BDpress

বেগুনের কেজি ১০ টাকা

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
বেগুনের কেজি ১০ টাকা
রোজা শুরুর এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর বাজারে এক কেজি বেগুনের দাম ছিল ৪০ টাকা। অথচ রোজার দুই দিন আগে সেই বেগুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা হয়ে যায়।

রোজার আগের দিন বেগুনের বাজারে গিয়ে দেখা যায় কেজি ৬০ টাকা। রোজার প্রথম দিন সেই বেগুনের কেজি হয়ে যায় ৭০ টাকা। পর্যায়ক্রমে পঞ্চম রোজার দিন বেগুনের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। অথচ ফরিদপুরে সেই বেগুনের কেজি ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে হতাশ স্থানীয় কৃষকরা।

ফরিদপুরের বাজার ঘুরে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার এই অঞ্চলে বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। নিজ জেলার চাহিদা পূরণ করে বেগুন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বেগুনের বাম্পার ফলন হলেও অন্যান্য বাজারের তুলনায় কম দাম পেয়ে হতাশ চাষিরা।

বেগুনের মাঠ ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৌলডুবী, মাঠ শৌলডুবী, আবুলের মোড়, বাধানোঘাট এলাকায় গত ১৫ বছর ধরে বেগুন চাষ করছেন চাষিরা। অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার প্রত্যেকে সর্বনিম্ন ৫ কাঠা থেকে সর্বোচ্চ দুই বিঘা জমিতে বেগুনের চাষ করছেন। এসব এলাকার যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু চোখে পড়ে বেগুনের খেত। এই অঞ্চলের চাষিরা বিটি, হাইব্রিড, আইরেট, সিন্দুরী, সাদা, লাফা জাতের বেগুন চাষ করেন। এর মধ্যে ফলন ভালো হওয়ায় ইরি ও বিটি বেগুন চাষাবাদ বেশি করেন চাষিরা।

কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৌলডুবী গ্রামের বেগুন চাষি আবুল বাশার বলেন, গত তিন বছর ধরে ৪০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে বেগুন চাষাবাদ করছি। প্রতি বছর লিজের জন্য জমি মালিককে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। বেগুন চাষের টাকায় আমার সংসার ভালোভাবে চলছে। কিন্তু এবার বেগুনের দাম কম। শুনেছি, অন্য জায়গায় বেগুনের দাম বেশি। কিন্তু আমাগো বাজারে বেগুনের কেজি ১০ টাকা। তাই কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে বেগুন।

শৌলডুবী গ্রামের আরেক বেগুন চাষি শাহেদ আলী মোল্লা জানান, তার এক বিঘা জমিতে বেগুনের খেত রয়েছে। এবছর বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু দাম কম। তাই এবার লাভ হবে না। প্রতি মণ বেগুন পাইকারি ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাধানোঘাট গ্রামের বেগুন চাষি জামাল উদ্দিন বলেন, ১০ কাঠা জমিতে এবছর বেগুন চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম ভালো পাচ্ছি না। ভেবেছি রোজার সময় দাম বেশি পাবো। কিন্তু দাম বাড়েনি। ফলে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজিতে বেগুন বিক্রি করতে হচ্ছে।

ভাষানচর গ্রামের শাহজাহান খাঁ, মারুফ শিকদার, আজিজ মোল্লা জানান, তুলনামূলকভাবে অন্য ফসলের চেয়ে বেগুন চাষে লাভ বেশি হয়। এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। মৌসুমে কয়েক ধাপে বেগুন পাওয়া যায় সর্বোচ্চ বিঘা প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ মণ। কিন্তু এবার বাজারে বেগুনের দাম কম।

সদরপুরের বেগুনের হাটে আসা ব্যবসায়ী সালাম শেখ বলেন, প্রতি বছর সদরপুরে বেগুন কিনতে আসি। এবছর একটু দাম কম। ফলন ভালো হয়েছে। দাম একটু কম হওয়ায় কৃষকরা এবছর তেমন লাভবান হবে না। এখন বেগুনের মণ কিনতেছি ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায়।

তিনি বলেন, এখান থেকে বেগুন কিনে ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ী, দোহার বাজার, নারিশা বাজার, কার্তিকপুর, শ্রীনগর, ভাঙ্গা, মাদারীপুর, বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করি। অন্যান্য জায়গায় বেগুনের দাম বেশি। কিন্তু এখানে কম। তাই কৃষকরা হতাশ।

সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদুল মিরাজ জানান, এবছর উপজেলায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবছর বেশি জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সরকারি সহযোগিতা করা হয় কৃষকদের। এ অঞ্চলের কৃষকরা বেগুন চাষে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটিয়েছে। যা দেখে অন্য জেলার কৃষকরা বেগুন চাষে ঝুঁকছেন। এবছর জেলায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে দাম একটু কম পাওয়ায় চাষিদের মন খারাপ।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

