BDpress

ওয়াশিংটনে জাঁকজমকপূর্ণ ডিসি বইমেলা অনুষ্ঠিত

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
ওয়াশিংটনে জাঁকজমকপূর্ণ ডিসি বইমেলা অনুষ্ঠিত
‘বিশ্বজুড়ে বাংলা বই’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ডিসি বইমেলা ২০১৮’। ‘আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত জাকজমকপূর্ণ এ মেলায় সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য দু’জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

৩০ জুন স্থানীয় সময় সকালে ওয়াশিংটন ডিসির ভার্জিনিয়ার নোভা এনানডেল ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সকাল ১১টায় বর্ণমালা শিক্ষাঙ্গনের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। এর মূল আকর্ষণ ছিল শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য প্রদর্শন। শোভাযাত্রাটি নোভা কলেজের আর্নেস্ট কালচারাল সেন্টার হয়ে বইমেলার মূল প্রাঙ্গণে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান ও আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা রোকেয়া হায়দার, বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-প্রধান কবি মাহবুব হাসান সালেহ, কবি সাইদ আল ফারুক, মজহারুল হক, পারভিন পাটোয়ারী, ড. নজরুল ইসলাম, ড. খন্দকার মনসুর, মুক্তিযোদ্ধা মনসুর আহমেদ, অ্যাড. অমর ইসলাম, ফাউন্ডেশনের সভাপতি জীবক কুমার বড়ুয়া, বইমেলার প্রধান সমন্বয়ক স্থপতি আনোয়ার ইকবাল কচি, ফাউন্ডেশনের পরিচালকবৃন্দ, বইমেলা কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলী, সমন্বয় কমিটির সদস্য, বাংলা স্কুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইসহ লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এরপর ফিতা কেটে বইমেলা উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। পরে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ ও নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুল হককে সঙ্গে নিয়ে স্টল ঘুরে দেখেন।

শুরুতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক দস্তগীর জাহাঙ্গীর। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের বাণী পাঠ করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়। শেষে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি জীবক কুমার বড়ুয়া। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী বইমেলা ২০১৯ সালের ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান। তিনি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানকে সম্মানসূচক মানপত্র তুলে দেন এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

সকাল থেকে স্থানীয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে কবি, সাহিত্যিক, ছড়াকার, শিল্পী, বাচিকশিল্পী, নৃত্যশিল্পীসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মূল মঞ্চে শিশুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ কবি-সাহিত্যিকদের পরিচিতি, গান, গল্প ইত্যাদির আয়োজন ছিল পুরো সময়জুড়ে।

এবারের বইমেলার অফিসিয়াল পার্টনার ছিল বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল ও বর্ণমালা শিক্ষাঙ্গন। মিডিয়া পার্টনার ছিল বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম। মেলায় ২০টি স্টলের মধ্যে প্রিয়মুখ প্রকাশনী, সূচীপত্র, আদর্শ, ভূত প্রকাশন, শব্দভূমি, ইতি প্রকাশন, জয়িতা, পুঁথিনিলয়ের দেশি-বিদেশি প্রকাশনাসংস্থা অংশগ্রহণ করে।

পাশাপাশি ‘ওয়াশিংটন সংবাদ ডটকম’ নামের একটি নিউজ পোর্টালের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। ফাউন্ডেশনের পরিচালক দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয় এর সম্পাদক ও কর্ণধার। এছাড়া ‘দীপালিকা’ নামের একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। মেলায় প্রদর্শনীর জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬শ’ বই নেওয়া হয়।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক মেজর ফজলুর চৌধুরীর পরিচালনায় মোঘল আমল থেকে সমসাময়িক সময়ের সব ধরনের মুদ্রা, কাগজের নোট ও কয়েন নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী হয়।

মেলায় অনেক বই বিক্রি হয়েছে বলে জানান স্টলের সমন্বয়ক অনামিত্রা বড়ুয়া ও আদৃতা ক্যাথেরীন জাহাঙ্গীর। এই টিমে আরো ছিলেন সুহা খন্দকার, এনাডেল, সামারা এলাহী, অর্নব বড়ুয়া, ধ্রুব বড়ুয়া, মানাল আমীন, নুহা আমীন, হৃত্তবাস চৌধুরী, উচ্ছাস চৌধুরী, সুদীপ, সুমিত, রুহিত, লাবিবা ইশ্রাত রহমান, মাহদি রহমান, এরিনা এলাহী, তাহিয়াত আমান ফিয়াজা ও সিথিয়া রেশ্মী।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় ছিলেন আনোয়ার ইকবাল কচি, সামিনা আমীন ও আতিয়া মাহজাবীন নিতু ও সমন্বয়ক শিল্পী খান ছিলেন সার্বিক সহব্যবস্থাপনায়। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আতিয়া মাহজাবিন নিতু ও সামিনা আমীন। গান পরিবেশন করেন দিনার মনি, ডরথী বোস, সাইয়েদা সুলতানা রুনা ও নাহিদ নাজিয়া।

ইসরাত সুলতানা মিতার পরিচালনায় ছোটদের অনুষ্ঠান ছানাপোনার গল্প, অদিতি সাদিয়া রহমানের পরিচালনায় সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল, শিমুল মৌয়ের পরিচালনায় বাংলা স্কুলের পক্ষ থেকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গীতি আলেখ্য নায়িকা সংবাদ, গানের ছোঁয়ায় কবিতা, একতারার পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

