bdpress.net: World & Bangladeshi News in bangla
সর্বশেষ সংবাদ :
বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০; ২২ মে ২০১৩;
 
সেচ বন্ধ রাখায় বান্দরবানে বোরো স্কিমের জমি ফেটে চৌচির
সেচ বন্ধ রাখায় বান্দরবানে বোরো স্কিমের জমি ফেটে চৌচির

জেলা সংবাদদাতা: (বান্দরবান, ১০ এপ্রিল)- বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পাট্টাখাইয়া এলাকায় বোরো স্কিমের ধানক্ষেত সেচের অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এক মাস ধরে স্কিম ম্যানেজার বিদ্যুৎ সঙ্কটের অজুহাতে সেচ বন্ধ রাখায় দুই শতাধিক কৃষকের বোরো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


স্কিম ম্যানেজার মিজবাহ উদ্দিন পানি সেচ সরবরাহ করার নামে প্রতি ৪০ শতক (এককানি) জমির জন্য অগ্রিম নগদ পাঁচ হাজার টাকা হারে গ্রহণ করেছেন।

এরপরও বিদ্যুৎ সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে ওই স্কিম ম্যানেজার কৃষকদের বোরো ক্ষেতে পানি সরবরাহ না করায় শতাধিক একর জমির ধানক্ষেত বিনষ্টের উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগের পর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম এবং ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

কিন্তু উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ওই বিষয়ে এখনও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দুই শতাধিক কৃষক পরিবার তাদের চাষ করা শতাধিক একর জমির ধান বিনষ্টের আশঙ্কা করছেন।

আলীকদম উপজেলার চৈক্ষম ইউনিয়নের পাট্যাখাইয়া এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, স্কিম ম্যানেজারের সাথে চাষিদের চুক্তি রয়েছে। পর্যাপ্ত বিদ্যুত না থাকলেও ডিজেল চালিত সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে নিয়মিত পানি সেচ সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু গত একমাস ধরে তা করা হচ্ছে না।

এলাকার কৃষক হাজী রহমত আলী, ইউসুফ আলী, সাদ্দাম হোসেন, জ্যোৎস্না বেগম, সাজেদা বেগম, ইমামুল হোসেন, আক্কাস আলী, দেলোয়ার হোসেন ও চেরকম মুরুং জানান, স্কিম ম্যানেজারের কাছে তারা পানি চাওয়ায় নাজেহাল ও মারধরের হুমকির সম্মুখিন হয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, পানি দাবি করায় কৃষকদেরকে অশালীন গালিগালাজ ও ব্যাঙ্গোক্তি করা হচ্ছে। পানির অভাবে ধানের থোড় বের হচ্ছে না। বোরো জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের ধান গাছ মরে লাল হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম সরেজমিনে বোরো স্কিমের জমি পরিদর্শনকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্কিম ম্যানেজার বর্বরোচিত কাজ করেছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষকদের লিখিত অভিযোগ কৃষি অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

স্কিম ম্যানেজারের কাছ থেকে কৃষকদের সমুদয় টাকা ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল ইসলাম ও সাবেক মেম্বার আবদুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্কিম ম্যানেজার বাহুবল দেখিয়ে দরিদ্র কৃষকদের সর্বনাশ করছে।

এ ব্যাপারে স্কিম ম্যানেজার মিজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সরকার পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ দিচ্ছে না, আমার কী করার আছে। ডিজেল চালিত সেচপাম্প দিয়ে পানি দিলে কৃষকদের আরো টাকা দিতে হবে।’

 

বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_১৫২১ ঘ.

CommentAdd Your Comment



2011 © Copyright to BDPRESS.NET.
Editor: A H M Obaidur Rahman, 33 Karwan Bazar, Dhaka-1215,
Phone: +8802 8189524,
Email: bdpress.net@gmail.com,bdmediahouse@yahoo.com
Powered by Kernel Soft Ltd.