স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ০১ আগস্ট)- দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে মন্ত্রীর কার্যসূচিতে জানানো হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ব ব্যাংক গত ২৯ জুন এ প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার চুক্তি বাতিল করার পর সংবাদ সম্মেলন করে মুহিত দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখান করেছিলেন এবং বিশ্ব ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এরপর পদ্মা সেতু নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিবৃতিতেও তিনি একই আহ্বান জানিয়েছিলেন।
২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার চুক্তি করেছিল। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৬১ কোটি ৫০ লাখ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ৪০ কোটি ডলার এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার জন্য চুক্তি করেছিল।
বিশ্ব ব্যাংক সরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, আর কেউ না এলে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রকল্পের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্ব ব্যাংককে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে এডিবি, জাইকা ও আইডিবিকে এ প্রকল্পে অর্থায়নের অনুরোধ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, “বিশ্ব ব্যাংক যাতে পদ্মা সেতুতে ফিরে আসে। সেজন্য এডিবি, জাইকা ও আইডিবিকে তৎপরতা চালাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
জাইকার প্রেসিডেন্ট জুনের শেষ সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরকালে পদ্মা সেতুর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।
বিশ্ব ব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করার পর ৯ জুলাই মুহিত বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। বিশ্ব ব্যাংকের কোনো প্রতিনিধি ওই বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও এডিবি, জাইকা, আইডিবি প্রতিনিধিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পদ্মা সেতু নিয়ে টানাপোড়েনের অবসানে বিশ্ব ব্যাংক আগে যে শর্ত দিয়েছিল, তা পূরণে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ইতোমধ্যে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকেও ছুটিতে পাঠিয়েছে সরকার।
এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়টি ঝুলে যাওয়ার পর চলতি বছরের শুরুতে মালয়েশিয়া এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।
যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত এপ্রিলে কুয়ালালামপুরে মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন এবং গত ২৮ জুন পদ্মা সেতু নির্মাণে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে মালয়শিয়ায় পক্ষ থেকে একটি খসড়া প্রস্তাব সরাকারকে দেওয়া হয়।
মালয়শিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামা মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে ঢাকা-কুয়ালালামপুর পুনরায় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে।
বারনামার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ৪-৬ অগাস্ট যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করবেন মালয়শিয়া সরকারের দক্ষিণ এশিয়ার অবকাঠামো বিষয়ক বিশেষ দূত সামি ভেলু। তিনি পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং অগাস্টের মাঝামাঝি সময়েই বাংলাদেশকে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বিডিপ্রেস ডটনেট/এমএন/এএমইউ_১৭৫৩ ঘ.
Add Your Comment
- বেনাপোলে আমদানি-রফতানি বন্ধ
- মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু: এনসিসি ব্যাংক
- রাজবাড়ীতে বসুন্ধরা সিমেন্ট নির্মাণ কর্মশালা
- হরতালে একদিনের ক্ষতি ১৬শ’ কোটি টাকা: ডিসিসিআই
- নতুন বীমার লাইসেন্স ৭৬টি কোম্পানির আবেদনপত্র জমা
- গ্যাস সংযোগ নিয়ে রশি টানাটানি মন্ত্রণালয়-পেট্রোবাংলা
- সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশন শুরু ৩ জুন
- ঘোষণা আছে তবু খুলছে না দোকান মার্কেট
- ২ টাকার নতুন নোট আসছে
- বৈদেশিক লেনদেন করতে শনিবার ব্যাংক খোলা



