BDpress

১১ কোম্পানির শেয়ার হাজার টাকার ওপরে

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
১১ কোম্পানির শেয়ার হাজার টাকার ওপরে
পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১টির শেয়ারদর এক হাজার টাকার ওপরে। এর মধ্যে ছয়টি রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি। বাকি পাঁচটি স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। তবে এ তালিকায় মৌলভিত্তির কোনো কোম্পানি নেই। বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া স্বল্প মূলধনি কোম্পানির অস্বাভাবিক দামের পেছনে কারসাজি চক্রের নিয়ন্ত্রণহীন আচরণকে দায়ী করছেন তারা।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক হাজার টাকার ওপরে রয়েছে ১০টি শেয়ার। এগুলো হচ্ছে স্টাইল ক্র্যাফট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড (বিএটিবিসি), রেকিট বেনকিজার, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট, রেনাটা, বার্জার পেইন্টস, গ্ল্যাস্কো স্মিথ, লিন্ডেবিডি, মেরিকো ও বাটা শু।

যদিও দুই মাস আগে এ সংখ্যা ছিল ১২টিতে। এর মধ্যে কারসাজি চক্র যুক্ত হওয়ায় প্রকৌশল খাতের কোম্পানি মুন্নু জুট স্ট্যাফলারের লেনদেন স্থগিত রয়েছে। আর ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি লিব্র্যা ইনফিউশন দর হারিয়ে এক হাজার ১৮ টাকা থেকে অর্ধেকে নেমে যায় এবং গতকাল সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৬৫১ টাকায়। ফলে বর্তমানে হাজার টাকার শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বর্তমানে সবচেয়ে দামি শেয়ার হচ্ছে প্রকৌশল খাতের মুন্নু জুট স্ট্যাফলারের। লেনদেন স্থগিত হওয়ার সময়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে চার হাজার ৬৩৯ টাকা ৪০ পয়সায়। কোনো কারণ ছাড়াই শেয়ারটির দর লাগামহীন গতিতে বৃদ্ধি পায়। গত বছরের জুলইয়ে থাকা ৫২০ টাকা দরের শেয়ারটি গত জানুয়ারির প্রথম দিকে লেনদেন হয় ৬৪৬ টাকার ওপরে। ছয় মাসে ১২৫ টাকা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু জানুয়ারির মধ্যবর্তী সময় থেকেই লাগামহীন গতিতে বৃদ্ধি পায় শেয়ারটির দর। গত আগস্টের মধ্যবর্তী সময়ে সাড়ে ছয়শ টাকার শেয়ারটি পৌঁছে যায় চার হাজার ৬৩৯ টাকার ওপরে। এই সাত মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি পায় তিন হাজার ৯৯৩ টাকা বা ৬১৮ গুণের শতাংশের বেশি। কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের থাকা কয়েকজনের যোগসাজশে শেয়ারটি নিয়ে কারসাজি শুরু করে একটি চক্র। বিনিয়োগের কল্পকাহিনি ছড়িয়ে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি করতে থাকে চক্রটি। ফলে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও দামি হয়ে ওঠে দীর্ঘদিন লভ্যাংশ দিতে না পারা ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে থাকা মুন্নু জুট স্ট্যাফলারের শেয়ার।

বিভিন্ন মহলের চাপ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর দাবির মুখে অবশেষে শেয়ারদরের লাগাম টানতে শেয়ারটির লেনদেন স্থগিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৬ আগস্ট থেকে দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর এখনও শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে কোম্পানিটির।
অপরদিকে মূল মার্কেটে এখন সবচেয়ে দামি শেয়ার হচ্ছে ডিএসইর ‘ক্যাটেগরির’ কোম্পানি স্ট্যাইল ক্র্যাফটের। এটিও বিতর্কিত কোম্পানি। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে শেয়ারটির দর। গত ১২ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল দুই হাজার ৪৪৪ টাকা ৯০ পয়সা। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত শেয়ারদর এক হাজার ৩০১ টাকা থেকে দুই হাজার ৮৯০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটি দিন শেষে হাতবদল হয়েছে চার হাজার ৫০৪ টাকা ৯০ পয়সায়। গত আড়াই মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৮৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই। এজন্য কয়েক দফায় কারণ দর্শানোর চিঠি দিলেও মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

তিন হাজার ৩১০ টাকায় শেয়ারদর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি বিএটিবিসি। এক হাজার ৬৮২ টাকা শেয়ারদর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রেকিট বেনকিজার। এর পরেই গতকাল এক হাজার ৪৭০ টাকায় ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট ও এক হাজার ২৩৫ টাকায় রেনাটার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এছাড়া অপর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই হচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি। গতকাল বার্জার পেইন্টসের শেয়ারদর ছিল এক হাজার ২২৫ টাকা ১০ পয়সা, গ্ল্যাস্কো স্মিথক্লেইনের এক হাজার ১৯৭ টাকা, লিন্ডে বিডির এক হাজার ১৫৪ টাকা, ম্যারিকোর এক হাজার ১৫১ টাকা ৮০ পয়সা এবং বাটা শুর শেয়ারদর ছিল এক হাজার ৯৭ টাকা।
বিডিপ্রেস/আলী

