BDpress

সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ, দিশেহারা কৃষক

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ, দিশেহারা কৃষক
চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ইরি-বোরো ধানক্ষেতে ছত্রাকজাতীয় ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। খেতের পর খেতের ধান সাদা হয়ে যাচ্ছে।

এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে কৃষকদের। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ব্রি-২৮ জাতের ধানক্ষেতে গত বছরের মতো এবারেও শীষ পচন রোগ দেখা দেয়।

পাটকেলঘাটা এলাকার বাইগুনি গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, প্রথমে এই রোগ দু’একটি শীষে দেখা দেয়। এরপর ২-৩ দিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত ধানক্ষেতে। বার বার কীটনাশক স্প্রে করেও কাজ হয় না। আমার অর্ধেক ক্ষেতের ধানের শীষে কালো কালো পচন ধরে শীষ সাদা হয়ে গেছে। ২০ শতক জমিতে ৪ মণ ধানও হবে না।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের কৃষক রশিদ সরদার বলেন, আমার তিন বিঘা জমিতে ধানে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। স্প্রে করেও কোনো ফল হচ্ছে না। খুব ক্ষতি হয়ে গেলো। গত কয়েকদিনের মধ্যেই আমার সমস্ত ধানক্ষেতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক দিয়েছি যদি কিছুটা হলেও রক্ষা হয়। এমন শুধু আমার নয় অন্যান্য কৃষকদের জমিতেও একই রোগ দেখা দিচ্ছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তবে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

কলারোয়া উপজেলার কৃষক শামসুর রহমান জানান, তারও দুই বিঘা জমিতে একই ভাবে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। ধানের শীষে পচন ধরে সাদা হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানালেন ভিন্ন কথা কথা। তার ভাষ্য, এ বছর সাতক্ষীরা জেলায় ৭৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ফলন খুব ভালো হবে আশা করছি। হেক্টর প্রতি চার টন করে চাল পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত মাত্র ৬ হেক্টর জমিতে এমন রোগ দেখা দিয়েছে। আর যেন নতুন করে এ রোগ না ছড়ায় সেজন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকার অনুমোদিত যেসব কীটনাশক ব্যবহার করার কথা রয়েছে সেসব কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ, দিশেহারা কৃষক


সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ, দিশেহারা কৃষক

এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে কৃষকদের। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ব্রি-২৮ জাতের ধানক্ষেতে গত বছরের মতো এবারেও শীষ পচন রোগ দেখা দেয়।

পাটকেলঘাটা এলাকার বাইগুনি গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, প্রথমে এই রোগ দু’একটি শীষে দেখা দেয়। এরপর ২-৩ দিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত ধানক্ষেতে। বার বার কীটনাশক স্প্রে করেও কাজ হয় না। আমার অর্ধেক ক্ষেতের ধানের শীষে কালো কালো পচন ধরে শীষ সাদা হয়ে গেছে। ২০ শতক জমিতে ৪ মণ ধানও হবে না।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের কৃষক রশিদ সরদার বলেন, আমার তিন বিঘা জমিতে ধানে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। স্প্রে করেও কোনো ফল হচ্ছে না। খুব ক্ষতি হয়ে গেলো। গত কয়েকদিনের মধ্যেই আমার সমস্ত ধানক্ষেতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক দিয়েছি যদি কিছুটা হলেও রক্ষা হয়। এমন শুধু আমার নয় অন্যান্য কৃষকদের জমিতেও একই রোগ দেখা দিচ্ছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তবে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

কলারোয়া উপজেলার কৃষক শামসুর রহমান জানান, তারও দুই বিঘা জমিতে একই ভাবে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। ধানের শীষে পচন ধরে সাদা হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানালেন ভিন্ন কথা কথা। তার ভাষ্য, এ বছর সাতক্ষীরা জেলায় ৭৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ফলন খুব ভালো হবে আশা করছি। হেক্টর প্রতি চার টন করে চাল পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত মাত্র ৬ হেক্টর জমিতে এমন রোগ দেখা দিয়েছে। আর যেন নতুন করে এ রোগ না ছড়ায় সেজন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকার অনুমোদিত যেসব কীটনাশক ব্যবহার করার কথা রয়েছে সেসব কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।

বিডিপ্রেস/আরজে