BDpress

নওগাঁয় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
নওগাঁয় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি
নওগাঁয় চলছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মহোৎসব। কিন্তু গত কয়েক দফায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে সুষ্ঠুভাবে ফসল ঘরে ওঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা।

উত্তরাঞ্চলে ধান উৎপাদনের বৃহৎ জেলা নওগাঁ। গত বছর বন্যায় জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ৮০টি ইউনিয়নের ৬০০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছিল। এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে ৩০ হাজার বাড়ি সম্পন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ও ৬৬ হাজার ৫৭০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় আমনের প্রায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়।

বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকরা আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বোরো আবাদে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। জেলার মাঠগুলোতো সবুজ ও সোনালি ধানের স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। আবাদও ভালো হয়েছে। এখন ঘরে ওঠার অপেক্ষা। ধান কাটা এখনও তেমন শুরু হয়নি। তবে বৈশাখের শুরু থেকে কয়েক দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে নওগাঁ সদর, মান্দা, বদলগাছী, পত্নীতলা, সাপাহার ও রানীনগর উপজেলার ওপর দিয়ে কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়।

সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝড়ে আধাপাকা ধানগুলো মাটিতে শুয়ে পড়েছে। যার ফলে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অসময়ের বৃষ্টির পানি জমা হয়ে নিচু মাঠের জমিগুলোর ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। একদিকে শিলাবৃষ্টির ফলে উঠতি প্রায় ধান ঝড়ে পড়েছে। আবার পানিতে তলিয়ে ধান নষ্ট হয়েছে।

মাঠে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। বাকিগুলো পাকার অপেক্ষায়। এক সঙ্গে ধান কাটা শুরু হওয়ায় এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

সাপাহার উপজেলার তাতঁইর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে জিরাশাইল ধানের আবাদ করেছি। ধান আধাপাকা হয়েছে। আর কয়েক দিন পর কাটা হতো। কিন্তু গত তিনদিনের ঝড় আর বৃষ্টিতে ধান জমিতে শুয়ে পড়েছে। ধান মাটিতে শুয়ে পড়ায় এখন ফলনের বিপর্যয় হবে। শ্রমিক খরচও বেশি হবে। ঝড়-বৃষ্টিতে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে।

রানীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, এ বছর ছয় বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছি। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু করেছি। ফলন বিঘা প্রতি প্রায় ২২-২৩ বিঘা হয়েছে। কিন্তু এলাকায় শ্রমিক সংকটের কারণে সমস্যা হচ্ছে। আর দিন যতই যাচ্ছে ততই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে। জানি না কি আছে কপালে।

রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারওয়ার বলেন, গত কয়েকদিনের ঝড়- বৃষ্টিতে উপজেলার রক্তদহ বিলে প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ডুবে যাওয়া ধানগুলো কৃষকদের দ্রুত কাটার এবং পানি বের করে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এ বছর শুরু থেকেই কালবৈশাখীর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধান শুয়ে পড়ায় ফলন কিছুটা কম হবে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

নওগাঁয় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি


নওগাঁয় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

উত্তরাঞ্চলে ধান উৎপাদনের বৃহৎ জেলা নওগাঁ। গত বছর বন্যায় জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ৮০টি ইউনিয়নের ৬০০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছিল। এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে ৩০ হাজার বাড়ি সম্পন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ও ৬৬ হাজার ৫৭০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় আমনের প্রায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়।

বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকরা আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বোরো আবাদে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। জেলার মাঠগুলোতো সবুজ ও সোনালি ধানের স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। আবাদও ভালো হয়েছে। এখন ঘরে ওঠার অপেক্ষা। ধান কাটা এখনও তেমন শুরু হয়নি। তবে বৈশাখের শুরু থেকে কয়েক দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে নওগাঁ সদর, মান্দা, বদলগাছী, পত্নীতলা, সাপাহার ও রানীনগর উপজেলার ওপর দিয়ে কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়।

সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝড়ে আধাপাকা ধানগুলো মাটিতে শুয়ে পড়েছে। যার ফলে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অসময়ের বৃষ্টির পানি জমা হয়ে নিচু মাঠের জমিগুলোর ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। একদিকে শিলাবৃষ্টির ফলে উঠতি প্রায় ধান ঝড়ে পড়েছে। আবার পানিতে তলিয়ে ধান নষ্ট হয়েছে।

মাঠে প্রায় ৭০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। বাকিগুলো পাকার অপেক্ষায়। এক সঙ্গে ধান কাটা শুরু হওয়ায় এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

সাপাহার উপজেলার তাতঁইর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে জিরাশাইল ধানের আবাদ করেছি। ধান আধাপাকা হয়েছে। আর কয়েক দিন পর কাটা হতো। কিন্তু গত তিনদিনের ঝড় আর বৃষ্টিতে ধান জমিতে শুয়ে পড়েছে। ধান মাটিতে শুয়ে পড়ায় এখন ফলনের বিপর্যয় হবে। শ্রমিক খরচও বেশি হবে। ঝড়-বৃষ্টিতে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে।

রানীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, এ বছর ছয় বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছি। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু করেছি। ফলন বিঘা প্রতি প্রায় ২২-২৩ বিঘা হয়েছে। কিন্তু এলাকায় শ্রমিক সংকটের কারণে সমস্যা হচ্ছে। আর দিন যতই যাচ্ছে ততই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে। জানি না কি আছে কপালে।

রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারওয়ার বলেন, গত কয়েকদিনের ঝড়- বৃষ্টিতে উপজেলার রক্তদহ বিলে প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ডুবে যাওয়া ধানগুলো কৃষকদের দ্রুত কাটার এবং পানি বের করে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এ বছর শুরু থেকেই কালবৈশাখীর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধান শুয়ে পড়ায় ফলন কিছুটা কম হবে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।

বিডিপ্রেস/আরজে