BDpress

মানসিক অনুভূতির জন্য দরকার মানবতা

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
মানসিক অনুভূতির জন্য দরকার মানবতা
রহমান মৃধা ।। সেদিন ছিল রোববার। পরিবারের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ন দিন, দিনটির জন্য অনেক দিন ধরে নানা ধরনের আয়োজন চলছে। বিশেষ বিশেষ বন্ধুদের দাওয়াত করা, ক্যাথলিক প্রিস্ট বা ধর্মযাজক নিয়োগ করা, ক্যাথলিক গির্জা বাছাই ও তা নির্ধারণ করা।

এমন কি রেস্টুরেন্ট পছন্দ করা, বিয়ের কাপড় অর্ডার দিয়ে তৈরি করা, এক বিশাল ব্যাপার শুধু এক পরিবারের জন্য নয়, উভয় পরিবারের জন্যই।

কাঙ্ক্ষিত সময় এসেছে। ইতিমধ্যেই গির্জায় লোক জড়ো হয়েছে। আজ এই যুগলের বিয়ে হবে। পরিবারের জন্য ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে খুবিই গুরুত্বপূর্ণ।

ভাগ্য সহায় বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত করেছিল আমাকে বলেই, নতুন পরিবেশে অন্য ধর্মের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে সাক্ষী হওয়ার সু্যোগ হয়েছিল ক্যাথলিক ধর্মের বিয়ের সেই অনুষ্ঠানে।

একজন ক্যাথলিক ধর্মযাজক বিয়ে পড়াতে আসলেন। ক্যাথলিক প্রিস্ট নিজেরা বিয়ে করেন না তবে অন্যের বিয়ে দেন।

তিনি বেশ সুন্দর করে উপস্থাপন করলেন। ভালোবাসার উপর বর্ণনা দিতেই বললেন, ”জীবনে একবার এক নারীকে ভালোবেসেছি এবং সেটাই ছিল প্রথম এবং শেষ”।

সবাই অবাক! বলে কি এই প্রিস্ট? কিভাবে সে এমনটি করতে পেরেছিল? তারপরও কিভাবে সে প্রিস্ট হয়েছেন?

মুহুর্তের মধ্যে তাঁর কথা শেষ না হতেই একটি হইচই এর সঙ্গে পরিবেশটি ভয়ংকর মোড় নিতেই তিনি তাঁর কথা সমাপ্ত করতে শুরু করলেন।

এমন করে- “তিনি ছিলেন আমার মা, শুধু মাকে ভালবেসেছি” তিনিই ছিলেন আমার প্রথম ও শেষ নারী যাকে আমি ভালবেসেছি।

সবাই চুপ মেরে গেলেন এবং বেশ লজ্জার অনুভূতি উদয় হল। প্রিস্টের কথা শেষ না হতেই সবার এমনটি ধারনা হওয়া মুহর্তটি পালটে দিলো এক নেগেটিভ চিন্তা দিয়ে।

এমনটি কিন্তু সচারাচর ঘটে। কথা শেষ না হতেই অনেকেই আমরা সমাধানে চলে যাই।

আমার ভাবনাই তখন শুধু একটিই চিন্তা ছিল, তা হলো ক্যাথলিক প্রিস্ট জীবনে বিয়ে করেননি এবং তিনি জানেন না বিয়ের জীবন সম্পর্কে।

সংসার করা এক সঙ্গে থাকা, একটি পরিবার চালানো, ছেলে-মেয়ের ওপর দায়িত্বকর্ত্যব্য কী?

অথচ দিব্যি আদেশ উপদেশ দিয়ে গেলেন কিভাবে কি করতে হবে, না হবে তার ওপর। জানা অজানার ওপর! তিনি তাঁর “লারনিং বাই টিচিং” এর অভিজ্ঞতা থেকে সব বলে গেলেন।

দিনটির কথা মনে পড়ে গেলো আজ অনেক বছর পরে। কারণ আজ যেতে হবে এক ভিন্ন ধরনের নতুন দাওয়াতে।

আজও পড়েছে রোববার। এইদিনে সচারচর ধর্ম ও অনুষ্ঠানগুলো পালন করা হয়। এমনটি করে আজকের দিনে পরিবারের প্রথম ছেলের বয়স ৯ মাস।

