BDpress

নির্বাচন পরিচালনায় সামরিক বাহিনীকে চান ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
নির্বাচন পরিচালনায় সামরিক বাহিনীকে চান ফখরুল
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করতে সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের শেষ কথা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। জাতীয় সংসদকে ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনের সময় লেভেল প্লেইংফিল্ড তৈরি করতে হবে। সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।’

শনিবার বিকেলে দলটির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। বেলা ২টায় জনসভা শুরু হয়। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুজ্জামান আলীম।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজকে দুঃস্বপ্ন দেখে তারা ভয়ে চিৎকার করে ওঠে। আসলো, আসলো বিএনপি আসলো, আসলো, আসলো তারেক রহমান আসলো। আসলো, আসলো খালেদা জিয়া আসলো এই ভয়ে রাতে তাদের ঘুম হয় না। ২৪টা ঘণ্টা শুধু বিএনপিভীতি, খালেদা জিয়া-ভীতি, তারেক রহমান-ভীতি, এর থেকে বাঁচার জন্য কত রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে, এখন নিয়ে আসছে ইভিএম। এ দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। আওয়ামী লীগ দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও দেশবাসী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সমস্ত দেশবাসী ও রাজনৈতিক সংগঠনকে আহ্বান জানাতে চাই আসুন এখন আর কোনো বিভেদ নয়, কালবিলম্ব নয়, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষার জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসুন বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে এই দুঃশাসনকে এই স্বৈরাচারকে যারা বুকের ওপর চেপে বসে আছে তাদের পরাজিত করি।’

তিনি বলেন, ‘এই জনসভা আজকে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের তরুণরা আবার জেগে উঠেছে। তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা এনেছে। ১৯৯০ সালে বুকের রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল। তারা প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও দেশমাতাকে ফিরিয়ে আনবে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মামলা প্রত্যাহার চাই, তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার চাই, তার বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মন্ত্রী আগে থেকেই বলে দিচ্ছেন যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তার সাজা হবে। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর নতুন করে তদন্ত করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই এই ধরনের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না। বাংলাদেশের মানুষ এই ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগে কারাগারে আমাদের নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। সরকারকে বলতে চাই অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। তার চিকিৎসার উপযুক্ত ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সব দায়দায়িত্ব আপনাদেরকে নিতে হবে।’

ফখরুলের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে সভা শেষ হয়। এতে অন্যদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ডা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদল সভপতি সাইফুল ইসলাম নীরব প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

এছাড়াও জনসভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈমুর আলম খন্দকার, ফরহাদ হালীম ডোনার, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুইল ইসলাম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

নির্বাচন পরিচালনায় সামরিক বাহিনীকে চান ফখরুল


নির্বাচন পরিচালনায় সামরিক বাহিনীকে চান ফখরুল

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের শেষ কথা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। জাতীয় সংসদকে ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনের সময় লেভেল প্লেইংফিল্ড তৈরি করতে হবে। সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।’

শনিবার বিকেলে দলটির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। বেলা ২টায় জনসভা শুরু হয়। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুজ্জামান আলীম।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজকে দুঃস্বপ্ন দেখে তারা ভয়ে চিৎকার করে ওঠে। আসলো, আসলো বিএনপি আসলো, আসলো, আসলো তারেক রহমান আসলো। আসলো, আসলো খালেদা জিয়া আসলো এই ভয়ে রাতে তাদের ঘুম হয় না। ২৪টা ঘণ্টা শুধু বিএনপিভীতি, খালেদা জিয়া-ভীতি, তারেক রহমান-ভীতি, এর থেকে বাঁচার জন্য কত রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে, এখন নিয়ে আসছে ইভিএম। এ দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। আওয়ামী লীগ দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও দেশবাসী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সমস্ত দেশবাসী ও রাজনৈতিক সংগঠনকে আহ্বান জানাতে চাই আসুন এখন আর কোনো বিভেদ নয়, কালবিলম্ব নয়, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষার জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসুন বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে এই দুঃশাসনকে এই স্বৈরাচারকে যারা বুকের ওপর চেপে বসে আছে তাদের পরাজিত করি।’

তিনি বলেন, ‘এই জনসভা আজকে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের তরুণরা আবার জেগে উঠেছে। তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা এনেছে। ১৯৯০ সালে বুকের রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল। তারা প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও দেশমাতাকে ফিরিয়ে আনবে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মামলা প্রত্যাহার চাই, তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার চাই, তার বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মন্ত্রী আগে থেকেই বলে দিচ্ছেন যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তার সাজা হবে। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর নতুন করে তদন্ত করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই এই ধরনের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না। বাংলাদেশের মানুষ এই ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগে কারাগারে আমাদের নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। সরকারকে বলতে চাই অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। তার চিকিৎসার উপযুক্ত ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সব দায়দায়িত্ব আপনাদেরকে নিতে হবে।’

ফখরুলের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে সভা শেষ হয়। এতে অন্যদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ডা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদল সভপতি সাইফুল ইসলাম নীরব প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

এছাড়াও জনসভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈমুর আলম খন্দকার, ফরহাদ হালীম ডোনার, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুইল ইসলাম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিডিপ্রেস/আরজে