স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ০২ আগস্ট)- জুলাই মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে সহস্রাধিক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এর জুলাই মাসের প্রতিবেদন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির এ চিত্র উঠে আসে।
প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সভা-সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যা, এনজিও নিয়ন্ত্রণে সরকারি চেষ্টা এবং নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
রাজনৈতিক সহিংসতা
জুলাই মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৪ জন নিহত এবং ১১২৩ জন আহত হয়েছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাতে সাত জন নিহত ও ৪৩০ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে একজন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একই সংগঠনের কর্মী আবদুল্লাহ আল হাসান (সোহেল রানা) নিহত হন। পদ্মা সেতুর জন্য চাঁদা তোলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
গত মাসে ছয় জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহত ছয় জনের মধ্যে তিন জন র্যাাব কর্তৃক বন্দুকযুদ্ধে এবং ৩ জন আনসারের গুলিতে নিহত হয়েছে। নিহত ছয় জনের মধ্যে তিন জন শ্রমিক এবং তিন জন কথিত অপরাধী বলে জানা গেছে।
সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত
জুলাই মাসে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী-বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে বিএসএফ পাঁচ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিন জন বিএসএফের গুলিতে এবং দুই জন নির্যাতনের কারণে মারা গেছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে বিএসএফ কর্তৃক ১১ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জন গুলিতে ও পাঁচ জন নির্যাতনে আহত হয়।
বিডিআর বিদ্রোহের বিচার
বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় বিচার চলাকালে অভিযুক্ত জওয়ানদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেয়া, ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা, খাওয়ার জন্য এবং শৌচাগারের জন্য সুব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে অধিকার।
এনিজও বিষয়ক ব্যুরোর নতুন আইনে উদ্বেগ
অধিকার মনে করে, এনজিও ব্যুরোর প্রস্তাবিত এই নিবর্তনমূলক আইন মানবাধিকার সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরো বেশি মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগঠিত হবার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে।
মানবাধিকার সংগঠন সম্পর্কে আইন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ
গত ১১ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে দৈনিক ভোরের কাগজ আয়োজিত ‘মানবাধিকার বিতর্ক: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), অধিকার এবং আইন ও শালিস কেন্দ্র’র মতো যারা দুর্নীতি ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে সেই সব সংস্থাগুলোর তহবিল কোথা থেকে আসে তা খুঁজে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সময় এসেছে।’
অধিকার আইন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলে, একজন মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা কী ধরনের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে কাজ করছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকার এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর যথাযথ ছাড়পত্র নিয়েই তার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে এবং এর নিরীক্ষণ প্রতিবেদন এই ব্যুরোতে নিয়মিত জমা দেয়।
গণপিটুনিতে মৃত্যু
জুলাই মাসে ১৪ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ায় মানুষের নিজের হাতে আইন তুলে নেবার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা
গত মাসে একজন সাংবাদিক নিহত, একজন সাংবাদিক নির্যাতিত, ৩৪ জন আহত, তিন জন হুমকির সম্মুখীন, দুই জন হামলার শিকার এবং পাঁচ জন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লিমনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগপত্র দাখিল
র্যা বের গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনকে আসামী করে আরেকটি মামলায় অভিযোগ দাখিল করেছে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানা পুলিশ। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এ মামলার বাদী র্যামব। এর আগে লিমনের বিরুদ্ধে র্যা বের দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
লিমনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগপত্রটি তাকে আরো বেশি হেনস্তা করার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে অধিকার। অধিকার অবিলম্বে লিমনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগপত্র প্রত্যাহার এবং লিমনকে পঙ্গু করার সঙ্গে জড়িত র্যাতব সদস্যদের বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানায়।
নারীর প্রতি সহিংসতা
নারীর প্রতি সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে এবং নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী জুলাই মাসে যৌতুক, যৌন হয়রানী, ধর্ষণ এবং এসিড আক্রমনের শিকার হয়েছেন। ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে।
গত মাসে মোট ৫৫ জন নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ২৯ জন নারী এবং ২৫ জন মেয়ে শিশু। ওই ২৯ জন নারীর মধ্যে একজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ১৩ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২৫ জন মেয়ে শিশুর মধ্যে দুই জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং চার জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_২০৫৫ ঘ.
Add Your Comment
- কক্সবাজারে পুলিশ-ডাকাত বন্দুকযুদ্ধ আহত ৩
- গুলশানে বজ্রপাতে নিহত ২
- চাঁপাইয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু ৪, আহত ৭
- ২৭ জুন সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলার রায়
- ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম ৫ মাস পর উদ্ধার
- ঢাবি সুইমিংপুলের পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
- আপন ভাইকে লক্ষ করে পৌর কাউন্সিলরের গুলি
- সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যুবকের অঙ্গহানি
- হজের নামে আদম পাচার:লাইসেন্স বাতিল ৩০ এজেন্সির
- সাতক্ষীরা সীমান্তে ১২ ভারতীয় নাগরিক আটক