বাপ্তিস্ম করতে হবে (বাপ্তিস্ম মানে আমাদের মুসলমানদের জন্য আকিকা করা বলা হয়)।

প্রিস্ট, বাপ্তিস্ম (আকিকা) করানো শুরু করলেন এবং জীবন চলার পথে বাবা-মার দায়িত্বকর্তব্য, ভালোবাসার ওপর বর্ণনা দেওয়া থেকে সবই সুন্দর করে বলে গেলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এই ক্যাথলিক প্রিস্ট নিজে বিয়ে করননি অথচ দিব্বি তাঁর কাজ তিনি শেষ করে গেলেন।

হল্যান্ডের ক্যাথলিক প্রিস্ট ভাংগা ভাংগা সুইডিস ভাসাতে বাইবেল পড়ে তার বর্ণনা দিলেন এবং সুন্দর করে অনুষ্ঠান শেষ করলেন।

হঠাৎ ইচ্ছে হলো তার কাছ থেকে জানতে কেনো তিনি হল্যান্ড থেকে সুইডেনে এসে এ কাজ করছেন?

বললেন হল্যান্ডে জেলখানা আর গির্জা একে একে বন্ধের পথে। কারণ কেউ এখন গির্জায় এবং জেলে যেতে খুব একটা আগ্রহ না দেখানোর কারণে এ পেশার লোকজন ইউরোপের অন্য দেশে কাজ করছে।

এই কারণে অর্থাৎ হল্যান্ডে চাকরি না থাকায় তিনি এখন সুইডেনে। কিছুদিন আগে লিখেছিলাম হল্যান্ডের ওপর কিছু কথা, যেমন তাদের শিক্ষার হার শতভাগ। ক্রাইম নেই বললেই চলে এবং তাদের বড় বড় গির্জা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আমাদের দেশে নতুন নতুন জেলখানা এবং মসজিদ তৈরি হচ্ছে। হয়ত লোকসংখা বেশি! জানিনে বাংলাদেশে শিক্ষার বা সুশিক্ষার হার কত!

আমি এবং মরিয়া গতকাল শনিবার এমন একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, অনুষ্ঠান শেষে সুইডিস সামার বুফে (নানা ধরনের ভেজিটেরিয়ান খাবার সঙ্গে মুরগি, স্যামন ফিস, গোমাংস ছিল)।

বিভিন্ন দেশের লোক জড়িত সাথে বিভিন্ন ভাষা। সুন্দরভাবেই আমাদের দিনটি বেশ কেটে গেলো।

লেখাটি শুরু করেছিলাম সুইডেনে হঠাৎ ইটালিতে এসেছি, দিনের শেষে বেশ মনে পড়ছে বাংলাদেশের কথা।

জীবনের ২০ বছর বাংলাদেশে থেকেছি, বাংলাদেশে থাকাকালীন সেই ছোটবেলার দিনগুলো যা এখন অনেক দূরে।

কিন্ত “পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়। ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়” ঘটনাগুলো জড়িয়ে রয়েছে মনের সাথে।

ছোটবেলা বিশেষ করে শীতের সময় মাঝে মধ্যে ধর্মীয় ওয়াজ মহাফিল রাত জেগে শুনেছি। অনেক মৌলভী এবং মাওলানা ধর্মের ওপর ওয়াজ মাহফিলে অনেক উপদেশ মূলত কথা বলতেন তখন, এখনও বলেন নিশ্চিত।

খুবই মনোযোগ দিয়ে শুনতাম এবং ভালোই লাগত। আমাদের বাড়িতে এক হুজুর লজিং থেকে হাইস্কুলের আরবি শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করতেন সঙ্গে আমাদেরকে আরবি শিক্ষা দিতেন।

দেখেছি অনেক সময় তিনি যা বলতেন আমাদেরকে, তিনি করতেন তাঁর উল্টোটা, মানে আমাদের যা বলতেন তিনি নিজে খুব একটা সেটা পালন করতেন না।

ছোট ছিলাম তো, তাই একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম কারণ কী? তো তিনি বলেছিলেন আমি যা করি তা করার দরকার নেই, যা বলি তাই করবে।

মাঝে মাঝে শুনি খবরে, অনেক প্রিস্ট এখানেও বেশ উল্টা পাল্টা কাজ করে, তারাও তো মানুষ!