বেগুনের কেজি ১০ টাকা


বেগুনের কেজি ১০ টাকা

রোজার আগের দিন বেগুনের বাজারে গিয়ে দেখা যায় কেজি ৬০ টাকা। রোজার প্রথম দিন সেই বেগুনের কেজি হয়ে যায় ৭০ টাকা। পর্যায়ক্রমে পঞ্চম রোজার দিন বেগুনের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। অথচ ফরিদপুরে সেই বেগুনের কেজি ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে হতাশ স্থানীয় কৃষকরা।

ফরিদপুরের বাজার ঘুরে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার এই অঞ্চলে বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। নিজ জেলার চাহিদা পূরণ করে বেগুন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বেগুনের বাম্পার ফলন হলেও অন্যান্য বাজারের তুলনায় কম দাম পেয়ে হতাশ চাষিরা।

বেগুনের মাঠ ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৌলডুবী, মাঠ শৌলডুবী, আবুলের মোড়, বাধানোঘাট এলাকায় গত ১৫ বছর ধরে বেগুন চাষ করছেন চাষিরা। অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার প্রত্যেকে সর্বনিম্ন ৫ কাঠা থেকে সর্বোচ্চ দুই বিঘা জমিতে বেগুনের চাষ করছেন। এসব এলাকার যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু চোখে পড়ে বেগুনের খেত। এই অঞ্চলের চাষিরা বিটি, হাইব্রিড, আইরেট, সিন্দুরী, সাদা, লাফা জাতের বেগুন চাষ করেন। এর মধ্যে ফলন ভালো হওয়ায় ইরি ও বিটি বেগুন চাষাবাদ বেশি করেন চাষিরা।

কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৌলডুবী গ্রামের বেগুন চাষি আবুল বাশার বলেন, গত তিন বছর ধরে ৪০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে বেগুন চাষাবাদ করছি। প্রতি বছর লিজের জন্য জমি মালিককে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। বেগুন চাষের টাকায় আমার সংসার ভালোভাবে চলছে। কিন্তু এবার বেগুনের দাম কম। শুনেছি, অন্য জায়গায় বেগুনের দাম বেশি। কিন্তু আমাগো বাজারে বেগুনের কেজি ১০ টাকা। তাই কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে বেগুন।

শৌলডুবী গ্রামের আরেক বেগুন চাষি শাহেদ আলী মোল্লা জানান, তার এক বিঘা জমিতে বেগুনের খেত রয়েছে। এবছর বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু দাম কম। তাই এবার লাভ হবে না। প্রতি মণ বেগুন পাইকারি ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাধানোঘাট গ্রামের বেগুন চাষি জামাল উদ্দিন বলেন, ১০ কাঠা জমিতে এবছর বেগুন চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম ভালো পাচ্ছি না। ভেবেছি রোজার সময় দাম বেশি পাবো। কিন্তু দাম বাড়েনি। ফলে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজিতে বেগুন বিক্রি করতে হচ্ছে।

ভাষানচর গ্রামের শাহজাহান খাঁ, মারুফ শিকদার, আজিজ মোল্লা জানান, তুলনামূলকভাবে অন্য ফসলের চেয়ে বেগুন চাষে লাভ বেশি হয়। এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। মৌসুমে কয়েক ধাপে বেগুন পাওয়া যায় সর্বোচ্চ বিঘা প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ মণ। কিন্তু এবার বাজারে বেগুনের দাম কম।

সদরপুরের বেগুনের হাটে আসা ব্যবসায়ী সালাম শেখ বলেন, প্রতি বছর সদরপুরে বেগুন কিনতে আসি। এবছর একটু দাম কম। ফলন ভালো হয়েছে। দাম একটু কম হওয়ায় কৃষকরা এবছর তেমন লাভবান হবে না। এখন বেগুনের মণ কিনতেছি ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায়।

তিনি বলেন, এখান থেকে বেগুন কিনে ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ী, দোহার বাজার, নারিশা বাজার, কার্তিকপুর, শ্রীনগর, ভাঙ্গা, মাদারীপুর, বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করি। অন্যান্য জায়গায় বেগুনের দাম বেশি। কিন্তু এখানে কম। তাই কৃষকরা হতাশ।

সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদুল মিরাজ জানান, এবছর উপজেলায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবছর বেশি জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সরকারি সহযোগিতা করা হয় কৃষকদের। এ অঞ্চলের কৃষকরা বেগুন চাষে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটিয়েছে। যা দেখে অন্য জেলার কৃষকরা বেগুন চাষে ঝুঁকছেন। এবছর জেলায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে দাম একটু কম পাওয়ায় চাষিদের মন খারাপ।

বিডিপ্রেস/আরজে