BDpress

শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে: সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে: সাঈদ খোকন
দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছরে শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, বিগত বছর গুলোতে উন্নয়নের রেশিও অনুযায়ী গত তিন বছরে যা করেছি বিগত ১০ বছরেও তা হয়নি। এই তিন বছরে শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

বুধবার দুপুরে নগর ভবনে মেয়রের তিন বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমাদের দায়িত্বভার গ্রহণকালে করপোরেশনের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ সড়ক ভাঙা ছিল। এখন ৮৫-৯০ ভাগ সড়ক ভালো। সড়কে ১০ শতাংশ বাতি ছিল না। এখন ৯৯ শতাংশ বাতি আলোতে ঝলমল করছে।  

তিনি আরও বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে আমরা তিন বছরে নগরীর ভাঙাচোরা বেহাল রাস্তা, ফুটপাথ, নর্দমা সংস্কার ও মেরামত, এলইডি বাতি সংযোজন, পাবলিক টয়লেট, পার্ক, খেলার মাঠ, কবরস্থান, এসটিএস নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রাজস্ব উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ, সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতন, সম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ডিএসসিসি’র সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা এনেছি। নগরবাসীর আস্থা অর্জন করেছি।

আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে করপোরেশন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে নানা ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। 

রাস্তা, ফুটপাথ, নর্দমার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে তিন বছরে ৪৭৩ দশমিক ২৪ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন এবং ১১২ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়ন, ৪৬৯ দশকি ৯৬ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও ১৯টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। ১০টি এসটিএস নির্মাণ ও ১৩টির কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০টি করে ৫ হগাজার ৭০০টি ওয়েস্ট বিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব বিনের অধিকাংশেই চুরি হয়ে গেছে।

যানজট নিরসনে মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টি বাস-বে-বাস স্টপেজ কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ৪টি ইন্টারসেকশন উন্নয়নসহ ৭১টি স্বচ্ছ পুলিশ বক্স নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময় শান্তিনগরে হাঁটু সমান জলাবদ্ধতা হতো। বর্তমানে সেখানে কোনও জলাবদ্ধতা হচ্ছে না। শহরের অন্যান্য এলাকাতেও যেন পানি জমে না থাকে সেজন্য ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে এ বছর প্রায় ৪০০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া নাজিমউদ্দিন রোডে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শেষের পথে রয়েছে। পাশাপাশি ৮টি ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। নগরীর ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন করা শুরু করা হয়েছে। নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য ৯টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন করে আরও ৭টি নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। মান্ডা খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, উন্নয়ন কাজে গতি আনার জন্য অত্যাধুনিক কোল্ড মিলিং মেশিন এবং জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া ৬টি কমিউনিটি সেন্টার ২১টি ব্যায়ামাগার ও ১২টি সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের আধুনিকায়নের কাজ গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৫০০ বর্গফুট আয়তন পর্যন্ত ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনে ৯টি ডিজিটালাইজড এলইডি বিলবোর্ড ও ৯৫০টি বক্স এলইডি বোর্ড বসানো হয়েছে।

তিনি জানান, ৪৫নং ওয়ার্ডে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত ৬তলা বিশিষ্ট মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সেন্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৬টি কমিউনিটি সেন্টারের আধুনিকায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজিমপুর কবরস্থানে ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ’ নামে আধুনিক মসজিদ ও অফিস নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া করপোরেশনের আওতাধীন ২১টি ব্যায়ামাগার ও ১২টি সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর করপোরেশন এলাকায় ১৩টি সরকারি ও ১৯টি বেসরকারি কাঁচাবাজারকে ফরমালিনমুক্ত করা হয়েছে।  এছাড়া ২৮টি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে ২৫টি জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি শীর্ষক সেমিনার করে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে: সাঈদ খোকন


শহরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে: সাঈদ খোকন

বুধবার দুপুরে নগর ভবনে মেয়রের তিন বছর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমাদের দায়িত্বভার গ্রহণকালে করপোরেশনের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ সড়ক ভাঙা ছিল। এখন ৮৫-৯০ ভাগ সড়ক ভালো। সড়কে ১০ শতাংশ বাতি ছিল না। এখন ৯৯ শতাংশ বাতি আলোতে ঝলমল করছে।  

তিনি আরও বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে আমরা তিন বছরে নগরীর ভাঙাচোরা বেহাল রাস্তা, ফুটপাথ, নর্দমা সংস্কার ও মেরামত, এলইডি বাতি সংযোজন, পাবলিক টয়লেট, পার্ক, খেলার মাঠ, কবরস্থান, এসটিএস নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রাজস্ব উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ, সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতন, সম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ডিএসসিসি’র সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা এনেছি। নগরবাসীর আস্থা অর্জন করেছি।

আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে করপোরেশন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে নানা ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। 

রাস্তা, ফুটপাথ, নর্দমার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে তিন বছরে ৪৭৩ দশমিক ২৪ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন এবং ১১২ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়ন, ৪৬৯ দশকি ৯৬ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও ১৯টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। ১০টি এসটিএস নির্মাণ ও ১৩টির কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০টি করে ৫ হগাজার ৭০০টি ওয়েস্ট বিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব বিনের অধিকাংশেই চুরি হয়ে গেছে।

যানজট নিরসনে মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টি বাস-বে-বাস স্টপেজ কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ৪টি ইন্টারসেকশন উন্নয়নসহ ৭১টি স্বচ্ছ পুলিশ বক্স নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময় শান্তিনগরে হাঁটু সমান জলাবদ্ধতা হতো। বর্তমানে সেখানে কোনও জলাবদ্ধতা হচ্ছে না। শহরের অন্যান্য এলাকাতেও যেন পানি জমে না থাকে সেজন্য ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে এ বছর প্রায় ৪০০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া নাজিমউদ্দিন রোডে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শেষের পথে রয়েছে। পাশাপাশি ৮টি ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। নগরীর ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন করা শুরু করা হয়েছে। নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য ৯টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন করে আরও ৭টি নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। মান্ডা খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, উন্নয়ন কাজে গতি আনার জন্য অত্যাধুনিক কোল্ড মিলিং মেশিন এবং জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া ৬টি কমিউনিটি সেন্টার ২১টি ব্যায়ামাগার ও ১২টি সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের আধুনিকায়নের কাজ গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৫০০ বর্গফুট আয়তন পর্যন্ত ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনে ৯টি ডিজিটালাইজড এলইডি বিলবোর্ড ও ৯৫০টি বক্স এলইডি বোর্ড বসানো হয়েছে।

তিনি জানান, ৪৫নং ওয়ার্ডে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত ৬তলা বিশিষ্ট মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সেন্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৬টি কমিউনিটি সেন্টারের আধুনিকায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজিমপুর কবরস্থানে ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ’ নামে আধুনিক মসজিদ ও অফিস নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া করপোরেশনের আওতাধীন ২১টি ব্যায়ামাগার ও ১২টি সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর করপোরেশন এলাকায় ১৩টি সরকারি ও ১৯টি বেসরকারি কাঁচাবাজারকে ফরমালিনমুক্ত করা হয়েছে।  এছাড়া ২৮টি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে ২৫টি জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি শীর্ষক সেমিনার করে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।

বিডিপ্রেস/আরজে