BDpress

গণমাধ্যমকর্মীর ডায়েরি

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
গণমাধ্যমকর্মীর ডায়েরি
রায়হান উল্লাহ ।। শিরোনামে চারটি বিষয় আছে। গণ মানে সবাই। মাধ্যম মধ্যস্থতাকারী। কর্মী যে সেটি গড়ে। আর ডায়েরির কথা আসে তিনটি বিষয়ের বোঝাপড়ায় যখন কিছু কথা বলার থাকে, তখন। এ লেখায় কিছু কথা বলা হবে। একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে এর সুখ-দুঃখ নিরূপণের চেষ্টা চলবে। অবশ্যই তা ব্যক্তিক দৃষ্টি। এ দৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা আছে।

ক্ষুদ্রতা অবশ্যই। আছে অবলোকনের চেষ্টা। আরও অনেক কিছু। অবশ্য জ্ঞানের ও আরও অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে ডায়েরিতে পুরো বিষয় উঠে আসবে না। এখানেই মজা। যখন একজন গণমাধ্যমকর্মী কিছু কথা বলবেন তখন সময় ও তার পারিপার্শিক সব অবস্থা তাতে প্রভাবক হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ধরা যাক একজন বিচারক রায় দেবেন। চেতনে-অবচেতনে পারিপার্শিক সব এবং তার মনের অবস্থা বিচারে উঠে আসবেই। ঠিক তাই একজন গণমাধ্যমকর্মী যখন লিখবেন তখন তা কতটুকু সামগ্রিক; আসবে প্রশ্ন। আগের কথাগুলো এখানেও খাটে। তো সব সীমাবদ্ধতা নিয়েই গণমাধ্যমের ডায়েরি হবে। অবশ্যই কষ্ট আউড়িয়ে সুখের ভাবনা ছড়ানো হবে।

শিক্ষা একটি গূঢ় বিষয়। নানাজন নানাভাবে শিখে যায়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। গণমাধ্যমকর্মী হয়ে ডায়েরি লেখা হচ্ছে, তাতে শিক্ষার বিষয় আসবেই। যেহেতু আসে তবে বলতে হয় গণমাধ্যমকর্মী সর্বাগ্রে শিক্ষিত। এ অনুষঙ্গ না থাকলে তাকে গণমাধ্যমকর্মী বলা যায় না। বলার দরকারও পড়ে না। সে গণমাধ্যমকর্মী হয়ে উঠতে পারে না।

বিষয়টি খোলাসা করি। গণমাধ্যমকর্মীর প্রাথমিক পাঠ কোনো একটি জিনিসকে কথার বুননে চোখের দৃষ্টিতে নিয়ে আসা। এ কাজটি করতে গেলে তাকে প্রথম গভীর দৃষ্টিতে জিনিসটিকে দেখতে হবে। দেখার নানা রকমফের হবে। তবুও দেখে নিতে হবে। দেখা ও লেখা এভাবেই পাঠকের কাছে বিষয়টি ফুটবে।

এতসব কাজ জ্ঞানী কিংবা শিক্ষিত না হয়ে করা সম্ভব না। অর্থাৎ একজন গণমাধ্যমকর্মী সর্বাগ্রে শিক্ষিত। এ ছাড়াও এ দেখা ও লেখার বিষয় কি না? তাই তাকে সব প্রাণে মিশতে হয়। আশরাফ-আতরাফ সব।

ভিক্ষুক থেকে রাষ্ট্রপতি, এমনকি বিশ্বকর্তা। তো এত বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজে জ্ঞানী কিংবা শিক্ষিত না হয়ে মাড়ানো যায়?

