BDpress

নন্দিন অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
নন্দিন অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা
বিশ্বের নন্দিন অবিসংবাদিত এক রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা। বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ে এক কিংবদন্তী। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি। একই সাথে দেশটিতে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।

তার দীর্ঘ কারাবাস ও আন্দোলনে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে এবং সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে ১৯৯৪ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তার পুরো নাম নেলসন রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সরকারের বর্ণবাদী নীতির বিপক্ষে সংগ্রাম এবং ত্যাগে জীবন যৌবন দানকারী এক অবিস্মরণীয় নেতা।

আজ এ মহান নেতা ও রাষ্ট্রনায়কের শুভ জন্মদিন। ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই থেম্বু রাজবংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় খুব চটপটে ছিলেন ম্যান্ডেলা। তাই তার নাম রাখা হয় ‘রোলিহ্লাহ্লা’ যার অর্থ হলো গাছের ডাল ভাঙে যে অর্থাৎ ‘দুষ্টু ছেলে’।

স্কুলে পড়ার সময়ে তার শিক্ষিকা মদিঙ্গানে তার ইংরেজি নাম রাখেন নেলসন। আর বংশগত ভাবে ম্যান্ডেলা নামটি সঙ্গে জুড়ে যায়।

ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিযওয়ের নেতা হিসাবে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার গ্রেপ্তার করে ও অন্তর্ঘাতসহ নানা অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারারুদ্ধ ছিলেন। এর অধিকাংশ সময়ই তিনি ছিলেন রবেন দ্বীপে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন।

বর্ণবাদের অবসানের পর ১৯৯৪ সালের ১০ মে নতুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন নেলসন ম্যান্ডেলা। এর মাত্র এক দশক আগেও সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শাসিত দক্ষিণ আফ্রিকায় এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল এক অকল্পনীয় ঘটনা। এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকায় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও তিনি ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা তার গোত্রের দেয়া মাদিবা নামে পরিচিত। ৯৫ বছর বয়সে ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর গোটা দুনিয়ার কোটি কোটি ভক্তকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এ কিংবদন্তী।
বিডিপ্রেস/আলী

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

নন্দিন অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা


নন্দিন অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা

তার দীর্ঘ কারাবাস ও আন্দোলনে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে এবং সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে ১৯৯৪ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তার পুরো নাম নেলসন রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সরকারের বর্ণবাদী নীতির বিপক্ষে সংগ্রাম এবং ত্যাগে জীবন যৌবন দানকারী এক অবিস্মরণীয় নেতা।

আজ এ মহান নেতা ও রাষ্ট্রনায়কের শুভ জন্মদিন। ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই থেম্বু রাজবংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় খুব চটপটে ছিলেন ম্যান্ডেলা। তাই তার নাম রাখা হয় ‘রোলিহ্লাহ্লা’ যার অর্থ হলো গাছের ডাল ভাঙে যে অর্থাৎ ‘দুষ্টু ছেলে’।

স্কুলে পড়ার সময়ে তার শিক্ষিকা মদিঙ্গানে তার ইংরেজি নাম রাখেন নেলসন। আর বংশগত ভাবে ম্যান্ডেলা নামটি সঙ্গে জুড়ে যায়।

ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিযওয়ের নেতা হিসাবে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার গ্রেপ্তার করে ও অন্তর্ঘাতসহ নানা অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারারুদ্ধ ছিলেন। এর অধিকাংশ সময়ই তিনি ছিলেন রবেন দ্বীপে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন।

বর্ণবাদের অবসানের পর ১৯৯৪ সালের ১০ মে নতুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন নেলসন ম্যান্ডেলা। এর মাত্র এক দশক আগেও সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শাসিত দক্ষিণ আফ্রিকায় এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল এক অকল্পনীয় ঘটনা। এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকায় নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও তিনি ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা তার গোত্রের দেয়া মাদিবা নামে পরিচিত। ৯৫ বছর বয়সে ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর গোটা দুনিয়ার কোটি কোটি ভক্তকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এ কিংবদন্তী।
বিডিপ্রেস/আলী