BDpress

টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ+ অ-
টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ
সেবা খাতের দুর্নীতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশর (টিআইবি) করা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির প্রতিবেদনটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর মতো রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান তদন্তকারী সংস্থাকে মুষ্টিমেয় কতিপয় লোকের মতামতের ভিত্তিতে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এই জরিপে যারা মতামত দিয়েছেন তাদের মধ্যে কতজন বা আদৌ কেউ প্রত্যক্ষভাবে উল্লিখিত সময়ে পুলিশি সেবা নিতে গিয়েছিলেন কি না তাও স্পষ্ট নয়। ফলে এমন একটি প্রতিবেদন শুধু শ্রুতি জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা কতটা যৌক্তিক বা সঠিক তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই গবেষণাটি বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করছে।

নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্বেও দেশের উন্নয়নের ধারা সমুন্নত রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম কাজ করা এই বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে এই ধরনের অপরিপক্ব ও পূর্বধারণাপ্রসূত গবেষণা প্রকাশ করায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য হতাশ।

গবেষণার তথ্য গ্রহণ সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্য সংগ্রহের বেলায় তথ্যদাতা বা থানা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৈবচয়ন পদ্ধতি অনুসরণ না করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টার্গেটভিত্তিক মামলায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের মতো শৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেয় করার হীন উদ্দেশ্যে এ ধরনের জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি জরিপের গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

প্রতিবেদনটির প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ধারণাপ্রসূত জরিপের গবেষণা প্রতিবেদন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারের ফলে জনগণের মধ্যে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাকে আরো সম্প্রসারিত ও প্রতিষ্ঠিত করবে। ফলে জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা ম্লান হতে পারে এবং জনগণ ও পুলিশের মধ্যে দূরত্ব ও আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

গত ৩০ আগস্ট দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে দুর্নীতি নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সেবা খাতে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়। এখানে সেবা নিতে গিয়ে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ খানা (পরিবার বা ছোট গোষ্ঠী বিশেষ) কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এরপরই রয়েছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আর দেশের ৮৯ শতাংশ মানুষের মতে, ঘুষ না দিলে কোনো খাতেই সেবা মেলে না।

টিআইবির এই প্রতিবেদনের পর পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এক অনুষ্ঠানে জানান, তিনি প্রতিবেদনটি পড়েননি। গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন।

টিআইবি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথম পুলিশের কোনো সংস্থা থেকে বিবৃতি এলো।

বিডিপ্রেস/আরজে

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ


টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির প্রতিবেদনটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর মতো রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান তদন্তকারী সংস্থাকে মুষ্টিমেয় কতিপয় লোকের মতামতের ভিত্তিতে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এই জরিপে যারা মতামত দিয়েছেন তাদের মধ্যে কতজন বা আদৌ কেউ প্রত্যক্ষভাবে উল্লিখিত সময়ে পুলিশি সেবা নিতে গিয়েছিলেন কি না তাও স্পষ্ট নয়। ফলে এমন একটি প্রতিবেদন শুধু শ্রুতি জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা কতটা যৌক্তিক বা সঠিক তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই গবেষণাটি বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করছে।

নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্বেও দেশের উন্নয়নের ধারা সমুন্নত রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম কাজ করা এই বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে এই ধরনের অপরিপক্ব ও পূর্বধারণাপ্রসূত গবেষণা প্রকাশ করায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য হতাশ।

গবেষণার তথ্য গ্রহণ সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্য সংগ্রহের বেলায় তথ্যদাতা বা থানা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৈবচয়ন পদ্ধতি অনুসরণ না করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টার্গেটভিত্তিক মামলায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের মতো শৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেয় করার হীন উদ্দেশ্যে এ ধরনের জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি জরিপের গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

প্রতিবেদনটির প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ধারণাপ্রসূত জরিপের গবেষণা প্রতিবেদন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারের ফলে জনগণের মধ্যে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাকে আরো সম্প্রসারিত ও প্রতিষ্ঠিত করবে। ফলে জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা ম্লান হতে পারে এবং জনগণ ও পুলিশের মধ্যে দূরত্ব ও আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

গত ৩০ আগস্ট দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে দুর্নীতি নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সেবা খাতে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়। এখানে সেবা নিতে গিয়ে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ খানা (পরিবার বা ছোট গোষ্ঠী বিশেষ) কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এরপরই রয়েছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আর দেশের ৮৯ শতাংশ মানুষের মতে, ঘুষ না দিলে কোনো খাতেই সেবা মেলে না।

টিআইবির এই প্রতিবেদনের পর পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এক অনুষ্ঠানে জানান, তিনি প্রতিবেদনটি পড়েননি। গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন।

টিআইবি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথম পুলিশের কোনো সংস্থা থেকে বিবৃতি এলো।

বিডিপ্রেস/আরজে