BDpress

উপকূলে কাজু বাদাম চাষের সম্ভাবনা

জেলা প্রতিবেদক

অ+ অ-
উপকূলে কাজু বাদাম চাষের সম্ভাবনা
পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও দামি ফল হিসেবে কাজু বাদাম বেশ পরিচিত। দেশে স্বল্প পরিসরে পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত কাজু বাদাম পুরোটাই বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় উপকূলীয় অঞ্চলে কাজু বাদাম চাষের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষি গবেষকদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কাজু বাদাম চাষে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব। জানা যায়, কিছুদিন আগেও কাজু বাদামের এত পরিচিতি ছিল না। দামি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাদ বাড়াতে এর ব্যবহার শুরু হলে জনপ্রিয়তা পায় কাজু। বর্তমানে প্রতিকেজি বাদামের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উপকূলীয় অঞ্চলে কাজু বাদাম চাষ করা গেলে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়বে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম বলছেন, প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি গাছ লাগাই। আমরা দেখেছি উপকূলীয় এলাকায় কাজু বাদামের প্রচুর ফলন হয়।

এখন নিজেরা চারা তৈরি করছি এবং সেই গাছগুলোর অগ্রগতি অবাক করার মতো। গবেষণায় জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কা উপকূলীয় এলাকার মতো বাংলাদেশেও কাজু বাদাম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। কাজু গাছ বালু মাটিতে কিছুুটা লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। উৎপাদিত কাজু বাদাম প্রক্রিয়াজাত করতে দেশে কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। এতে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

এছাড়া সরাসরি কাজু বাদাম বিদেশে রপ্তানি করা যায়। খুলনা মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা ও গবেষক জাকিয়া সুলতানা বলেন, কাজুর বিভিন্ন জাত সংগ্রহের পর জীবন প্রক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। পরে উপকূলীয় এলাকার জন্য বিশেষ জাত বাছাই করা হয়েছে। এই জাতের গাছ বেশি বড় হবে না, কিন্তু প্রচুর ফলন হবে। এটা বাড়ির আঙ্গিনায়, জমির আইলে ও উপকূলীয় পরিত্যক্ত জায়গায় চাষ করা যাবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত জমিতে একটি ফসল করে। এতে তাদের দরিদ্র্যতা কমছে না। আমরা যদি কাজুকে কৃষকের বিকল্প ফসল হিসেবে দিতে পারি তাহলে তারা যেমন উপকৃত হবে তেমনি অর্থনৈতিকভাবে দেশ উপকৃত হবে।
বিডিপ্রেস/আলী

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

উপকূলে কাজু বাদাম চাষের সম্ভাবনা


উপকূলে কাজু বাদাম চাষের সম্ভাবনা

কৃষি গবেষকদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কাজু বাদাম চাষে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব। জানা যায়, কিছুদিন আগেও কাজু বাদামের এত পরিচিতি ছিল না। দামি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাদ বাড়াতে এর ব্যবহার শুরু হলে জনপ্রিয়তা পায় কাজু। বর্তমানে প্রতিকেজি বাদামের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উপকূলীয় অঞ্চলে কাজু বাদাম চাষ করা গেলে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়বে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম বলছেন, প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি গাছ লাগাই। আমরা দেখেছি উপকূলীয় এলাকায় কাজু বাদামের প্রচুর ফলন হয়।

এখন নিজেরা চারা তৈরি করছি এবং সেই গাছগুলোর অগ্রগতি অবাক করার মতো। গবেষণায় জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কা উপকূলীয় এলাকার মতো বাংলাদেশেও কাজু বাদাম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। কাজু গাছ বালু মাটিতে কিছুুটা লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। উৎপাদিত কাজু বাদাম প্রক্রিয়াজাত করতে দেশে কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। এতে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

এছাড়া সরাসরি কাজু বাদাম বিদেশে রপ্তানি করা যায়। খুলনা মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা ও গবেষক জাকিয়া সুলতানা বলেন, কাজুর বিভিন্ন জাত সংগ্রহের পর জীবন প্রক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। পরে উপকূলীয় এলাকার জন্য বিশেষ জাত বাছাই করা হয়েছে। এই জাতের গাছ বেশি বড় হবে না, কিন্তু প্রচুর ফলন হবে। এটা বাড়ির আঙ্গিনায়, জমির আইলে ও উপকূলীয় পরিত্যক্ত জায়গায় চাষ করা যাবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত জমিতে একটি ফসল করে। এতে তাদের দরিদ্র্যতা কমছে না। আমরা যদি কাজুকে কৃষকের বিকল্প ফসল হিসেবে দিতে পারি তাহলে তারা যেমন উপকৃত হবে তেমনি অর্থনৈতিকভাবে দেশ উপকৃত হবে।
বিডিপ্রেস/আলী