এবার আসা যাক, এমন জ্ঞানী ও শিক্ষিতরা কেমন আছে? কী তাদের হালচাল? সবই ব্যক্তিক ও ক্ষোভের দৃষ্টি। এমন দৃষ্টিতে প্রায়শই খেলে পেশার তরে মানুষ জীবন দেয়। তার দেখা হয় না কিছু। মোট কথা, মানুষ তার আবির্ভাবের বাস্তবতায় সবকিছু দেখে না। কানা দেখে না জোৎসনার বান। অঙ্গহীন বুঝে না চলার কষ্ট। আবার ধনকুবের বোঝে না গরিবের সুখ! এভাবেই চলছে। পেশা কিংবা বাস্তবতার তরে জীবন।

এমন বেলায় একজন গণমাধ্যমকর্মী কেমন? কী তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ? সব বিষয় সামনে আসে। যেহেতু গণমাধ্যমকর্মী জ্ঞানী ও শিক্ষিত তাই সর্বাগ্রে তার কর্মের মূল্যায়ন চায়। এ চাওয়াই সব আছে এবং থাকে। তবে কেন ডায়েরি আখ্যান? কিছু বিচ্যুতি কিংবা অনিয়ম আছে বলেই। খোলাসা করার আগে প্রস্তাবনা। ছাত্রজীবনে কোনো ছাত্রই দেশ ও সমাজের সেবার ভাবনার বাইরে থাকে না। অবশ্যই চোরের ভাবনা নয়। কিন্তু কর্মজীবনে ওই ছাত্ররা সব হয়। খুনি থেকে রাষ্ট্রপতি। ঘুষখোর থেকে মজুদদার।

এ কীভাবে সম্ভব? বাস্তবতার আঘাত কিংবা আরও কিছুর কারণে। তো ওই ছাত্ররা এমন হলো কেন? পেশার অঙ্গনে সে দেখে আরও অনেক গোষ্ঠী। শুধুই ছাত্র কিংবা কল্যাণ ভাবনা তাতে থাকছে না। শিক্ষক দেখেন তার পেশা নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনীতি, সমাজনীতি সব। চিকিৎসক দেখেন তার পেশাও সব নীতির বন্ধনে ধুঁকে। এভাবেই গণমাধ্যমকর্মীও দেখে তার পেশা শিল্প বানিয়ে আরও অনেক গোষ্ঠী অনেক কিছু বাগিয়ে নিচ্ছে।

এমন বেলায় গণমাধ্যমকর্মীর চাওয়া ও পাওয়ায় টান পড়ে। জ্ঞানী ও শিক্ষিত হয়েও সবার থেকে সে ঠকে যায়। তার সহপাঠী মনের সুখে জীবন ভোগ করে। অথচ তার পরিশ্রমের সুখ মেলে না। মেলে না বেঁচে থাকার আরও অনেক অনুষঙ্গ। থাকে না স্বাধীনতা। ক্লিনিকের চিকিৎসক তো আর বলতে পারেন না এটি আমি করব না। বিষয়টি অনেকটা এমনই। তাই গণমাধ্যম ধুঁকে। ধুঁকে গণমাধ্যমকর্মী। সময়ে সময়ে সামগ্রিক গণমাধ্যম গণমাধ্যমকর্মীর বুকে সজোরে উড়ন্ত লাথি কষে। জ্ঞানী ও শিক্ষিত হয়েও এ বেলা সে কিছুই বুঝে না।

এ গণমাধ্যমকর্মীর ভান। সে সবই বোঝে। কেন বুঝবে না? না হয় সে পেশার জায়গাটিতে আসল কীভাবে? আর পেশা বলেই তাকে সে সম্মান করে, সন্তানতুল্য। ফলে তাকে তার বাঁচিয়ে রাখতে হয়, রাখেও। কিন্তু মাঝে-সাজে ডায়েরি লিখে। বলতে চায় নানা অন্ধকার গোষ্ঠীর কথা। বলতে চায় কিছু ক্ষেত্রে তার হাত বাঁধা।

