BDpress

বিজিএমইএ নির্বাচন : জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ

বিডিপ্রেস ডেস্ক

অ+ অ-
বিজিএমইএ নির্বাচন : জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ
তৈরি পোশাকশিল্প ও রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচনকে ঘিরে নতুন প্যানেল স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যমান বিরোধ আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে মীমাংসা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খাইরুল আলমের বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সাবেক বিচারপতি ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী এ আর এম কামরুজ্জামান কাঁকন ও শুভ্রজিৎ ব্যানার্জি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এ বিষয়ে সাবেক বিচারপতি ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন জানান, আদালত আদেশে বলেছেন, বিজিএমইএর নির্বাচনের আগে সংগঠন থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে যেন হয়রানি করা না হয়। বিজিএমইএ থেকে জাহাঙ্গীর আলমের সদস্যপদ যাতে বাতিল না হয়, সে বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের প্যানেলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে আসছে বিজিএমইএ। এ দুই প্যানেলের আধিপত্য ঠেকাতে স্বাধীনতা পরিষদ নামে নতুন একটি প্যানেল গঠন করেন ডিএসএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহাঙ্গীর আলম।
গত ফেব্রুয়ারিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরের এক বক্তব্যে আপত্তি তোলে বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ।

এর পর সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমসহ বিজিএমইএর আরো দুই সদস্য জেড এ অ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান কাজী মেহজাবিন মমতাজ এবং ওয়েমার্ট অ্যাপারেলস লিমিটেডের পরিচালক আয়েশা আক্তারকে ৪ মার্চ বিজিএমইএ ভবনে এসে পর্ষদের কাছে তাঁদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কেন তাঁদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন জাহাঙ্গীর আলম। রিটে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ কেন অবৈধ নয়, এই মর্মে নির্দেশ চাওয়া হয়। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট থেকে বিজিএমইএর ওই নির্দেশনার ওপর ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্বাধীনতা পরিষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিজিএমইএর আসন্ন নির্বাচনে একজন প্রার্থী। অথচ নির্বাচনের আগে আমার সদস্যপদ বাতিল কেন হবে না, সে-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয় আমাকে। এটা কী করে হয়!’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অতএব, এই পর্ষদের অধীনে আমি ন্যায়বিচার পাব না। তাই আমি মাননীয় উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হই।’

স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক আরো বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর এ ধরনের উদ্যোগ বেআইনি। এ ছাড়া আমি লিখিতভাবে বলেছি, বিজিএমইএর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কোনো বক্তব্য কোথাও দিইনি। তাহলে কেন আমার সদস্যপদ বাতিলের কথা উঠবে?’

তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টে রিট করছেন কি না, জানি না। তবে তিনি একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে ৪ মার্চ বিজিএমইএতে উপস্থিত হতে পারবেন না।’

‘যেহেতু জাহাঙ্গীর আলম আমাদের একজন সম্মানীয় সদস্য, তাই তাঁকে বিজিএমইএতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ১৩ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।’ হাইকোর্টের আদেশের কোনো তথ্যও বিজিএমইএর কাছে আসেনি বলেও জানান সিদ্দিকুর রহমান।
বিডিপ্রেস/আলী

এ সম্পর্কিত অন্যান্য খবর

BDpress

বিজিএমইএ নির্বাচন : জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ


বিজিএমইএ নির্বাচন : জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খাইরুল আলমের বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সাবেক বিচারপতি ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী এ আর এম কামরুজ্জামান কাঁকন ও শুভ্রজিৎ ব্যানার্জি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এ বিষয়ে সাবেক বিচারপতি ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন জানান, আদালত আদেশে বলেছেন, বিজিএমইএর নির্বাচনের আগে সংগঠন থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে যেন হয়রানি করা না হয়। বিজিএমইএ থেকে জাহাঙ্গীর আলমের সদস্যপদ যাতে বাতিল না হয়, সে বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের প্যানেলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে আসছে বিজিএমইএ। এ দুই প্যানেলের আধিপত্য ঠেকাতে স্বাধীনতা পরিষদ নামে নতুন একটি প্যানেল গঠন করেন ডিএসএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহাঙ্গীর আলম।
গত ফেব্রুয়ারিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরের এক বক্তব্যে আপত্তি তোলে বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ।

এর পর সংগঠনের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমসহ বিজিএমইএর আরো দুই সদস্য জেড এ অ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান কাজী মেহজাবিন মমতাজ এবং ওয়েমার্ট অ্যাপারেলস লিমিটেডের পরিচালক আয়েশা আক্তারকে ৪ মার্চ বিজিএমইএ ভবনে এসে পর্ষদের কাছে তাঁদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কেন তাঁদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন জাহাঙ্গীর আলম। রিটে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রার্থীর সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ কেন অবৈধ নয়, এই মর্মে নির্দেশ চাওয়া হয়। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট থেকে বিজিএমইএর ওই নির্দেশনার ওপর ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্বাধীনতা পরিষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিজিএমইএর আসন্ন নির্বাচনে একজন প্রার্থী। অথচ নির্বাচনের আগে আমার সদস্যপদ বাতিল কেন হবে না, সে-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয় আমাকে। এটা কী করে হয়!’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অতএব, এই পর্ষদের অধীনে আমি ন্যায়বিচার পাব না। তাই আমি মাননীয় উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হই।’

স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক আরো বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর এ ধরনের উদ্যোগ বেআইনি। এ ছাড়া আমি লিখিতভাবে বলেছি, বিজিএমইএর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কোনো বক্তব্য কোথাও দিইনি। তাহলে কেন আমার সদস্যপদ বাতিলের কথা উঠবে?’

তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টে রিট করছেন কি না, জানি না। তবে তিনি একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে ৪ মার্চ বিজিএমইএতে উপস্থিত হতে পারবেন না।’

‘যেহেতু জাহাঙ্গীর আলম আমাদের একজন সম্মানীয় সদস্য, তাই তাঁকে বিজিএমইএতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ১৩ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।’ হাইকোর্টের আদেশের কোনো তথ্যও বিজিএমইএর কাছে আসেনি বলেও জানান সিদ্দিকুর রহমান।
বিডিপ্রেস/আলী