুটস্ এন্ড ভেজিটেবল সেক্টর সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার কমোডিটি ম্যানেজার ড. নাজমুন্নাহার বলেন, চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের নিরাপদ সবজি উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। শুরুতে আমরা বাঁধাকপি রফতানি করেছি। এখন আমরা পটল রফতানি করছি। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সবজি রফতানি করব। বিশেষ করে যে সবজি ইউরোপের বাজারে বন্ধ ছিল সেগুলো আমরা রফতানি করতে সফল হব।

এ বছর এই অঞ্চল থেকে ২৮০ মেট্রিকটন পটল ইউরোপের ইটালি, ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে রফতানি করা হবে। এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, শুধু বিদেশে নয়। আমাদের দেশের মানুষ যেন নিরাপদ সবজি খেতে পারে তার জন্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

যশোর জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (সফল প্রকল্প) প্রজেক্ট ডাইরেক্টর তহিদুল ইসলাম বলেন, সফল প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হবে।

রফতানিকারক নাজমুল হোসেন বলেন, বেসরকারি সংস্থা ইসলাম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে মনিরামপুরের ৫টি ক্লাস্টারের ৭২ জন কৃষকের জমিতে ফ্রেমন ট্রাপ, হলুদ ফাঁদসহ বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত পটল উৎপাদন করা হয়েছে। বিষমুক্ত এই পটল পাঠানো হচ্ছে বিদেশে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার চক্রবর্তী ও যশোর মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, রফতানিনির্ভর মানসম্মত সবজি উৎপাদনে কৃষককে বালাইনাশক পদ্ধতি অনুসরণসহ আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আর ক্ষেতের উৎপাদিত পটল বিদেশে রফতানি হওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরা।

তারা বলছেন, এর মাধ্যমে যেমন আমরা ফসলের নায্য দাম পাবো, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে দেশ।

দেশের মোট চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজির যোগান দেয় যশোর। গেল মৌসুমে যশোরে উৎপাদিত সবজি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রফতানি হয় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। এবার ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে প্রথম ডিজিটাল জেলার সবজি।

বিডিপ্রেস/আরজে