BDpress

নরসিংদীতে বারি জাতের টমেটো চাষ

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
নরসিংদীতে বারি জাতের টমেটো চাষ
নরসিংদীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি হাইব্রিড টমেটো ৫ ও ৯ চাষে সফলতা পেয়েছেন চাষিরা। গবেষণাগারে পরীক্ষার পর মাঠ পর্যায়ে এ দুই জাতের টমেটো আবাদ শুরু হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। তাছাড়া দীর্ঘ সময় ফলন পাওয়া যায়। ফলে বারি জাতের টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন জেলার কৃষকরা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, শিবপুরের চাষিরা বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ চাষ করে হেক্টরপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টন ফলন পেয়েছেন। আর বারি হাইব্রিড টমেটো-৯ চাষ করে পেয়েছেন ৭০ থেকে ৮০ টন ফলন। স্থানীয় সুরমা জাতের ফলন পেয়েছেন ৪৫ থেকে ৫০ টন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বারি হাইব্রিড টমেটো-৯ মাত্র ৪৭ থেকে ৫০ দিনে প্রথম ফুল আসে। এর ফল হয় মাঝারি ও গোলাকার। রং লাল। টিএসএস ৪.২০ যুক্ত পাঁচ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট মাংসল ফল যার ১০০% খাওয়ার যোগ্য। ফলের গড় ওজন ৯১ থেকে ৯৬ গ্রাম। প্রতি গাছে ৫১ থেকে ৫৪টি ফল ধরে। জাতটি উচ্চ ফলনশীল। ফলে বীজের সংখ্যা কম। এ জাতের টমেটো হলুদ পাতা কুঁকড়ানো ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম। বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাল শাঁসযুক্ত। পাকা ফলের সংরক্ষণ ক্ষমতা অন্য টমেটোর চেয়ে বেশি। ফল বেশ বড়, চ্যাপ্টা ও গোলাকার। প্রতিটি ফলের ওজন ১০০ গ্রামের ওপরে। টমেটোর এই জাতটি ব্যাক্টেরিয়া উইল্ট এবং ভাইরাস রোগ প্রতিরোধে সক্ষম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নরসিংদীর শিবপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার খড়কমারা, দুলালপুর ও ধানুয়া গ্রামে সাতটি প্লটে বারি জাতের টমেটো আবাদ করেছেন চাষিরা। প্লটগুলোতে বারি হাইব্রিড টমেটো ৫ ও ৯-সহ স্থানীয় সুরমা নামের হাইব্রিড টমেটো আবাদ করা হয়।

খড়কমারা গ্রামের কৃষক জুলহাস জানান, তিনি এবার পাঁচ শতাংশ জমিতে বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ সহ সুরমা জাতের স্থানীয় হাইব্রিড টমেটো চাষ করেছেন। প্রতিটি গাছে ঝুলছে টমেটো।

গাছের সরু ডালে বেশি টমেটো ধরায় তা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে গাছগুলোকে বেঁধে রেখেছেন তিনি। আর স্থানীয় সুরমা হাইব্রিড টমেটো গাছগুলোতে ফলন হয়েছে কম। এ জাতের অনেক গাছ ব্যাক্টেরিয়া উইল্ট আক্রমণ করেছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে টমেটো চাষ করছেন। অন্য বছর ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের জন্য ফলন কম হতো। চলতি বছর জমিতে পৃথকভাবে বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ এবং স্থানীয় সুরমা হাইব্রিড চাষ করেছি। এর মধ্যে স্থানীয় হাইব্রিড টমেটোতে ব্যাক্টেরিয়া উইল্ট আক্রমণ করলেও বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ ছিল মুক্ত।  ধানুয়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, প্রচলিত টমেটোর চেয়ে বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ এর ফলন অনেক বেশি। সেই সঙ্গে দেখতে সুন্দর ও দীর্ঘ সময় ফলন পাওয়া যায় বলে লাভ হয় বেশি। ফলে বারি এই দুই জাতের টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষক আওয়াল মিয়া বলেন, দেশি জাতের বেগুন চাষ করে এখন আর লাভ হয় না। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই ফলন শেষ হয়ে যায়। তাই আগামী বছর থেকে বারী হাইব্রিড টমেটো চাষ করার ইচ্ছা আছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিবপুর গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে কৃষকরা বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ চাষে সফলতা পেয়েছেন। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ জাতের টমেটো চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এ জাত দুটির আবাদ সম্প্রসারিত হলে দেশে টমেটোর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