আজ অনেক দিন পর সুইডেনের ক্যাথলিক প্রিস্টের কথা শোনার পর নতুন এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে কিছু পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো যা শেয়ার না করলেই নয়।

এক মাঘ মাসের শীতের রাতে এক হুজুর সারারাত ওয়াজ করেছেন যৌনতার এবং বিপরীত লিঙ্গের অবৈধ মেলামেশার পরিণতি কী ভয়ংকর হবে তার ওপর।

যেমন জিনা করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে যাবে, ভয়ংকর সাজা পেতে হবে, দোযখে যেতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

ধর্মীয় সভা এবং ওয়াজ শেষে রাত যতটুকু বাকি ঘুমানোর পালা। হুজুরও ঘুমাবেন এক ভদ্রলোকের বাড়িতে।

বাড়িতে ভদ্রলোকের একটি বয়স্ক মেয়ে, মেয়েটিও হুজুরের ওয়াজ রাত জেগে শুনেছে এবং মুগ্ধ হয়েছে।

হুজুরের সেবা যত্নে সে খুব মগ্ন। হঠাৎ হুজুর মেয়েটির সাথে যৌনবিনিময়ের চেষ্টা করতেই মেয়েটি বলেছিল, হুজুর আপনি এ কী করছেন? ছাড়ুন আমাকে!

আপনি বলেছেন জিনা করা মহাপাপ এবং আল্লার আরশ কেঁপে যায়। হুজুর এ কথা শুনে বলেছিল, আরে রাখ তোর কাপাকাপি, আমি তোর সাথে জিনা করলে খাটও কাঁপবে না!

হুজুরের নৈতিক অবনতি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় তাকে পিশাচে পরিণত করেছিল সেদিন।

ডিজিটালের যুগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চলছে প্রতিস্থাপন মানুষের সঙ্গে মেশিন এবং রোবোটের যা আমাদের কর্মের দায়িত্ব নিতে চলেছে।

আবেগপ্রবণ ও মানসিক অনুভূতির ক্ষেত্রে পারবে কি ডিজিটাল গ্রহণ করতে এত বড় দায়িত্ব? আমার জানা নেই।

বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নানা জাতির ধর্ম এবং বিশ্বাসের ওপর আলোচনা দিতে পারে নৈতিকতা এবং মনুষ্যত্বের ওপর নাড়া যা করতে পারে মূল্যবোধের পরিবর্তন।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত এবং আলোচিত শব্দ ভালবাসা এবং ঘৃণা। ভালবাসা ভালবাসার মধ্যে সৃষ্টি হয় আর ঘৃণা সৃষ্টি হয় ঘৃণার মধ্যে দিয়ে।

ঘৃণা নয় এসো ভালবাসি। ভালবাসার অনুভূতি সর্বত্রে এবং সবসময়ের জন্য একই। এমনটি অনুভূতি ও ভালবাসা দূর পরবাস ইতালি থেকে।

রহমান মৃধা, পরিচালক ও পরামর্শক, rahman.Mridha@ownit.nu

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

মানসিক অনুভূতির জন্য দরকার মানবতা


মানসিক অনুভূতির জন্য দরকার মানবতা

এমন কি রেস্টুরেন্ট পছন্দ করা, বিয়ের কাপড় অর্ডার দিয়ে তৈরি করা, এক বিশাল ব্যাপার শুধু এক পরিবারের জন্য নয়, উভয় পরিবারের জন্যই।

কাঙ্ক্ষিত সময় এসেছে। ইতিমধ্যেই গির্জায় লোক জড়ো হয়েছে। আজ এই যুগলের বিয়ে হবে। পরিবারের জন্য ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে খুবিই গুরুত্বপূর্ণ।

ভাগ্য সহায় বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত করেছিল আমাকে বলেই, নতুন পরিবেশে অন্য ধর্মের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে সাক্ষী হওয়ার সু্যোগ হয়েছিল ক্যাথলিক ধর্মের বিয়ের সেই অনুষ্ঠানে।

একজন ক্যাথলিক ধর্মযাজক বিয়ে পড়াতে আসলেন। ক্যাথলিক প্রিস্ট নিজেরা বিয়ে করেন না তবে অন্যের বিয়ে দেন।

তিনি বেশ সুন্দর করে উপস্থাপন করলেন। ভালোবাসার উপর বর্ণনা দিতেই বললেন, ”জীবনে একবার এক নারীকে ভালোবেসেছি এবং সেটাই ছিল প্রথম এবং শেষ”।

সবাই অবাক! বলে কি এই প্রিস্ট? কিভাবে সে এমনটি করতে পেরেছিল? তারপরও কিভাবে সে প্রিস্ট হয়েছেন?

