BDpress

সেফহোম থেকে ১৭ নারীর পলায়ন

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
সেফহোম থেকে ১৭ নারীর পলায়ন
চামচ দিয়ে গ্রিল কেটে গাজীপুরের মোগরখাল এলাকার নারী ও শিশুদের সেফ হোম থেকে ১৭ নিবাসী পলায়ন করেছে।

শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে ১২ জনকে আটক করেছে।

আটকদের মধ্যে চারজনকে আশপাশের এলাকা থেকে ও আটজনকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পালিয়ে যাওয়ার পর আটক এক কিশোরী বলেন, এত দিন আমাদের পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। সম্প্রতি বিয়ের কেইসে রিয়া ও সুমি নামের দুজন সেফহোমে আসে। তারাই পরিকল্পনা করে পালিয়ে যাওয়ার। এরপরেই আমরা গ্রিল ভেঙে পালাই। এরপর রিয়া ও সুমি আমাদের রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছে। এরপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে দোকানে গিয়ে বসলাম। এরপর আমরা দোকানওয়ালার কাছে একটা হেল্প চাইলাম। এরপর আমি চাচীর কাছে ফোন দিয়ে বললাম আমারা একটা দোকানে আছি। এরপর চাচী পুলিশকে ঘটনাটি জানালে, পুলিশ আবার আমাদের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে আসে।

ওই কিশোরী আরও বলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে তক্তা ও চামচ দিয়ে আমরা গ্রিল কেটে রাখছি। এরপর ১১টার দিকে আমরা বের হইছি।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ নওয়াজ দিলরুবা জানান, ওই আবাসন কেন্দ্রের দোতলার জানালার গ্রিল ভেঙে এবং খাটের বিছানা দিয়ে ছাদের সঙ্গে বাউন্ডারি ওয়াল পর্যন্ত সিঁড়ি তৈরি করে একে একে ১৭ নিবাসী পালিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে আবাসন কেন্দ্রের লোকজন টের পেয়ে দুজনকে ছাদ থেকে ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক করে এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ কেন্দ্রের আশপাশ এলাকা থেকে আরও দুজনকে উদ্ধার করে। আজ সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকা থেকে পুলিশ আটজনকে উদ্ধার করেছে। আবাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা গাজীপুর থেকে পুলিশ নিয়ে মির্জাপুর থানা থেকে আটক আটজনকে আনার জন্য রওয়ানা হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনা তদন্তে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির নির্দেশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনকে প্রধান করে তিনি সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গাজীপুরে মহিলা, শিশু ও কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের সহকারী হোস্টেল সুপার পারভীন আক্তার জানান, এই কেন্দ্রে ৩৪ জন নিবাসী রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩২ জন নারী ও কিশোরী এবং দুইজন শিশু।

এদিকে মহিলা, শিশু ও কিশোরী নিরাপদ হেফাজতিদের আবাসন কেন্দ্র থেকে নিবাসী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ নওয়াজ দিলরুবা, গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এসএম মোকছেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

সেফহোম থেকে ১৭ নারীর পলায়ন


সেফহোম থেকে ১৭ নারীর পলায়ন

শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে ১২ জনকে আটক করেছে।

আটকদের মধ্যে চারজনকে আশপাশের এলাকা থেকে ও আটজনকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পালিয়ে যাওয়ার পর আটক এক কিশোরী বলেন, এত দিন আমাদের পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। সম্প্রতি বিয়ের কেইসে রিয়া ও সুমি নামের দুজন সেফহোমে আসে। তারাই পরিকল্পনা করে পালিয়ে যাওয়ার। এরপরেই আমরা গ্রিল ভেঙে পালাই। এরপর রিয়া ও সুমি আমাদের রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছে। এরপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে দোকানে গিয়ে বসলাম। এরপর আমরা দোকানওয়ালার কাছে একটা হেল্প চাইলাম। এরপর আমি চাচীর কাছে ফোন দিয়ে বললাম আমারা একটা দোকানে আছি। এরপর চাচী পুলিশকে ঘটনাটি জানালে, পুলিশ আবার আমাদের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে আসে।

ওই কিশোরী আরও বলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে তক্তা ও চামচ দিয়ে আমরা গ্রিল কেটে রাখছি। এরপর ১১টার দিকে আমরা বের হইছি।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ নওয়াজ দিলরুবা জানান, ওই আবাসন কেন্দ্রের দোতলার জানালার গ্রিল ভেঙে এবং খাটের বিছানা দিয়ে ছাদের সঙ্গে বাউন্ডারি ওয়াল পর্যন্ত সিঁড়ি তৈরি করে একে একে ১৭ নিবাসী পালিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে আবাসন কেন্দ্রের লোকজন টের পেয়ে দুজনকে ছাদ থেকে ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক করে এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ কেন্দ্রের আশপাশ এলাকা থেকে আরও দুজনকে উদ্ধার করে। আজ সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকা থেকে পুলিশ আটজনকে উদ্ধার করেছে। আবাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা গাজীপুর থেকে পুলিশ নিয়ে মির্জাপুর থানা থেকে আটক আটজনকে আনার জন্য রওয়ানা হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনা তদন্তে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির নির্দেশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনকে প্রধান করে তিনি সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গাজীপুরে মহিলা, শিশু ও কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের সহকারী হোস্টেল সুপার পারভীন আক্তার জানান, এই কেন্দ্রে ৩৪ জন নিবাসী রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩২ জন নারী ও কিশোরী এবং দুইজন শিশু।

এদিকে মহিলা, শিশু ও কিশোরী নিরাপদ হেফাজতিদের আবাসন কেন্দ্র থেকে নিবাসী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ নওয়াজ দিলরুবা, গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এসএম মোকছেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

বিডিপ্রেস/আরজে