বলতে চায় আরও অনেক কিছু। অবশ্য বেশি বললে তার মূল কাজটি করা হবে না। মানে অন্যের জীবন দেখা হবে না। লেখাও হবে না। ফলে পেশার জায়গাটি ঠিক থাকবে না। তাই সে খুব বেশি ডায়রির মতো কিছু বলতে চায় না। তবুও যখন রাষ্ট্রযন্ত্র কলমের রেখায় আস্ফালন করে, পুঁজিবাদের নগ্নতা কলমকে ভয় দেখায়; তখন তাকে ডায়েরির আশ্রয় নিতে হয়। তাকেও তো বাঁচতে হবে। ইচ্ছেদের উড়িয়ে দিলে মনের সুখ। এতে যেমন নির্ভার হওয়া যায়, তেমনি ইথারে তা থেকে যায়। এভাবেই একজন গণমাধ্যমকর্মীর ডায়েরিও সময়ের চক্রে গণমাধ্যম। তো গান বাজবেই।

এমনি বেলায় গান বাজে রাষ্ট্রীয় দপ্তরে। গণমাধ্যমকর্মী নামধারীরা তেল চিটচিটে চেহারায় প্রশ্ন করে অধিকর্তাকে। প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন সুবিধায় বিকিয়ে যান অনেকে। প্রহসন কিংবা লজ্জার; তেল চিটচিটে মানুষ গণমাধ্যমে দিব্যি সুখে থাকে। তাদের নারী-বাড়ি-গাড়ি হয়। রেললাইনে হাঁটে ঠকে যাওয়া কোনো কর্মী। তার বেতনের হিসাবে বিরিয়ানি কিংবা শীতল জল বিলি হয়। তাতেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

নানা গণমাধ্যম আক্রোশের শিকার হয়, বন্ধ হয় কর্মের পরিবেশ। কখনো-সখনো ব্যক্তি পড়ে ৫৭ কিংবা ৩২-এর ফাপরে। বিরিয়ানির গন্ধ তবুও বাতাসে। প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এসির বাতাসে বিপ্লব উড়ান কোনো বুদ্ধিজীবী কিংবা লেখক, নতুবা রাজনৈতিক। মাঝে সাঝে কবি। অথচ গণমাধ্যমকর্মী এমন অভিধা নিয়ে রেললাইনের সমান্তরালে জীবন ও পেশা খুঁজে। পেশার আশ্রয় খুঁজে।

কষ্ট নিয়ে দেখে গতিতে ভাসছে অন্য কেউ, পেশাসংশ্লিষ্ট। অবশ্য রেললাইন বলে সময় চলছে, জীবন চলছে, কীসের যাতনা? বিপরীতে অন্যের যাতনা ট্রাফিক সিগন্যাল। ব্যস্ত সময়ে ডাক পড়েছে অন্য কোথাও। অনেক তাড়া। সুখের ভাবনা ছড়িয়ে রেললাইন চলে। চলে গণমাধ্যমকর্মী।

তার খেদ বয়ে নিয়ে চলে লোহার শিহরণ। বাতাসে ফিসফিস ধ্বনি উঠে, ব্যক্তি হয়ে গোষ্ঠী, সমাজ ও দেশ। তো কষ্টের পাখিরা সুখের আকাশে। রংধনু খেলে যায়। বিপরীতে ভোটের বাক্সে নেতারা হাসেন। গণমাধ্যমকর্মীর বেতন উড়ে রঙিন কাগজে। পুরো প্রেস ক্লাব ছেয়ে যায়। লাল-নীল-সাদা গাড়িদের হানা। রঙিন কাচ নামায় এক একজন তেল চিটচিটে নেতা। রাষ্ট্রের কাছে তাদের অনেক দাবি। গণমাধ্যম সৃজনে কোনটা বোঝা দায়। নেতা হওয়ার খরচ তার লাগবে। লাগবে গাড়ি-বাড়ি-নারীও।

এভাবেই চলছে দ্বৈরথ। পেশা ও নেশার ভুবনে। একজন গণমাধ্যমকর্মী বিস্তর সুখ ও দুঃখ নিয়ে ভাবে, আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ...তোর সঙ্গে জীবন বদল করে কোনো লাভ হলো না আমার। খেদের ভাষা কবিতা হয়। গণমাধ্যমকর্মী আন্তর্জাতিক টার্মিনালে দৃঢ় পদচ্ছাপ রেখে এগিয়ে যান। সময় ও সভ্যতা হয়ে।

