BDpress

‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবে না। সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারবেন এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, এতদিন আমরা বলে আসছি সেনা মোতায়েনের জন্য, অথচ ইসি বলেছে যে, না সেনা মোতায়েন করা যাবে না। এখন হঠাৎ করেই তারা বললেন জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবেন। জানি না কী তাদের দূরভিসন্ধি, কী তাদের ষড়যন্ত্র?

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন : সরকারের ভূমিকা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম এ সভার আয়োজন করে।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, কীভাবে সেনা মোতায়েন করবেন? একজন মহিলা গেল ধানের শীষে ভোট দিতে, তার ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে সেখানে নৌকায় ছাপ দিয়ে ব্যালট বাক্সের মধ্যে ভরে দিল। সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরেও যদি এই ঘটনা ঘটে তাহলে সেনা মোতায়েনের তো কোনো অর্থ থাকবে না।

তিনি বলেন, সেনা মোতায়েন করতে হলে, তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে। যাতে করে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশের ৮০ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তারা অসহায়, কিন্তু ভোটের ব্যাপারে সচেতন। তারা ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। গ্রামের ৮০/৯০ বছরের বৃদ্ধকে দেখেছি বুড়িমাকে দেখেছি, দাদিকে দেখেছি তারা যেমন করে হোক ভোট কেন্দ্রে আসতে আগ্রহী থাকেন। আজকে সেই আগ্রহ চলে গেছে।

মওদুদ বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে না এমন সরকারই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারবে। রাজনৈতিক স্বার্থ থাকলে সেই সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। সেই নির্বাচন যাতে বাংলাদেশে করা না যায় সেজন্য আমদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদের ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কারণ এখন আমাদের বড় উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, কে ক্ষমতায় গেল সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনা।

২০১৮-২০১৯ প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, গতকালও বলেছি ইটস এ বিগ বিউটিফুল ব্লু বেলুন। এতে সাধারণ মানুষের কোনো পরিবর্তন হবে না। গরীবরা গরীবই থেকে যাবে, বড় লোক আরও বড় লোক হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বিরোধী দলকে নির্মূল। বিরোধী দলকে নির্মূলের জন্য নেতাদের তালিকা করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি হত্যার অনুসন্ধান করব। বাংলাদেশে প্রতিটা হত্যার বিচার করা হবে। দেশের মানুষ যাকে মাদক সম্রাট হিসেবে চেনে তাকে সৌদি আরবে যেতে দেয়া হয়েছে। যাওয়ার আগে তিনি সেলফিও তুলেছেন।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান রানার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় সদস্যে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না’


‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না’

তিনি বলেন, এতদিন আমরা বলে আসছি সেনা মোতায়েনের জন্য, অথচ ইসি বলেছে যে, না সেনা মোতায়েন করা যাবে না। এখন হঠাৎ করেই তারা বললেন জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবেন। জানি না কী তাদের দূরভিসন্ধি, কী তাদের ষড়যন্ত্র?

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন : সরকারের ভূমিকা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম এ সভার আয়োজন করে।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, কীভাবে সেনা মোতায়েন করবেন? একজন মহিলা গেল ধানের শীষে ভোট দিতে, তার ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে সেখানে নৌকায় ছাপ দিয়ে ব্যালট বাক্সের মধ্যে ভরে দিল। সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরেও যদি এই ঘটনা ঘটে তাহলে সেনা মোতায়েনের তো কোনো অর্থ থাকবে না।

তিনি বলেন, সেনা মোতায়েন করতে হলে, তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে। যাতে করে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশের ৮০ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তারা অসহায়, কিন্তু ভোটের ব্যাপারে সচেতন। তারা ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। গ্রামের ৮০/৯০ বছরের বৃদ্ধকে দেখেছি বুড়িমাকে দেখেছি, দাদিকে দেখেছি তারা যেমন করে হোক ভোট কেন্দ্রে আসতে আগ্রহী থাকেন। আজকে সেই আগ্রহ চলে গেছে।

মওদুদ বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে না এমন সরকারই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারবে। রাজনৈতিক স্বার্থ থাকলে সেই সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। সেই নির্বাচন যাতে বাংলাদেশে করা না যায় সেজন্য আমদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদের ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কারণ এখন আমাদের বড় উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, কে ক্ষমতায় গেল সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনা।

২০১৮-২০১৯ প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, গতকালও বলেছি ইটস এ বিগ বিউটিফুল ব্লু বেলুন। এতে সাধারণ মানুষের কোনো পরিবর্তন হবে না। গরীবরা গরীবই থেকে যাবে, বড় লোক আরও বড় লোক হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বিরোধী দলকে নির্মূল। বিরোধী দলকে নির্মূলের জন্য নেতাদের তালিকা করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি হত্যার অনুসন্ধান করব। বাংলাদেশে প্রতিটা হত্যার বিচার করা হবে। দেশের মানুষ যাকে মাদক সম্রাট হিসেবে চেনে তাকে সৌদি আরবে যেতে দেয়া হয়েছে। যাওয়ার আগে তিনি সেলফিও তুলেছেন।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান রানার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় সদস্যে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

বিডিপ্রেস/আরজে