BDpress

হাওরে কৃষি শ্রমিকের জন্য হাহাকার

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
হাওরে কৃষি শ্রমিকের জন্য হাহাকার
গত বছরের অকাল বন্যায় বোরো ফসলে মার খান হাওরপাড়ের কৃষকেরা। এবার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ধান কাটা-মাড়াই শ্রমিক না পেয়ে। চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা শুরু হলেও কৃষি শ্রমিক সঙ্কটের কারণে খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষকের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, খালিয়াজুরীতে বিছিন্নভাবে শুরু হয়েছে ধান কাটা। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ইতোমধ্যে (মঙ্গলবার) আনুষ্ঠানিকভাবে খালিযাজুরীর শান্তিনগর হাওরে মনির হোসেনের জমিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. মঈনউল ইসলাম ধান কাটার উদ্বোধনও করেছেন।

আর মাত্র সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ধান কাটা পড়বে পুরোদমে। অন্যান্য বছর এমন সময় এখানে বহিরাগত অসংখ্য শ্রমিক এসে ধান কাটা মাড়াইয়ের জন্য কৃষকের স্মরণাপন্ন হয়। অথবা কৃষকেরা দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে খোঁজ করে কৃষি শ্রমিক নিয়ে আসেন। কিন্তু এবছর শ্রমিকের সন্ধান খুব একটা মিলছে না। তাই জমির ধান গোলায় কিভাবে তুলবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।

কৃষকেরা আরো জানান, বোরো মৌসুমের ধান পাকার সময়টিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবার আশঙ্কা থাকে বেশি। বিশেষ করে এমন সময় কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি, অতি বৃষ্টি ও অকাল বন্যা এসে হানা দেয়। তাই খুব দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে নেয়াই সবার কাম্য।

কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী বৈশাখ মাসের মধ্যে এখানকার বোরো ধান কাটতে না পারলে ফের তা অকাল বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এখন এখানে যে পরিমাণ কৃষি শ্রমিক ও কৃষি যন্ত্রপাতি রয়েছে তা দিয়ে এসময়ের মধ্যে ফসল কেটে গোলায় তোলা অনেকটা কঠিন হবে। খালিযাজুরীতে এবার ১৯ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ সমস্ত জমির ধান কাটার জন্য ইতোমধ্যে সরকারিভাবে এখানে কৃষকের হাতে ধান কাটার মেশিন রিপার ৯৫টি ও কমবাইন হারভেস্টার ৭টি সরবরাহ করা হয়েছে।

তাছাড়া, ধান মাড়াই কল দেয়া হয়েছে মাত্র ৭টি। এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

খালিযাজুরী সদরের কৃষক মনির হোসেন জানান, ৭৯ একর জমিতে তিনি বোরো ধান আবাদ করেছেন। তার ধান নিরাপদে ও নির্দিষ্ট সময়ে কাটা, মাড়াই, শুকানো ও গোলায় তুলতে শ্রমিক প্রয়োজন অন্তত ৫০ জন। অথচ শ্রমিক পাওয়া গেছে মাত্র ২০ জন। অর্ধেকেরও বেশি শ্রমিক নেই। এখানকার অধিকাংশ কৃষকই শ্রমিক সঙ্কটের এমন অবস্থায় ধুঁকছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু বলেন, খালিয়াজুরীতে এবার ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে শক্তভাবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন শ্রমিক সঙ্কটের কারণে যদি ফসল তোলা না যায় তবে সব আয়োজনেই বৃথা যাবে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে হলেও শ্রমিক আনিয়ে কষ্টার্জিত এ ফসল ঘরে তুলতেই হবে।

বিডিপ্রেস/আরজে


এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

হাওরে কৃষি শ্রমিকের জন্য হাহাকার


হাওরে কৃষি শ্রমিকের জন্য হাহাকার

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, খালিয়াজুরীতে বিছিন্নভাবে শুরু হয়েছে ধান কাটা। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ইতোমধ্যে (মঙ্গলবার) আনুষ্ঠানিকভাবে খালিযাজুরীর শান্তিনগর হাওরে মনির হোসেনের জমিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. মঈনউল ইসলাম ধান কাটার উদ্বোধনও করেছেন।

আর মাত্র সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ধান কাটা পড়বে পুরোদমে। অন্যান্য বছর এমন সময় এখানে বহিরাগত অসংখ্য শ্রমিক এসে ধান কাটা মাড়াইয়ের জন্য কৃষকের স্মরণাপন্ন হয়। অথবা কৃষকেরা দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে খোঁজ করে কৃষি শ্রমিক নিয়ে আসেন। কিন্তু এবছর শ্রমিকের সন্ধান খুব একটা মিলছে না। তাই জমির ধান গোলায় কিভাবে তুলবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।

কৃষকেরা আরো জানান, বোরো মৌসুমের ধান পাকার সময়টিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবার আশঙ্কা থাকে বেশি। বিশেষ করে এমন সময় কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি, অতি বৃষ্টি ও অকাল বন্যা এসে হানা দেয়। তাই খুব দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে নেয়াই সবার কাম্য।

কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী বৈশাখ মাসের মধ্যে এখানকার বোরো ধান কাটতে না পারলে ফের তা অকাল বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এখন এখানে যে পরিমাণ কৃষি শ্রমিক ও কৃষি যন্ত্রপাতি রয়েছে তা দিয়ে এসময়ের মধ্যে ফসল কেটে গোলায় তোলা অনেকটা কঠিন হবে। খালিযাজুরীতে এবার ১৯ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ সমস্ত জমির ধান কাটার জন্য ইতোমধ্যে সরকারিভাবে এখানে কৃষকের হাতে ধান কাটার মেশিন রিপার ৯৫টি ও কমবাইন হারভেস্টার ৭টি সরবরাহ করা হয়েছে।

তাছাড়া, ধান মাড়াই কল দেয়া হয়েছে মাত্র ৭টি। এগুলো প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

খালিযাজুরী সদরের কৃষক মনির হোসেন জানান, ৭৯ একর জমিতে তিনি বোরো ধান আবাদ করেছেন। তার ধান নিরাপদে ও নির্দিষ্ট সময়ে কাটা, মাড়াই, শুকানো ও গোলায় তুলতে শ্রমিক প্রয়োজন অন্তত ৫০ জন। অথচ শ্রমিক পাওয়া গেছে মাত্র ২০ জন। অর্ধেকেরও বেশি শ্রমিক নেই। এখানকার অধিকাংশ কৃষকই শ্রমিক সঙ্কটের এমন অবস্থায় ধুঁকছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু বলেন, খালিয়াজুরীতে এবার ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে শক্তভাবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন শ্রমিক সঙ্কটের কারণে যদি ফসল তোলা না যায় তবে সব আয়োজনেই বৃথা যাবে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে হলেও শ্রমিক আনিয়ে কষ্টার্জিত এ ফসল ঘরে তুলতেই হবে।

বিডিপ্রেস/আরজে