BDpress

সুর পাল্টে ফেললেন বুফন!

ক্রীড়া ডেস্ক

অ+ অ-
সুর পাল্টে ফেললেন বুফন!
গত বুধবার রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে সেই পেনাল্টি দেওয়ায় রেফারির বিরুদ্ধে কি প্রতিবাদটাই না জানিয়েছিলেন জিয়ানলুইজি বুফন। প্রতিবাদের ভাষা এবং ভঙ্গি এতোটাই তীব্র ছিল যে, জুভেন্টাসের গোলরক্ষক-অধিনায়ককে লালকার্ড পর্যন্ত দেখতে হয়েছে। রেফারির মাইকেল অলিভারের দিকে তেড়েফুড়ে যাওয়াই শুধু নয়, আঙুল উঁচিয়ে রেফারিকে রীতিমতো শাসিয়েছেন।

এমনকি রাগে-ক্ষোভে রেফারিকে জিনেদিন জিদানের মতো ঢুস মারার ইচ্ছাও  নাকি জেগেছিল মনে। আশ্চার্যের বিষয় হলো দিন তিনেক না যেতেই সেই বুফনের কণ্ঠে এখন অন্য রকম সুর।

যে পেনাল্টি দেওয়া নিয়ে এতো কিছু, সুর পাল্টে এখন সেটিকে পেনাল্টি মানতেও দ্বিধা নেই বুফনের। ইতালিয়ান গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেই বলেছেন, তিনি কখনোই বলেননি যে ওটা পেনাল্টি ছিল না। মানে বুফনের মতে, ওটা পেনাল্টি ছিল। তবে একেবারে নিশ্চিত পেনাল্টি নয়। ম্যাচের সময় বিবেচনায় রেফারি পেনাল্টিটা না দিলেও পারতেন!

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরে যায় জুভেন্টাস। সেমিফাইনালে যেতে হলে গত বুধবার ফিরতি লেগে তাই জুভেন্টাসকে জিততে হতো অন্তত ৪-০ ব্যবধানে। ম্যাচটাকে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে নিতেও জুভেন্টাসকে জিততে হতো অন্তত ৩-০ ব্যবধানে।

অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে সেই পথেই হাঁটছিল জুভেন্টাস। একে একে রিয়ালের জালে ঢুকিয়ে দেয় ৩ গোল। মানে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ সমতা। ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ার ইঙ্গিত। ঠিক তখনই রিয়ালের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি অলিভার।

সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করে রিয়ালকে সেমিফাইনালে তুলে দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ফল কি, হতো, সেটা কেউ জানেন না। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দেওয়ায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের মুখই দেখতে পারেনি। ওই পেনাল্টিই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। বার্নাব্যুতে সেদিন ৩-১ গোলে হেরেও দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ অগ্রগামিতায় শেষ চারে উঠে যায় রিয়াল। বুফনদের জুভেন্টাসকে আশা জাগিয়েও কাঁদতে হয় ছিটকে পড়ার বেদনায়।

স্বাভাবিকভাবেই অন্তিম সময়ের ওই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান জুভেন্টাস খেলোয়াড়েরা। তবে অন্যদের চেয়ে অধিনায়ক বুফনের প্রতিবাদের ভাষাই ছিল বেশি তীব্র। শাসানোর পাশাপাশি রেফারি ঢুস পর্যন্ত মারতে চেয়েছিলেন। মনের যে ইচ্ছার কথা বুফন নিজেই জানিয়েছেন বিশ্ববাসীকে।

শেষ পর্যন্ত সেই ঢুস ইচ্ছা বিসর্জন দিলেও ম্যাচ শেষে ইংলিশ রেফারি অলিভারকে ধুয়ে দেন বুফন। ইতালির বর্ষিয়ান গোলরক্ষক রেফারিকে পশুর সঙ্গে তুলনাও করেন। বলেন, ‘আপনি যখন ম্যাচের ৯৩ মিনিটে পেনাল্টি দেবেন, আপনি তখন আর মানুষ থাকবেন না, পশু হয়ে যাবেন।’ কিন্তু সুর পাল্টে সেই বুফনই এখন তরুণ রেফারি অলিভারকে ভাসাচ্ছেন প্রশংসায়।