রায়হান উল্লাহ : কবি ও সাংবাদিক।

raihanullah12@gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

গণমাধ্যমকর্মীর ডায়েরি


গণমাধ্যমকর্মীর ডায়েরি

ক্ষুদ্রতা অবশ্যই। আছে অবলোকনের চেষ্টা। আরও অনেক কিছু। অবশ্য জ্ঞানের ও আরও অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে ডায়েরিতে পুরো বিষয় উঠে আসবে না। এখানেই মজা। যখন একজন গণমাধ্যমকর্মী কিছু কথা বলবেন তখন সময় ও তার পারিপার্শিক সব অবস্থা তাতে প্রভাবক হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ধরা যাক একজন বিচারক রায় দেবেন। চেতনে-অবচেতনে পারিপার্শিক সব এবং তার মনের অবস্থা বিচারে উঠে আসবেই। ঠিক তাই একজন গণমাধ্যমকর্মী যখন লিখবেন তখন তা কতটুকু সামগ্রিক; আসবে প্রশ্ন। আগের কথাগুলো এখানেও খাটে। তো সব সীমাবদ্ধতা নিয়েই গণমাধ্যমের ডায়েরি হবে। অবশ্যই কষ্ট আউড়িয়ে সুখের ভাবনা ছড়ানো হবে।

শিক্ষা একটি গূঢ় বিষয়। নানাজন নানাভাবে শিখে যায়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। গণমাধ্যমকর্মী হয়ে ডায়েরি লেখা হচ্ছে, তাতে শিক্ষার বিষয় আসবেই। যেহেতু আসে তবে বলতে হয় গণমাধ্যমকর্মী সর্বাগ্রে শিক্ষিত। এ অনুষঙ্গ না থাকলে তাকে গণমাধ্যমকর্মী বলা যায় না। বলার দরকারও পড়ে না। সে গণমাধ্যমকর্মী হয়ে উঠতে পারে না।

বিষয়টি খোলাসা করি। গণমাধ্যমকর্মীর প্রাথমিক পাঠ কোনো একটি জিনিসকে কথার বুননে চোখের দৃষ্টিতে নিয়ে আসা। এ কাজটি করতে গেলে তাকে প্রথম গভীর দৃষ্টিতে জিনিসটিকে দেখতে হবে। দেখার নানা রকমফের হবে। তবুও দেখে নিতে হবে। দেখা ও লেখা এভাবেই পাঠকের কাছে বিষয়টি ফুটবে।

এতসব কাজ জ্ঞানী কিংবা শিক্ষিত না হয়ে করা সম্ভব না। অর্থাৎ একজন গণমাধ্যমকর্মী সর্বাগ্রে শিক্ষিত। এ ছাড়াও এ দেখা ও লেখার বিষয় কি না? তাই তাকে সব প্রাণে মিশতে হয়। আশরাফ-আতরাফ সব।

ভিক্ষুক থেকে রাষ্ট্রপতি, এমনকি বিশ্বকর্তা। তো এত বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজে জ্ঞানী কিংবা শিক্ষিত না হয়ে মাড়ানো যায়?

এবার আসা যাক, এমন জ্ঞানী ও শিক্ষিতরা কেমন আছে? কী তাদের হালচাল? সবই ব্যক্তিক ও ক্ষোভের দৃষ্টি। এমন দৃষ্টিতে প্রায়শই খেলে পেশার তরে মানুষ জীবন দেয়। তার দেখা হয় না কিছু। মোট কথা, মানুষ তার আবির্ভাবের বাস্তবতায় সবকিছু দেখে না। কানা দেখে না জোৎসনার বান। অঙ্গহীন বুঝে না চলার কষ্ট। আবার ধনকুবের বোঝে না গরিবের সুখ! এভাবেই চলছে। পেশা কিংবা বাস্তবতার তরে জীবন।

