বিডিপ্রেস ডেস্ক: (ঢাকা, ২০ জুন)- দেশে ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ও ভূট্টার চাষে ব্যাংক ঋণ নিতে এ খাতের কৃষকদের আগ্রহ কমছে। আর এ কারণে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ঋণ বিতরণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১৩ কোটি কাঁটছাট করা হয়েছে। অর্থাত্ আগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমানো হয়েছে। উত্পাদিত পণ্যের নায্য দাম না পাওয়ায় এ খাতে ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা কমছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪৭টি ব্যাংকের মসলা খাতে ১৯১ কোটি ১২ লাখ টাকার সমপরিমাণ ঋণ মসলা খাতে বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্ত এ খাতের সংশ্লিষ্ট কৃষকের উত্পাদিত মসলার ফসলের দাম কমে যাওয়ায় তারা আর ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে ব্যাংকগুলো তাদের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে উত্পাদিত মসলা পণ্য বিশেষ করে হলুদের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে। হলুদের আগের ৩০০ টাকার বাজার মূল্য বর্তমানে ৬০ টাকায় নেমে এসেছে। যে কারণে কৃষকরা হলুদসহ যে সকল পণ্যের দাম কমেছে, সে সকল পণ্য চাষের জন্য ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, রাষ্টায়ত্ত খাতের সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী এবং বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ডাল, মসলা এবং তেলবীজ জাতীয় ফসলে ঋণ বিতরণ করে থাকে। চলতি অর্থবছর থেকে দেশী-বিদেশী ব্যাংকগুলোও এ খাতে ঋণ বিতরণ করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ডাল, মসলা এবং তেলবীজ জাতীয় ফসল উত্পাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা পুরণের জন্য ৪ শতাংশ হার সুদে ঋণ বিতরণ করে থাকে। এর জন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণের সুদের উপর ভর্তুকি প্রদান করে সরকার। ২০১০-১১ অর্থবছরের কৃষিঋণ নীতিমালায় এ সকল খাতে ঋণ প্রবাহ গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ফসলগুলো হচ্ছে-পিঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, হলুদ ও জিরা এবং সরিয়া, তিল, তিষি, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী ও সয়াবিন, মাসকলাই, মুগ, মশুর, খেশারী, ছোলা, মটর ও অরহর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো মসলা চাষের জন্য চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে ৪৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঋণ বিতরণে সবচেয়ে বেশি সাফল্য দেখিয়েছে জনতা ব্যাংক। তারা লক্ষ্যমাত্রার ৭৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বিতরণ করেছে। এরপরে ৭৪ দশমিক ৬২ শতাংশ করেছে অগ্রণী ব্যাংক। সোনালী ৭৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৫৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং রূপালী ব্যাংক ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ। বেসরকারি ৩০ ব্যাংক মিলে ৬২ দশমিক ৮১ শতাংশ ও বিদেশী ৯ ব্যাংক ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বিতরণ করেছে।সূত্র: অ্যাগ্রোবাংলা ডটকম।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এএফ/এএইচ_১৬৩২ ঘ.
Add Your Comment
- জামালপুরে ঝিঙ্গার ব্যাপক ফলন
- ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকটে ময়মনসিংহ
- গোপালগঞ্জে উচ্ছে চাষে সফল, শত শত পরিবার স্বাবলম্বী
- ফেনীতে রবি শষ্যের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি
- কলেজ পালানো ছেলে কোটিপতি লিচুচাষি
- পিরোজপুরে ভুট্টার ফলন বাম্পার
- ক্রমেই গুটি ইউরিয়ার দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা
- সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় বোরো আবাদ শুরু
- কুড়িগ্রামে বন্যাসহিষ্ণুজাত ধানে আগ্রহী কৃষকরা
- বরিশালে এবার আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা



