BDpress

‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অ+ অ-
‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার’
জাতিসংঘ প্রণীত শিশু অধিকার সনদের অন্তত সাতটি ধারা মিয়ানমার লঙ্ঘন করেছে বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন নিযুক্ত একটি আইনজ্ঞ প্যানেল এমন তথ্য পেয়েছেন। তাদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট মাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে এবং এখনও বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার না দিয়ে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ধারা লঙ্ঘন করেছে, অথচ সনদে সই করায় আইন অনুযায়ী ওই ধারা মেনে চলা মিয়ানমারের জন্য বাধ্যতামূলক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে শুরু হওয়া ওই অভিযানের শিকার হয়ে সাত লাখের বেশি যে রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই শিশু। জাতিসংঘ বার্মিজ আর্মির ওই নৃশংস অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভয়াবহ ওই অভিযানের ব্যাপারে যেসব রিপোর্ট দিয়েছে তা পর্যালোচনা করে আইনজীবীদের একটি প্যানেল ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

অপ্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে পুলিশ পোস্টে হামলাকে উপলক্ষ করে মিয়ানমার সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এখনও রোহিঙ্গাদের প্রতি যে বৈষম্য করা হচ্ছে তা জাতিসংঘের শিশু অধিকার বিষয়ক সনদের অন্তত সাতটি ধারার লঙ্ঘন।’

রিপোর্টে ওই অভিযানের জন্য মিয়ানমার সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয়কেই দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ওই অভিযান চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করতে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া সরকার যে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে মিয়ানমার অনুমোদন দিয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ওই সনদ মানতে বাধ্য দেশটি। বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

আইন বিশেষজ্ঞদের ওই রিপোর্টে সহিংসতা, অপব্যবহার, উপেক্ষা, যৌন ও অন্যান্য নির্যাতন, অমানবিক আচরণ এবং বন্দি করা থেকে শিশুদের রক্ষায় দেশটির সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার’


‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার’

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট মাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে এবং এখনও বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার না দিয়ে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ধারা লঙ্ঘন করেছে, অথচ সনদে সই করায় আইন অনুযায়ী ওই ধারা মেনে চলা মিয়ানমারের জন্য বাধ্যতামূলক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে শুরু হওয়া ওই অভিযানের শিকার হয়ে সাত লাখের বেশি যে রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই শিশু। জাতিসংঘ বার্মিজ আর্মির ওই নৃশংস অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভয়াবহ ওই অভিযানের ব্যাপারে যেসব রিপোর্ট দিয়েছে তা পর্যালোচনা করে আইনজীবীদের একটি প্যানেল ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

অপ্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে পুলিশ পোস্টে হামলাকে উপলক্ষ করে মিয়ানমার সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এখনও রোহিঙ্গাদের প্রতি যে বৈষম্য করা হচ্ছে তা জাতিসংঘের শিশু অধিকার বিষয়ক সনদের অন্তত সাতটি ধারার লঙ্ঘন।’

রিপোর্টে ওই অভিযানের জন্য মিয়ানমার সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয়কেই দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ওই অভিযান চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করতে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া সরকার যে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে মিয়ানমার অনুমোদন দিয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ওই সনদ মানতে বাধ্য দেশটি। বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

আইন বিশেষজ্ঞদের ওই রিপোর্টে সহিংসতা, অপব্যবহার, উপেক্ষা, যৌন ও অন্যান্য নির্যাতন, অমানবিক আচরণ এবং বন্দি করা থেকে শিশুদের রক্ষায় দেশটির সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিডিপ্রেস/আরজে