এমন বেলায় একজন গণমাধ্যমকর্মী কেমন? কী তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ? সব বিষয় সামনে আসে। যেহেতু গণমাধ্যমকর্মী জ্ঞানী ও শিক্ষিত তাই সর্বাগ্রে তার কর্মের মূল্যায়ন চায়। এ চাওয়াই সব আছে এবং থাকে। তবে কেন ডায়েরি আখ্যান? কিছু বিচ্যুতি কিংবা অনিয়ম আছে বলেই। খোলাসা করার আগে প্রস্তাবনা। ছাত্রজীবনে কোনো ছাত্রই দেশ ও সমাজের সেবার ভাবনার বাইরে থাকে না। অবশ্যই চোরের ভাবনা নয়। কিন্তু কর্মজীবনে ওই ছাত্ররা সব হয়। খুনি থেকে রাষ্ট্রপতি। ঘুষখোর থেকে মজুদদার।

এ কীভাবে সম্ভব? বাস্তবতার আঘাত কিংবা আরও কিছুর কারণে। তো ওই ছাত্ররা এমন হলো কেন? পেশার অঙ্গনে সে দেখে আরও অনেক গোষ্ঠী। শুধুই ছাত্র কিংবা কল্যাণ ভাবনা তাতে থাকছে না। শিক্ষক দেখেন তার পেশা নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনীতি, সমাজনীতি সব। চিকিৎসক দেখেন তার পেশাও সব নীতির বন্ধনে ধুঁকে। এভাবেই গণমাধ্যমকর্মীও দেখে তার পেশা শিল্প বানিয়ে আরও অনেক গোষ্ঠী অনেক কিছু বাগিয়ে নিচ্ছে।

এমন বেলায় গণমাধ্যমকর্মীর চাওয়া ও পাওয়ায় টান পড়ে। জ্ঞানী ও শিক্ষিত হয়েও সবার থেকে সে ঠকে যায়। তার সহপাঠী মনের সুখে জীবন ভোগ করে। অথচ তার পরিশ্রমের সুখ মেলে না। মেলে না বেঁচে থাকার আরও অনেক অনুষঙ্গ। থাকে না স্বাধীনতা। ক্লিনিকের চিকিৎসক তো আর বলতে পারেন না এটি আমি করব না। বিষয়টি অনেকটা এমনই। তাই গণমাধ্যম ধুঁকে। ধুঁকে গণমাধ্যমকর্মী। সময়ে সময়ে সামগ্রিক গণমাধ্যম গণমাধ্যমকর্মীর বুকে সজোরে উড়ন্ত লাথি কষে। জ্ঞানী ও শিক্ষিত হয়েও এ বেলা সে কিছুই বুঝে না।

এ গণমাধ্যমকর্মীর ভান। সে সবই বোঝে। কেন বুঝবে না? না হয় সে পেশার জায়গাটিতে আসল কীভাবে? আর পেশা বলেই তাকে সে সম্মান করে, সন্তানতুল্য। ফলে তাকে তার বাঁচিয়ে রাখতে হয়, রাখেও। কিন্তু মাঝে-সাজে ডায়েরি লিখে। বলতে চায় নানা অন্ধকার গোষ্ঠীর কথা। বলতে চায় কিছু ক্ষেত্রে তার হাত বাঁধা।

বলতে চায় আরও অনেক কিছু। অবশ্য বেশি বললে তার মূল কাজটি করা হবে না। মানে অন্যের জীবন দেখা হবে না। লেখাও হবে না। ফলে পেশার জায়গাটি ঠিক থাকবে না। তাই সে খুব বেশি ডায়রির মতো কিছু বলতে চায় না। তবুও যখন রাষ্ট্রযন্ত্র কলমের রেখায় আস্ফালন করে, পুঁজিবাদের নগ্নতা কলমকে ভয় দেখায়; তখন তাকে ডায়েরির আশ্রয় নিতে হয়। তাকেও তো বাঁচতে হবে। ইচ্ছেদের উড়িয়ে দিলে মনের সুখ। এতে যেমন নির্ভার হওয়া যায়, তেমনি ইথারে তা থেকে যায়। এভাবেই একজন গণমাধ্যমকর্মীর ডায়েরিও সময়ের চক্রে গণমাধ্যম। তো গান বাজবেই।

