BDpress

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নীলফামারীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নীলফামারীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
নীলফামারীতে কালবৈশাখী ঝড়ে সাতজন নিহত ও দেড় শতাধিক আহতসহ ফসল এবং বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টা থেকে আধাঘণ্টা ব্যাপী চলা এই ঝড়ে ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমির উঠতি বোরো ধান, ভুট্টা, বাদাম ও মরিচখেত নষ্ট হয়েছে। ঝড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে পড়েছে। এ ছাড়াও মৌসুমী ফল আম ও লিচু ঝড়ে পড়েছে।

ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার জমির চারশ মণ উঠতি বোরো ধান আর নেই। কালবৈশাখী ঝড় আমাদের পথে বসিয়ে দিল।

ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর ঝুনাগাছ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আমার ৭ বিঘা জমির উঠতি বোরো ধানের কিছুই নেই। জমিতে শুধু ধানের গাছ। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নিবো।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে এই ইউনিয়নের ২৫০ হেক্টর রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা ধার-দেনা করে ধান চাষ করায় এখন তাদের মাথার হাত পড়েছে। অনেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। এছাড়াও ভুট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন শস্যের ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। টিনের ঘরগুলো দিয়ে সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে।

জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষক আবু মুছা বলেন, আমার কয়েক বিঘা জমির বোরো ধান হারিয়ে গেল। এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, গতকালের কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার ডোমার উপজেলার নয়টি, ডিমলা উপজেলার তিনটি ও জলঢাকা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নসহ ২২ ইউনিয়নের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১৭ হাজার ৭০৫ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ২৯৮ হেক্টর জমির উঠতি বোরো ধান , ৯১ হেক্টর জমির আউশ ধান , এক হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমির পাট , ১২০ হেক্টর জমির বাদাম , ৪৭৮ হেক্টর জমির ভুট্টা , ২১৭ হেক্টর জমির শাক-সবজি , ২৩ হেক্টর জমির মরিচ ও ৩ হেক্টর জমির মুগ ডালের ক্ষতি হয়েছে ।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সমূহসহ ও নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার করে টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, জমি থেকে ধান ঘরে তোলার সময় এই কালবৈশাখী সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে।

নীলফামারী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, কালবৈশাখীর কারণে জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে উঠতি বোরো ধানের ক্ষতি এলাকার কৃষকদের কোমড় ভেঙে দিয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা সরকারিভাবে চেষ্টা করব।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নীলফামারীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি


কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নীলফামারীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার জমির চারশ মণ উঠতি বোরো ধান আর নেই। কালবৈশাখী ঝড় আমাদের পথে বসিয়ে দিল।

ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর ঝুনাগাছ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আমার ৭ বিঘা জমির উঠতি বোরো ধানের কিছুই নেই। জমিতে শুধু ধানের গাছ। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নিবো।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে এই ইউনিয়নের ২৫০ হেক্টর রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা ধার-দেনা করে ধান চাষ করায় এখন তাদের মাথার হাত পড়েছে। অনেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। এছাড়াও ভুট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন শস্যের ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। টিনের ঘরগুলো দিয়ে সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে।

জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষক আবু মুছা বলেন, আমার কয়েক বিঘা জমির বোরো ধান হারিয়ে গেল। এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, গতকালের কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার ডোমার উপজেলার নয়টি, ডিমলা উপজেলার তিনটি ও জলঢাকা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নসহ ২২ ইউনিয়নের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১৭ হাজার ৭০৫ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ২৯৮ হেক্টর জমির উঠতি বোরো ধান , ৯১ হেক্টর জমির আউশ ধান , এক হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমির পাট , ১২০ হেক্টর জমির বাদাম , ৪৭৮ হেক্টর জমির ভুট্টা , ২১৭ হেক্টর জমির শাক-সবজি , ২৩ হেক্টর জমির মরিচ ও ৩ হেক্টর জমির মুগ ডালের ক্ষতি হয়েছে ।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সমূহসহ ও নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার করে টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, জমি থেকে ধান ঘরে তোলার সময় এই কালবৈশাখী সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে।

নীলফামারী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, কালবৈশাখীর কারণে জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে উঠতি বোরো ধানের ক্ষতি এলাকার কৃষকদের কোমড় ভেঙে দিয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা সরকারিভাবে চেষ্টা করব।

বিডিপ্রেস/আরজে