BDpress

ইমামের মাথায় মল, বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিবাদ

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
ইমামের মাথায় মল, বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিবাদ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া ইসলামিয় দারুস সুন্নাহ মাদরাসার সুপার ও নেছারবাগ বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম আবু হানিফার (৫৫) মাথায় মল ঢেলে লাঞ্ছিতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টিতে ভিজে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ উপজেলা ছাত্র হিজবুল্লাহ ও পৌরশাখার ব্যানারে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখা সভাপতি নাসিরউদ্দিন রোকন ডাকুয়ার সভাপতিত্বে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ও মসজিদের ইমামকে অপমান-লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে, বুধবার সকালে ফরহাদ হোসেন (১৫) নামে এ মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ফরহাদ রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া এলাকা ফারুকের ছেলে।

এর আগে গত রোববার রাতে এই মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলো- মো. মিনজু ও বেল্লাল হোসেন। তবে ঘটনার পর ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মূলহোতা ও মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর খন্দকার ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। মামলার পর থেকে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। সব আসামি গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন এইচ এম মজিবর ও জাহাঙ্গীর খন্দকার। এই নির্বাচনে ইমাম আবু হানিফা সভাপতি প্রার্থী এইচ এম মজিবর রহমানের পক্ষ নেন। নির্বাচনে বিজয়ী হন এইচ এম মজিবর রহমান। পাশাপাশি সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার হেরে যায়। এ নিয়ে আবু হানিফার সঙ্গে জাহাঙ্গীর খন্দকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এতে জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার সহযোগীরা ক্ষোভে পড়ে বিভিন্ন সময় ইমাম আবু হানিফাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। গত শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আবু হানিফা মসজিদ থেকে বের হলে তার পথরোধ করে পরাজিত প্রার্থী ও তার লোকজন।

এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকারের এক সহযোগী ইমাম আবু হানিফার হাত ধরে ফেলে। এ সময় ইমন নামে তার আরেক সহযোগী হাঁড়িভর্তি মল-মূত্র এনে ইমাম আবু হানিফার মাথায় ঢেলে দেয়। এতে উল্লাসে ফেটে পড়ে দৃশ্যটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা। সেই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে সর্বত্র।

এদিকে, সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ও মসজিদের ইমামকে অপমান-লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন আলেম সমাজ সহ স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় ইমাম আবু হানিফা বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলো- জাকির হোসেন জাকারিয়া, মো. মাসুম সরদার, মো. এনামুল হাওলাদার, মো. রেজাউল খান, মো. মিনজু, জাহাঙ্গীর খন্দকার, সোহেল খন্দকার ও মিরাজ হোসেন। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

ইমামের মাথায় মল, বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিবাদ


ইমামের মাথায় মল, বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিবাদ

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টিতে ভিজে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ উপজেলা ছাত্র হিজবুল্লাহ ও পৌরশাখার ব্যানারে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখা সভাপতি নাসিরউদ্দিন রোকন ডাকুয়ার সভাপতিত্বে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ও মসজিদের ইমামকে অপমান-লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে, বুধবার সকালে ফরহাদ হোসেন (১৫) নামে এ মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ফরহাদ রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া এলাকা ফারুকের ছেলে।

এর আগে গত রোববার রাতে এই মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলো- মো. মিনজু ও বেল্লাল হোসেন। তবে ঘটনার পর ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মূলহোতা ও মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর খন্দকার ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। মামলার পর থেকে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। সব আসামি গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন এইচ এম মজিবর ও জাহাঙ্গীর খন্দকার। এই নির্বাচনে ইমাম আবু হানিফা সভাপতি প্রার্থী এইচ এম মজিবর রহমানের পক্ষ নেন। নির্বাচনে বিজয়ী হন এইচ এম মজিবর রহমান। পাশাপাশি সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার হেরে যায়। এ নিয়ে আবু হানিফার সঙ্গে জাহাঙ্গীর খন্দকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এতে জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার সহযোগীরা ক্ষোভে পড়ে বিভিন্ন সময় ইমাম আবু হানিফাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। গত শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আবু হানিফা মসজিদ থেকে বের হলে তার পথরোধ করে পরাজিত প্রার্থী ও তার লোকজন।

এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকারের এক সহযোগী ইমাম আবু হানিফার হাত ধরে ফেলে। এ সময় ইমন নামে তার আরেক সহযোগী হাঁড়িভর্তি মল-মূত্র এনে ইমাম আবু হানিফার মাথায় ঢেলে দেয়। এতে উল্লাসে ফেটে পড়ে দৃশ্যটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা। সেই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রতিবাদের ঝড় বইতে শুরু করে সর্বত্র।

এদিকে, সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ও মসজিদের ইমামকে অপমান-লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন আলেম সমাজ সহ স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় ইমাম আবু হানিফা বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলো- জাকির হোসেন জাকারিয়া, মো. মাসুম সরদার, মো. এনামুল হাওলাদার, মো. রেজাউল খান, মো. মিনজু, জাহাঙ্গীর খন্দকার, সোহেল খন্দকার ও মিরাজ হোসেন। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিডিপ্রেস/আরজে