এমনি বেলায় গান বাজে রাষ্ট্রীয় দপ্তরে। গণমাধ্যমকর্মী নামধারীরা তেল চিটচিটে চেহারায় প্রশ্ন করে অধিকর্তাকে। প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন সুবিধায় বিকিয়ে যান অনেকে। প্রহসন কিংবা লজ্জার; তেল চিটচিটে মানুষ গণমাধ্যমে দিব্যি সুখে থাকে। তাদের নারী-বাড়ি-গাড়ি হয়। রেললাইনে হাঁটে ঠকে যাওয়া কোনো কর্মী। তার বেতনের হিসাবে বিরিয়ানি কিংবা শীতল জল বিলি হয়। তাতেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

নানা গণমাধ্যম আক্রোশের শিকার হয়, বন্ধ হয় কর্মের পরিবেশ। কখনো-সখনো ব্যক্তি পড়ে ৫৭ কিংবা ৩২-এর ফাপরে। বিরিয়ানির গন্ধ তবুও বাতাসে। প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এসির বাতাসে বিপ্লব উড়ান কোনো বুদ্ধিজীবী কিংবা লেখক, নতুবা রাজনৈতিক। মাঝে সাঝে কবি। অথচ গণমাধ্যমকর্মী এমন অভিধা নিয়ে রেললাইনের সমান্তরালে জীবন ও পেশা খুঁজে। পেশার আশ্রয় খুঁজে।

কষ্ট নিয়ে দেখে গতিতে ভাসছে অন্য কেউ, পেশাসংশ্লিষ্ট। অবশ্য রেললাইন বলে সময় চলছে, জীবন চলছে, কীসের যাতনা? বিপরীতে অন্যের যাতনা ট্রাফিক সিগন্যাল। ব্যস্ত সময়ে ডাক পড়েছে অন্য কোথাও। অনেক তাড়া। সুখের ভাবনা ছড়িয়ে রেললাইন চলে। চলে গণমাধ্যমকর্মী।

তার খেদ বয়ে নিয়ে চলে লোহার শিহরণ। বাতাসে ফিসফিস ধ্বনি উঠে, ব্যক্তি হয়ে গোষ্ঠী, সমাজ ও দেশ। তো কষ্টের পাখিরা সুখের আকাশে। রংধনু খেলে যায়। বিপরীতে ভোটের বাক্সে নেতারা হাসেন। গণমাধ্যমকর্মীর বেতন উড়ে রঙিন কাগজে। পুরো প্রেস ক্লাব ছেয়ে যায়। লাল-নীল-সাদা গাড়িদের হানা। রঙিন কাচ নামায় এক একজন তেল চিটচিটে নেতা। রাষ্ট্রের কাছে তাদের অনেক দাবি। গণমাধ্যম সৃজনে কোনটা বোঝা দায়। নেতা হওয়ার খরচ তার লাগবে। লাগবে গাড়ি-বাড়ি-নারীও।

এভাবেই চলছে দ্বৈরথ। পেশা ও নেশার ভুবনে। একজন গণমাধ্যমকর্মী বিস্তর সুখ ও দুঃখ নিয়ে ভাবে, আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ...তোর সঙ্গে জীবন বদল করে কোনো লাভ হলো না আমার। খেদের ভাষা কবিতা হয়। গণমাধ্যমকর্মী আন্তর্জাতিক টার্মিনালে দৃঢ় পদচ্ছাপ রেখে এগিয়ে যান। সময় ও সভ্যতা হয়ে।

রায়হান উল্লাহ : কবি ও সাংবাদিক।

raihanullah12@gmail.com

বিডিপ্রেস/আরজে