ওয়াশিংটনে জাঁকজমকপূর্ণ ডিসি বইমেলা অনুষ্ঠিত


ওয়াশিংটনে জাঁকজমকপূর্ণ ডিসি বইমেলা অনুষ্ঠিত

৩০ জুন স্থানীয় সময় সকালে ওয়াশিংটন ডিসির ভার্জিনিয়ার নোভা এনানডেল ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সকাল ১১টায় বর্ণমালা শিক্ষাঙ্গনের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। এর মূল আকর্ষণ ছিল শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য প্রদর্শন। শোভাযাত্রাটি নোভা কলেজের আর্নেস্ট কালচারাল সেন্টার হয়ে বইমেলার মূল প্রাঙ্গণে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান ও আমরা বাঙালি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা রোকেয়া হায়দার, বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-প্রধান কবি মাহবুব হাসান সালেহ, কবি সাইদ আল ফারুক, মজহারুল হক, পারভিন পাটোয়ারী, ড. নজরুল ইসলাম, ড. খন্দকার মনসুর, মুক্তিযোদ্ধা মনসুর আহমেদ, অ্যাড. অমর ইসলাম, ফাউন্ডেশনের সভাপতি জীবক কুমার বড়ুয়া, বইমেলার প্রধান সমন্বয়ক স্থপতি আনোয়ার ইকবাল কচি, ফাউন্ডেশনের পরিচালকবৃন্দ, বইমেলা কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলী, সমন্বয় কমিটির সদস্য, বাংলা স্কুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইসহ লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এরপর ফিতা কেটে বইমেলা উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। পরে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ ও নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুল হককে সঙ্গে নিয়ে স্টল ঘুরে দেখেন।

শুরুতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক দস্তগীর জাহাঙ্গীর। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের বাণী পাঠ করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়। শেষে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি জীবক কুমার বড়ুয়া। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী বইমেলা ২০১৯ সালের ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান। তিনি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানকে সম্মানসূচক মানপত্র তুলে দেন এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

সকাল থেকে স্থানীয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে কবি, সাহিত্যিক, ছড়াকার, শিল্পী, বাচিকশিল্পী, নৃত্যশিল্পীসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মূল মঞ্চে শিশুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ কবি-সাহিত্যিকদের পরিচিতি, গান, গল্প ইত্যাদির আয়োজন ছিল পুরো সময়জুড়ে।

এবারের বইমেলার অফিসিয়াল পার্টনার ছিল বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল ও বর্ণমালা শিক্ষাঙ্গন। মিডিয়া পার্টনার ছিল বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম। মেলায় ২০টি স্টলের মধ্যে প্রিয়মুখ প্রকাশনী, সূচীপত্র, আদর্শ, ভূত প্রকাশন, শব্দভূমি, ইতি প্রকাশন, জয়িতা, পুঁথিনিলয়ের দেশি-বিদেশি প্রকাশনাসংস্থা অংশগ্রহণ করে।

পাশাপাশি ‘ওয়াশিংটন সংবাদ ডটকম’ নামের একটি নিউজ পোর্টালের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। ফাউন্ডেশনের পরিচালক দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয় এর সম্পাদক ও কর্ণধার। এছাড়া ‘দীপালিকা’ নামের একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। মেলায় প্রদর্শনীর জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬শ’ বই নেওয়া হয়।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক মেজর ফজলুর চৌধুরীর পরিচালনায় মোঘল আমল থেকে সমসাময়িক সময়ের সব ধরনের মুদ্রা, কাগজের নোট ও কয়েন নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী হয়।

মেলায় অনেক বই বিক্রি হয়েছে বলে জানান স্টলের সমন্বয়ক অনামিত্রা বড়ুয়া ও আদৃতা ক্যাথেরীন জাহাঙ্গীর। এই টিমে আরো ছিলেন সুহা খন্দকার, এনাডেল, সামারা এলাহী, অর্নব বড়ুয়া, ধ্রুব বড়ুয়া, মানাল আমীন, নুহা আমীন, হৃত্তবাস চৌধুরী, উচ্ছাস চৌধুরী, সুদীপ, সুমিত, রুহিত, লাবিবা ইশ্রাত রহমান, মাহদি রহমান, এরিনা এলাহী, তাহিয়াত আমান ফিয়াজা ও সিথিয়া রেশ্মী।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় ছিলেন আনোয়ার ইকবাল কচি, সামিনা আমীন ও আতিয়া মাহজাবীন নিতু ও সমন্বয়ক শিল্পী খান ছিলেন সার্বিক সহব্যবস্থাপনায়। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আতিয়া মাহজাবিন নিতু ও সামিনা আমীন। গান পরিবেশন করেন দিনার মনি, ডরথী বোস, সাইয়েদা সুলতানা রুনা ও নাহিদ নাজিয়া।

ইসরাত সুলতানা মিতার পরিচালনায় ছোটদের অনুষ্ঠান ছানাপোনার গল্প, অদিতি সাদিয়া রহমানের পরিচালনায় সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল, শিমুল মৌয়ের পরিচালনায় বাংলা স্কুলের পক্ষ থেকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গীতি আলেখ্য নায়িকা সংবাদ, গানের ছোঁয়ায় কবিতা, একতারার পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিডিপ্রেস/আরজে