মুহুর্তের মধ্যে তাঁর কথা শেষ না হতেই একটি হইচই এর সঙ্গে পরিবেশটি ভয়ংকর মোড় নিতেই তিনি তাঁর কথা সমাপ্ত করতে শুরু করলেন।

এমন করে- “তিনি ছিলেন আমার মা, শুধু মাকে ভালবেসেছি” তিনিই ছিলেন আমার প্রথম ও শেষ নারী যাকে আমি ভালবেসেছি।

সবাই চুপ মেরে গেলেন এবং বেশ লজ্জার অনুভূতি উদয় হল। প্রিস্টের কথা শেষ না হতেই সবার এমনটি ধারনা হওয়া মুহর্তটি পালটে দিলো এক নেগেটিভ চিন্তা দিয়ে।

এমনটি কিন্তু সচারাচর ঘটে। কথা শেষ না হতেই অনেকেই আমরা সমাধানে চলে যাই।

আমার ভাবনাই তখন শুধু একটিই চিন্তা ছিল, তা হলো ক্যাথলিক প্রিস্ট জীবনে বিয়ে করেননি এবং তিনি জানেন না বিয়ের জীবন সম্পর্কে।

সংসার করা এক সঙ্গে থাকা, একটি পরিবার চালানো, ছেলে-মেয়ের ওপর দায়িত্বকর্ত্যব্য কী?

অথচ দিব্যি আদেশ উপদেশ দিয়ে গেলেন কিভাবে কি করতে হবে, না হবে তার ওপর। জানা অজানার ওপর! তিনি তাঁর “লারনিং বাই টিচিং” এর অভিজ্ঞতা থেকে সব বলে গেলেন।

দিনটির কথা মনে পড়ে গেলো আজ অনেক বছর পরে। কারণ আজ যেতে হবে এক ভিন্ন ধরনের নতুন দাওয়াতে।

আজও পড়েছে রোববার। এইদিনে সচারচর ধর্ম ও অনুষ্ঠানগুলো পালন করা হয়। এমনটি করে আজকের দিনে পরিবারের প্রথম ছেলের বয়স ৯ মাস।

বাপ্তিস্ম করতে হবে (বাপ্তিস্ম মানে আমাদের মুসলমানদের জন্য আকিকা করা বলা হয়)।

প্রিস্ট, বাপ্তিস্ম (আকিকা) করানো শুরু করলেন এবং জীবন চলার পথে বাবা-মার দায়িত্বকর্তব্য, ভালোবাসার ওপর বর্ণনা দেওয়া থেকে সবই সুন্দর করে বলে গেলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এই ক্যাথলিক প্রিস্ট নিজে বিয়ে করননি অথচ দিব্বি তাঁর কাজ তিনি শেষ করে গেলেন।

হল্যান্ডের ক্যাথলিক প্রিস্ট ভাংগা ভাংগা সুইডিস ভাসাতে বাইবেল পড়ে তার বর্ণনা দিলেন এবং সুন্দর করে অনুষ্ঠান শেষ করলেন।

হঠাৎ ইচ্ছে হলো তার কাছ থেকে জানতে কেনো তিনি হল্যান্ড থেকে সুইডেনে এসে এ কাজ করছেন?

বললেন হল্যান্ডে জেলখানা আর গির্জা একে একে বন্ধের পথে। কারণ কেউ এখন গির্জায় এবং জেলে যেতে খুব একটা আগ্রহ না দেখানোর কারণে এ পেশার লোকজন ইউরোপের অন্য দেশে কাজ করছে।

এই কারণে অর্থাৎ হল্যান্ডে চাকরি না থাকায় তিনি এখন সুইডেনে। কিছুদিন আগে লিখেছিলাম হল্যান্ডের ওপর কিছু কথা, যেমন তাদের শিক্ষার হার শতভাগ। ক্রাইম নেই বললেই চলে এবং তাদের বড় বড় গির্জা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আমাদের দেশে নতুন নতুন জেলখানা এবং মসজিদ তৈরি হচ্ছে। হয়ত লোকসংখা বেশি! জানিনে বাংলাদেশে শিক্ষার বা সুশিক্ষার হার কত!

আমি এবং মরিয়া গতকাল শনিবার এমন একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, অনুষ্ঠান শেষে সুইডিস সামার বুফে (নানা ধরনের ভেজিটেরিয়ান খাবার সঙ্গে মুরগি, স্যামন ফিস, গোমাংস ছিল)।

বিভিন্ন দেশের লোক জড়িত সাথে বিভিন্ন ভাষা। সুন্দরভাবেই আমাদের দিনটি বেশ কেটে গেলো।

লেখাটি শুরু করেছিলাম সুইডেনে হঠাৎ ইটালিতে এসেছি, দিনের শেষে বেশ মনে পড়ছে বাংলাদেশের কথা।

জীবনের ২০ বছর বাংলাদেশে থেকেছি, বাংলাদেশে থাকাকালীন সেই ছোটবেলার দিনগুলো যা এখন অনেক দূরে।