জুভেন্টাসের খেলোয়াড়েরা কড়া প্রতিবাদ জানালেও দক্ষ হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ৩৩ বছর বয়সী রেফারি অলিভার বোদ্ধামহলে প্রশংসিত হয়েছেন। যে পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে এতো তুলকালাম কাণ্ড, সেটিকেও ‘পেনাল্টি’ বলেই রায় দিয়েছেন বেশির ভাগ সাবেক ফুটবলার।

এমনকি সাবেক রেফারিরাও তরুণ ইংলিশ রেফারি অলিভারের সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসা করেছেন। দিন কয়েকের ব্যবধানে বুফনও এখন মানছেন, রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্তটা গাজাখোরি ছিল না। কিন্তু বুফনরা পেনাল্টি মানলে তো, তাদের করা রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগটি মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়!

সেটা ভেবেই কিনা, চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন বুফন। জুভেন্টাস অধিনায়ক কূটনীতিকের মতো করে বলেছেন, ‘আমি বলিনি যে, এটা পেনাল্টি ছিল না। আমি শুধু বলিছি, সিদ্ধান্তটা নিয়ে সংশয় ছিল। ম্যাচের এরকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে আপনি কখনোই বলতে পারবেন না যে, এটা নিশ্চিত পেনাল্টি ছিল। ম্যাচের মাত্র ২০ সেকেণ্ড বাকি। ম্যাচের রেফারিরও অভিজ্ঞ। যিনি এরই মধ্যে অনেক অনেক বড় ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, রেফারি অন্য সিদ্ধান্তও দিতে পারতেন।’

রেফারি অলিভার বুফনের চেয়েও ৭ বছরের ছোট। রাগের মাথায় তখন কড়া প্রতিবাদ জানালেও এবার উজ্ব্ল ভবিষ্যতই কামনা করলেন রেফারির, ‘এই ছেলেটির সামনে দুর্দান্ত ক্যারিয়ারই পড়ে আছে। তবে এই ম্যাচটাতে তার জন্য কিছু দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্ত এসেছে।’

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

সুর পাল্টে ফেললেন বুফন!


সুর পাল্টে ফেললেন বুফন!

এমনকি রাগে-ক্ষোভে রেফারিকে জিনেদিন জিদানের মতো ঢুস মারার ইচ্ছাও  নাকি জেগেছিল মনে। আশ্চার্যের বিষয় হলো দিন তিনেক না যেতেই সেই বুফনের কণ্ঠে এখন অন্য রকম সুর।

যে পেনাল্টি দেওয়া নিয়ে এতো কিছু, সুর পাল্টে এখন সেটিকে পেনাল্টি মানতেও দ্বিধা নেই বুফনের। ইতালিয়ান গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেই বলেছেন, তিনি কখনোই বলেননি যে ওটা পেনাল্টি ছিল না। মানে বুফনের মতে, ওটা পেনাল্টি ছিল। তবে একেবারে নিশ্চিত পেনাল্টি নয়। ম্যাচের সময় বিবেচনায় রেফারি পেনাল্টিটা না দিলেও পারতেন!