নরসিংদীতে বারি জাতের টমেটো চাষ


নরসিংদীতে বারি জাতের টমেটো চাষ

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, শিবপুরের চাষিরা বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ চাষ করে হেক্টরপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টন ফলন পেয়েছেন। আর বারি হাইব্রিড টমেটো-৯ চাষ করে পেয়েছেন ৭০ থেকে ৮০ টন ফলন। স্থানীয় সুরমা জাতের ফলন পেয়েছেন ৪৫ থেকে ৫০ টন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বারি হাইব্রিড টমেটো-৯ মাত্র ৪৭ থেকে ৫০ দিনে প্রথম ফুল আসে। এর ফল হয় মাঝারি ও গোলাকার। রং লাল। টিএসএস ৪.২০ যুক্ত পাঁচ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট মাংসল ফল যার ১০০% খাওয়ার যোগ্য। ফলের গড় ওজন ৯১ থেকে ৯৬ গ্রাম। প্রতি গাছে ৫১ থেকে ৫৪টি ফল ধরে। জাতটি উচ্চ ফলনশীল। ফলে বীজের সংখ্যা কম। এ জাতের টমেটো হলুদ পাতা কুঁকড়ানো ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম। বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাল শাঁসযুক্ত। পাকা ফলের সংরক্ষণ ক্ষমতা অন্য টমেটোর চেয়ে বেশি। ফল বেশ বড়, চ্যাপ্টা ও গোলাকার। প্রতিটি ফলের ওজন ১০০ গ্রামের ওপরে। টমেটোর এই জাতটি ব্যাক্টেরিয়া উইল্ট এবং ভাইরাস রোগ প্রতিরোধে সক্ষম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নরসিংদীর শিবপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার খড়কমারা, দুলালপুর ও ধানুয়া গ্রামে সাতটি প্লটে বারি জাতের টমেটো আবাদ করেছেন চাষিরা। প্লটগুলোতে বারি হাইব্রিড টমেটো ৫ ও ৯-সহ স্থানীয় সুরমা নামের হাইব্রিড টমেটো আবাদ করা হয়।

খড়কমারা গ্রামের কৃষক জুলহাস জানান, তিনি এবার পাঁচ শতাংশ জমিতে বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ সহ সুরমা জাতের স্থানীয় হাইব্রিড টমেটো চাষ করেছেন। প্রতিটি গাছে ঝুলছে টমেটো।

গাছের সরু ডালে বেশি টমেটো ধরায় তা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে গাছগুলোকে বেঁধে রেখেছেন তিনি। আর স্থানীয় সুরমা হাইব্রিড টমেটো গাছগুলোতে ফলন হয়েছে কম। এ জাতের অনেক গাছ ব্যাক্টেরিয়া উইল্ট আক্রমণ করেছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে টমেটো চাষ করছেন। অন্য বছর ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের জন্য ফলন কম হতো। চলতি বছর জমিতে পৃথকভাবে বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ এবং স্থানীয় সুরমা হাইব্রিড চাষ করেছি। এর মধ্যে স্থানীয় হাইব্রিড টমেটোতে ব্যাক্টেরিয়া উইল্ট আক্রমণ করলেও বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ ছিল মুক্ত।  ধানুয়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, প্রচলিত টমেটোর চেয়ে বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ এর ফলন অনেক বেশি। সেই সঙ্গে দেখতে সুন্দর ও দীর্ঘ সময় ফলন পাওয়া যায় বলে লাভ হয় বেশি। ফলে বারি এই দুই জাতের টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষক আওয়াল মিয়া বলেন, দেশি জাতের বেগুন চাষ করে এখন আর লাভ হয় না। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই ফলন শেষ হয়ে যায়। তাই আগামী বছর থেকে বারী হাইব্রিড টমেটো চাষ করার ইচ্ছা আছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিবপুর গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে কৃষকরা বারি হাইব্রিড টমেটো-৫ ও ৯ চাষে সফলতা পেয়েছেন। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ জাতের টমেটো চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এ জাত দুটির আবাদ সম্প্রসারিত হলে দেশে টমেটোর উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

বিডিপ্রেস/আরজে