কিন্ত “পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়। ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়” ঘটনাগুলো জড়িয়ে রয়েছে মনের সাথে।

ছোটবেলা বিশেষ করে শীতের সময় মাঝে মধ্যে ধর্মীয় ওয়াজ মহাফিল রাত জেগে শুনেছি। অনেক মৌলভী এবং মাওলানা ধর্মের ওপর ওয়াজ মাহফিলে অনেক উপদেশ মূলত কথা বলতেন তখন, এখনও বলেন নিশ্চিত।

খুবই মনোযোগ দিয়ে শুনতাম এবং ভালোই লাগত। আমাদের বাড়িতে এক হুজুর লজিং থেকে হাইস্কুলের আরবি শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করতেন সঙ্গে আমাদেরকে আরবি শিক্ষা দিতেন।

দেখেছি অনেক সময় তিনি যা বলতেন আমাদেরকে, তিনি করতেন তাঁর উল্টোটা, মানে আমাদের যা বলতেন তিনি নিজে খুব একটা সেটা পালন করতেন না।

ছোট ছিলাম তো, তাই একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম কারণ কী? তো তিনি বলেছিলেন আমি যা করি তা করার দরকার নেই, যা বলি তাই করবে।

মাঝে মাঝে শুনি খবরে, অনেক প্রিস্ট এখানেও বেশ উল্টা পাল্টা কাজ করে, তারাও তো মানুষ!

আজ অনেক দিন পর সুইডেনের ক্যাথলিক প্রিস্টের কথা শোনার পর নতুন এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে কিছু পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো যা শেয়ার না করলেই নয়।

এক মাঘ মাসের শীতের রাতে এক হুজুর সারারাত ওয়াজ করেছেন যৌনতার এবং বিপরীত লিঙ্গের অবৈধ মেলামেশার পরিণতি কী ভয়ংকর হবে তার ওপর।

যেমন জিনা করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে যাবে, ভয়ংকর সাজা পেতে হবে, দোযখে যেতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

ধর্মীয় সভা এবং ওয়াজ শেষে রাত যতটুকু বাকি ঘুমানোর পালা। হুজুরও ঘুমাবেন এক ভদ্রলোকের বাড়িতে।

বাড়িতে ভদ্রলোকের একটি বয়স্ক মেয়ে, মেয়েটিও হুজুরের ওয়াজ রাত জেগে শুনেছে এবং মুগ্ধ হয়েছে।

হুজুরের সেবা যত্নে সে খুব মগ্ন। হঠাৎ হুজুর মেয়েটির সাথে যৌনবিনিময়ের চেষ্টা করতেই মেয়েটি বলেছিল, হুজুর আপনি এ কী করছেন? ছাড়ুন আমাকে!

আপনি বলেছেন জিনা করা মহাপাপ এবং আল্লার আরশ কেঁপে যায়। হুজুর এ কথা শুনে বলেছিল, আরে রাখ তোর কাপাকাপি, আমি তোর সাথে জিনা করলে খাটও কাঁপবে না!

হুজুরের নৈতিক অবনতি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় তাকে পিশাচে পরিণত করেছিল সেদিন।

ডিজিটালের যুগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চলছে প্রতিস্থাপন মানুষের সঙ্গে মেশিন এবং রোবোটের যা আমাদের কর্মের দায়িত্ব নিতে চলেছে।

আবেগপ্রবণ ও মানসিক অনুভূতির ক্ষেত্রে পারবে কি ডিজিটাল গ্রহণ করতে এত বড় দায়িত্ব? আমার জানা নেই।

বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নানা জাতির ধর্ম এবং বিশ্বাসের ওপর আলোচনা দিতে পারে নৈতিকতা এবং মনুষ্যত্বের ওপর নাড়া যা করতে পারে মূল্যবোধের পরিবর্তন।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত এবং আলোচিত শব্দ ভালবাসা এবং ঘৃণা। ভালবাসা ভালবাসার মধ্যে সৃষ্টি হয় আর ঘৃণা সৃষ্টি হয় ঘৃণার মধ্যে দিয়ে।

ঘৃণা নয় এসো ভালবাসি। ভালবাসার অনুভূতি সর্বত্রে এবং সবসময়ের জন্য একই। এমনটি অনুভূতি ও ভালবাসা দূর পরবাস ইতালি থেকে।

রহমান মৃধা, পরিচালক ও পরামর্শক, rahman.Mridha@ownit.nu

বিডিপ্রেস/আরজে