বিডিপ্রেস ডেস্ক: (দামেস্ক, ১৮ জুলাই)- বান্দরবানে বিভিন্ন জাতের আমের বাম্পার ফলনে বদলে দিয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান। অনুকুল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে বার্মিজ জাতের আম রাংগুয়াইসহ দেশের নানান জাতের আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ন্যায্য দামও পাওয়া যাচ্ছে বলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কৃষকরা জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসেব মতে চলতি মৌসুমে জেলার ৭টি উপজেলায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানানো হয়। জেলা সদর উপজেলার কানাপাড়ার গ্রামের আদিবাসী কৃষক রামখুপ বলেন, তাদের গ্রামের প্রায় ৯০ ভাগ কৃষকের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে মৌসুমী ফল আম, কাঠালসহ বিভিন্ন ফলজের বাম্পার ফলনে।
থোয়াইংগ্য পাড়ার তরুণ কৃষক পাই শৈ উ মারমা জানান, ৪ একর জায়গাতে ৫শ’ রাংগুয়াই আম গাছ রোপণ করেন ৪ বছর আগে। তিনি গত বছর ২০ হাজার টাকার আম বিক্রি করেছেন। তিনি আরও বলেন, গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ কৃষক আমের বাম্পার ফলন পেয়েছে।
রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছাড়া গ্রামের কৃষক হ্লাশৈ অং মারমা জানান, তার বাগানে ১ হাজার গাছে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি আম বিক্রি করে এ বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
সদর উপজেলার চিলুং পাড়ার আদিবাসী কারবারি লালচুং বম জানান, এক সময় তারা জুমচাষের উপর নির্ভরশীল ছিলেন।
এখন জুমচাষের পাশাপাশি আমসহ মিশ্র ফলের বাগান করেছেন তারা। কৃষকদের জীবনমান বদলে দিচ্ছে আম, কাঠাল ও বিভিন্ন মৌসুমী ফল চাষের মাধ্যমে । আম্প্রপালি ও রাংগুয়াই আম বিক্রি করে এ বছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করেছেন বলে তিনি জানান।
পাইকারি আম ক্রেতা মো. সালাম ও কামাল উদ্দিন জানান, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাদের বাগান থেকে প্রতি বছর এ সময় আম ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন তারা। চলতি মৌসুমে বাগানের কাঁচা আম প্রতিমণ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় ক্রয় করে চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান ফল বাজারগুলোতে বিক্রি করেছেন এবং তারা প্রচুর লাভবান হয়েছেন।
হিমাগার না থাকায় পার্বত্য অঞ্চলের আমসহ অন্যান্য ফলমূল সংরক্ষণ করার সুবিধা না থাকায় চাষীরা অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন- অনেকদিন ধরে এ অভিযোগ স্থানীয় কৃষকরা করে আসছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কালাম বলেন, বান্দরবানে আদিবাসীদের জীবনযাত্রা বদলে গেছে আম চাষের মাধ্যমে। প্রত্যেক চাষীই তাদের বাগান বা বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা আম গাছ থেকে সংগ্রহ করছে রকমারী আম। জুমের বদলে আম, কাঠাল ও বিভিন্ন মৌসুমী ফলের চাষ করছেন জুম চাষীরা। তিনি আরও বলেন, আম্প্র্রপালি, রাংগোয়ে ও মল্লিকা আমের বাম্পার ফলন হওয়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কৃষকেরা আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। সূত্র: বাসস।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_১৮৩৩ ঘ.
Add Your Comment
- ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকটে ময়মনসিংহ
- গোপালগঞ্জে উচ্ছে চাষে সফল, শত শত পরিবার স্বাবলম্বী
- ফেনীতে রবি শষ্যের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি
- কলেজ পালানো ছেলে কোটিপতি লিচুচাষি
- পিরোজপুরে ভুট্টার ফলন বাম্পার
- ক্রমেই গুটি ইউরিয়ার দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা
- সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় বোরো আবাদ শুরু
- কুড়িগ্রামে বন্যাসহিষ্ণুজাত ধানে আগ্রহী কৃষকরা
- বরিশালে এবার আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
- কলারোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে সুমিষ্ট খেজুরের রস



