BDpress

স্বেচ্ছায় মৃত্যুর স্বাদ নিচ্ছেন এই শতবর্ষী বিজ্ঞানী

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
স্বেচ্ছায় মৃত্যুর স্বাদ নিচ্ছেন এই শতবর্ষী বিজ্ঞানী
প্রায় ৭০ বছরের কর্মজীবনে শতাধিক গবেষণাপত্র তৈরি করেছেন ড. ডেভিড গুডল। সারা বিশ্বের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার এই বিজ্ঞানীই সব চাইতে প্রবীণ। মে মাসের শুরুর দিকেই তিনি ১০৪ বছরে পা দিয়েছেন। জন্ম দিন পালনের সময়েই তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুর ইচ্ছার কথা জানান।

জীবনের এতগুলো দিন বেঁচে থাকার পর সব আনন্দই হারিয়ে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত এই পরিবেশ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। বরং দীর্ঘদিন পৃথিবীতে কাটিয়ে আজ তিনি ক্লান্ত।

সময়ের স্রোতে এগিয়ে যাওয়ায় শরীরে বয়সের ছাপ দেখা দিলেও নেই কোনো অসুখ-বিসুখ। ফলে বৃদ্ধাবস্থাতেও তাকে রোগে ভুগতে হচ্ছে না। তবুও জীবনের সব আনন্দই যেন হারিয়ে ফেলেছেন ড. ডেভিড। আর তাই এর থেকে মুক্তি খুঁজছেন এখন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, স্বেচ্ছামৃত্যুকে বেছে নিতে ড. ডেভিড তাই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন। পৃথিবী ত্যাগের উদ্দেশ্যে তিনি সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব এই দুনিয়া ত্যাগ করতে চান তিনি। সম্ভব হলে মে মাসেই মৃত্যুকে বরণের সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। মে মাসের ১০ তারিখ তার মৃত্যুর তারিখ ঠিক হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইচ্ছাপূরণে সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে অবস্থিত একটি স্বেচ্ছামৃত্যু সংস্থার সঙ্গে চুক্তিও করেছেন তিনি। যেখানে তিনি শেষ নিদ্রায় যাবেন সেই স্থানটি সুইজারল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে ফ্রান্স-জার্মান সীমান্তের কাছে।

অস্ট্রেলিয়ায় যেহেতু স্বেচ্ছামৃত্যুর আইনি স্বীকৃতি নেই। সেই কারণেই তার সুইজারল্যান্ডে যাওয়া।

সংবাদমাধ্যমকে এই বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করতে সেই স্থানটিই তার বিশেষ পছন্দের। এবিসি চ্যানেল’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে এতগুলো বছর পাওয়ার জন্য নিজেরই অনুশোচনা হচ্ছে। অসুখী এই জীবন আর না রাখাই শ্রেয়।’

অবশ্য মৃত্যু তার জন্য বিশেষ কোনো দুঃখের বিষয় নয় বলেই মনে করেন ড. ডেভিড। বরং মৃত্যুর কোনো প্রতিকার নেই বলে তার যত দু:খ।

এই বিজ্ঞানীর মতে, তার মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য নাগরিকত্বের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সরকারের উচিত আত্মহত্যা করার আইনগত অধিকারও দেওয়া।

গত দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে একবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন প্রবীণ এই বিজ্ঞানী। সেবার অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শতবর্ষীয়ান হওয়ার কারণে ডেভিডকে অবসরে পাঠানোর পর তা বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্থান পায়।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে গবেষণা সহযোগী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কাজ করার পর ডেভিডকে কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০২ বছর বয়স হওয়ার কারণে তাকে আর শারীরিকভাবে যোগ্য মনে করা হচ্ছে না। তাই তাকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বাড়িতে বসে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হলে তিনি এর তীব্র বিরোধিতা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েক মাস আইনি লড়াই পর্যন্ত চালিয়েছেন ডেভিড। সেসময় বিশ্বের অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।

সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন ডেভিড। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েই তাকে কাজ করার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে জীবন যুদ্ধ আর সংগ্রামে ক্লান্ত ড. ডেভিড গুডল এখন শান্তি চান.. চির শান্তি।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

স্বেচ্ছায় মৃত্যুর স্বাদ নিচ্ছেন এই শতবর্ষী বিজ্ঞানী


স্বেচ্ছায় মৃত্যুর স্বাদ নিচ্ছেন এই শতবর্ষী বিজ্ঞানী

জীবনের এতগুলো দিন বেঁচে থাকার পর সব আনন্দই হারিয়ে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত এই পরিবেশ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। বরং দীর্ঘদিন পৃথিবীতে কাটিয়ে আজ তিনি ক্লান্ত।

সময়ের স্রোতে এগিয়ে যাওয়ায় শরীরে বয়সের ছাপ দেখা দিলেও নেই কোনো অসুখ-বিসুখ। ফলে বৃদ্ধাবস্থাতেও তাকে রোগে ভুগতে হচ্ছে না। তবুও জীবনের সব আনন্দই যেন হারিয়ে ফেলেছেন ড. ডেভিড। আর তাই এর থেকে মুক্তি খুঁজছেন এখন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, স্বেচ্ছামৃত্যুকে বেছে নিতে ড. ডেভিড তাই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন। পৃথিবী ত্যাগের উদ্দেশ্যে তিনি সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব এই দুনিয়া ত্যাগ করতে চান তিনি। সম্ভব হলে মে মাসেই মৃত্যুকে বরণের সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। মে মাসের ১০ তারিখ তার মৃত্যুর তারিখ ঠিক হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইচ্ছাপূরণে সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে অবস্থিত একটি স্বেচ্ছামৃত্যু সংস্থার সঙ্গে চুক্তিও করেছেন তিনি। যেখানে তিনি শেষ নিদ্রায় যাবেন সেই স্থানটি সুইজারল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে ফ্রান্স-জার্মান সীমান্তের কাছে।

অস্ট্রেলিয়ায় যেহেতু স্বেচ্ছামৃত্যুর আইনি স্বীকৃতি নেই। সেই কারণেই তার সুইজারল্যান্ডে যাওয়া।

সংবাদমাধ্যমকে এই বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করতে সেই স্থানটিই তার বিশেষ পছন্দের। এবিসি চ্যানেল’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে এতগুলো বছর পাওয়ার জন্য নিজেরই অনুশোচনা হচ্ছে। অসুখী এই জীবন আর না রাখাই শ্রেয়।’

অবশ্য মৃত্যু তার জন্য বিশেষ কোনো দুঃখের বিষয় নয় বলেই মনে করেন ড. ডেভিড। বরং মৃত্যুর কোনো প্রতিকার নেই বলে তার যত দু:খ।

এই বিজ্ঞানীর মতে, তার মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য নাগরিকত্বের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সরকারের উচিত আত্মহত্যা করার আইনগত অধিকারও দেওয়া।

গত দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে একবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন প্রবীণ এই বিজ্ঞানী। সেবার অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শতবর্ষীয়ান হওয়ার কারণে ডেভিডকে অবসরে পাঠানোর পর তা বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্থান পায়।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে গবেষণা সহযোগী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কাজ করার পর ডেভিডকে কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০২ বছর বয়স হওয়ার কারণে তাকে আর শারীরিকভাবে যোগ্য মনে করা হচ্ছে না। তাই তাকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বাড়িতে বসে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হলে তিনি এর তীব্র বিরোধিতা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েক মাস আইনি লড়াই পর্যন্ত চালিয়েছেন ডেভিড। সেসময় বিশ্বের অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।

সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন ডেভিড। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েই তাকে কাজ করার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে জীবন যুদ্ধ আর সংগ্রামে ক্লান্ত ড. ডেভিড গুডল এখন শান্তি চান.. চির শান্তি।

বিডিপ্রেস/আরজে