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

১১ কোম্পানির শেয়ার হাজার টাকার ওপরে


১১ কোম্পানির শেয়ার হাজার টাকার ওপরে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক হাজার টাকার ওপরে রয়েছে ১০টি শেয়ার। এগুলো হচ্ছে স্টাইল ক্র্যাফট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড (বিএটিবিসি), রেকিট বেনকিজার, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট, রেনাটা, বার্জার পেইন্টস, গ্ল্যাস্কো স্মিথ, লিন্ডেবিডি, মেরিকো ও বাটা শু।

যদিও দুই মাস আগে এ সংখ্যা ছিল ১২টিতে। এর মধ্যে কারসাজি চক্র যুক্ত হওয়ায় প্রকৌশল খাতের কোম্পানি মুন্নু জুট স্ট্যাফলারের লেনদেন স্থগিত রয়েছে। আর ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি লিব্র্যা ইনফিউশন দর হারিয়ে এক হাজার ১৮ টাকা থেকে অর্ধেকে নেমে যায় এবং গতকাল সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৬৫১ টাকায়। ফলে বর্তমানে হাজার টাকার শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বর্তমানে সবচেয়ে দামি শেয়ার হচ্ছে প্রকৌশল খাতের মুন্নু জুট স্ট্যাফলারের। লেনদেন স্থগিত হওয়ার সময়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে চার হাজার ৬৩৯ টাকা ৪০ পয়সায়। কোনো কারণ ছাড়াই শেয়ারটির দর লাগামহীন গতিতে বৃদ্ধি পায়। গত বছরের জুলইয়ে থাকা ৫২০ টাকা দরের শেয়ারটি গত জানুয়ারির প্রথম দিকে লেনদেন হয় ৬৪৬ টাকার ওপরে। ছয় মাসে ১২৫ টাকা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু জানুয়ারির মধ্যবর্তী সময় থেকেই লাগামহীন গতিতে বৃদ্ধি পায় শেয়ারটির দর। গত আগস্টের মধ্যবর্তী সময়ে সাড়ে ছয়শ টাকার শেয়ারটি পৌঁছে যায় চার হাজার ৬৩৯ টাকার ওপরে। এই সাত মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি পায় তিন হাজার ৯৯৩ টাকা বা ৬১৮ গুণের শতাংশের বেশি। কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের থাকা কয়েকজনের যোগসাজশে শেয়ারটি নিয়ে কারসাজি শুরু করে একটি চক্র। বিনিয়োগের কল্পকাহিনি ছড়িয়ে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি করতে থাকে চক্রটি। ফলে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও দামি হয়ে ওঠে দীর্ঘদিন লভ্যাংশ দিতে না পারা ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে থাকা মুন্নু জুট স্ট্যাফলারের শেয়ার।

বিভিন্ন মহলের চাপ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর দাবির মুখে অবশেষে শেয়ারদরের লাগাম টানতে শেয়ারটির লেনদেন স্থগিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৬ আগস্ট থেকে দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর এখনও শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে কোম্পানিটির।
অপরদিকে মূল মার্কেটে এখন সবচেয়ে দামি শেয়ার হচ্ছে ডিএসইর ‘ক্যাটেগরির’ কোম্পানি স্ট্যাইল ক্র্যাফটের। এটিও বিতর্কিত কোম্পানি। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে শেয়ারটির দর। গত ১২ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল দুই হাজার ৪৪৪ টাকা ৯০ পয়সা। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত শেয়ারদর এক হাজার ৩০১ টাকা থেকে দুই হাজার ৮৯০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটি দিন শেষে হাতবদল হয়েছে চার হাজার ৫০৪ টাকা ৯০ পয়সায়। গত আড়াই মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৮৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই। এজন্য কয়েক দফায় কারণ দর্শানোর চিঠি দিলেও মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

তিন হাজার ৩১০ টাকায় শেয়ারদর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি বিএটিবিসি। এক হাজার ৬৮২ টাকা শেয়ারদর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রেকিট বেনকিজার। এর পরেই গতকাল এক হাজার ৪৭০ টাকায় ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট ও এক হাজার ২৩৫ টাকায় রেনাটার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এছাড়া অপর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই হচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি। গতকাল বার্জার পেইন্টসের শেয়ারদর ছিল এক হাজার ২২৫ টাকা ১০ পয়সা, গ্ল্যাস্কো স্মিথক্লেইনের এক হাজার ১৯৭ টাকা, লিন্ডে বিডির এক হাজার ১৫৪ টাকা, ম্যারিকোর এক হাজার ১৫১ টাকা ৮০ পয়সা এবং বাটা শুর শেয়ারদর ছিল এক হাজার ৯৭ টাকা।
বিডিপ্রেস/আলী