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরে যায় জুভেন্টাস। সেমিফাইনালে যেতে হলে গত বুধবার ফিরতি লেগে তাই জুভেন্টাসকে জিততে হতো অন্তত ৪-০ ব্যবধানে। ম্যাচটাকে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে নিতেও জুভেন্টাসকে জিততে হতো অন্তত ৩-০ ব্যবধানে।

অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে সেই পথেই হাঁটছিল জুভেন্টাস। একে একে রিয়ালের জালে ঢুকিয়ে দেয় ৩ গোল। মানে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ সমতা। ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ার ইঙ্গিত। ঠিক তখনই রিয়ালের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি অলিভার।

সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করে রিয়ালকে সেমিফাইনালে তুলে দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ফল কি, হতো, সেটা কেউ জানেন না। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দেওয়ায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের মুখই দেখতে পারেনি। ওই পেনাল্টিই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। বার্নাব্যুতে সেদিন ৩-১ গোলে হেরেও দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ অগ্রগামিতায় শেষ চারে উঠে যায় রিয়াল। বুফনদের জুভেন্টাসকে আশা জাগিয়েও কাঁদতে হয় ছিটকে পড়ার বেদনায়।

স্বাভাবিকভাবেই অন্তিম সময়ের ওই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান জুভেন্টাস খেলোয়াড়েরা। তবে অন্যদের চেয়ে অধিনায়ক বুফনের প্রতিবাদের ভাষাই ছিল বেশি তীব্র। শাসানোর পাশাপাশি রেফারি ঢুস পর্যন্ত মারতে চেয়েছিলেন। মনের যে ইচ্ছার কথা বুফন নিজেই জানিয়েছেন বিশ্ববাসীকে।

শেষ পর্যন্ত সেই ঢুস ইচ্ছা বিসর্জন দিলেও ম্যাচ শেষে ইংলিশ রেফারি অলিভারকে ধুয়ে দেন বুফন। ইতালির বর্ষিয়ান গোলরক্ষক রেফারিকে পশুর সঙ্গে তুলনাও করেন। বলেন, ‘আপনি যখন ম্যাচের ৯৩ মিনিটে পেনাল্টি দেবেন, আপনি তখন আর মানুষ থাকবেন না, পশু হয়ে যাবেন।’ কিন্তু সুর পাল্টে সেই বুফনই এখন তরুণ রেফারি অলিভারকে ভাসাচ্ছেন প্রশংসায়।

জুভেন্টাসের খেলোয়াড়েরা কড়া প্রতিবাদ জানালেও দক্ষ হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ৩৩ বছর বয়সী রেফারি অলিভার বোদ্ধামহলে প্রশংসিত হয়েছেন। যে পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে এতো তুলকালাম কাণ্ড, সেটিকেও ‘পেনাল্টি’ বলেই রায় দিয়েছেন বেশির ভাগ সাবেক ফুটবলার।

এমনকি সাবেক রেফারিরাও তরুণ ইংলিশ রেফারি অলিভারের সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসা করেছেন। দিন কয়েকের ব্যবধানে বুফনও এখন মানছেন, রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্তটা গাজাখোরি ছিল না। কিন্তু বুফনরা পেনাল্টি মানলে তো, তাদের করা রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগটি মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়!

সেটা ভেবেই কিনা, চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন বুফন। জুভেন্টাস অধিনায়ক কূটনীতিকের মতো করে বলেছেন, ‘আমি বলিনি যে, এটা পেনাল্টি ছিল না। আমি শুধু বলিছি, সিদ্ধান্তটা নিয়ে সংশয় ছিল। ম্যাচের এরকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে আপনি কখনোই বলতে পারবেন না যে, এটা নিশ্চিত পেনাল্টি ছিল। ম্যাচের মাত্র ২০ সেকেণ্ড বাকি। ম্যাচের রেফারিরও অভিজ্ঞ। যিনি এরই মধ্যে অনেক অনেক বড় ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, রেফারি অন্য সিদ্ধান্তও দিতে পারতেন।’

রেফারি অলিভার বুফনের চেয়েও ৭ বছরের ছোট। রাগের মাথায় তখন কড়া প্রতিবাদ জানালেও এবার উজ্ব্ল ভবিষ্যতই কামনা করলেন রেফারির, ‘এই ছেলেটির সামনে দুর্দান্ত ক্যারিয়ারই পড়ে আছে। তবে এই ম্যাচটাতে তার জন্য কিছু দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্ত এসেছে।’

বিডিপ্রেস/আরজে