জেলা সংবাদদাতা: (কক্সবাজার, ০২ এপ্রিল)- গত দশ বছর আগে থেকে শুরু হওয়া তামাক চাষ গ্রাস করেছে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জমি। এখনো চলছে তামাকের দাপুটে ভাব। তার মধ্যেই হাতে গোনা কয়েকজন চাষী ঝুঁকছেন ফুলচাষের দিকে। ফুলচাষে সফলতা আসায় প্রতি বছরই বাড়ছে ফুলচাষীর সংখ্যা। এখন চকরিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠ দেখলেই মনে হবে যেন ‘তামাকের রাজ্যে ফুলের সৌরভ’।
চকরিয়া কৃষি কর্মকর্তার কার্যলয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়ায় ২২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়।
ব্যাপকহারে তামাক চাষ হয় এমন একটি এলাকার নাম হচ্ছে বড়ইতলী ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে দুই হাজার ৪৫ হেক্টর জমি রয়েছে। তার মধ্যেই প্রায় একশ ২০ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়। আর ফুলের চাষ হয় মাত্র ৬১ হেক্টরে। এর মধ্যে গোলাপের চাষ হচ্ছে ৪০, গ্ল্যাডিওলাস ২০ ও গাঁদা এক হেক্টর জমিতে। তবে প্রতি বছরই ফুল চাষের পরিধি বাড়ছে বলে জানান কৃষিবিভাগ।
সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দু’পাশেই তামাকের ব্যাপক চাষ হয়েছে। তামাকের মাঝখানেই দেখা মিলবে দৃষ্টিকাড়া ফুলের চাষ। একদিকে তামাক ছড়াচ্ছে বিষ আর তামাকের পাশেই নানা প্রজাতির ফুল বিলাচ্ছে সুবাস, মনে জাগাচ্ছে প্রশান্তির অনুভূতি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত এক দশক আগে ধান চাষের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি লাভ হবে বলে আশ্বস্ত করে এবং সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে চকরিয়ার চাষীদের জমিতে তামাক চাষ শুরু করা হয়। প্রতি বছরই টোবাকো কোম্পানিগুলোর লোভনীয় প্রস্তাবে রাজি হয়ে বাড়তে থাকে তামাক চাষের পরিধি। অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ কৃষকদের পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা দায়িত্বরত থাকলেও তারা টোবাকো কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে উৎকোচ পেয়ে তামাক চাষের কুফল সম্পর্কে চাষীদের কোনো তথ্যই জানতে দেননি। যার ফলে বেশি লাভের আশায় চাষীরা ঝুঁকে পড়েন তামাক চাষের দিকেই।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তামাক চাষের সময় হলেই বিভিন্ন বিড়ি সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত মাঠ কর্মীরা চাষীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করে তোলে। তামাক চাষীদের নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করে। যার ফলে তামাক চাষে জমি ও পরিবেশের ক্ষতির কথা অবগত হলেও থেমে নেই বিষ চাষ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ জানান, তামাক জমির প্রচুর পুষ্টি শোষণ করে বিধায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। মাটির জৈব পদার্থের ক্ষতি হয়। পাশাপাশি তামাক পুড়তে প্রচুর জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন হওয়ায় আশপাশের বনাঞ্চল ধ্বংস হয়। ধান ও শাক-সবজির উৎপাদন হ্রাস পায়। তামাক পোড়ানোর ধোঁয়ায় শিশুদের শ্বাসকষ্ট, ক্যানসার, চর্মরোগ বাড়ে। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী জানা যায়, বড়ইতলীর চাষীরা তামাক চাষের কুফল সম্পর্কে জেনেই তারা তামাক চাষ চালিয়ে যাচ্ছে।
কৃষক আব্দুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘‘তামাক চাষ করার আগেই টোবাকো কোম্পানির কাছ থেকে টাকা পাওয়া যায়। আর কৃষি কাজের জন্য শত বার সরকারি ব্যাংকে ধর্না দিয়েও ঋণ পাওয়া যায় না। তাই আর্থিক অনটনে থাকা চাষীরাই অনেকটা নিরুপায় হয়েই তামাক চাষ অব্যাহত রেখেছে।’’ কৃষকদের ঋণ বিতরণের বিষয়টি সহজ প্রক্রিয়া করা হলে তামাক চাষ না করে অন্যান্য ফসল চাষই করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_১৯১৫ ঘ.
Add Your Comment
- ধানের দাম পাচ্ছে না দিনাজপুরের কৃষক
- এবার আমের বাম্পার ফলন
- জামালপুরে ঝিঙ্গার ব্যাপক ফলন
- ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকটে ময়মনসিংহ
- গোপালগঞ্জে উচ্ছে চাষে সফল, শত শত পরিবার স্বাবলম্বী
- ফেনীতে রবি শষ্যের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি
- কলেজ পালানো ছেলে কোটিপতি লিচুচাষি
- পিরোজপুরে ভুট্টার ফলন বাম্পার
- ক্রমেই গুটি ইউরিয়ার দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা
- সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় বোরো আবাদ শুরু



